“অপু, আমায় একদিন রেলের রাস্তা দেখাবি?”

“অপু, আমায় একদিন রেলের রাস্তা দেখাবি?”

আকাশের নীল আস্তরণ ভেদ করিয়া মাঝে মাঝে অনন্তের হাতছানি আসে — পৃথিবীর বুক থেকে ছেলেমেয়েরা চঞ্চল হইয়া ছুটিয়া গিয়া অনন্ত নীলিমার মধ্যে ডুবিয়া নিজেদের হারাইয়া ফেলে — পরিচিত ও গতানুগতিক পথের বহুদূরপারে কোনো পথহীন পথে — দুর্গার অশান্ত, চঞ্চল প্রাণের বেলায় জীবনের সেই সর্বাপেক্ষা বড় অজানার ডাক আসিয়া পৌঁছিয়াছে।” —– পথের পাঁচালী।

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লেখা এই উপন্যাসটি আমার প্রিয় সাহিত্যকর্মগুলোর একটি। সেই উপন্যাসে চিত্রায়িত হয়েছিলো পরাধীনতার বৃটিশ শাসনামলে আমাদের অসহায় হতদরিদ্র চিত্র। সেই উপন্যাসের একটি বেদনাদায়ক চরিত্র ছিলো দুর্গা নামক একটি চঞ্চল কিশোরী। যার জন্ম উপনিবেশিক যাতাকলে নিষ্পেশিত একটি দরিদ্র পরিবারে, কিন্তু তার কিছু স্বপ্ন ছিলো । সে শুনেছিলো তাদের চেনা গ্রাম থেকে দূরে কোথাও আছে মন অবাক করা রেলের রাস্তা। যা তাকে দেখানোর কেউ নেই। তাই সে তার ছোটভাইয়ের কাছে মনের আকুতি প্রকাশ করেছিলো, “অপু, আমায় একদিন রেলের রাস্তা দেখাবি?”

সেই রেলের রাস্তা তার আর দেখা হয়নি। সামান্য অসুখ হয়েই বিনা চিকিৎসায় মারা যায় দুর্গা। উপন্যাসে দুর্গার আকুতি “আমায় একদিন রেলের রাস্তা দেখাবি?” শুনে বুক ভেঙ্গে গিয়েছিলো। আর বিনা চিকিৎসায় তার ধরণী থেকে বিদায় নেয়া অংশটুকু পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। মনে হয়েছিলো, শক্তিমান লেখক বিভূতিভূষণ আসলে ঐ কিশোরীর মধ্যে দিয়ে দুঃখী বাংলাদেশকেই চিত্রায়িত করছেন!

কবে দূর হবে আমাদের দুঃখ?

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.