গবেষক কাকে বলে?

গবেষক কাকে বলে?
— ড. রমিত আজাদ

যে কোন ব্যাক্তিকেই গবেষক বলা যাবে না। এমনকি তিনি লেখক হলেও না, শিক্ষক হলেও না। কি কি গুনাগুন থাকলে একজন ব্যাক্তিকে গবেষক বলা যাবে তার কিছু নিম্নে বর্ণনা করা হলো।

১। একজন গবেষকের থাকতে হবে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান (Specialized knowledge), মূল সমস্যাগুলো শনাক্ত করার ধারণাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা। পাশাপাশি থাকতে হবে সমালোচনামূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য, এবং সেই সাথে থাকতে হবে নতুন চিত্তাকর্ষক অন্তদৃষ্টি তৈরী করার ক্ষমতা।

২। একজন গবেষকের থাকতে হবে উচ্চমানসম্পন্ন পান্ডিত্যপূর্ণ লিখিত পত্র ও গবেষণাপত্র প্রকাশ করার একাডেমিক দক্ষতা। এই পত্রগুলোতে উপস্থাপিত বক্তব্যের সমর্থনে পর্যাপ্ত পরিমানে এভিডেন্স ও আর্গুমেন্ট থাকতে হবে। গবেষণাপত্রের উপস্থাপনা এতটাই চিত্তাকর্ষক হতে হবে যেন তা উৎসুক পাঠক বা শ্রোতাদের মন কেড়ে নেয় (হতে পারে সেই পাঠক বা শ্রোতা একজন বিশেষজ্ঞ অথবা একজন সাধারণ মানুষ)।

৩। একজন গবেষকের থাকতে হবে কার্যকরীভাবে জ্ঞানের উৎস ব্যবহারের দক্ষতা। তিনি এটা করবেন তথ্য সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করার উদ্দেশ্যে। তিনি এটা করবেন টেক্সট, ডাটা ও থিওরী বিশ্লেষণ করার উদ্দেশ্যে।

৪। একজন গবেষকের থাকতে হবে এমন কিছু ব্যাক্তিগত গুণাগুণ যেন, তাঁর উচ্চাকাঙ্খা ও সামর্থ্য থাকে উচ্চমানের গবেষণা করার। তিনি যেন উদ্যোগ নিতে পারেন ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন হন। অন্যদের সাথে সহযোগিতা করার নিমিত্তে তিনি যেন হন সুসংগঠিত ও সুবিচারক।

৫। একজন গবেষকের থাকতে হবে সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা, যেন তিনি ছাত্র, সহকর্মী ও শিক্ষাবিদদের সাথে কার্যকরী ও যথাযথভাবে ইন্টারএ্যাকট করতে পারেন। উনার আরো থাকতে হবে বিভিন্ন পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবেলা করার দক্ষতা। পাশাপশি তিনি যেন পণ্ডিত মহলের বৃহত্তর পরিসরে নিজেকে একীভূত করতে পারেন।

এককথায় বলা যায়, যেই উচ্চজ্ঞানসম্পন্ন ও উচ্চমানসম্পন্ন ব্যাক্তি নতুন জ্ঞান তৈরী, নতুন ধারণা তৈরী, নতুন নতুন উৎপাদন (products), প্রক্রিয়া (processes), উপায় (methods) ও পদ্ধতি (systems) সৃষ্টি এবং নতুন কোন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত আছেন, তিনিই একজন গবেষক।

উল্লেখ্য যে আনুষ্ঠানিক গবেষণা করতে গেলে আনুষ্ঠানিক গবেষণা করার পদ্ধতি (Research Methodology) জানতে হবে। Research Methodology না জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় ত্রুটি হবেই, যেমনটি হয়েছিলো গণিতবিদ রামানুজান-এর ক্ষেত্রে। তবে কেউ কেউ নিছক তাঁর ব্যাক্তিগত জ্ঞানের ক্ষুধা মিটানোর জন্যও নিজের মত করে অনুসন্ধান করে যেতে পারেন। যদি এভাবে তিনি নতুন কোন কিছুর সন্ধান পান, তাহলে সেটাও গবেষণা এবং তিনিও একজন গবেষক। তবে তিনি নতুন কিছুর সন্ধান পেলেন এবং পৃথিবীকে জানালেন না, এটা হবে স্বার্থপরের মত কাজ। তাই পৃথিবীকে জানানোর উপায় হলো গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা, অথবা নিদেনপক্ষে কনফারেন্স বা সেমিনারে তা তুলে ধরা। গবেষণাপত্রটির পূর্ণতা না থাকলে বা তা আদৌ গবেষণা না হলে কর্তৃপক্ষ তাকে প্রকাশ করবে না নিঃসন্দেহে। আর কনফারেন্স বা সেমিনারে তা তুলে ধরলে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের প্রশ্ন-মতামতের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসবে তার গবেষণাপত্রের স্বীকৃতি ও মান।

যেই ব্যাক্তির কোন গবেষণাপত্র কোন স্বীকৃত জার্ণালে প্রকাশিত হয়নাই তাকে গবেষক বলা যাবে না। তবে তাঁর লিখিত প্রকাশিত কোন পত্র বা বই যদি এমনভাবে সাড়া ফেলে যে অন্যান্য গবেষকরা তা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করছে সে ক্ষেত্রে হয়তো বিদগ্ধ মহল তাকে গবেষকের মর্যাদা দিতেও পারে।

তারিখ: ২৯শে মার্চ, ২০১৭
সময়: ২০ টা ৪৫ মিনিট

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:
১। http://port.modernlanguages.sas.ac.uk/videos/interdisciplinarity

মন্তব্য করুন..

১ মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.