Epistemology (জ্ঞানতত্ত্ব)

Epistemology (জ্ঞানতত্ত্ব)
————- ড. রমিত আজাদ

এলোমেলোভাবে ঘোরাঘুরি করলে ভ্রমণ করা হবে প্রচুর কিন্তু তাতে গন্তব্যে পৌঁছানো হবেনা, আর যদি হয়ও তবে তার পিছনে অযথা ব্যায় হবে অনেক সময় ও শ্রম। একইভাবে কোন একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন বা তৈরী করতে গেলে অপ্রাসঙ্গিক বহুসংখ্যক পাঠ ঐ সুনির্দিষ্ট বিষয়ে অবগত করায় সহায়ক হবে কম এমনকি কিছু পরিমানে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করতে পারে। সুনির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন বা তৈরী করার জন্য প্রয়োজন কিছু লাগসই পদ্ধতি অনুসরণ করা। দর্শনের একটি শাখা সেই পদ্ধতিগুলো বাতলে দেয় তার নাম Epistemology (জ্ঞানতত্ত্ব বা জ্ঞানবিদ্যা)।

পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘History of ideas’ নামে ডিপার্টমেন্ট রয়েছে, সাবজেক্ট তো আছেই। বিষয়টি গবেষণার এমন একটি ক্ষেত্র যা মানব ভাব (human ideas)-এর প্রকাশ, সংরক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে। Epistemology-র সাথে ‘history of ideas’-এর সম্পর্ক গভীর। Epistemology ও ‘History of ideas’ পড়লে চিন্তা সংহত হয়।

কোন একটি গবেষণা করতে গেলে জ্ঞানতত্ত্বের ভিত্তি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। তা নইলে কনফিউজড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোন একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে চিন্তা করলে তার ফসল হিসাবে নতুন একটি জ্ঞান সহজেই পাওয়া যেতে পারে।

জ্ঞান কাকে বলে?
একজন ব্যাক্তি কর্তৃক অর্জিত facts, information, and skills হলো জ্ঞান। পাশাপাশি এরকমও বলা হয় যে, জ্ঞান হচ্ছে যাচাইকৃত সত্য বিশ্বাস (justified true belief)। আমরা যা বিশ্বাস করি তা কখনো ‘সত্য’ কখনো ‘অসত্য’। যেমন, আমি বিশ্বাস ঘরের বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, এটা সত্য হতে পারে নাও হতে পারে। আমরা যা নিশ্চিত জানি তা অবশ্যই ‘সত্য’।

জ্ঞান = বিশ্বাস + সত্যা + কনফিডেন্স+ গুড বেসিস
যেমন, একজন ব্যাক্তি বললো, “আমি জানি যে মানুষ চাঁদে গিয়েছে”। এটা সত্য জ্ঞান হবে কিনা? এটা সত্য জ্ঞান হতে গেলে ১। এটা জাস্টিফাই করা সম্ভব হতে হবে, ২। এটাকে ফ্যাক্ট হতে হবে, ৩। ব্যাক্তিটিকে বিশ্বাস করতে হবে যে, মানুষ চাঁদে গিয়েছে।
এখন কথা হলো যে জাস্টিফাই করবো কি করে? ১। ভালো মানের এভিডেন্স থাকতে হবে, ২। এভিডেন্সগুলোকে logical ও reasonable হতে হবে।

Epistemology কি?
Epistemology হলো জ্ঞান অর্জন বা তৈরীর পদ্ধতি সংক্রান্ত বিদ্যা। ‘কি করে আমি জানতে পারবো?’ এই প্রশ্নটির উত্তর দেয় Epistemology। ধারণার প্রকৃতি, ধারণার নির্মান, ইন্দ্রিয়ের বৈধতা, যৌক্তিক ব্যাখ্যা(logical reasoning) এবং এর পাশাপাশি চিন্তন, ভাব, স্মৃতি, আবেগ ও মন:-সংক্রান্ত সবকিছু ইত্যাদিকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে Epistemology। আমাদের মন বাস্তবতার সাথে কি করে সম্পর্কিত, ও এই সম্পর্কগুলো বৈধ কি অবৈধ এই নিয়েও কাজ করে Epistemology।
Epistemology – এখানে দুটি শব্দ আছে ‘Episteme’ মানে Knowledge বা understanding আর Logy মানে বিদ্যা বা শাস্ত্র।

Epistemology গুরুত্বপূর্ণ কেন?
Epistemology হলো আমরা কি করে ভাবি তার ব্যাখ্যা। মূল্যায়ন-এর একটি যথাযথ পদ্ধতি নির্ধারণ করে সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায় Epistemology। আমাদের চারপাশের জগত সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞানকে ব্যবহার করার জন্যে প্রয়োজন Epistemology। Epistemology না থাকলে আমরা বুঝতে পারতাম না যে আমাদের চিন্তনটি ফলদায়ক ও সঠিক। Epistemology-র সঠিকতার মাত্রা যত বেশী হবে, বাস্তবতাকে বোঝার মাত্রাও তত বেশী হবে, এবং ঐ জ্ঞানকে আমাদের জীবন ও লক্ষ্যকে উন্নীত করার মাত্রাও তত বেশী হবে।

Epistemology-র কুঞ্জিকা উপাদান গুলো কি?
আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি বৈধ, এবং বাইরের জগত থেকে তথ্য সংগ্রহের একমাত্র উপায়। Reason হলো জ্ঞান লাভের ও প্রতীতি (understanding) অর্জনের পদ্ধতি। Logic হলো আমাদের জ্ঞানের সেট (set)-এর জ্ঞানগুলির মধ্যে সঙ্গতি বজায় রাখার পদ্ধতি। Objectivity হলো জ্ঞানের বৈধতা নির্ণয় করার উদ্দেশ্যে উপায় বাস্তবতা ও জ্ঞানকে সমন্বিত করা। Concept হলো বাস্তবতার সুনির্দিষ্ট বিবরণ-এর বিমূর্ত ধারণা, অথবা অন্য কোন কিছুর বিমূর্ত ধারণা। Rational epistemology ই হলো যথাযথ epistemology।

Philosophical Epistemology-র দুটি শাখা:
Philosophical Epistemology-র দুটি শাখা আছে, empiricism rationalism।

Epistemology ও Methodology-এর মধ্যে পার্থক্য:

Epistemology হলো জ্ঞান সংক্রান্ত দর্শন। ‘কি করে আমি জানতে পারবো?’ এই প্রশ্নটির উত্তর দেয় Epistemology। আর Methodology হলো সুনির্দিষ্ট পথ। Methodology-ও ‘কি করে আমি জানতে পারবো?’ এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করে তবে, Methodology অনেক বেশী ব্যবহারিক।
Methodology-তে আছে theories, methods, technical approach, ইত্যাদি। আর Epistemology-র ফোকাস হলো কি করে জ্ঞান তৈরী হয় ও বৈধতা পায়।

Epistemology ও skepticism:
Skepticism মানে হলো সন্দেহবাদ। এই সন্দেহ হওয়াটা জরুরী। কোন কিছু সম্পর্কে সন্দেহ না হলে কষ্ঠি পাথরে ঘষে সঠিক জ্ঞানটাও পাওয়া যাবেনা।

Epistemology জানা ও না জানা:
এপিস্টোমলজি জ্ঞান অর্জনের পথটিকে সাফ করে নির্বিঘ্ন করে।
টমাস এডিসন এপিস্টোমলজি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতেন না, অন্যদিকে নিকোলাই তেসলা এপিস্টোমলজি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতেন। যদিও বিদ্যুতের যাদুকর টমাস এডিসন ১৪০০ উদ্ভাবন প্যাটেন্ট করিয়েছিলেন, কিন্তু এ সম্পর্কে তেসলা বলেছিলেন যে, এডিসনের কঠোর অধ্যাবসায়ই উনাকে এত অত বড় বিজ্ঞানীতে পরিণত করেছে। কিন্তু যে সকল কাজ অতি সহজেই করা যায় পর্যাপ্ত তাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাবে ঐ কাজ করতে উনাকে অনেক সময় ও শ্রম খরচ করতে হতো। পক্ষান্তরে নিকোলাই তেসলা তাঁর উদ্ভাবনগুলো করেছিলেন অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ও কম শ্রমে। এখানেই এপিস্টেমোলজি জানার গুরুত্ব।

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.