বিতর্ক কিন্তু ঝগড়া নয়!

বিতর্ক কিন্তু ঝগড়া নয়!
——– ড. রমিত আজাদ

‘জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ নামে একটি প্রতিযোগিতা প্রবর্তিত হয়েছিলো জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শাসনামলে। অল্প সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠানটি প্রচন্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো। আমার মনে আছে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে আমরা পরিবারের সবাইকে নিয়ে সাদাকালো টিভি পর্দার সামনে উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করতাম অনুষ্ঠানটি উপভোগ করার জন্যে। নিখাদ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ‘ছায়াছন্দ’ দেখার জন্য দর্শকদের আগ্রহ যতটুকু থাকতো, নিখাদ শিক্ষামূলক ‘জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ দেখার জন্য দর্শকদের আগ্রহ থাকতো ততটুকুই। আমি তখন নিতান্তই বালক, কিন্তু ঐ প্রতিযোগিতা দেখে আমি ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম, এবং পরবর্তিকালে স্কুল-কলেজ জীবনে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে পুরষ্কারও পেয়েছিলাম। আমার মত আরো অনেকেই ছিলেন।

কেন এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রবর্তিত হয়েছিলো? কারণ বিতর্কের অপর নাম ‘বাক স্বাধীনতা’, বৃটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে আমাদের কোন বাক স্বাধীনতা ছিলো না, কেননা আমরা নিজ দেশে পরাধীন ছিলাম। জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের শাসনামলে ‘বাক স্বাধীনতা’ ছিলো বলেই বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রবর্তিত হয়েছিলো। আরো একটি কারণ ছিলো দেশের মানুষদেরকে বি-তর্ক (বিশেষ নিয়মে তর্ক) করতে শেখানো, কারণ এই দেশের মানুষ বি-তর্কের চাইতে অহেতুক তর্ক (যার অপর নাম ‘ঝগড়া’) করতেই বেশী অভ্যস্ত ছিলো। বিতর্কের কিছু তরিকা আছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো তথ্য, উপাত্ত ও যুক্তির ভিত্তিতে কথা বলা; বিপক্ষ গ্রুপকে তার পূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করতে দেয়া, বাক-পটুতা দিয়ে ইমোশনাল কথাবার্তা বলে শ্রোতাদের প্রভাবিত না করে র‍্যাশনাল কথার উপর জোর দেয়া, অপরপক্ষের যুক্তি খন্ডনপূর্বক নিজ যুক্তি উপস্থাপন করা, এক কথার মধ্যে অপ্রাসঙ্গিক ও অসঙ্গতিপূর্ণ অন্য কথা টেনে না আনা, বিজ্ঞজনদের কথা মনযোগ দিয়ে শোনা, ইত্যাদি।

ফেসবুক ও ব্লগে কিছু লোকের মন্তব্য দেখে আমার খুব আফসোস হয় যে, এই জাতির অনেকেই এখনো বি-তর্ক করতে শেখেনি।

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.