বিজ্ঞানী কাকে বলে?

বিজ্ঞানী কাকে বলে?
—— ড. রমিত আজাদ

সম্প্রতি আমার এক ফেসবুক বন্ধু আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনি কি একজন বিজ্ঞানী?” তখন আমার কয়েক বছর আগে এক ছাত্রীর করা একই প্রশ্ন মনে পড়েছিলো, কথাপ্রসঙ্গে মহাবিশ্বের মৌলিক বল ও মিথষ্ক্রিয়াগুলো সম্পর্কে একটি ক্লাসে তাদেরকে বোঝাচ্ছিলাম। ক্লাসটি ছিলো গণিতের, সেই ক্লাসে পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কিত আমার ভারী বক্তৃতা শুনে তিনি কৌতুহলবশতঃই প্রশ্ন করেছিলেন, “স্যার আপনি কি একজন সায়েন্টিস্ট?” আবার রিসেন্টলি গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক ভিশন-এর উপর আলোচনা করতে গিয়ে, ঐ ভিশন-এর পুস্তিকাটি পড়ে তার অপূর্ণতা দেখে আমার মনে সন্দেহ হয়েছিলো যে, ভিশন-টি তৈরীতে যে টীম-টি কাজ করেছিলো, সেই টীম ওয়ার্কে কোন বিজ্ঞানীকে রাখা হয়নি। আমাদের দেশে জ্ঞানী ব্যাক্তি বলতে সাধারণত: আমলা ও অর্থনীতিবিদদের বেশী কিছু ধরা হয় না। অথচ পেল্লায় বিজ্ঞানের এই যুগে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় রাজনৈতিক ভিশন তৈরীর ক্রস-ফাংশনাল টীম ওয়ার্কে বিজ্ঞানীদের রাখা অত্যন্ত জরুরী। এইসব বিবেচনায়, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, ‘বিজ্ঞানী কাকে বলে?’ এই বিষয়ে দু’একটি কথা লেখা প্রয়োজন।

বিজ্ঞান নিয়ে মানবজাতি কাজ করছে বহুকাল যাবৎই, কিন্তু বিজ্ঞান একটি সাবজেক্ট হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে সময় লেগেছে অনেকগুলো বছর, এবং তার ইতিহাস খুব বেশী পুরাতন নয়। এই পৃথিবীর প্রথম আধুনিক বিজ্ঞানী ধরা হয় আল হাইয়াম (৯৬৫ – ১০৪০ খ্রীষ্টাব্দ)-কে। প্রশ্নটি হলো, ‘কেন?’ অতি প্রাচীনকালে মানুষ প্রাকৃতিক ঘটনাবলী বা প্রতিভাসগুলোর ব্যাখ্যা দিতে ব্যবহার করতেন দেব-দেবী সংক্রান্ত কিছু কেচ্ছা-কাহিনী, যাকে বলা হয় ‘মিথ’ বা ‘পূরাণ’। একসময় হিংসুটে দুর্বলচরিত্র ঐসব দেব-দেবীদের প্রতি মানুষের আস্থা উঠে গেলো। জ্ঞান-বুদ্ধি বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ প্রয়োজন অনুভব করলো ‘লজিকাল রিসনিং’-এর। এই পর্যায়ে উদ্ভুত হয় ‘ফিলোসফী’-র। যার শুরু বাংলার সন্তান জ্ঞানী কপিল-এর ‘সাংখ্য’ দর্শনের হাত ধরে। ‘ফিলোসফী’-তে প্রাকৃতিক ঘটনাবলী বা প্রতিভাসগুলোর ব্যাখ্যায় দেব-দেবী আউট! দেব-দেবী-হীন এইসব ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হতে শুরু করলো ‘লজিকাল রিসনিং’। তবে আবারো জ্ঞান-বুদ্ধি বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ ‘ফিলোসফী’-তেও কিছু অপূর্ণতা খুঁজে পেলো। যেমন দার্শনিক এরিস্টটল বলেছিলেন যে, “মেয়েদের দাঁতের সংখ্যা ছেলেদের দাঁতের চাইতে কম”, অথবা “স্থির অবস্থাই চরম অবস্থা”, ইত্যাদি (যা এখন ভুল প্রমানিত হয়েছে)। এর কারণ, তিনি মনে করতেন যে, ‘বিশুদ্ধ চিন্তা থেকে থিওরী তৈরী করা যায়’। কিন্তু আল হাইয়াম পবিত্র ‘কোরান’ পাঠে জানতে পারেন যে, এই পৃথিবীতে কোন মানুষই ত্রুটিমুক্ত নয়। তাই যদি হয়ে থাকে তাহলে সেই মানুষ যত জ্ঞানী-ই হোন না কেন, উনার ভাবনায়ও ত্রুটি থাকতে পারে। একারণেই আল হাইয়াম অনুভব করলেন যে, মানুষের আবিস্কৃত সব জ্ঞানই যাচাইয়ের প্রয়োজন রাখে। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার কষ্টি পাথরে যাচাই করা জ্ঞানটিই হবে বিজ্ঞান। এভাবে তিনি একটি মেথডের জন্ম দেন, যার নাম আজ ‘সায়েন্টিফিক মেথড’।

তাই, যেই ব্যাক্তি ‘সায়েন্টিফিক মেথড’ ব্যবহার করে এই প্রকৃতি জগতের রহস্য উদঘাটনে জ্ঞান অর্জন বা তৈরী করেন তিনিই বিজ্ঞানী বা সায়েন্টিস্ট।

A scientist is a person engaging in a systematic activity to acquire knowledge that describes and predicts the natural world. In a more restricted sense, a scientist may refer to an individual who uses the scientific method. The person may be an expert in one or more areas of science.

এখানে উল্লেখ করতে চাই যে, কেবল সায়েন্স জানলেই সায়েন্টিস্ট নয়। বই পড়ে সে তো অনেকেই জানতে পারে। কোন টপিকের উপর সুনির্দিষ্ট গবেষণা করে বিজ্ঞান বিষয়ে কোন জ্ঞান তৈরী করতে পারলেই তবে তিনি সায়েন্টিস্ট। এখানে স্বীকৃতিও জরুরী। এই জমানায়, উনার গবেষণা কোন না কোন স্বীকৃত ‘পীর রিভিউড জার্নাল’-এ প্রকাশিত হতেই হবে। যদি তা কোন আবিষ্কার/উদ্ভাবন হয়ে থাকে তবে তার প্যাটেন্ট থাকতে হবে। যারা পি.এইচ.ডি. করেন তারা এই জাতীয় গবেষণায় লিপ্ত থাকেন। যদি গবেষণাটি সাকসেসফুল হয় তাহলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ তাকে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞান বিষয়ে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রীধারী ব্যাক্তিও একজন বিজ্ঞানী বা সায়েন্টিস্ট।

(আপাততঃ এই পর্যন্তই থাক। পাঠকদের প্রশ্ন পরামর্শ ইত্যাদি অনুযায়ী লেখাটিকে সম্প্রসারণ করবো)

তারিখ: ৮ই জুন, ২০১৭
সময়: বিকাল ৪টা ১৮ মিনিট

মন্তব্য করুন..

২ মন্তব্যসমূহ

  1. md,saiful islam জবাব

    আসলে বিজ্ঞানি বিসয়টি যদি গেয়ানী
    লোকেরা যদি পকাস না করে তাহলে
    আমাদের মত সামাজিক লোকেরা ,
    কিচু সিকবোনা
    ,,,
    , , দন্যবাধ ইজি পালিকেশনস,,,,,,

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.