আইন-এর শাসন, সামন্তযুগ, প্যাগান যুগ ও দেব-দেবীদের প্যান্থিয়ন

আইন-এর শাসন, সামন্তযুগ, প্যাগান যুগ ও দেব-দেবীদের প্যান্থিয়ন:
সেই প্রাচীন যুগে মানুষ প্রকৃতিকে বুঝতে পারতো না। তাই প্রাকৃতিক ঘটনাবলীকে ব্যাখ্যা করার জন্য দেব-দেবীদের কল্পিত রূপ তৈরী করেছিলো। সেই সকল দেব-দেবীদের ছিলো আবার প্যান্থিয়ন (সেট অব দেব-দেবীজ)। সেই বর্ণনা অনুযায়ী দেব-দেবীদের খেয়াল মর্জি মোতাবেক চলতো মহাবিশ্ব-জগৎ-সংসার। তার মানে সুনির্দিষ্ট কোন আইন-কানুন নেই, সবকিছুই র‍্যান্ডম। তারপর বাংলার সন্তান জ্ঞানী কপিল তার বিখ্যাত সাংখ্য দর্শনে দেব-দেবী আউট করলেন, আনলেন সংখ্যা ও লজিকের অভুতপূর্ব হিসাব। তার অনেককাল পরে গ্রীসে জেনোফেনস ও সক্রেটিস দেব-দেবীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন। আনলেন একেশ্বরবাদের কনসেপ্ট। পরবর্তিতে একেশ্বরবাদী বিজ্ঞানী আল হাজেন পরীক্ষা-র মাধ্যমে দেখালেন যে, মহাবিশ্ব-জগৎ-সংসার-এ চলছে সেট অব আইন-এর শাসন। এখন যা স্টাবলিশড ফ্যাক্ট। একই বিষয় রাষ্ট্রব্যবস্থায়। সামন্ততান্ত্রিক যুগে রাজা-বাদশাহ-সম্রাট প্রভৃতির ইচ্ছা-মর্জি মোতাবেকই চলতো রাজ্য বা রাষ্ট্র। তারপর ধীরে ধীরে আসে আধুনিক রাষ্ট্রের কনসেপ্ট, যেখানে রাজ্য প্রধানদের স্বেচ্ছাচারিতায় রাস্ট্র চলেনা, বরং দেশের জ্ঞানী-গুণী লোকজন জনগণের ইচ্ছা-অভিলাষ প্রতিফলনকারী সুনির্দিষ্ট আইন তৈরী করেন। আইন গুলো তৈরী হয় যথাযথ প্রসিডিউর অনুযায়ী। আর সেইসব আইনসমূহ অনুযায়ীই রাস্ট্রব্যবস্থা পরিচালিত হয়। তাই আধুনিক রাস্ট্রব্যবস্থায় রাস্ট্রীয় বিধান-পদ্ধতি-নিয়ম-নীতি ইত্যাদিতে পরিবর্তন-পরিবর্ধন-সংস্কার-প্রবর্তন ইত্যাদি আনতে হলে যথাযথ নিয়মে আইন তৈরী করেই আনতে হবে। আধুনিক রাস্ট্রব্যবস্থায় সংস্কারের অন্য কোন পথ নাই। সামন্ত যুগে ফিরে যাওয়া মানে প্রগতিশীলতা নয় পশ্চাদপদতা।
—————————- ড. রমিত আজাদ

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.