প্রাচীন বাংলা ‘গঙ্গাঋদ্ধি’

পলিম্যাথ টলেমী, রোমান কবি ভির্জিল ও প্রাচীন বাংলা ‘গঙ্গাঋদ্ধি’:
—————————— ড. রমিত আজাদ

বাংলার প্রাচীন নাম ‘গঙ্গাঋদ্ধি’ এখন হারিয়েই যাচ্ছে। আমি ছোটবেলায় স্কুলের ইতিহাস বইয়ে এই গঙ্গাঋদ্ধি সম্পর্কে পড়েছিলাম। বাংলা এ্যাকাডেমী থেকে প্রকাশিত একটি বইয়ের নাম আছে ‘গঙ্গাঋদ্ধি থেকে বাংলাদেশ’ লেখক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। দুশো বছরের বৃটিশ শাসনের আগুনে আমাদের ইতিহাস সহ অন্যান্য অনেক গ্রন্থই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। মহাজ্ঞানী অতীশ দীপংকরের বইগুলোও এখন পড়তে হচ্ছে তিব্বতী ভাষায়। স্বাধীনতার পরেও ঐসব গ্রন্থ পুনরুদ্ধারের খুব একটা চেষ্টা হয়েছে বলেছে মনে হয়না। আবার স্কুলের কারিকুলাম থেকেও আমাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবগাঁথা ধীরে ধীরে তুলে দেয়া হচ্ছে। জাতিকে ডিমোরালাইজ করার এক অদ্ভুত চাল।

যাহোক, বহুবিদ্যাজ্ঞ টলেমী সেই ৯০ সালে গঙ্গাঋদ্ধি নামটি উল্লেখ করেছেন। ইউরোপীয় ভাষায় এর উচ্চারণ Gangaridai।
টলেমি গঙ্গারিডাই-এর অবস্থান সম্পর্কে মোটামুটি বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, গঙ্গার পাঁচটি মুখ সংলগ্ন (নদীগুলো হলো মেঘনা, পদ্মা, যমুনা, কর্ণফুলী এবং রূপসা) প্রায় সমূদয় এলাকা গঙ্গারিডাইগণ দখল করে রেখেছিল, ‘গাঙ্গে’ নগর ছিল এর রাজধানী। তার বর্নণাকৃত চারটি দ্রাঘিমা ডিগ্রি সমূদ্র উপকূলের সর্ব পশ্চিম থেকে সর্ব পূর্ব নদীমুখ পর্যন্ত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করছে। কার্যতঃ এর অর্থ হলো ‘গঙ্গারিডাই’ বঙ্গপোসাগরের উপকৃলবর্তী গঙ্গার সর্বপশ্চিম এবং সর্বপূর্ব নদীমুখ পযর্ন্ত বিস্তৃত ছিল। ভাগীরথির (তমলুক এর নিকটে) এবং পদ্মার (চট্টগ্রামের নিকটে) নদীমুখের দ্রাঘিমা রৈখার পার্থক্য ৩৫ ডিগ্রির সামান্য কিছু বেশি। তাই টলেমির তথ্যানুযায়ী গব্দারিডাই-কে শনাক্ত করা যায় বর্তমান পশ্চিমবাংলা ও বাংলাদেশে গঙ্গার প্রধান দুটি শাখার মধ্যবর্তী অঞ্চলটিতে।

‘গঙ্গারিডাই রাজ্য ৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অর্থাৎ জ্ঞানী এরিস্টটল ও লুটেরা আলেকজান্ডার-এর সময়কালে ভারতীয় উপমহাদেশের বাঙলা অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস তার ইন্ডিকা গ্রন্থে এটা বর্ণনা করেছেন। ধ্রুপদী গ্রিক এবং ল্যাটিন ঐতিহাসিকদের বর্ণনানুযায়ী আলেকজান্ডার দি গ্রেট বাংলায় অবস্থিত এই গঙ্গারিডির লোকেদের পরাক্রমের কাহীনী শুনে শংকিত হয়ে যমুনার পশ্চিম পাড় থেকেই ফেরৎ চলে যান। তবে ইদানিংকার গবেষণায় উঠে আসছে যে, এটি মূলতঃ গ্রীসের দরবারী ইতিহাস। তাদের বর্ণনার ফাঁক-ফোকর থেকে বেরিয়ে আসে যে, যুদ্ধটি হয়েছিলো এবং লুটেরা আলেকজান্ডার সেই যুদ্ধে পরাজিত হয়ে কোমর ভেঙে পালিয়েছিলো।

Ptolemy (c. 90 – c. 168), wrote that the Gangaridai occupied the entire region about the five mouths of the Ganges and that the royal residence was in the city of “Ganges”. The five mouths were the Kambyson, the Mega, the Kamberikhon, the Pseudostomon and the Antibole. These rivers may refer to the Meghna, Padma, Jamuna, Karnaphuli and Rupsa. Ptolemy also noted a large natural harbour in the Chittagong coastline.

গঙ্গাঋদ্ধি-র সুনাম এত দীর্ঘকাল বিস্তৃত ছিলো যে, পাশ্চাত্যের দূরবর্তী দেশগুলি পরবর্তী ৫০০ বছর তাদের নাম ও যশ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিল। রোমান কবি ভির্জিল খ্রীষ্টপূর্ব ২৯ সালে গঙ্গাঋদ্ধি নামটি তাঁর কবিতায় উল্লেখ করেছেন।

In foribus pugnam ex auro solidoque elephanto Gangaridum faciam victorisque arma quirini

On the doors will I represent in gold and ivory the battle of the Gangaridae and the arms of our victorious Quirinius. –Virgil, “Georgics” (III, 27)

নীচে কয়েকটিতে ছবিতে এভিডেন্স উল্লেখ করলাম।

(date: 28th March, 2017, Time: 1400 hours)

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.