হরিষে বিষাদ

হরিষে বিষাদ

–সাকি বিল্লাহ্

 

আজ হরিষে বিষাদ মনে, কেন?

যাতনা, কিসের এত বিষের পেয়ালা যেন;

জীবন সায়াহ্নে এত কন্টাকীর্ণ পথ,

যবে বিষাবনীল দেহভারে টানিছো সেই রথ ।

তোমার পথের পরে কন্টক বিছায়েছে কেহ,

কোন সে হৃদয়হীনা তোমারে বঁধেছে প্রিয় মোহ ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে বক্ষে,

যখনই পড়ে মনে তাহারে এ অন্তরীক্ষে ।

মরুভূমির বক্ষে এসেছিলে হয়ে এক পসলা বৃষ্টি,

মৃত্তিকা ছেদিয়া অঙ্কুরিত এক নবকৃস্টি ।

প্রখর রৌদ্র খড়তা উপেক্ষিত ছিল সব,

তুমি এসে নামালে পূর্ণিমার বারিত রব ।

চিকচিক বালুকণা গুলোর বিরিরণ,

তুমি থামালে প্রশমিত করে ঘন বরষণ ।

 

যখন হঠাৎ করেই লুকালে অন্ধকারে,

অবিশ্বাসে উপহাস করে সব কিছুরে;

তখন আনন্দ হল বদ্ধ নীরেট প্রস্তরে,

কষ্টের এক সমাধির বক্ষ কুটিরে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে দু চোখে নিমিষে,

চোখের পাতা দুটি ভারি হয়ে আসে অবশেষে ।

পিছনে ফিরে দেখ একপলক, একবার,

কোন অনুশোচনা জাগ্রত হয় কিনা তোমার ।

কি করে হাসি, পর্বত সমান কষ্ট নিয়ে বুকে,

গীরি প্রস্তর অন্তরপূর্ণ অগ্নিকুন্ড গোলকে ।

তাই হরিষে বিষাদ নামে সকল বেদনায়,

ভুলি নাই আমি, ভুলিয়াছো তুমি অন্ধ মোহের নেশায় । ।

 

২১.১২.১৭ ঘটিকা, .৬.১২.১৭ খ্রিস্টাব্দ, কেমনিট্জ, জার্মানী ।

 

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.