প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে কিছুক্ষণ

প্রাক্তন প্রেমিকার সাথে কিছুক্ষণ
——— ড. রমিত আজাদ

ফেসবুক ভালোবাসি। অনেকগুলো কারনেই ফেসবুক ভালোবাসি, এর মধ্যে তিনটি হলো – এক. আগের মতো মনের কথাগুলো ডায়েরীতে লিখে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হয়না, ফেসবুকের বুকে লিখে ইথারে ভাসিয়ে দাও শত মানুষের কানে-মনে চলে যাবে তোমার কথা, মনটা হালকা হবে; দুই. ঢাকা-লন্ডন-প্যারিস-লাপাজ বলে এখন আর কোন স্থান-কালের ব্যবধান নাই, পুরো পৃথিবী এক পাত্রে, পৃথিবীর যেকোন বিন্দুতে বসে যেকোন বৃত্তের বন্ধুর সাথে মনের সুখে যোগাযোগ করো, এ যেন বিনি সুতায় বিশ্ব গাঁথা; তিন. খুঁজে পাওয়া যায় যোগাযোগ হারিয়ে যাওয়া অনেক পুরাতন বন্ধুকে। যেমন এই সেদিন হঠাৎ করেই ইনবক্সে মেসেজ পেলাম, “আমাকে মনে পড়ে? আমি আদিল তোমার পুরাতন বন্ধু, ঐ যে আমরা ধানমন্ডি লেকের পারে বসে আড্ডা দিতাম। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি একসেপ্ট করে নিও।” খুঁজে পেয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু প্যালেস্টাইনের ইয়াসিন-কে, ঘানার দুয়ার্তে্কে, মেক্সিকোর গুস্তাভো-কে, ভিয়েতনামের খুয়া-কে, ইউক্রেনের দিয়ানা-কে, ইত্যাদি। আবার মন খারাপও হয়ে যায় মাঝে মাঝে, যেমন সিরিয়ার খালেদের আইডিটা আছে, ওখানে মেসেজ পাঠিয়েছি কয়েকবার, “বন্ধু তুমি কেমন আছো?” কিন্তু উত্তর পাইনি কোন। জানিনা ও কেমন আছে! মনে মনে শুধু কামনা করি বেঁচে থাকে যেন। আরো মন খারাপ হয় যখন নিরাপরাধ রোহিঙ্গাদের উপর অমানবিক নির্যাতনের ছবি বা ভিডিও দেখি। এতটা অমানবিক দৃশ্য সহ্য করা যায়না। আশির দশকের দিকে একবার আসামে এইভাবে ঝাপিয়ে পড়েছিলো বাঙালী-দের উপর। পত্রিকায় পড়েছিলাম সীমান্ত পেরিয়ে গলাকাটা লাশ ভেসে আসছে আসাম থেকে। তখন পারতপক্ষে এগুলোর ছবি ছাপা হতো না, তাই ছবি দেখে গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠার ভয় ছিলোনা। এখন টেকনোলজির বদৌলতে দিনও পাল্টেছে, শিউড়ে ওঠার মতো সব ছবি পাওয়া যায় আকাশজালে।

ফেসবুকের কল্যাণে নতুন অনেক বন্ধু হয়েছে। তাদের কেউ কেউ ইথার জগতের বন্ধু, আবার অনেকের সাথে মুখোমুখি সাক্ষাৎও হয়ে গিয়েছে, কখনো পরিকল্পিতভাবে কখনো ইনসিডেন্টালি। নিজেও মাঝে মাঝে খুঁজে বের করি পুরাতন বন্ধুদের একে ওকে। যোগাযোগ হলে পরে ভালো লাগে, কথা হয় পুরোনো দিনের। এখনো বসে আছি ফেসবুকে। বাইরে গভীর রাত, নিকষ অন্ধকার ঢেকে রেখেছে মৌন নিসর্গকে, আর আমার সামনে ফেসবুকের ঝলমলে জগৎ। কত বিচিত্র সব স্ট্যাটাস! কেউ দেয় গানের ভিডিও, “ইয়ে দৌলত ভি লে লো, ইয়ে শহরৎ ভি লে লো, ভালে সে লে লো মুঝছে মেরি জওয়ানী, মাগার হামকো লোটা দো বাজপান কি শ্রাবণ, কাগজকি কশ্তি বারিষওকি পনি”, আহা কি চমৎকার শায়ের! অবিকল যেন আমার মনের কথা! কেউ শেয়ার করে প্রকৃতির ছবি – রূপবতী ফুজিয়ামা, উত্তাল নায়াগ্রা জলপ্রপাত! কেউ আপলোড করে নিজের ও পরিবারের ছবি, বাহ! আগে কোন বাড়ীতে বেড়াতে গেলে তারা দেখাতেন তাদের পারিবারিক এ্যালবাম, এখন আর হার্ডকপি এ্যালবামের জরুরত নেই, ফেসবুকের বুকে ক্লিক করলেই হরেক রঙের ফটো-এ্যালবাম! বাংলাদেশীদের বেশীরভাগই দেয় রাজনৈতিক স্ট্যাটাস – আগে যেসব কথা শুনতাম অফিসে, চায়ের দোকানে, খেলার মাঠে, শোভিত ড্রয়িংরূমে, এখন ওগুলোই পড়ি ফেসবুকের জমীনে। আমার একজন ফেসবুক বন্ধু আছেন উনি সব সময় দেন ফুলের ছবি, বলেন এটা পুষ্প কথন; পুষ্প যেন কথা কয়! আমি উনার ভুল ভাঙাইনা ঐ সুশ্রী পুষ্পের মাঝেও থাকে কীট, যাকে বলে ‘পুষ্পকীট’। হঠাৎ আমার মনে পড়লো ‘পুষ্পকীট’ নামে একটি গল্প পড়েছিলাম আমার প্রথম যৌবনে। অপরূপ রূপবতী এক মেয়ের প্রেমে পড়েছিলো এক সরল তরুণ। পুস্পের মত সুশ্রী মেয়েটিকে পাগলের মতো ভালোবেসেছিলো সে। তার মোলায়েম হাত ধরে মনের কথা বলতে বলতে কত স্বপ্নই না এঁকেছিলো সে! তারপর একদিন ফট করে মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায় অন্য ছেলের সাথে। মেয়েটি নববধুর সাঁজে চতুর্দোলায় চড়ে চলে যায় আরেক গাঁয়ে, তার চলার পথে দাঁড়িয়ে থাকে ছেলেটি। একময় চোখে চোখ পড়ে তাদের। মেয়েটি মৃদু হাসে, যেন ‘আমি চলে গেলাম সুখের ঠিকানায় তুমি আমার জন্য দোয়া করো কিন্তু’। এ যেন পুষ্পের মাঝে লুকিয়ে থাকা কীট!

মস্তিষ্কে বিদ্যুৎ চমকে উঠলো। ‘পুষ্পকীট’ গল্পটি আমি শুনিয়েছিলাম একজনকে সেই প্রথম যৌবনেই। ‘তানিয়া’, তিন অক্ষরের ছোট্ট একটি নাম। বিদেশী নাম বলে মনে হয়, তবে ও বিদেশিনী নয়, শাড়ীতে, কামিসে, চোখের কাজলে, কপালের টিপে পুরোপুরি বাঙালী! হারিয়ে গেলাম ফেলে আসা দিনে। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি মাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসে আনাগোনা করছি কয়েকদিন। সামনের গার্ডেনটা আমার ভালো লাগতো বেশ! ক্লাস না থাকলেই, সুযোগ পেলে ওখানে বসে থাকতাম। সবুজ ঘাস আর ফুলের শোভা দেখতে। আরো এক ধরনের ফুলও দেখতাম চুপি চুপি। ঐ ফুল দেখেনা এমন সুস্থ পুরুষ মানুষ বোধহয় ইহলোকে পাওয়া যাবেনা। হ্যাঁ, আমি নারীদের কথাই বলছি। নারীলিপ্সা নাই কার বলেন? বড় বড় কবিমনই তো বলেছে, ‘নারীলিপ্সা খারাপ কিছু নয়, নারীর রূপ-সৌন্দর্য্য আর হৃদয়-রহস্য পুরুষকে সৃ্ষ্টির প্রেরণা দেয়’।

ঐ বাগানেই প্রথম দেখছিলাম ওকে। আমার মতই বছর উনিশের এক তরুণী, তন্বী কায়া, ফর্সা রঙের সুশ্রী মুখাবয়ব, টানাটানা মায়াবী চোখ, চঞ্চল তার চাউনি, দীঘল কেশ। ‘পয়লা দর্শনেই পিরিতী উজিলা’ টাইপ না হলেও মন যে সে কেড়েছিলো সেকথা অস্বীকার করবো না। তবে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এগিয়ে গিয়ে কথা বলার মতো সাহস তখন ছিলো না। তদুপরী আমাদের বাংলাদেশী কালচারে এক বছরের সিনিয়র হলেই সিনিয়র, সাবধান থাকতে হয়। চট করে একজনকে দেখে তিনি সিনিয়র কি আমার ব্যাচমেট বোঝার উপায় তো নেই। যদি তিনি সিনিয়র হোন!
পরের ক্লাসটি ছিলো ক্লাসিকাল মেকানিক্সের। ক্লাসরূমের সামনের বেঞ্চে গিয়ে বসলাম। ভর্তি হওয়ার পর থেকে গত দুই সপ্তাহ যাবৎ ওখানেই বসি। সবকিছুরই মেরিট-ডিমেরিট আছে। ফিজিক্স ভালো লাগে তাই প্রথম বেঞ্চে বসেই স্যারদের লেকচার শুনতে ভালো লাগে, কথাও শোনা যায় স্পষ্ট, এটা মেরিট; আর ডিমেরিট হলো পিছনের দিকে যারা বসেছে তাদেরকে দেখা যায়না, সহপাঠিদের দেখার ব্যাপারে আমার আগ্রহ নেই, কিন্তু সহপাঠিনীদের বিষয়ে আগ্রহ আছে। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই স্যারদের প্রিয়ভাজন হয়েছিলাম চটপট প্রশ্নের উত্তর দিতাম বলে। ঐদিনের ক্লাসেও চটপট প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলাম, হঠাৎ করে স্যারের একটি প্রশ্নের উত্তর এলো আমার আগেই নারীকন্ঠে। পিছনের দিকে তাকালাম, ওমা এযে সেই মেয়ে! যাকে একটু আগে গার্ডেনে দেখেছি। ও কি আমাদের সাথেই পড়ে নাকি? এতদিন তাহলে দেখিনি কেন?

ক্লাস শেষে নীচে গেলাম চা-সিঙ্গারা খেতে। আমাদের ক্লাসমেটদের অনেকে দাঁড়িয়ে আছে ওখানে, তাদের মধ্যে ঐ মেয়েটিকেও দেখলাম। অনেকের মধ্যে বলে কথা বলার সাহস পেলাম, বললাম, “তুমি আমাদের সাথেই পড় নাকি?”
: জ্বী (মিষ্টি কন্ঠে জবাব দিলো ও)।
: এতদিন দেখিনি যে?
: আমি আজই প্রথম ক্লাসে এসেছি।
: ও। এতদিনে পরে এলে যে? ঢাকার বাইরে থাকো বুঝি?
: জ্বীনা, আমি ঢাকাতেই থাকি।
: তবে?
: আমি দেশের বাইরে ছিলাম তো, তাই।
এরপর জানলাম ওর বড় বোন লন্ডনে থাকে। তার ওখানে বেড়াতে গিয়েছিলো। বুঝলাম, ধনী পরিবারের মেয়ে।
: তুমি তো দেখি ভালো ছাত্র! স্যারের সব প্রশ্নের উত্তর দিলে চটপট! (বললো তানিয়া)
: (আমি লজ্জ্বা পেয়ে গেলাম ওর কথায়, আবার গর্বিতও হলাম মনে মনে) না মানে ফিজিক্স ভালো লাগে তাই আগ্রহ নিয়ে পড়ি।
পিংক কালারের সালোয়ার-কামিস পড়া তানিয়ার সাথে পরিচয় হওয়ার পর ওকে আরো বেশী এ্যাট্রাক্টিভ লাগছিলো।

এরপর আস্তেধীরে কথাবার্তা বাড়লো। সংকোচ কেটে যেতে একসময় পাশাপাশি বসতে শুরু করলাম। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আইন আছে, কোন ছেলে যদি কোন মেয়ের সাথে কথা বলে, তাহলে তাকে চার আনা পয়সা জরিমানা করা হবে। আইনটি সেই রক্ষণশীলতার যুগে চালু হয়েছিলো, তবে আইনটি এখনো তুলে নেয়া হয়নি। ঢাকার রাস্তার যেমন আইন আছে দেয়ালে পোস্টার লাগানো অপরাধ, কিন্তু আইনটির কোন প্রয়োগ নাই বলে পজিশন-অপজিশন সব রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে, মলমের ব্যবসাদার পর্যন্ত সকলেই ফুর্তিছে পোস্টার লাগায়; আমরাও তেমনি ফুর্তিছে ছেলেমেয়ে কথার ঝর্ণা বইয়ে দেই।

আমাদের মধ্যে ধীরে ধীরে যেটা ঘটেছিলো সেটা প্রেমই বলা যায়। ঘোষণা দিয়ে প্রেম নয়, বুকে জড়িয়ে ধরেও কোনদিন বলিনি ভালোবাসি। কিন্তু অজান্তে মন দেয়ানেয়া হয়ে গিয়েছিলো নীরবে। একদিন ওকে বললাম, “তোমার বড় বোন থাকেন লন্ডনে, তোমরা অনেক ধনী, হুট করে একদিন বিদেশে চলে যাবেনাতো?” তানিয়া বললো, “কি যে বলো! এখানে পড়ালেখা করছি না? পড়ালেখা শেষ না করে কোথায় যাবো বলো?”
: না, মানে লেখাপড়া করতেও তো বিদেশে চলে যেতে পারো?
: আমি মেয়ে মানুষ। এই বয়সে আব্বা-আম্মা আমাকে একা ছাড়বে ভেবেছ?
এরপর আমার দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বললো, “তোমাকে ছেড়ে কোথায় যাবো বলো? তুমি আবার আমায় ছেড়ে যাবেনাতো”
ওর মুখের দিকে তাকিয়ে, সেদিন আমি একটা কথা বলি বলি করেও বলতে পারিনি। প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বললাম,
: আমাকে একটা গান শোনাও না।
: কোন গানটা?
: ঐ যে তুমি প্রায়ই গাও। আমার ভালো লাগে।
তারপর ও মৃদু সুরে গাইতে শুরু করলো, ‘তোমায় গান শোনাবো, তাইতো আমায় জাগিয়ে রাখো’।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগেই আমি বিদেশে একটি স্কলারশীপের জন্য এ্যাপ্লাই করে রেখেছিলাম। আমার দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিটা ছিলো নাম-কা-ওয়াস্তে। ক্লাসও করতাম সময় কাটানোর জন্য। মূল টার্গেট ছিলো ঐ বিদেশ। তানিয়ার সাথে পরিচয় ও সম্পর্কটা হঠাৎ করেই হলো। আনএক্সপেকটেড এক্সপেকটেড কোনটা বলবো জানিনা। হয়তো কোনটাই না, সিম্পলি বয়সের দোষ বা গুন।

কয়েকমাস পরে আমার স্কলারশিপটা হয়ে গেলো। প্রচন্ড এ্যাম্বিশাস ছিলাম আমি, তানিয়ার কথা ভেবে বিদেশে যাবোনা স্কলারশিপ ক্যান্সেল করে দেবো, সেই মানুষ আমি নই। সবকিছু গোছগাছ করে ফ্লাইটের দুইদিন আগে ওকে বিষয়টি বললাম। হঠাৎ স্থির হয়ে গিয়েছিলো ও। আমি ভাবলাম আওয়াজ করে কেঁদে ফেলবে হয়তো। তাহলে এত মানুষের সামনে একটু অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে যাবো। কিন্তু ও কাঁদলো না। আমার দিকে তাকিয়ে রইলো অনেকক্ষণ, অপেক্ষা করছিলাম ও কি বলে শোনার জন্যে। শেষ পর্যন্ত ও কিছুই না বলে চলে গিয়েছিলো। আমি তারপর অনেকক্ষন ভেবেছিলাম, কি করবো? তানিয়ার কথা ভেবে আমি কি থেকে যাবো? তারপর ভাবলাম না, আমি ক্যারিয়ারিস্ট, ক্যারিয়ারের কথা ভেবে আমাকে নরম হলে চলবে না। বিদেশে পড়ার সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া করা চলবে না, সেটা প্রেমিকার জন্যে হলেও না।

স্মৃতি রোমন্থন ছেড়ে ফিরে এলাম বর্তমানে। ফেসবুকে দেখবো নাকি তানিয়া আছে কিনা। পেজের উপরে বাম দিকের সার্চ অপশোনে চলে গেলাম। টাইপ করে লিখে ফেললাম ওর পুরো নাম। চট করে চলে এলো ওর পেইজ। টাইমলাইনে গিয়ে এ্যাবাউট-এ গিয়ে সব পড়ে নিশ্চিত হলাম এটা সেই তানিয়া। পাঠিয়ে দিলাম একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। রাত তখন তিনটা। চট করে রেন্সপন্স পেলাম, ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট একসেপটেড’। একটু অবাক হলাম এত রাত্রে ও জেগে আছে!

ইনবক্সে মেসেজ পাঠালাম
আমি: চিনতে পারছো?
তানিয়া: চিনতে পারছি।
আমি: কেমন আছো?
তানিয়া: ভালোই।
আমি: বলো
তানিয়া: কি বলবো?
আমি: প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গিয়েছে। কত কথাই তো বলার আছে।
তানিয়া: তোমার মোবাইল নাম্বার দাও?
আমি: কেন?
তানিয়া: কেন মানে? কথা বলবো।

বুঝলাম, তানিয়া আগের মতোই বুদ্ধিমতি আছে। এভাবে চ্যাটিং-এ বোঝা যায়না ব্যাক্তিটি কে? আসল না নকল? টেলিফোনে কথা বললে শিওর হওয়া যাবে। দিলাম ওকে নাম্বার। আশা করিনি রাত তিনটায় ও কল করবে। কিন্তু আমকে অবাক করে একটু পরে কল এলো। আমি টেলিফোন ধরে ওপাশ থেকে শুনতে পারলাম, আমার তানিয়ার মিষ্টি কন্ঠস্বর।

(চলবে)

তারিখ: ২৪শে নভেম্বর, ২০১৬,
সময়: সকাল ০২ টা ৩০ মিনিট

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.