কি নাই আমাদের বলো?

কি নাই আমাদের বলো?
————— রমিত আজাদ

কি নাই আমাদের বলো?
আমরা কি গঙ্গাঋদ্ধির উত্তরসূরী নই?
২ লাখ পদাতিক সৈন্যের গর্বিত পদভারে কি
প্রকম্পিত হয় নাই এই জনপদ?
২০ হাজার অশ্বারোহী ও ৫ হাজার হস্তিবাহিনীর
হুঙ্কার কি প্রবর্ধিত করে নাই জৌলুস এই স্বদেশের?
ধরণী কাঁপানো আলেকজান্ডারের বাহিনী কি
ছত্রভঙ্গ হয় নাই আমাদের ভুখন্ডে?

তাকিয়ে দেখ উদীচীর পানে
কেমন উন্নত শিরে ঋজু নির্ভীক হিমালয়?
আর কোন রোষে অবাচীতে গর্জিছে বঙ্গোপসাগর?
আসমুদ্রহিমাচল এই দেশে কিসের অভাব মণিষী ও সম্পদের?

এই সূর্য ডোবা নদীগুলির বিধৌত জমিনে
বুদ্ধ আত্মা কি করে নাই মুক্ত অর্ধ জগৎ?
বাংলার তাপস ভাঙিয়া হিমানী লঙ্ঘিয়া মহীধর,
জ্বালে নাই কি তিব্বতে প্রদীপ অতীশ দীপংকর?

বিজয় সিংহ কি করে নাই জয় লংকা অথবা সিংহল?
রাখে নাই কি তথা নিজ শৌর্যের পরিচয় অবিচল?
সম্রাট দেবপাল কি বিস্তৃত করেন নাই
বাংলার সাম্রাজ্য প্রতীচীর বিন্ধ্যা পর্বত তক?

এখানেই কি গড়ে ওঠেনাই পুন্ড্রের নগরী?
বংশাবতীর পূর্বতীরে বৈভব ও প্রতাপে কি জাগে নাই সম্ভার?
‘পুয়ের্তো গ্রান্দে’ চাঁটিগাও বন্দরের বিশালত্বে কি
মুগ্ধ হন নাই ভুবন বিচরিত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা?

সমরজয়ী ঈসা খাঁর তরবারী ঝলকেছিলো কোন ময়দানে?
মাঝি-মাল্লারা খেদিয়েছিলো কোন মানসিংহকে?
বাদশাহ আকবরের আত্মা কাঁপিয়েছিলো কোন রণক্ষেত্র?
বিপুল তেজে উদ্দাম কারা গড়েছিলো গর্বিত ইতিবৃত্ত?

লালবাগ কেল্লায় ঝরা চাপ চাপ রক্ত,
বাহাদুর শাহ পার্কে নিরন্তর ঝুলে থাকা
বিদ্রোহী সিপাহীদের নিথর দেহ।
কুখ্যাত রাওলাট এ্যাক্টের নৃশংসতায়
সলংগা হাটে কি ঝরে নাই বারোশত প্রাণ?
এ সবই তো বীরত্ব ও আত্মত্যাগের উপাখ্যান!

সাত কোটি সন্তান কি ঝাঁপিয়ে পড়ে নাই মুক্তিযুদ্ধে?
ছিনিয়ে আনে নাই কি বিজয় মাত্র নয়টি মাসান্তে?
সাত কোটি জনতার সম্মিলিত কন্ঠের জয়োধ্বনী কি
ম্লান করে নাই এ্যাপোলোর চন্দ্রাভিযান?

তবে কি
বহিঃশত্রুদের ষড়যন্ত্রে এখন বিস্মৃত স্বকীয় ইতিহাস!
আজ তবে কি আমরা নিজভূমে নির্বাসিত হবো?
কাপুরুষতার মেলা প্রবঞ্চকের ছদ্মবেশ কি
পরাজিত করবে আমাদের মনোবল?

দুঃখী জননী আমার,
সেই সাত কোটি আজ সতেরো কোটি হয়েছে
আজ তো বাহুবল আরত্ত বর্ধিত!
সতেরো কোটি সন্তান যার, তার কিসের ভয়?

এত এত লুন্ঠন রণহিংসা অগ্নি-বৃষ্টির পরেও
এখনো মেঘের ভেলায় ভেসে আসে অপরূপ ঊষা,
এখনো বাগান-বিলাসের ঝাড়ে জ্বলে জোনাকীর ক্রীড়া।
ক্ষুদ্র ঘাসফুলে নাচে বিন্দু বিন্দু ভোরের শিশির,
এখনো গান গায় দোয়েল ঘন বাঁশের বনে,
এখনো ওড়ে শিমুল তুলা প্রখর গ্রীস্মের দুপুরে।
উতলা হাওড়ের বুকে লুটোপুটি খায় শীতের পাখী।
এখনো স্বপ্নবিলাসী বালিকারা গাঁথে মালা বেলী ও শিউলীর,
এখনো দুরন্ত বালকেরা ডিঙ্গা বায় পদ্মফুলে ভরা বিলের জলে।

না,
আর আমরা নিজভূমে নির্বাসিত হবো না,
সতেরো কোটি জনতার সম্মিলিত বাহুবলই পর্যাপ্ত
কি নাই আমাদের বলো?

—————————————————

তারিখ: ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৭
সময়: রাত ২টা ২৯ মিনিট

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.