প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে কিছুক্ষণ – পর্ব ১১

প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে কিছুক্ষণ – পর্ব ১১
————————- ড. রমিত আজাদ

প্রাক্তন প্রেমিকার ম্যারেজ এনিভার্সারির ছবিতে লাইক দিতে কি ভালো লাগে?
ফেসবুকের দিকে তাকিয়ে দেখলাম তানিয়া ও তার স্বামীর যুগল ছবি, সেই বিয়ের দিনে তোলা, নীচে লেখা যে আজ তাদের ম্যারেজ এনিভার্সারী। এই ছবিতে আমি লাইক দেই কি করে?

আমাকে একবার একজন বলেছিলেন যে, তিনি নাকি তার প্রাক্তন প্রেমিকার বিয়েতে উপহার নিয়ে দাওয়াত খেয়ে এসেছিলেন। এই দৃশ্যটা আমি কিছুতেই কল্পনা করতে পারিনা, চোখের সামনে আমার প্রেমিকার বিয়ে হচ্ছে, সে অন্য একজনার বাহুলগ্না হতে যাচ্ছে, এটি সম্ভবত বিশ্বের সবচাইতে যন্ত্রণাদায়ক দৃশ্যের মধ্যে একটি। ঐ ভদ্রলোকের নার্ভ হয়তো খুবই শক্ত। আমিও আমার নার্ভ খুব শক্ত মনে করতাম একসময়, কিন্তু আজ আমার মনে হচ্ছে, আমার নার্ভ অতটা শক্ত নয়।

আজ একটা বিয়েতে এ্যাটেন্ড করে এলাম। আমার এক বন্ধুর ছোট ভাইয়ের বিয়ে ছিলো। অবশ্য বর-কনে দুজনকেই আমি আগে থেকেই চিনতাম। বন্ধুর বাসায় যখন গিয়েছি তখন মাঝে মাঝে ওদের দেখেছি। আমার অফিসেও ওরা দুজনে এসেছিলো একবার। ওদের জুটিটাকে দেখে আমার ভালো লেগেছিলো বেশ, মনে হতো ওরা খুব সুখী। তখন থেকেই মনে মনে দোয়া করতাম যেন ওদের সম্পর্কের পরিনতি হয় মিলনের। নিজেকে দিয়ে বিরহের কষ্টটা বুঝি আমি। আজ সেটা ঘটেছে, ওদের দুজনার বিয়ে হয়েছে। বিয়ে বাড়ীতে ঢুকে দেখলাম, বর এখনো আসেনি, শুধু কনে একা বসে আছে মঞ্চে। আমার একটু খটকা লাগলো, ঠিক পার্টি সেন্টারে এসেছি কি? কনের দিকে তাকিয়ে তাকে রিকোগনাইজ করতে পারলাম না। আমি যাকে আগে দেখেছি সেই মেয়ের সাথে কনের চেহারার পার্থক্য অনেক। তারপর আরো ভালোভাবে চেনার চেষ্টা করলাম, হ্যাঁ মেয়েটির হাইট, গড়ন সবই মিলে যাচ্ছে, কিন্তু চেহারাটা মিলছে না! আরেকবার ভালো করে দেখলাম, নাহ মিলাতে পারছি না! কনফিউজড হয়ে গেলাম। আমি ঠিক বিয়েবাড়ীতেই ঢুকেছি কিনা, বিষয়টা নিশ্চিত করা দরকার। অপরের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঢুকে খেয়ে আসলে সেটা লজ্জার বিষয় হবে! এরমধ্যে পাশ থেকে একজন আমাকে বললেন, “স্লামালাইকুম স্যার।” দেখলাম আমার অফিসেরই একজন। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালাম। তিনি বললেন, “তৃণা আমার ভাগ্নি”। এবার আশ্বস্ত হলাম, আমি ঠিক বিয়েবাড়ীতেই ঢুকেছি তাহলে। এবার নিজের মনেই বুঝলাম, আজকালকার বিউটি পার্লারগুলো বেশ এক্সপার্ট, মেকআপ দিয়ে মানুষের চেহারাই পাল্টে দিতে পারে। আমি বেশ কৌতুক অনুভব করলাম, তার মানে কেউ যদি পার্লারে গিয়ে বলে, “আমাকে নায়িকা ববিতার মুখশ্রীটি বানিয়ে দিন”, তারা তা পারবে বোধহয়!

যাহোক, বিয়ের সুস্বাদু সব খাবার-দাবার খাওয়ার পর। আমি আরেকবার মঞ্চের দিকে গেলাম। এবার বর-কনে দুজনেই আছে। কনে বাঙালী ট্রেডিশনাল লাল শাড়ীতে থাকলেও, বরের পরনে ইউরোপীয় স্যুট, যদিও সুদর্শন বরকে ঐ পোষাকে চমৎকার লাগছিলো, তারপরেও আমার মনে হলো বাঙালী বিয়েতে শেরওয়ানী-পাগড়ীতেই বর-কে ভালো লাগে। ওদের দুটিকে পাশাপাশি বসা অবস্থায় খুব সুন্দর লাগছিলো। চমৎকার মানিয়েছে জুটিটাকে। খুব সুখী মনে হচ্ছিলো ওদের দুজনকে। এই স্বর্গীয় দৃশ্যটি আমার ভালো লাগার কথাই ছিলো, কিন্তু আমার হঠাৎ করে খুব ঈর্ষা হলো! ওরাতো পারলো, ভালোবাসাকে চিরস্থায়ী করতে। আমি তো পারিনি। যে নারী আমার বাহুলগ্না হতে চেয়েছিলো, আমি তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলাম, তাই আজ সে অন্যের বাহুলগ্না!

একটা গান মনে মনে কেবল বাজে
‘কোন এক সন্ধ্যায় হাজার আতশবাজি আর সাঁনাইয়ের সুরে, তোমায় নিয়ে গেছে আমার কাছ থেকে দূরে বহুদূরে’।
———-XXX——–

শিউলি আর আমি মুখোমুখি বসে আছি একটি রেস্টুরেন্টে। ওর আজকের পড়নের পোষাকটি খুবই উত্তেজক সেমি ট্রান্সপারেন্ট জামাটির উর্ধ্বাংশের অনেকটাই অনাবৃত। শইউলিকে একা দোষ দিয়ে লাভ নেই। ঢাকার গুলশানের অভিজাত এই রেস্টুরেন্টে বসে থাকা অনেক ললনারই অনুরুপ পোষাক দেখলাম, এটাই হালফ্যাশন!

অনেকগুলো বছর আগের একটা ঘটনা মনে পড়লো। কোন এক জায়গায় আমি দাঁড়িয়ে আছি, সেখানে দুই বন্ধু এসে পরস্পরের সাথে দেখা করলো। আমি একপাশে দাঁড়িয়ে তাদের কথপোকথন শুনছিলাম
১ম বন্ধু: কিরে একেবারে ট্রান্সপারেন্ট শার্ট পড়ে এসেছিস! ভিতরে তো গেঞ্জিও নাই!
২য় বন্ধু: আরে এটাই তো এখনকার ফ্যাশন।
১ম বন্ধু: কিসের ফ্যাশন?
২য় বন্ধু: এই যে সুঠাম বুকটা দেখা যাচ্ছে!
১ম বন্ধু: ও। তাহলে প্যান্ট-টাও ট্রান্সপারেন্ট পড়। জিনিসটা দেখা যাবে সুন্দর!

আমাদের আজকের প্ল্যান একসাথে খাবার খেয়ে ওকে নিয়ে আমার বনানীর এ্যাপার্টমেন্ট-টায় যাবো। খাবার খেতে খেতে শিউলির সাথে কথা হচ্ছিলো।
শিউলি: আচ্ছা, ধরেন এরকম কোন আইন হলো যে, কারো মোবাইলে যদি নগ্ন নারীর ছবি পাওয়া যায়, তাহলে তার জরিমানা শাস্তি ইত্যাদি হবে। সেটা কেমন হয়?
আমি: এর মধ্যে খারাপ কি আছে?
শিউলি: অপ্রাপ্ত বয়স্করা নাকি আজকাল এর উপর খুব ঝুঁকে পড়েছে। স্কুলেও লুকিয়ে লুকিয়ে এসব দেখে, নিজেদের মধ্যে এইসব ছবি বিনিময় করে।
আমি: তুমি চাচ্ছো এগুলো বন্ধ হোক?
শিউলি: অনেকেই চায়। এজন্য শাস্তির বিধান-আইন হলে তারা আর তা করবে না।
আমি: অপ্রাপ্ত বয়স্ক মানে হলো তার ম্যাচুরিটি নাই। অর্থাৎ ভালো-মন্দের বোধ নাই। অপ্রাপ্ত-অবুঝদের শাস্তির বিধান হয় কি করে?
শিউলি: তাইতো! তাহলে?
আমি: অপ্রাপ্ত বয়স্করা যদি কোন অপরাধ করে তাহলে তাদেরকে সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানো যেতে পারে।
শিউলি: ও। আর প্রাপ্ত বয়স্করা যদি এই অপরাধ করে?
আমি: কোন অপরাধ?
শিউলি: এই যে, মোবাইল টেলিফোনে নগ্ন নারীর ছবি রাখা।
আমি: প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য এটা আদৌ অপরাধ নাকি?
শিউলি: তাহলে?
আমি: প্রাপ্ত বয়স্ক মানেই তো একটি নির্দিষ্ট বয়স পার হয়ে এইসব বিষয় উপভোগ করার অধিকার পাওয়া।
শিউলি: জ্বী।
আমি: দেখো নগ্ন নারীদেহের প্রতি যার আকর্ষণ নেই সে কি আদৌ পুরুষ মানুষ?
শিউলি: অবশ্যই না। নারী হিসাবে আমি তো তাকে হিজরা শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করবো।
আমি: আমিও সে কথাই বলছি। পুরুষ মানেই যার নারীর নগ্নতা-সৌন্দর্যের উপর আকর্ষণ রয়েছে। আর ওখান থেকেই তো বাকী সব কিছু।
শিউলি: বাকী সব কিছু মানে?
আমি: মানে সেখান থেকেই কোন এক তরুনীর প্রতি তার অনুরক্তি। তারপর ভালোলাগা-ভালোবাসা, সেই প্রণয় থেকে পরিনয়, তারপর যৌনতা, পরিশেষে সন্তান, মানে পরবর্তি প্রজন্ম। এভাবেই টিকে যায় বংশগতি, জীবনের ধারাবাহিকতা।
শিউলি: রাইট। তাহলে তো এ’ধরনের আইন তৈরীর কোন যৌক্তিকতা নাই।
আমি: আমি তো তাই মনে করি।
শিউলি: আচ্ছা, খাওয়া তো শেষ, চলেন এখন যাই।
আমি: কোথায়?
শিউলি: বারে? আমরা না ঠিক করলাম আজ রাতটা আপনার বনানীর এ্যাপার্টমেন্টে কাটাবো?
সেই প্ল্যান নিয়েই বেরিয়েছিলাম। কিন্তু কেন যেন ইচ্ছেটা হঠাৎ করে আমার উবে গেলো। আমি শিউলিকে বললাম
আমি: চলো তোমাকে বাড়ী পৌঁছে দেই।
———-XXX———-

জান্নাত: স্যার, কারো গোপন কথা প্রকাশ করে দেয়া কি ঠিক?
আমি: অবশ্যই ঠিক না। তবে হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
জান্নাত: রিসেন্টলি কে নাকি গোপন কথা ফাঁস করে দিয়েছে। এই নিয়ে এখন সোসাল মিডিয়ায় তোলপাড় হচ্ছে যে, বিষয়টি তার তো জানার কথা নয়, তিনি জানলেন কি করে?
আমি: ও হো। হা হা হা!!!
জান্নাত: হাসছেন যে স্যার!
আমি: এ’ প্রসঙ্গে পুরাতন একটা কথা মনে পড়ে গেলো।
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বলতাম, “তোমার সিক্রেট এটাতো পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিক্রেট!” কারণ, একজন একটা কথা অপরজনকে বলে দিয়ে বলতো, “খুবই গোপনীয়, কাউকে বলবি না কিন্তু!” সে আবার কথা পেটে রাখার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আরেকজনকে কথাটা ফাঁস করে দিয়ে বলতো, “খুবই গোপনীয়, কাউকে বলবি না কিন্তু!” এভাবে বিষয়টা সবারই জানা হয়ে যেত।
জান্নাত: ও। এটাকেই বলে বোধহয় ওপেন সিক্রেট?
আমি: তাই হবে হয়তো।
আমার পুরাতন একটা কথা মনে পড়লো,
একজন খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ গিয়েছেন মস্কোতে। পঞ্চাশোর্ধ ব্যাক্তি তারপরেও সাধ-আহলাদ তখনো শেষ হয়নি। তাই আমার একজন ধনী ব্যবসায়ী বন্ধুকে ইনিয়ে-বিনিয়ে বললো, “এখানে কি কিছু সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবেনা?” বন্ধুটি সাথে সাথেই বুঝে গেলো যে কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা তিনি চাচ্ছেন। ব্যবসায়ী মানুষ নানাবিধ পারপাজে সুযোগ-সুবিধা যোগাড় করতে ওস্তাদ। দ্রুত ঐ খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ-এর জন্য সুযোগ-সুবিধা যোগাড় করে দিলেন। দামী হোটেল কক্ষে যখন চেতনায় সমৃদ্ধ রাজনীতিবিদ মহাশয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেন। আমার বন্ধুটি তখন ওখান থেকে আমাকে ফোন দিয়ে বসলো, “দোস্ত ঘটনা কি জানিস?” আমি বললাম, “কি হলো আবার?”
ব্যবসায়ী বন্ধু: মিঃ এক্ক্স-কে তো চিনিস?
আমি: হ্যাঁ, চেতনা সমৃদ্ধ খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ।
ব্যবসায়ী বন্ধু: সেই রাজনীতিবিদ মহাশয় এই মুহূর্তে আমার সামনের হোটেল কক্ষটিতে বসে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
আমি অট্টহাসি দিলাম। আসলে এরকম কিছু অভিজ্ঞতা আমারও আছে।
আমি: তা তুই বেচারার এই সিক্রেট বিষয়টা আমাকে ফোন করে জানাচ্ছিস কেন?
বন্ধু: না মানে, আমি আসলে কথাটা কাউকে না বলে শান্তি পাচ্ছিলাম না। তাই ঘনিষ্ট বন্ধু হিসাবে তোকে ফোন দিয়ে জানলাম। এখন একটু রিল্যাক্স লাগছে।
———-XXX———-

কম্পিউটার স্ক্রীনে ভেসে উঠলো তানিয়ার মেসেজ
তানিয়া: লাইনে আছো?
রাত এখন দুটা। তারমানে ওর স্বামী দেশে নাই। অথবা বাড়ীতে নাই। তারপরেও নিশ্চিত হবার জন্যে ফিরতি মেসেজ লিখলাম
আমি: ফোন করবো?
তানিয়া: করো।
আমি ওকে কল দিলাম। ওপাশ থেকে,

তানিয়া: হ্যালো। কেমন আছো?
আমি: ভালো। তুমি?
তানিয়া: আমি ভালোই আছি।
আমি: তোমার জামাই ঘরে নাই?
তানিয়া: ঘরে নাই, দেশেও নাই। ঘরে থাকলে তো আর তোমার সাথে ফোনালাপ করতাম না।
আমি: বলো।
তানিয়া: কি বলবো? তুমি বলো।
আমি: কয়েকদিন আগে একটা বিয়ে খেতে গিয়েছিলাম বুঝলে।
তানিয়া: কার বিয়ে?
এখানে আমি হোচট খেলাম। ঐ বিয়েটার কথা তানিয়াকে বলা ঠিক হবেনা। দুজন তরুণ-তরুণী ভালোবেসে বিয়ে করতে সমর্থ হয়েছে, এই কাহিনী তানিয়াকে বললে ও মনে কষ্ট পেতে পারে। আমি চুপ মেরে গেলাম।
তানিয়া: বললে না কার বিয়ে? কি বিষয়?
আমি: না মানে কিছুনা। মানে পরিচিত একজনার বিয়ে আরকি।
তানিয়া: তা কি হয়েছে সেখানে? তুমি হঠাৎ করে ঐ বিয়ের কথা আমাকে বলতে চাইলে কেন?
আমি: না মানে হয়েছে কি। মেয়েটা এমনভাবে সেজেছে যে ওকে দেখে আমি চিনতেই পারিনি।
তানিয়া: ও হো হো! হ্যাঁ, আজকাল পার্লারগুলো খুব এক্সপার্ট। মেকআপ দিয়ে চেহারাই পাল্টে দেয়। কেউ যদি চায় সুচিত্রা সেনের চেহারা করবে, পার্লারগুলো তা করতে পারবে।
আমি: হ্যাঁ, আমারও সেরকমই মনে হচ্ছিলো।
তানিয়া: তা ওদের বিয়ে কি ভালোবাসার।
আমি: (আমার সত্যি কথা বলতে ইচ্ছে করছিলো না) না, বাবা-মা ঠিক করে দিয়েছে। এ্যারেঞ্জড ম্যারেজ।
তানিয়া: এ্যারেঞ্জড? তাহলে তো ওদের আজকের অনুভূতি খুব ভালো ছিলো না।
আমি: ভালো থাকবে না কেন?
তানিয়া: ভেবে দেখোতো। হয়তো মেয়েটার ভালোবাসার কেউ ছিলো, অথচ বাবা-মা জোর করে অন্য একটা ছেলের সাথে বিয়ে দিচ্ছে। আহারে মেয়েটার জন্য আমার মায়া হচ্ছে!
আমি: আমি আর বলতে পারলাম না যে ওদের বিয়েটা ভালোবাসার। একবার যখন মিথ্যে বলেই ফেলেছি!
তানিয়া: তোমরা সবাই ওখানে হাসি-আনন্দ করলে! ধুমধাম করলে! আর মেয়েটার কথা ভেবে দেখো। কেমন তোলপাড় হয়েছে ওর বুকে! ও হয়তো বারবার ভাবছিলো ওর ভালোবাসার ছেলেটির কথা। যার সাথে এই জনমে আর ঘর করা হবে না। ভালোবাসে না এমন একজনকে নিয়েই জীবনটা কাটিয়ে দিতে হবে! এর চাইতে দু:খের আর কি হতে পারে?
আমি: হ্যাঁ, আর ওর ভালোবাসার ছেলেটাও হয়তো অনেক মনকষ্টে ভুগবে।
তানিয়া: (অনেকটাই রাগত সুরে) ছেলেটা মনকষ্টে ভুগবে? তাই মনে হয় তোমার?

আমি বুঝলাম আলোচনা সেনসেটিভ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আমি নিজেও আর এখন মানসিকভাবে ভালো ফীল করছি না।
আমি: তানিয়া, আমি এখন টেলিফোনটা রাখি। আরেকদিন কথা হবে।

আমি ওকে যে কথাটা ওকে অনেকদিন যাবৎ বলতে চাচ্ছি, সে কথাটা আজও বলা হলো না।

তারিখ: ২৮ জানুয়ারী, ২০১৭
সময়: সকাল ৩টা ৩০ মিনিট

(চলবে)

কেন আমি ওকে ভুলে যাবো?
———— ড. রমিত আজাদ

আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করে, “এখনো ওকে ভুলতে পারলে না?”
আমি পাল্টা প্রশ্ন করি, “কেন আমি ওকে ভুলে যাবো?”

আমি তো অভিনয় করিনি, না করেছি প্রতারণা,
আমি তো মিথ্যে বলিনি, না করেছি ছলনা,
এই স্নায়ু শুধু তো স্নায়ু নয়, নয় শুধু প্রাণ-রসায়ন,
এই দেহ শুধু তো দেহ নয়, এখানে আরো আছে মন।

সেই মন থেকেই তো বলেছিলাম, “ভালোবাসি”,
কৃষ্ণচূড়ার বনে ঝড় তুলে, বাজিয়েছিলাম বাঁশী।
ঢেউ আসে ঢেউ যায়, বেলাভূমী সরেনা বরং গড়ে,
দিন আসে দিন যায়, ভালোবাসে কমেনা বরং বাড়ে।

হৃদয়ের ক্ষত, সেও কি বাড়ে? বাড়লে বাড়ুক!
সমস্ত হৃদপিন্ডটাকে ক্ষতবিক্ষত ঝাঁঝরা করুক!

আমার দেহটাকেও দুমরে-মুচড়ে ভেঙে ফেলো,
ভাঙতে ভাঙতে ঋষী কণাদের বর্ণিত
অণু-পরামাণুতে নিয়ে যাও।
কিন্তু আত্মা? তাকে কি ভাঙা যায়?

না।
এই আত্মা সেই আত্মা, যাকে কাটা যায়না, ছেঁড়া যায়না,
আগুনে দহন করা যায় না, বায়ু দ্বারা আর্দ্র করা যায় না।
সেই আত্মায় সত্তা হয়ে মিশে আছে ও,
কেন আমি ওকে ভুলে যাবো?

XXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXXX

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.