বেনারসি শাড়ি ও জন্মনিরোধক বেলুন পর্ব ২

১৬৬৬ সালের সমীক্ষায় দেখা গেল ইংরেজদের জন্মহার কমে যাচ্ছে। ক্যাথলিক তাত্ত্বিক লিওনার্দো লেসিয়াস এ জন্য অনৈতিক কনডম ব্যবহারকে দায়ী করলেন।

 

নারী কনডমের ব্যবহারও বেশ পুরনো। মেয়েরা এক ধরনের বিষ মাখানো কনডম ব্যবহার করে ধর্ষণকারীদের প্রতিরোধ করার জন্য। একবার এ বিষ নাজুক অঙ্গে লাগলে ধর্ষণকারী যন্ত্রণায় আর এগোতে পারত না।

 

একালের কনডম ল্যাটেক্স ও পলিইউরেথেইন থেকে তৈরি হয়। আর পিচ্ছিল পদার্থের সঙ্গে থাকে শুক্র বিধ্বংসী ননঅক্সিনল-৯। কনডম ওয়াটার প্রম্নফ, ইলাস্টিক এবং টেকইস।

কনডমের বাহারি ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পানীয় জল পরিবহন। এটি বহন করা সহজ। একটি সুনির্মিত ফুল সাইজ কনডম প্রায় ১২ লিটার পানি ধারণ করতে পারে। তবে পানিভর্তি কনডম পরিবহনের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

 

যেকোনও ছোট আকৃতির ইলেকট্রনিক সামগ্রীর পানির ভেতরে বা তলদেশে ব্যবহারের জন্য তা কনডমের ভেতর ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। মাইক্রোফোনের ব্যবহার বিশেষভাবে উলেস্নখ করার মতো। বিবিসি এই ব্যবহারকে সুপরিচিত করিয়েছে। কেইপ টাউনে ফুটবল খেলোয়াড়রা মাঠে নামার সময় কনডম নিয়ে নামে। মোজা যথাস্থানে চেপে ধরে রাখার জন্য তারা মোজার ওপর কনডম পরে নেয়। আফ্রিকায় ফুটবলারদের মধ্যে ব্যবহার আরও বাড়ছে।

 

জুতোর বর্ণ উজ্জ্বল করতে বেনারসি তাঁতিদের মতো কনডমের লুব্রিক্যান্ট দিয়ে জুতো পালিশ করা হয়। এই পদ্ধতিটি বেশ বাজার পেয়েছে। জুতোর চাকচিক্য ধরে রাখার জন্য ধুলোবালি কিংবা কাদামাটি অতিক্রম করার সময়, জুতোর উপরে দুপায়ে দুই কনডম পরে নিলেই ব্যাস। পার্টিতে ঢোকার সময় কনডম খুলে নিলেই মনে হবে জুতো এইমাত্র ব্রাশ করা হয়েছে। কঙ্গোতে ৩টি কনডমের দাম ৯ সেন্ট আর জুতোর পালিশের দাম ৬০ সেন্ট।

 

কম্বোডিয়া কনডমের লুব্রিকেণ্ট যৌনকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মেয়েরা মুখে মেখে থাকে- তাতে শোনা যায় ব্রণ হয় না। চুলকানিতেও তা কাজে লাগে বলে নাম্বার ওয়ান প্লাস ব্র্যান্ড কনডমের চাহিদা অনেক বেশি।

 

বিভিন্ন ধরনের প্যাথলজিক্যাল টেস্ট বিশেষ করে ইউরিন টেস্টের সময় কনডমে মূত্র বহনের নজির রয়েছে। এমনকি মৃত্তিকাবিজ্ঞানীরাও কনডমের ভেতর নমুনা মাটি পরীক্ষার জন্য পরিবহন করেছেন বলে শোনা গেছে।

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় নগ্ন জল ভ্রমণে বের হলে ক্যানডিরু নামের ক্যাটফিশের আক্রমণ থেকে শিশ্নকে রক্ষা করতে কনডম পরিধানের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এই কাটফিশ মূত্রগন্ধের ভক্ত। কাজেই সহজেই টার্গেট শনাক্ত করতে পারে।

 

কনডমের ভেতর চোলাই মদ রাখার নজির ভারতে আছে। ফেনসিডিল পাচার ও সরবরাহে বাংলাদেশে এর ব্যবহার হচ্ছে কি না দেখা দরকার।

 

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বন্দুকের ব্যারেল সুরক্ষার জন্য কনডম ব্যবহার হতো। এর ভেতর বিস্ফোরক রাখার নজিরও আছে।

 

ট্রান্স ভ্যাজাইনাল আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় ডিটেকটরকে কনডমে ঢুকিয়ে নেওয়া হয়। কোকেন চোরাচালানে কনডমের ব্যাপক ব্যবহার ধরা পড়েছে। আলেকজান্ডার সোলঝেনিৎসিনের লেখায় সোভিয়েত গুলাগের একটি চিত্র : কয়েদির মুখে কনডম ঢুকিয়ে সিরিঞ্জের সাহায্যে ভেতরে প্রায় তিন লিটার কড়া এলকোহল ঢুকানো হতো। কনডমের মুখ কৌশলে দাঁতে আটকে রাখতে হতো। ভরে গেলে সহকয়েদিরা তা বের করে পানি মিশিয়ে সাত লিটার কড়া ভদকা তৈরি করত। ব্যাপারটা খুব বিপজ্জনক এবং ফেটে গেলে জীবন সংহারক হলেও কয়েদিরা তা করত। আফ্রিকানদের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ একবার দাবি জানাল, সব সাদা, ঘিয়ে, ধূসর কনডম নষ্ট করে ফেল। আমরা কালো কালো কনডম চাই।

 

বাজারে এসেছে ম্যাডোনা কনডম। ম্যাডোনা কনডমে ঘর সাজানোর কাজও হচ্ছে। ২০০৩ সালে চীন তৈরি করেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কনডম। হলুদ পিভিসি (পলিভাইনিল ক্লোরাইড) কনডমটির উচ্চতা ৮০ মিটার এবং ব্যাস ১শ মিটার।

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.