অনিয়মের অভিসার

অনিয়মের অভিসার
—————– রমিত আজাদ

সে খুব গোপনেই এসেছিলো,
এসেছিলো সন্ধ্যা নামার পরে।
তখন আঁধার সব কিছু ঢেকে ফেলেছে!
তার চোখের উতলা অঞ্জনের মতই কৃষ্ণাভা চারিপাশ।
উৎসুক চোখগুলো চাইলেও আর কিছু দেখতে পাবে না!
তাছাড়া কোভিড মহামারীর ভয়ে,
পুরো নগরীটিই ছিলো গৃহবন্দী!

স্ট্রীট ল্যাম্পের আবছা আলোয়,
একটা প্রাণী হেটে গেলেও ভয়ে কেউ তাকাতো না,
ঐ ছায়ামূর্তির দিকে।
যেন সান্ধ্য আইনে থমকে যাওয়া স্থবিরতায়
সাক্ষাৎ যমদূত আনাগোনা করছে,
তাকালেই চোখ গলে রক্তে প্রবেশ করবে!

আমি তখন রূপের তীর্থে এক চাতকী পথিক,
অফুরাণ লঘুভারে অনুরাগী, নিবিড় তিয়াসী।
আমরা দু’জন নিশ্চিন্তেই হাটছিলাম
নগরীর জনশূন্য রাজপথে।
কোভিড মহামারীর ভয়ে ফাঁকা হয়ে যাওয়া পথঘাটে
কেউ ছিলো না আড়চোখে তাকানোর!
কেউ ছিলো না ঘটনা রটনা করার।

ঐ আঁধারে আমরা কোন সবুজ ঘাস দেখিনি,
কোন সাদা কাশ-ও দেখিনি।
নিয়মের ছকে বাঁধা জীবনের ছোটাছুটিও দেখিনি।
নৈমত্তিক যানজট?
একেবারেই উবে গিয়েছিলো, মহামারির আতংকে!
বৃক্ষ-পল্লবে শিশির জমেছিলো কিনা জানি না।
তবে তার আঁখিতারায় শবনমের আবেশ ছিলো!

নগরীর মোলায়েম মাটি ফুঁড়ে খাড়া উঠে যাওয়া
ভুতুরে অট্টালিকাগুলোকে ছাড়িয়ে,
একবার চাঁদ দেখতে চেয়েছিলাম,
আকাশপানে তাকিয়ে আবিষ্কার করলাম,
আজ আকাশ মেঘলা।
একটু পরে টিপটিপ বৃষ্টি নামলো!
প্রকৃতির কি এক খেয়াল!
বৃষ্টি চাইলে চাঁদ পাবে না;
চাঁদ চাইলে বৃষ্টি পাবে না।
আজ আমি চাঁদই দেখতে চেয়েছিলাম
তারপর ভাবলাম, থাক চাঁদ দেখে আর কি হবে?
চাঁদ তো আমার পাশেই হাটছে!

আমি বৃষ্টি আর চাঁদ একসাথে পেলাম।

রচনাতারিখ: ১৭ই নভেম্বর, ২০২০ সাল
রচনাসময়: রাত ০২টা ৫৬ মিনিট

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.