মন্ত্রজালে

মন্ত্রজালে
সাকি বিল্লাহ্

শ্যামনগরের রাজপুত্র মাহাতাপ সিং
রাজকর্ম বাদ দিয়া বাউন্ডুলে কাটিত দিন ।
রাজ্য ও সিংহাসন নিয়া তাই রাজা প্রতাপ,
দুঃশ্চিন্তায় ব্যথিত সারাদিন বিলাপ ।

নদীর ধারে বসিয়া ক্ষণকালে মাহাতাপ,
মনোযোগে পশুপাখি মৎস্য হত্যায় মহাপাপ ।
এ কাজে তাহার বাধা হইল এক দরবেশ,
কহিল বাছা, অকারনে কেন ধ্বংসের রেশ?
রাজপুত্রকে কেহ প্রশ্নের ধৃস্টতায়,
সাহস তাহার বড়ই চমক বরদাস্ত করে প্রায় ।

তুমি মূর্খ দরবেশ ! জীবন সুখের পেয়ালা,
তুমি কিভাবে জানিবে কিসে সুখ এই বেলা !
মাহাতাপ তাহার ক্রোধখানি ছুড়ে ধনুকের বানে,
দরবেশ নিপাট বিশ্মিত ঠায়, দাড়ায়ে চাহি তারপানে ।
“ঠিক আছে তবে, তুমি হয়ে যাও এক মৎস্য রুহিত”,
দরবেশ অভিশাপ যাচে, “কর তাহলে এ প্রায়ঃশ্চিত” ।
“আজ থেকে তুমি এক মৎস্য রুহিত এ নদীর কুলায়,
কেহ যদি ভালবাসিয়া তুলে নেয় আপন আলয়,
তথা মৎস্য হইতে মনুষ্য হইবে আবার,
না পারিবে কোন রুহিত ভোজনে আর” ।

অভিশাপে রাজপুত্র নদীর জলে মৎস্য রুপে,
বিচক্ষণ অভাবে জীবন ধ্বংস মহাপাপে ।
দিন যায়, মাস যায়, কেহ না আসে তীরে,
মৎস্য হয়েই জীবন কাটে আহারে !

শুভক্ষণে রাজকন্যা মায়াবতী স্নানে আসে সখীসহ,
বাক জানা মৎস্য দেখে জাগে প্রেমের মোহ ।
জানে, সে এক রাজপুত্র, রইনু পড়ে হয়ে মৎস্য,
নিগাঢ় ভালোবাসা-ই পারে ফিরে যেতে রুপে মনুষ্য ।
প্রণয়ে মাছের জীবন ত্যাগে হয় মনুষ্য আবার,
মায়াবতী মাহাতাপ শুভপরিণয়ে জীবন কাটে এবার ।

কিন্তু সে কথা, মনে থাকে, মৎস্য ভোজনে,
ফিরিয়া পাইবে মৎস্যরুপ পূর্ণ জীবনে ।
মায়াবতী ভুলিলেও মাহাতাপ নাহি ভোলে,
তাই কোন ভোজনে মাছ তাহার পাতে নাহি তোলে ।

একদা এক মধ্যভোজনে মহা-মস্ত আয়োজন,
রাজকন্যা নিজ হাতে করিল রুহিত মাছের রন্ধন ।
ভুলিয়া সে রাজপুত্রকে অনুযোগে বলে বিশ্ময়,
সব রাখিয়া মাছখানা দেখ কেমন স্বাদময় !
মাহাতাপ বলে, “তুমি জানো মৎস্যকূলেরা জাতি ভাই,
আমার পরিনতি ভাইয়ের মাংস ভক্ষণে যাচাই ?” ।
হাসিয়া মায়াবতী, রুপ কথার গল্প না বিশাসে,
বলে, “তুমি মানুষ কিভাবে রুপবদলাও মৎস্য গ্রাসে” ।
এত কস্ট করিয়া রাঁধিলাম এই হল তার উপহাস,
কাঁদিয়া ভাসাইল অভিমানী রাজকন্যা করে উপ-বাস ।

রাজকন্যার মন করিতে খুশি রাজপুত্র মাহাতাপ,
পাতে একখানা রুহিত মাছ মনে বিশদ পরিতাপ ।
জাতি ভাইয়ের মাংস ভক্ষণে দ্বিধা সংকোচ মনে,
নিশ্বাস বন্ধ হইয়া আসে তাহার এক লোকমা ঘ্রানে ।
ছুটিয়া চলে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় সেই নদীর তীরে,
পিছনে তাহার প্রিয়তমা আসে ডাকিয়া স্বমস্বরে ।

ভালোবাসার পরীক্ষায় তব পাশ করিলে,
বুকের জ্বালা নিবারনে প্রাণ বাঁচে তার নদীর জলে ।
নদীর বক্ষে রাজপুত্র হয় মৎস্য আবার,
এ জীবন মৎস্য হয়েই থাকবে পড়ে তাহার ।

সকাল থেকে সন্ধ্যা নাওয়া খাওয়া নিবারনে,
মায়াবতী বসে থাকে রুহিত মাছের প্রয়াণে ।
এ জগতে হায়, ভালোবাসার আড়ালে,
নারীদের ছলনা এক অভিলাষী মন্দ্রজালে ।।

০৭.০৬.২০১৭
৫:৩০ ঘটিকা সকাল, কেমনিট্জ, জার্মাানী ।

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.