Marvel Cinematic Universe Phase One: Avengers Assembled

 

 

“আয়রন ম্যান” (২০০৮)

মার্ভেল ইউনিভার্সের সূচনা ঘটে ২০০৮ সালের ২ মে এক বিশাল ধামাকার মধ্য দিয়ে আর সেটা হল আয়রন ম্যান। আয়রন ম্যান মুভিটি বানানর কথা ছিল ২০০৮ সালের আরও আগেই কিন্তু নানা ধরনের টাল বাহানা করার ফলে অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে যায় এ মুভির ভবিষ্যত। যার ফলে মারভেল নিজেই এগিয়ে আসে নিজেদের সুপার হিরোকে কমিক বুক থেকে রঙ্গিন পর্দায় ফুটিয়ে তুলার জন্যে। আয়রন ম্যান চরিত্রটা এতটাই আকর্ষণীও ছিল যে নিকোলাজ কেজ ও টম ক্রুজ” তারা দুজনেই চেয়ে ছিল এই মুভিতে অভিনয় করতে। কিন্তু মারভেল মুভি মেকার রা এই চরিত্রের জন্যে বেছে নিয়েছে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র কে । তাদের মতে সেই এই চরিত্রের জন্যে পারফেক্ট। ২০০৮ সালের প্রথম ডমিস্টিক বক্স অফিসে ৩১৮ মিলিয়ন আয় করে এই মুভিটি।তার সাথে ইন্ডিয়ানা জোন্স 4 এবং দ্য ডার্ক নাইট এর সাথে পাল্লা দিয়ে ১৪০ মিলিয়ন বাজেটের আয়রন ম্যান সারা বিশ্বে আয় করে ৫৮৫ মিলিয়ন।

ফার্স্ট অফ অল, মাড়ভেল ভক্তরা কেউই বুঝে উঠতে পারেনি এই মুভি টি দিয়েই মারভেল সিনেমা জগতে পা রাখতে যাচ্ছে। মার্ভেল মুভি গুলোর প্রধান আকর্ষণ কিন্তু পুরো মুভিটা না বরং মুভি শেষের পোস্ট ক্রেডিট সিনটাই। এই মুভির শেষের পোস্ট ক্রেডিট সিনে এক রহস্যময় চরিত্রকে দেখতে পাই পরে যাকে আমরা নিক ফিউরি নামে চিনি। কিন্তু সবার মনে তখন বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, কে এই নিক ফিউরি? এবং কি চায় সে টনি স্টার্ক এর কাছ থেকে। তাছাড়া টনি মুভিতে নিজেই পুরো পৃথিবীর কাছে সম্মানের সাথে স্বীকার করেন সেই হলেন আয়রন ম্যান এসকল ধোঁয়াশার মধ্যে দিয়েই মুভিটি শেষ হয়ে যায়।

“দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক” (২০০৮)

হাল্ক কে আমরা সকলেই কম বেশি চিনে । ২০০৩ সালে হাল্ক চরিত্র টি সর্ব প্রথম রঙ্গিন পর্দায় পা রাখে যেখানে হাল্ক ব্রুস ব্যানার চরিত্রে অভিনয় করেন এরিক বানা। ২০০৩ সালের হাল্ক মুভি টি মুলত ডমেস্টিক বক্স অফিসে আয় করে মাত্র ১৩২ মিলিয়ন এবং সারা বিশ্বে ২৪৫ মিলিয়ন যা মটেও আশাবাদি ছিল কমিক ফ্যান দের নিকট।এই পরিস্থির পরে হাল্কের জন্যে হল একটি লম্বা বিরতি। তারপর ২০০৮ সালেই আবার এই মুভি নতুন রুপে কমিক ফ্যানদের কাছে এসে হাজির হল যার নাম দেওয়া হয় দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক। এ মুভির গল্পটা একটু ঘোলাটে হলেও জারা ২০০৩ সালের হাল্ক দেখে পুরো হতাশ হয়েছিল তাদের জন্য রয়েছে নতুন গল্প ও মন ভরা অ্যাকশন। ২০০৮ সালের হাল্ক মুভিতে অভিনয় করেছেন এডওয়াট নরটন জদিও আমরা দ্য আভেঞ্জারস মুভি তে তাঁকে পাই নি তার পরিবর তে ছিলেন অভিনেতা মার্ক রুফালো। ১৫০ মিলিয়ন এর এই মুভি টি ঠিক রিলিজ পায় আয়রন ম্যান মুভি এর ১ মাস পরেই ১৩ জুন । ডমেস্টিক বক্স অফিসে আয় করে মাত্র ১৩৪ মিলিয়ন ও সারা বিশ্বে ২৬৩ মিলিয়ন যা আবারও এই মুভি টি হতাশার লিস্টে নাম লেখায়।

যাই হোক, এ মুভির পোস্ট ক্রেডিট সিনে অপ্রত্যাশিত ভাবে দেখা যায় টনি স্টাক কে যে কিনা জেনারেল রস এর কাছে কিছু অপ্রত্যাশা জনক প্রস্তাব নিয়ে আসে। এখানেই একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে ভবিষ্যতে খুব বড় কিছু ঘটতে চলেছে

“আয়রন ম্যান ২” (২০১০)

দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক মুভির পরে রইলো ১ বছরের বিরতি। আয়রন ম্যান ২ মুভিটি ২০১০ সালে মুক্তি পান যেখানে ফ্যান রা বেশ কিছু পরিবর্তনের সম্মুখীন হন, যেমন-প্রথম পর্বে টনি স্টার্ক এর বেস্ট ফ্রেন্ড ল্যাফটেন্যান্ট কর্নেল জেমস রোডস এর চরিত্রে ছিল টেরেন্স হাওয়ার্ড কিন্তু তার সাথে প্রোডাকশনের জটিলতা হবার কারণে এই রোলটি চলে যায় ডন চেডল এর কাছে। এ পর্বের গল্পটিতে বেশ ভালো কিছু অ্যাকশান দেখা যায় তার সাথে আয়রন ম্যান এর স্যুট এর ডেভেলপমেন্টওদেখা যায়। আর তার সাথে এই পর্বেই আমাদের সামনে উন্মেচিত হল “নিক ফিউরি” এর পরিচয় শিল্ড নামক এক গোপন সংস্থার ডিরেক্টর যার ভূমিকায় অভিনয় করেছে শক্তিমান অভিনেতা স্যামুয়েল এল জ্যাকসন। তাছাড়া স্যামুয়েল এল জ্যাকসন এর সাথে মূলত মার্ভেল এর ৯টি মুভির চুক্তি হয়েছে। এছাড়াও এ মুভির মাধ্যমে ব্ল্যাক উইডো/নাতাশা রোমানফ নামের এক নতুন চরিত্রের পরিচয় হয়েছে আর এই চরিত এর জন্যে অভিনয় করেছেন স্কারলেট জোহান্সন। এই মুভি ডমেস্টিক বক্স অফিসে আয় করে ৩১২ মিলিয়ন এবং সারা বিশ্বে ৬২৩ মিলিয়ন যা ছিল মারভেল দের জন্যে এক বিশাল সাফল্য।

এবার আসা যাক পোস্ট ক্রেডিট সিনে , যেখানে দেখান হয় এক বিশাল ভুমির মাঝখানে নিক্ষিপ্ত হয় একটি হাতুরি । তৎক্ষণাৎ সেটা লক্ষ্য করে শিল্ড এর মেম্বার ফিল কলসন এবং সে এই বিষয়টি ফোনের মাধ্যমে নিক ফিউরি কে জানায় সে সেটা খুজে পেয়েছে। কমিক ফ্যানদের অনেকের কাছেই এটা পরিস্কার ছিল নেক্সটে কি হতে যাচ্ছে আবার অনেকের কাছেই ছিল বিষয়টি পুরো ঘোলাটে।

“থর” (২০১১)

আয়রন ম্যান ২ মুভিটি যে সকল প্রশ্নের সৃষ্টি করে দিয়ে শেষ হয়েছিল, সে সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মারভেল ২০১১ সালে আবার নতুন এক মুভির রিলিজ ঘটায় তা হল থর।৬ মে তে এই মুভিটি রিলিজ পায় মারভেল ভক্তদের কাছে। মূলত থর মুভি তৈরীর পরিকল্পনা সর্ব প্রথম ১৯৯১ সালে ইভিল ডেড ও স্পাইডারম্যান ট্রিলোজী খ্যাত স্যাম রাইমি এর মাথায় আসে কিন্তু পরে আবার এই পরিকল্পনা বাতিল করে দেওয়া হয়। পরে মারভেল সিনামেটিক উনিভারস পরিকল্পনা চালায় তাদের নিজেদের এই চরিত্রে্র মুভি টির এবং তারা প্ল্যান অনুযায় থরকে জুড়ে দেয় অ্যাভেঞ্জারস অ্যাসেম্বল এর সাথে। অসাধারণ গল্প, বাস্তব ও কাল্পনিক জগতের সফল কম্বিনেশন আর মন কাড়া অ্যাকশন এর দ্বারানির্মিত থর অনেক অংশে দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক ও আয়রন ম্যান ২ থেকেও বেশী এন্টারটেইনিং করা হয়েছে বলে অনেকের মতে। থর ও লোকি চরিত্রে অভিন্য করেছে ক্রিস হেমসওর্থ এবং টম হিডেলস্টন তাছাড়া তাদের দুজনকে একদম মানিয়ে গেছে ও অসাধারণ অভিনয় করেছে তারা। এ মুভির মধ্যে নতুন এক চরিত্রের অভিষেক ঘটে আর সে হল হকআই যে কিনা অ্যাভেঞ্জারস টিমের একজন গুরুত্তপূর্ণ সদস্য । এই হকআই এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেরেমি রেনার। ১৫০ মিলিয়ন বাজেটের “থর” ডমেস্টিক বক্স অফিসে আয় করে ১৮১ মিলিয়ন ও সারা বিশ্বে ৪৪৯ মিলিয়ন এবং পরিনত হয় ব্লকবাস্টারে।

মুভির শেষে যদিও মনে হয় যে লোকি মারা যায়, কিন্তু পোস্ট ক্রেডিট সিনে দেখা যায় যে সে পৃথিবীতে ফিরে গেছে ও এখানে আবার তার আগমণ ঘটে নিক ফিউরি এর সাথে এক অসীম শক্তির কিউব নিয়ে যেটার নাম হল টেসেরাক্ট।

“ক্যাপ্টেন আমেরিকা-দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জারস”

ক্যাপ্টেন আমেরিকানাম শুনেই বুঝা যাচ্ছে যে অ্যাভেঞ্জারস টিমের সব থেকে প্রথম ও গুরুত্তপূর্ণ মেম্বার। এ মুভি রিলিজের আগে ট্রেলার দেখে সবার একটা আইডিয়া হয়েছিল যে এই চরিত্রটি হল ১৯৪২ এর পটভূমীর ২য় বিশ্ব যুদ্ধের নায়ক ও তার ভিলেন হল হিটলার। এই মুভির প্রধান চরিত্র ক্যাপ্টেন আমেরিকা হয়ে অভিনয় করেছেন ক্রিস ইভান্স যাকে এর আগেও আরও একটি সুপারহিরো মুভিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে। অতঃপর, থর এর ঠিক দুই মাস পর ২২ জুলাই রিলিজ হল ক্যাপ্টেন আমেরিকা-দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জারস।এ মুভিতে ক্রিস ইভান্স এর চরিত্র টি একজন সৎ ও নীতিবান যোদ্ধার ভূমিকায় দেখা গেছে। মুভিতে ক্যাপ্টেন আমেরিকার বেস্ট ফ্রেন্ড সার্জেন্ট জেমস বার্ন্স এর চরিত্রে সেবাস্টিন স্টান কে দেখা যায় যে কিনা খুব ভাল অভিনয় করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে মুভির এক পর্যায় সে দুর্ঘটনায় বরফের মধ্যে পড়ে মারা যায়। যাই হোক মুভিটি ডমেস্টিক বক্স অফিসে ১৭৬ মিলিয়ন এবং সারা বিশ্বে ৩৭০ মিলিয়ন আয় করে খুব ভাল মতই সাফল্য লাভ করেছে।

তবে আসল চমক ছিল মুভির শেষে। মুভি প্রায় শেষ ক্যাপ্টেন আমেরিকা মারা গেছে, এদিকে ২য় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হয়েছে, অতঃপর শেষ দৃশ্যে ক্যাপ্টেন আমেরিকা কে বর্তমান সময়ে দেখা যায় এবং তার থেকেও বড় বিষয় নিক ফিউরি কে দেখান হয়েছে। এই খানে হাল্ক, আয়রন ম্যান ও থর এর সাথে ক্যাপ্টেন আমেরিকার কানেকশন যোগ করা হয়েছে। আর অন্যদিকে আরও দেখা যায় শেষে টেসেরাক্ট এর রহস্যও উন্মেচন হয়ে গেছে। এতে ফ্যান দের আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না , এর মানে হচ্ছে দ্য অ্যাভেঞ্জারস এর আগমন।

“দ্য অ্যাভেঞ্জার্স” (২০১২)

অবশেষে মারভেল এর যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল ২০০৮ সালে আয়রন ম্যান মুভি দ্বারা, তার সফল সমাপ্তী (Phase One)ঘটলো ২০১২ তে দ্য অ্যাভেঞ্জার্স মুক্তির মাধ্যমে। আয়রন ম্যান, হাল্ক, থর এবং ক্যাপ্টেন আমেরিকা এর এক অসাধারণ কম্বিনেশন দেখানো হয়েছে এই মুভিটি তে। এই চারটি চরিত্র পুরো একে অপরের আলাদা, তো কি ভাবে সম্ভব এদের দ্বারা সফল টিম। মুভির প্রথম অংশে জুড়ে এরা শুধু নিজেদের মধ্যেই ঝগড়া ও মারামারি করে গেছে এবং অবশেষে মুভির শেষ দিকে এসে তবে এরা টিম হয়ে লড়াই করেছে টেকনিক্যালি এ মুভিকে “থর” ও “ক্যাপ্টেন আমেরিকা” এর সিক্যুয়াল হিসেবে ধরা যায়। এ মুভির ভিলেন আমাদের অতি পরিচিত থর এর সৎ ভাই লোকি যে কিনা টেসেরাক্ট এর সাহাজে দুনিয়াতে কিয়ামত নিয়া আসে। এই মুভিতে ব্ল্যাক উইডো ও হকআই কে একসাথে খুব বড় দুটি গুরুত্তপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে। জদিও মুভির বেশির ভাগ সময় টুকুতে হক আই কে ভিলেন হিসাবেই দেখা যায়। এ মুভিতে নতুন ভাবে আরও একটি চরিত্র কে দেখান হয়েছে আর সে হল মারিয়া হিল শিল্ড এর একজন সদস্য যে কিনা নিক ফিউরি এর সাথে কাজ করে থাকে। আর মুভির সব থেকে দুঃখ জনক সিন ছিল শিল্ড মেম্বার ফিল কলসন এর মৃত্যু বরন। আমরা এখানে নতুন হাল্ক হিসাবে পাই মার্ক রুফালো কে যে কিনা বেশ ভালই এক্তিং করেছে ব্রুস ব্যানার হিসাবে। অতঃপর দ্য অ্যাভেঞ্জারস ডমেস্টিক বক্স অফিসে ৬২৩ মিলিয়ন এবং সারা বিশ্বে ১.৫১ বিলিয়ন আয় করে সর্বকালের সবচেয়ে বেশী আয় করা মুভির লিস্টে অবতার (২.৭৮) এবং টাইটানিক (২.১৮) এর পর ৩য় স্থানে নাম লেখায়।

অবশেষে আসা যাক পোস্ট ক্রেডিট সিনে… এখানে দেখা যায় যে পৃথিবীর কাছে হেরে যাবার পর চিটুয়ারী সভ্যতার লিডার সিরিজের প্রধান ভিলেন থানোস চলেছে নতুন কোন পরিকল্পনা তৈরীতে যা জানতে দ্য অ্যাভেঞ্জারস ৩ infinity war পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে. .

 

 

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.