বিজ্ঞানীর লেখা কবিতা – ১, ২, ৩

বিজ্ঞানীর লেখা কবিতা – ১

‘বিজ্ঞানী’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই সবার চোখে ভেসে ওঠে গবেষণাগারে দাঁড়ানো সাদা এ্যাপ্রোন পড়া এক নিরাবেগ মানুষ। যার মাথায় গণিত আর অবোধ্য-জটিল কিছু ফর্মুলা ছাড়া আর কিছুই ঘোরাঘুরি না। কিন্তু এই পৃথিবীতে অনেক বিজ্ঞানীই ছিলেন অত্যন্ত আবেগময় মানুষ; যেমন ওমার খৈয়াম ছিলেন একাধারে কবি ও বিজ্ঞানী, উনার রচিত রুবাইয়াৎ আজ কয়েক শতাব্দী পরেও কাব্যপ্রেমীদের উদ্বেলিত করে। আলবার্ট আইনস্টাইন চমৎকার বেহালা বাজাতেন। রিচার্ড ফেইনমান বাজাতেন ড্রাম। মিখাইল লোমোনোসোভ ও এরভিন শ্রোডিঙ্গের (Erwin Schrödinger) দুজনই চমৎকার কবিতা লিখতেন। আবেগপূর্ণ কবিমনা তেমনি আর একজন বিজ্ঞানী ছিলেন জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। স্কটিশ এই পদার্থবিজ্ঞানীর জন্ম ১৩ই জুন, ১৮৩১ সালে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন ৫ই নভেম্বর, ১৮৭৯ সালে। বিজ্ঞানের জগতে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন তড়িচ্চুম্বকীয় তত্ত্ব আবিষ্কারের জন্য। আবিষ্কারের মৌলিকত্বের বিচারে আল হাইয়াম, নিউটন ও আইনস্টাইনের পাশাপাশি উনার নামও রাখা যায়। পৃথিবীর প্রথম রঙিন ফটোগ্রাফী-র প্রদর্শনও (demonstration of colour photography, 1861) উনার অবদান। শনি গ্রহের চতুর্দিকের রহস্যময় বলয়গুলো যে অগণিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডের দ্বারা গঠিত যারা প্রত্যেকেই স্বতন্ত্রভাবে গ্রহটির চারদিকে ঘুরছে এটাও ম্যাক্সওয়েলই প্রথম বর্ণনা করেন। তিনি তাদের নাম দিয়েছিলেন “brick-bats”। এই প্রতিভাস এক শতাব্দী পরে ব্যবহারিকভাবে প্রমাণিত হয়েছিলো শনি গ্রহের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়া ‘ভয়েজার’-এর তোলা ছবি থেকে। জগতবিখ্যাত এই বিজ্ঞানী মাঝে মাঝে অবোধ্য-জটিল ফর্মুলার জগত থেকে নেমে আসতেন আবেগময় কবিতার জগতে। আজ উনার লেখা একটি কবিতার অনুবাদ উপস্থাপন করবো।

তুমি কি আমার সাথে আসবে?
মূল: জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
অনুবাদ: রমিত আজাদ

তুমি কি আমার সাথে আসবে,
তাজা বসন্তের জোয়ারে,
আমার সান্ত্বনা হতে
এই সুবিশাল বিশ্বজগত জুড়ে?
তুমি কি আসবে সেই মার্গগুলো শিখতে
যেভাবে একজন ছাত্র তার দিন গুজরান করে,
লাবণ্যময় পাহাড়ের ঢালে
আমাদের ঝর্ণার পাশে?

মেষশাবকেরা শীঘ্রই এখানে আসবে,
তাজা বসন্তের জোয়ারে;
যেমন প্রতি বছরই তারা আসে
আমাদের ঝর্ণার পাশে।
আহা বেচারারা, তারা থাকবে না,
কিন্তু আমরা ধরে রাখবো সেই দিনটি
যখন আমরা প্রথম দেখেছি তাদের খেলা,
আমাদের ঝর্ণার পাশে।

আমরা উম্মুখ হয়ে
স্ফুটনোন্মুখ তরূদের দেখবো
তাজা বসন্তের জোয়ারে,
যখন বাতাসের কলনাদ
পিছলে যাবে শাখাদের ফাঁকে।
যেখানে বুলবুলি বাঁধে নীড়,
আর খুঁজে পায় কাজ আর ঘুম,
ঝোপে-ঝাড়ে সে ভালবাসে,
আমাদের ঝর্ণার পাশে।

এবং যে জীবন তখন আমরা কাটাবো
তাজা বসন্তের জোয়ারে,
তোমাকে একান্তই আমার করে নেবে,
যদিও জগত সুবিশাল।
কোন আগন্তুক-এর নিন্দা বা প্রশংসা
কোনকিছুই সে পথ থেকে
ফিরাতে পারবে না আমাদেরকে,
যা আমাদের জন্য বয়ে নিয়ে আসবে
সীমাহীন সুখময় দিন,
আমাদের ঝর্ণার পাশে।

(অনুবাদের দুর্বলতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। পাঠকদের গঠনমূলক সমালোচনা আশা করছি)

Will You Come Along With Me?.

I.

Will you come along with me,
In the fresh spring-tide,
My comforter to be
Through the world so wide?
Will you come and learn the ways
A student spends his days,
On the bonny, bonny braes
Of our ain burnside?

II.

For the lambs will soon be here,
In the fresh spring-tide;
As lambs come every year
On our ain burnside.
Poor things, they will not stay,
But we will keep the day
When first we saw them play
On our ain burnside.

III.

We will watch the budding trees
In the fresh spring-tide,
While the murmurs of the breeze
Through the branches glide.
Where the mavis builds her nest,
And finds both work and rest,
In the bush she loves the best,
On our ain burnside.

IV.

And the life we then shall lead
In the fresh spring-tide,
Will make thee mine indeed,
Though the world be wide.
No stranger’s blame or praise
Shall turn us from the ways
That brought us happy days
On our ain burnside.
James Clerk Maxwell :

Translated by: Ramit Azad

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
http://www.barnesandnoble.com/review/james-clerk-maxwell-physicist-poet-2

http://strangebeautiful.com/other-texts/maxwell-poems.pdf

http://www.poemhunter.com/best-poems/james-clerk-maxwell/lines-written-under-the-conviction-that-it-is-no/

https://books.google.com.bd/books?id=8_iS-4ec9wwC&pg=PA24&lpg=PA24&dq=James+Clerk+Maxwell+and+burn+stream&source=bl&ots=07cipeVVP3&sig=-mgUfKqPH7ZUmMtdNCXB8mnntzY&hl=en&sa=X&redir_esc=y#v=onepage&q=James%20Clerk%20Maxwell%20and%20burn%20stream&f=false

বিজ্ঞানীর লেখা কবিতা – ২

আবু আলী হোসাইন ইবনে সিনা (বুআলী সীনা, ৯৮০ – ১০৩৭) একটি অতি পরিচিত নাম। চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইবনে সিনার নাম বিশ্বজোড়া। উনার রচিত অমর গ্রন্থ চিকিৎসা শাস্ত্রের বিশ্বকোষ আল-কানুন ফিত-তীব (The Canon of Medicine (Al-Qanun fi’t-Tibb)) কয়েক শতাব্দী যাবৎ ছিলো চিকিৎসাশাস্ত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও নির্ভরযোগ্য কিতাব; ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্তও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল প্রতিষ্ঠানসমূহে কিতাবটি পাঠ্য ছিল। তবে তিনি কেবলই চিকিৎসাবিজ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন পলিম্যাথ; চিকিৎসক ছাড়াও তিনি ছিলেন গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক। ইসলামী স্বর্ণযুগে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভিত রচনায় উনার অবদান অপরিসীম। আরবিতে ইবন সীনাকে আল-শায়খ আল-রাঈস তথা জ্ঞানীকুল শিরোমণি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো এই অনন্যসাধারণ বিজ্ঞানী সাহিত্য চর্চাও করতেন। তিনি ছিলেন একজন পরম আবেগময় কবি

১।

আমার হৃদয় এমন এক মরুভূমি
যাকে বুঝতে ব্যার্থ হয়েছি আমি,
যদিও তা একটি ঘাসের পাতার মতই সরল,
তবুও হায় তা আমার বোধশক্তির পায়না নাগাল।

এবং যদিও আমার হৃদয়ের মাঝে,
হাজার সূর্য ঝলমল করে সাজে
তারপরেও আমি সেই সত্য বোঝার
কাছাকাছিও যেতে না পেরেছি শেষে,
নিষ্প্রাণ বালু থেকে কি উপায়ে আর
একটি প্রাণবন্ত শস্যদানা বেরিয়ে আসে!

My heart which in this desert land
Hath wondered far to understand,
Yet, ever so simple, a blade of grass,
Doth lie beyond its reach – alas.

And though within this heart of mine,
A thousands suns have come to shine
No closer am I to understand,
The truth within a grain of sand.

———- Abu Ali ibn Sina (Avecinna (980-1037 AD)

২।
কৃষ্ণকায় পঙ্ক থেকে নভস্থিত জ্যোতিষ্ক পর্যন্ত
সব কথা ও কাজের রহস্য করেছি মিমাংসিত।
খুলেছি জট সকল গ্রন্থির, আমাদের চলার পথের,
কিন্তু না পেরেছি খুলতে জট তব মানব-অদৃষ্টের।

از قعر گل سیاه تا اوج زحل
کردم همه مشکلات گیتی را حل
بیرون جستم زقید هر مکر و حیل
هر بند گشاده شد مگر بند اجل

Up from Earth’s Centre through the Seventh Gate,
I rose, and on the Throne of Saturn sate,
And many Knots unravel’d by the Road,
But not the Master-Knot of Human Fate.

৩।
বন্ধু বেশে শত্রু আমার ছিলো কাছাকাছি।
চাইনা আমি বিষ মাখানো মধুর মস্ত সাজি।
ছদ্মবেশি বন্ধু নামক অরি নাহি চাহি,
দূরে থাকি এমন কীটের ছোঁয়া নাহি সহি।

Мой друг с моим врагом сегодня рядом был.
Не нужен сахар мне, что смешан с ядом был!
С подобным другом впредь не должен я дружить:
Беги от мотылька, когда он с гадом был!

______________________________________________
The worthiest professor of physics would be one who could show the inadequacy of his text and diagrams in comparison to nature and the higher demands of the mind.
–Johann Wolfgang von Goethe

পদার্থবিজ্ঞানের সেই অধ্যাপকই সর্বত্তোম হতে পারবেন যিনি প্রকৃতি ও মনের উচ্চতর দাবী-র তুলনায় তার টেক্সট এবং ডায়াগ্রাম সমূহের অপ্রতুলতা দেখাতে সক্ষম হবেন।
– ইয়োহান উলফগ্যাং ভন গ্যাটে

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
1. http://www.thenewatlantis.com/publications/the-scientist-and-the-poet
2. http://www.wisdomcode.info/ru/poetry/authors/54586.html
3. http://www.avicenna-sina.narod.ru/gazeli.html
4. https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87_%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE
5. https://babel.hathitrust.org/cgi/pt?id=mdp.39015003214510;view=1up;seq=23
6. http://belog.jigaram.com/tag/poetry/

বিজ্ঞানীর লেখা কবিতা – ৩: অতীশ দীপংকর-এর কবিতা

স্বভাবতঃই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপংকর তো একজন দার্শনিক ও ধর্মীয় গুরু হিসাবেই বেশী পরিচিত, তিনি কি একজন বিজ্ঞানী ছিলেন? উত্তরে বলবো হ্যাঁ ছিলেন। তিব্বতের থোল নামক একটি জায়গায় প্রবল বন্যায় স্থানীয় জনগণ খুব কষ্ট করতো। নানা জ্ঞানে পন্ডিত অতীশ দীপংকর তাঁর প্রকৌশল (Engineering) জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সেখানে একটি বাঁধ নির্মান করে বন্যা প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা করেন। খাল খনন করে কৃষিতে সেচের ব্যবস্থা করেন, এবং এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তিনি জনস্বার্থে চিকিৎসা শাস্ত্রের উপরও কিছু গ্রন্থ (treatises) রচনা করেন। এভাবে তিব্বতের সমাজে এক নবযুগের সূচনা হয়। অর্থাৎ এই বাঙালী পলিম্যাথ অনেক কিছুর মধ্যে প্রকৌশলী ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীও ছিলেন।

দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান দুই শতাধিক গ্রন্থ রচনা, অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন। তিব্বতের ধর্ম, রাজনীতি, জীবনী, স্তোত্রনামাসহ তাঞ্জুর নামে বিশাল এক শাস্ত্রগ্রন্থ সংকলন করেন। বৌদ্ধ শাস্ত্র, চিকিৎসা বিদ্যা এবং কারিগরি বিদ্যা বিষয়ে তিব্বতী ভাষায় অনেক গ্রন্থ রচনা করেন বলে তিব্বতীরা তাকে অতীশ অর্থাৎ মহাপন্ডিত (great scholar) উপাধীতে ভূষিত করে।

শ্রীজ্ঞান অতীশ গীত ও পদের মাধ্যমে ধর্ম প্রচার করে তিব্বতের মানুষদের হৃদয় জয় করে নেন। অতীশ রচিত পদাবলী ‘বজ্রাসনা বজ্রগীতি (‘Vajrasana Vajragiti’), ‘চর্যাগীতি (‘Charyagiti’)’ এবং বজ্রযোগিনী স্তোত্র (‘Vajrayogini Stotra’) তিনি উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর প্রিয় জন্মভূমি বাংলার স্মৃতির প্রতি। আধ্যাত্মিক এই গীতিগুলি ছিলো নির্মল বাংলা ভাষায় রচিত। তবে বাংলা রূপগুলো হারিয়ে গিয়েছে শুধু এগুলির তিব্বতী অনুবাদগুলো টিকে আছে তানজুর (Tanjur) নামক গ্রন্থে।

রত্নের জয়মাল্য বোধিসত্ত্ব
মূল: অতীশ দিপংকর
ইংরেজী থেকে অনুবাদ: রমিত আজাদ

বাংলা ভাষায় বলি: বোধিসত্ত্বমান্যবলী
তিব্বতী ভাষায় বলি: চাংচুব সেমপে নরবু ত্রেংওয়া
ইংরেজী ভাষায় বলি: দ্যা বোধিসত্ত্ব’স গারল্যান্ড অব জুয়েলস

মহান পরদুঃখকাতরতার প্রতি শ্রদ্ধা!
যা অনুপ্রাণিত করে ভক্তি এবং বিশ্বাস-এ সেই দেবত্বের প্রতি শ্রদ্ধা!
গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা!

সন্দেহ ও সংশয়-এর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করুন,
এবং হৃদয় দিয়ে সর্বান্ত:করণে অনুশীলনকে গ্রহন করুন,
ঝেড়ে ফেলুন সকল আলস্য, নিশ্চেষ্টতা ও নিষ্প্রভতা-কে,
এবং উদ্যম ও আনন্দের সাথে সংগ্রাম করুন।

মনোযোগী, সজাগ ও সতর্ক থাকুন,
প্রতি মুহূর্তে আপনার ইন্দ্রিয়ের প্রবেশপথ পাহারা দিন।
দিনে তিনবার, রাতে তিনবার,
বারবার, আপনার চিন্তাধারা পরীক্ষা করুন।

আপনার নিজের দোষত্রুটি সংশোধন করুন,
অন্যদের দোষত্রুটি খোঁজার প্রয়োজন না করুন।
অন্যদের ভালো দিকগুলোকে জানুন,
কিন্তু নিজের গুণাবলী নিয়ে বড়াই না করুন।

লাভ ও সম্মানের ক্ষুধা পরিত্যাগ করুন,
মুনাফা ও খ্যাতির ক্ষুধা পরিত্যাগ করুন।

প্রেম ও পরদুঃখকাতরতার চর্চা করুন।
এবং আপনার বোধিসত্ত্ব স্থিতিশীল করুন।
দশ ক্ষতিকর ক্রিয়া এড়িয়ে চলুন,
এবং আপনার বিশ্বাস ও আস্থায় দৃঢ়তা আনুন।

অল্প চাওয়া ও স্বল্প পাওয়ায় সন্তুষ্ট থাকুন,
আর কৃতজ্ঞতার সাথে যে কোনো প্রাপ্ত উদারতার প্রতিদান দিন।

এই মতো অনুশীলনে, আপনি
মেধা ও প্রজ্ঞার সঞ্চয়নে পূর্ণতা পাবেন,
আর তমসাচ্ছন্নতার দুই রূপকে আলোকিত করবেন।
এই মানব জীবনকে অর্থবহ করতে পারবেন,
এবং এক সময়ে বিশুদ্ধ জাগরণ লাভ করবেন।

The Bodhisattva’s Garland of Jewels
by Atiśa Dīpaṃkara
In the language of India: Bodhisattvamaṇyāvalī
In the language of Tibet: changchub sempé norbü trengwa
In the English language: The Bodhisattva’s Garland of Jewels
Homage to great compassion!
Homage to the deities who inspire faith and devotion!
Homage to the masters!
Be done with doubt and indecision,
And embrace your practice with all your heart.
Shake off lethargy, dullness and laziness,
And strive always with enthusiasm and joy.
Mindful, vigilant and careful,
Guard the doorways of your senses at every moment.
Three times each day, three times at night,
Again and again, examine your thoughts.
Make plain your own failings,
But don’t look for faults in others.
Make known the good points of others,
But keep quiet about your own best qualities.
Let go of craving for gain and honour,
And give up the urge for profit or fame.
Cultivate love and compassion,
And make your bodhicitta stable.
Avoid the ten unwholesome actions,
And make your faith and confidence be strong.
With few wants, be content with what you have,
And with gratitude repay any kindness you receive.
Overcome anger and arrogance,
And let humility rule your mind.
Give up any unwholesome kind of living,
And pursue a livelihood in keeping with the Dharma.
Do away with your addiction to material things,
And adorn yourself with the riches of the Āryas.
The wealth of faith, of discipline,
Generosity and learning,
Decency, self-control,
And wisdom—such are the seven riches.
These most sacred forms of wealth
Are seven treasures that never run out.
Do not speak of this to those who are not human.
Leave all busyness and distraction behind,
And dwell instead in seclusion and solitude.
Refrain from meaningless chatter,
And always keep a check on what you say.
Whenever you see your master or preceptor,
Offer to serve them with devotion and respect.
Those who possess enlightened vision
And those first setting out upon the path—
Regard them both as your spiritual teachers.
Whenever you see any sentient beings,
Regard them as your parents or your children.
Don’t befriend those who act in harmful ways;
Instead rely on true spiritual friends.
Drop any feelings of hostility or ill will,
And be happy, wherever you choose to go.
Avoid getting attached to anything at all,
And stay free from craving and desire.
Attachment not only keeps you from happy births,
It kills the very life of liberation.
Should you find a way to peace and happiness,
Strive constantly to put it into practice.
Whatever task you set out to do,
Accomplish that very thing first.
This way, everything will turn out well;
If not, nothing will succeed.
Never take pleasure in acts that harm.
And when thoughts of superiority creep in,
There and then, deflate your self-importance,
And recall your master’s personal advice.
Or whenever you feel discouraged or inadequate,
Raise your spirits and encourage yourself.
And always meditate on emptiness.
Should the objects of attachment or aversion appear,
View them as no more than illusions or projections.
Should you hear unpleasant words,
Consider them nothing more than echoes.
Should you suffer physical harm,
See it as the result of your past actions.
Keep entirely to solitude, far away from town,
And, like the carcass of some wild animal,
Stay hidden in nature by yourself,
Free of all entanglement and attachment.
Always keep up your pledges and commitments,
And should laziness or procrastination strike,
Immediately take note of your errors, one by one,
And remind yourself of the heart of your discipline.
Whenever you meet another person,
Speak calmly, sincerely and truthfully.
Take care not to frown or glare,
And always wear a cheerful smile.
And when you’re with those you see every day,
Don’t be stingy, but be happy to give,
And banish all feelings of envy.
So as to protect others’ peace of mind,
Stay clear of quarrels of any kind,
And be patient and always forbearing.
Don’t flatter, or be a fickle friend,
But be steadfast and reliable all the time.
Never disparage or belittle other people,
But treat everyone with respect.
When giving advice or instructions,
Do so with compassion and a genuine wish to help.
Be sure never to criticize the teachings.
Set your sights on what inspires you most,
And, through the ten forms of Dharma practice,[1]
Exert yourself in sessions, day and night.
Among others, keep a check on your speech;
When alone, keep a check on your mind.
Whatever virtues you amass in the past, present and future,
Dedicate them all towards great, unsurpassable awakening,
Share your merit among all sentient beings,
And with the seven branch practice,
Continually make great prayers of aspiration.
Practising like this, you will complete
Accumulations of both merit and wisdom,
And eliminate the two forms of obscuration.
You will make this human life meaningful,
And, in time, gain unsurpassable awakening.
This concludes the Bodhisattva’s Garland of Jewels, composed by the great Indian paṇḍita Dīpaṃkara Śrījñāna.
——————————————

Light Offering Prayer
by Atiśa Dīpaṃkara
མར་མེའི་སྣོད་ནི་སྟོང་གསུམ་གྱི་སྟོང་ཆེན་པོ་འཇིག་རྟེན་ཁམས་ཀྱི་ཁོར་ཡུག་དང་མཉམ་པར་གྱུར་ཅིག །
marmé nö ni tongsum gyi tongchenpo jikten kham kyi khoryuk dang nyampar gyur chik
May this vessel become as vast as the entire billionfold universe!
སྡོང་བུ་ནི་རིའི་རྒྱལ་པོ་རི་རབ་ཙམ་དུ་གྱུར་ཅིག །
dongbu ni ri gyalpo rirab tsam du gyur chik
May its wick grow as large as Sumeru, the king of mountains!
མར་ཁུ་ནི་མཐའི་རྒྱ་མཚོ་ཙམ་དུ་གྱུར་ཅིག །
markhu ni té gyatso tsam du gyur chik
May the oil within become as vast as the great ocean at the edge of the world!
གྲངས་ནི་སངས་རྒྱས་རེ་རེའི་མདུན་དུ་དུང་ཕྱུར་རེ་རེ་འབྱུང་བར་གྱུར་ཅིག །
drang ni sangye reré dündu dungchur reré jungwar gyur chik
And may a billion such lamps appear before each and every buddha!
འོད་ཀྱིས་སྲིད་པའི་རྩེ་མོ་མན་ཆད་ནས།
ö kyi sipé tsemo menché né
Their light banishing the darkness of ignorance everywhere,
མནར་མེད་པའི་དམྱལ་བ་ཡན་ཆད་ཀྱི་མ་རིག་པའི་མུན་པ་ཐམས་ཅད་བསལ་ནས་ཕྱོགས་བཅུའི་སངས་རྒྱས་དང་བྱང་ཆུབ་སེམས་དཔའི་ཞིང་ཁམས་ཐམས་ཅད་མངོན་སུམ་དུ་མཐོང་ཞིང་གསལ་བར་གྱུར་ཅིག །
narmé pé nyalwa yenché kyi marikpé münpa tamché sal né chok chü sangye dang changchub sempé shyingkham tamché ngönsum du tong shying salwar gyur chik
From the very peak of existence down to the lowest hell, may they reveal all the realms of buddhas and bodhisattvas throughout the ten directions!
ཨོཾ་བཛྲ་ཨ་ལོ་ཀེ་ཨཱཿཧཱུྃ།
om vajra aloké ah hung
ཨེ་མ་ཧོ། ངོ་མཚར་རྨད་བྱུང་སྣང་གསལ་སྒྲོན་མེ་འདི། །
emaho ngotsar mejung nangsal drönmé di
Emaho! This wondrous and amazing light, burning brightly,
བསྐལ་བཟང་སངས་རྒྱས་སྟོང་རྩ་ལ་སོགས་པའི། །
kalzang sangye tong tsa lasokpé
I offer to the thousand buddhas of this fortunate age,
རབ་འབྱམས་ཕྱོགས་བཅུའི་ཞིང་ཁམས་མ་ལུས་པའི། །
rabjam chok chü shyingkham malüpé
Gurus, yidam deities, ḍākinīs and dharmapālas,
བླ་མ་ཡི་དམ་མཁའ་འགྲོ་ཆོས་སྐྱོང་དང་། །
lama yidam khandro chökyong dang
And the deities of all the mandalas,
དཀྱིལ་འཁོར་ལྷ་ཚོགས་རྣམས་ལ་འབུལ་བར་བགྱི། །
kyilkhor lhatsok nam la bulwar gyi
In all the infinite realms of the ten directions.
ཕ་མས་གཙོ་བྱས་སེམས་ཅན་ཐམས་ཅད་ཀྱི། །
pamé tso jé semchen tamché kyi
May all beings, with my own parents foremost among them,
ཚེ་རབས་འདི་དང་སྐྱེ་གནས་ཐམས་ཅད་དུ། །
tserab di dang kyené tamché du
In this and in all lives to come, whatever our place of birth,
རྫོགས་སངས་རྒྱས་པའི་ཞིང་ཁམས་མངོན་མཐོངས་ནས། །
dzoksang gyepé shyingkham ngön tong né
Always see directly the perfect buddhas’ realms,
འོད་དཔག་མེད་མགོན་ཉིད་དང་དབྱེར་མེད་ཤོག །
öpakmé gön nyi dang yermé shok
And remain forever inseparable from Amitābha, ‘Lord of Boundless Light’—
དཀོན་མཆོག་གསུམ་དང་རྩ་གསུམ་ལྷ་ཚོགས་ཀྱི། །
könchok sum dang tsa sum lhatsok kyi
Grant your blessings so that, through the power of the truth
བདེན་པའི་མཐུ་ཡིས་སྨོན་ལམ་འདི་བཏབ་སྟེ། །
denpé tu yi mönlam di tab té
Of the Buddha, Dharma and Sangha, and the deities of the Three Roots,
མྱུར་དུ་འགྲུབ་པར་བྱིན་གྱིས་བརླབ་ཏུ་གསོལ། །
nyurdu drubpar jingyi lab tu sol
This prayer of aspiration may swiftly be fulfilled!
ཏདྱ་ཐཱ། པཉྩནྡྲི་ཡ་ཨཱ་བ་བོ་དྷཱ་ན་ཡེ་སྭཱ་ཏཱ།
tadyatha pancandriya avabodhanaye svaha
ཞེས་ཇོ་བོ་རྗེ་དཔལ་ལྡན་ཨ་ཏི་ཤས་དབུས་གཙང་གི་མཆོད་ཁང་རྣམས་ལ་དཔོན་སློབ་བཅོ་བརྒྱད་ཙམ་གྱིས་འུར་འདོན་མཛད་ཅེས་གྲགས་སོ།། །།
It is said that the precious Lord, glorious Atiśa, and seventeen of his disciples would chant this in unison as they made offerings in the shrines of Ü and Tsang.
| Translated by Adam Pearcey, Rigpa Translations, 2010.

(অনুবাদের দুর্বলতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। পাঠকদের গঠনমূলক সমালোচনা কামনা করছি)

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:
1. http://www.lotsawahouse.org/indian-masters/atisha/jewel-rosary-bodhisattvas
2. http://nirvanapeace.com/buddhism-philosophy/buddhism-humanity/14#.VW1XX9Kqqko
3. http://hchadigang.blogspot.com/2013/05/blog-post_5058.html
4. http://www.munshigonj.com/Famous/Atis.htm
5. http://artof4elements.com/entry/54/om-mani-padme-hum
6. http://thebuddhisttimes.com
7. http://wikipedia.org

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.