হে নেত্রী, আপনি আর কাঁদবেন না
©…….সহিদুল
(মনবতার জননী শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় নেত্রীর জন্মদিনে নেত্রীকে উৎসর্গীকৃত)

১৯৭৫ সালের কোন একদিন,
জার্মানির এক বিমান বন্দরে
কাস্টমস কর্মকরতার বিমর্ষ চাহনি,
বঙ্গকন্যার বাংলাদেশী পাসপোর্ট দেখে
কাস্টমস কর্মকরতা ঘৃণা ভরে বলেছিল,
“এতো বড় এক বেইমান জাতি তোমরা!
যে মুজিব দিলো তোমাদের স্বাধীনতা,
আর সেই মুজিবের রক্তেই রঞ্জিত হয়েছে তোমাদের হাত?”

বঙ্গকন্যা সেদিন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি,
নেত্রী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন,
প্রিয় নেত্রীর কান্নায়,
খোদার আরশ পর্যন্ত সেদিন, কেঁপে উঠেছিল,
পুরো জার্মান বিমানবন্দরটিই যেন
হয়ে উঠেছিল শোকে বিহ্বল এক খন্ড পাথর।

মা হারিয়েছেন, বাবা হারিয়েছেন,
ভাই হারিয়েছেন,
এ যে কত নির্মম, কত কষ্টের!
কত অনুতাপের, কতটা বিষাদের!
তা একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ উপলদ্ধি করতে পারবে না।

হে প্রিয় নেত্রী,
আপনি কতটা ধৈর্যবতী!
তারপরও মাঝে মাঝে,
আপনার চোখে জল দেখা যায়,
তাই বলবো,
হে নেত্রী,
আপনি আর কাঁদবেন না।
আপনার চোখের পানি আমরা সহ্য করতে পারিনা।

আপনি আমাদের শেষ আশা,
আপনি আমাদের প্রত্যাশা,
আপনি আমাদের ভরসা,
আপনি আমাদের আস্থা,
আপনি আমাদের প্রেরণা,
আপনি আমাদের স্পন্দন।

আপনি স্বজন হারিয়েছেন,
আজ ১৭কোটি জনতা আপনার স্বজন,
আমরা ১৭কোটি জনতা
আপনার চোখের পানি মুছে দিব,
১৭কোটি জনতা আপনাকে হাসুবু বলে জড়িয়ে ধরবে।

হে মানবতার জননী,
আপনার মায়াময় সুশীতল স্নেহের ছায়াতলে
আমরা শান্তিতে ঘুমাচ্ছি,
কোথায় পাব এমন শান্তির দূতিকা?
আপনি আছেন বলেই আজ
লক্ষ লক্ষ নীড় হারা পাখির মত
অসহায় মানুষেরা জীবন বাঁচাতে পেরেছে।
আপনি আছেন বলেই
শয়তানের দলেরা ভয় পায়।
আপনি ছাড়া শান্তি অরক্ষিত হয়ে যায়।

হে শান্তি মাতা,
পার্বত্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা
আপনার দ্বারাই সম্ভব হয়েছিল।
আজ শুধু পার্বত্যে নয়,
সারা বিশ্বেই আপনার শান্তির বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।
যখন পার্বত্যচট্টগ্রামে শান্তির চুক্তি করেছিলেন,
তখনই আমার মন্তব্য ছিল,
নোবেল পুরষ্কার আপনার হাতেই মানায়,
কিন্তু তা হয়নি।
এরপর সমুদ্র জয়, ছিটমহল বিনিময় সহ
বহু শান্তির ইতিহাস গড়েছেন।

এখন আমরা চাই আপনার শান্তিময় দ্যুতি
ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বব্যাপী,
আপনার দৃঢ় ভূমিকায়,
আপনায় মায়াময়তার উসিলায়,
রোহিঙ্গারা ফিরে পাক তাদের আবাসভূমি,
আপনার উসিলায় আরাকান হোক স্বাধীন,
শান্তির পতাকা উড়ুক স্বাধীন কারাকানে।
হাসি ফুটুক শান্তিকামীদের মনে।
শয়তানের বাচ্চা,
মানবতার দুশমন,
অশান্তির বাহকেরা নিপাত যাক।

আজকে অশান্তির বাহকেরা
আপনাকে নোবেল দিতে চায়।
আমরা চাই না এ নোবেল।
অশান্তির ধারকদের যদি শান্তির নোবেল দেয়া হয়,
তবে মানবতার জননী হয়ে
কিভাবে আপনার হাতে শোভা পাবে
ঐ অশান্তির নোবেল?

আল্লাহর দোহাই লাগে,
প্রিয় নেত্রী, আপনি আর কাঁদবেন না,
আমরা চাই আপনি আরো বজ্রের মত কঠিন হোন,
আপনার হাতেই মানার বংলার বৈঠা,
আপনিই পারেন,
রাজাকার আলবদর দুর্নীতিবাজদের বিচার পূর্ণ করতে,
আপনার দীপ্তিময় আভার নিকট ম্লান সারাবিশ্ব,
আপনার নীতির কাছে মলিন বিশ্বের আপোষকারী নেত্রীবৃন্দ!

হে নেত্রী,
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলাকে
বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আপনার কোন বিকল্প নেই,
সোনার বাংলার বৈঠা আপনার হাতেই অটুট থাকুক,
তাই আমাদের নিত্য দিনের শপথ হোক,

আপনার হাতে সোনার বৈঠা চলছে নৌকা অনুক্ষণ,
অবাক হয়ে দেখছে বিশ্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন।

মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
সিঙ্গাপুর

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.