রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের কালপঞ্জি

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের কালপঞ্জি
————————————– ড. রমিত আজাদ

১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী মায়ানমার স্বাধীন হয়। তখন তার নাম ছিলো Union of Burma। এর পর থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর বড় বড় ১৩ টি নির্যাতনমূলক সামরিক অভিযান চালানো হয়।

এর পূর্বে ১৯৪৭ সালে আরাকানের জনগণ (রোহিঙ্গা) পূর্ববাংলা (বর্তমান বাংলাদেশে)-এর সাথে একীভূত হতে চেয়েছিলো। কিন্তু ইংরেজরা সেটা হতে দেয়নি।

১৯৪৮ সাল: এই সালের নভেম্বরে আরাকানে সামরিক শাসন জারি করা হয় এবং রোহিঙ্গা মুক্তিকামীদের বিরুদ্ধে বার্মা রাইফেলস-এর পঞ্চম ব্যাটেলিয়ন অভিযান চালানো হয়।

১৯৫২ সাল: মাউ অভিযান – অক্টোবর ১৯৫২-৫৩

১৯৫৪ সাল: মনে-থোন অভিযান – অক্টোবর ১৯৫৪

১৯৬২ সাল: জেনারেল নে উইন ক্ষমতা দখল করে।

১৯৭০ সাল: মুক্তিকামী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির সাথে বার্মা সরকারের পুনরায় সংঘাত শুরু হয়।

১৯৭৪ the government promulgated the Emergency Immigration Act-এর আওতায় নে উইন রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেয়, এবং তাদেরকে বিদেশী বলে অভিহিত করে। এই সালে বার্মার নামের সাথে যুক্ত হয় সোসালিস্ট রিপাবলিক। এই রিপাবলিকে আরাকান-কে কোন স্বায়ত্তশাসন দেয়া হয়নি।

১৯৭৮ সাল: জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বীরত্বের সাথে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা মোকাবেলা করেন। বার্মার সেনাবাহিনীর ‘নাগা মিন’ (‘ড্রাগন রাজা’) অপারেশনের ফলে প্রায় দুই লক্ষ (২০০,০০০) রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। মৃত্যু আনুমানিক চল্লিশ হাজার। সরকারিভাবে এই অভিযানের অজুহাত ছিল প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে সব বিদেশী অবৈধভাবে মায়ানমারে বসবাস করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বর্বরোচিত এই সেনা অভিযান সরাসরি বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলছিল এবং ফলে ব্যাপক হত্যার ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বীরত্বের সাথে এই সমস্যা মোকাবেলা করেন। তিনি বাংলাদেশ-বার্মার সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি গ্রহন করেন ও একইসাথে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করেন (শক্ত ভূমিকা রেখেছিলো জাতিসংঘ, সৌদি আরব ও ওয়ার্লড মুসলিম লীগ) ফলে বার্মার রাষ্ট্রপতি জেনারেল নে উইন বাধ্য হন বাংলাদেশ সফর করতে ও দুই লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে।

১৯৮২ সাল: এই সালের বার্মিজ নাগরিকত্ব আইন অনুসারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। মায়ানমার সরকার কর্তৃক ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের নীতিমালা পর্যায়ক্রমিক বৈষম্যের প্রতিনিধিত্ব করে, যা রোহিঙ্গাদের মৌলিক মানবাধিকার যেমন- শিক্ষা, চাকরি, বিবাহ, প্রজনন ও চলাফেরার স্বাধীনতা পাওয়া উন্মুক্তভাবে অস্বীকার করে। রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে নিয়মিত বাধ্যতামূলক কামলা খাটতে হয়। সাধারণত, একজন রোহিঙ্গা পুরুষকে সামরিক ও সরকারি প্রকল্পে কাজ করার জন্য সপ্তাহে এক দিন ত্যাগ করতে হবে, এবং এক রাত পরিচারিকা দায়িত্বের জন্য। রোহিঙ্গারা প্রচুর পরিমাণে আবাদি জমির মালিকানা হারিয়েছে, যা মায়ানমারের অন্যত্র থেকে বৌদ্ধ বাসিন্দাদের এনে বসতির জন্য সামরিক বাহিনী হস্তান্তর করেছে।

১৯৮৯ সাল: ১৯৮৯ সালে বিভিন্ন বর্নের নাগরিকত্ব কার্ড সবাইকে দেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের কোন রকম কার্ড দেয়া হয় না। রোহিঙ্গারা হারায় নাগরিকত্ব, তারা বার্মা কিংবা অন্য কোন দেশের নাগরিক নয়। বার্মা রোহিঙ্গাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গন্য করে। ভ্রমন, বিয়ে, সন্তান সহ অন্যান্য নানা বিষয়ে তাদের উপরে আরোপ করা হয় কড়াকড়ি। শিক্ষার আলো এবং স্বাস্থ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। ভ্রমনে কড়াকড়ি থাকায় অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেয়া একটি বিশাল সমস্যা হয়ে দাড়ায়। (বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তখন ছিলেন হ ম এরশাদ)

১৯৯০ সাল: In the late 1990s, a local order was issued in North Arakan, applying exclusively to the Muslim population, requiring couples planning to marry to obtain official permission from the local authorities – usually the NaSaKa, Burma’s Border Security Force.

১৯৯১ সাল: After the failure of nationwide movement for democracy in 1988, which brought the
birth of Burmese military government13, the Army’s presence in northwestern Arakan increased
dramatically. The Burmese Army commandeered the Rohingyas for road constructions and the
military government initiated to settle the Buddhist Arakans into the Townships of Buthidaung
and Maungdaw. Inevitably, confrontations occurred between the Muslims and the Buddhists
communities in those townships and the Burmese Army backed the Buddhists by committing
robbery, rape, murder against the Muslims and the burning of mosques ।
পি থিয়া অভিযান – জুলাই ১৯৯১-৯২ (ফলাফল: দুই লক্ষ আটষট্টি হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অভিনিষ্ক্রমণ (exodus))। এসময় বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

১৯৯২ সাল: বাংলাদেশ ও মায়ানমার সরকারের মধ্যে একটি memorandum of understanding স্বাক্ষরিত হয় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

১৯৯৬ সাল: স্বাক্ষরিত ঐ মেমোরান্ডাম অনুযায়ী ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ৬০ হাজার শরণার্থী ফিরে গেলেও, ক্রিয়াটি তরান্বিত করে ১৯৯৬ সালের মধ্যে দুই লক্ষ শরণার্থী-কে ফেরত পাঠানো হয়।

২০০১ থেকে আরাকানের আকিয়াব বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পড়ার সুযোগ সীমিত করা হয়। ফলে তারা অনেকটা অশিক্ষিত হয়ে বাড়ছে।

২০০৯ সাল: 2009, the government of Bangladesh announced that it will repatriate around 9,000 Rohingyas living in refugee camps inside the country back to Myanmar, after a meeting with Burmese diplomats (২৯ ডিসেম্বর, ২০০৯ সাল)

২০১২ সাল: আরাকানে ৩ জুন ২০১২ সালে বাধা দাঙ্গা হচ্ছে মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিম ও বোদ্ধ রাখাইনদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের ঘটনাপ্রবাহ। দাঙ্গা শুরু হয় জাতিগত কোন্দলকে কেন্দ্র করে এবং উভয় পক্ষই এতে জড়িত হয়ে পরে। সরকারি মদদে কারফিউ জারি করে সেনা, পুলিশ ও নাসাকা বাহিনীর উপস্থিতিতে বার্মীজরা রোহিঙ্গাদের গণহত্যা চালায়। সংঘর্ষ ও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ব্যাপক।

২০১৩ সাল: জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের অন্যতম নিগৃহীত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে উল্লেখ করেছে।

২০১৫: জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

২০১৭: আবার সংঘাত।

(খুব স্বল্প সময়ে বিভিন্ন সূত্র খুঁজে খুঁজে বের করে লিখেছি। এখানে কোন তথ্যবিভ্রাট থাকলে তথ্যসূত্রসহ জানাবেন। কারেকশন করে দেব)

তারিখ: ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭
সময়: রাত ৮টা ৫৪ মিনিট

তথ্যসূত্র:
http://www.fmreview.org/sites/fmr/files/FMRdownloads/en/FMRpdfs/FMR32/11-13.pdf
Chris Lewa North Arakan: An Open Prison for the Rohingya in Burma FMR 32
Press Trust of India (29 December 2009). “Myanmar to repatriate 9,000 Muslim refugees from B’desh”. Zee News.
http://zeenews.india.com/news/south-asia/myanmar-to-repatriate-9000-muslim-refugees-from-bdesh_591146.html
MEMORIES OF BURMESE ROHINGYA REFUGEES: Contested Identity and Belonging
By KAZI FAHMIDA. FARZANA
https://books.google.com.bd/books?id=8qUyDwAAQBAJ&pg=PA45&lpg=PA45&dq=1947+Rohingya+annexed++by+Pakistan&source=bl&ots=AL0IJU8f2i&sig=2jPjlDnVPxNFqrPi3SdXyNzfMeE&hl=en&sa=X&redir_esc=y#v=onepage&q=1947%20Rohingya%20annexed%20%20by%20Pakistan&f=false
https://en.wikipedia.org/wiki/Rohingya_insurgency_in_Western_Myanmar
http://www.burmalibrary.org/docs14/Kei_Nemoto-Rohingya.pdf

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.