আফগান যুদ্ধ: দূর থেকে দেখা, শোনা ও কিছু স্মৃতি – ১৩

আফগান যুদ্ধ: দূর থেকে দেখা, শোনা ও কিছু স্মৃতি – ১৩
———————————————————- রমিত আজাদ

ইরানের ইসলামী বিপ্লব:
ইরানে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে। ১১ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের বিজয় হয় ইরানে। ইরানের এই বিপ্লব একদিকে যেমন প্রোটেস্টান্ট আমেরিকানদের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো, অন্যদিকে তেমনি নাস্তিক কম্যুনিস্টদেরও কলিজা কাঁপিয়েছিলো। এমতাবস্থায় আফগানিস্তান নিয়ে চিন্তিত-ই হয়ে পড়ে সোভিয়েত কম্যুনিস্ট সরকার।

উল্লেখ্য, পুরো সোভিয়েত ইউনিয়নে সাতটি রিপাবলিক ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত। যদিও সবগুলো রিপাবলিকেই কম্যুনিস্ট সরকার ক্ষমতায় ছিলো, কিন্তু সেই পুরাতন কথা ও প্রশ্ন – দেশের জনগণ কি কম্যুনিস্ট ছিলো? যদি গোপন জরিপ বলে থাকে যে, সামরিক ও প্রশাসনিক শক্তির বলে ঐ সকল দেশে কম্যুনিস্টরা ক্ষমতা ধরে রাখলেও দেশের জনগণের হৃদয়ে ইসলাম ধর্ম; তাহলে নিঃসন্দেহে এটা উদ্বেগের বিষয়! ইরানে সফল ইসলামী বিপ্লব ঘটে গেলো, এরপর যদি আফগানিস্তানেই ঐ একই ধরনের বিপ্লব ঘটে, তাহলে শুরু হবে চেইন রিএ্যাকশন। মুসলিম অধ্যুষিত প্রতিটি সোভিয়েত রিপাবলিকে গোলযোগ শুরু হবে! এতটা রিস্ক নেয়া কি ঠিক হবে? এমনটা ভাবতে শুরু করে সোভিয়েতের কেন্দ্রীয় কম্যুনিস্ট সরকার।

পোল্যান্ডে ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ জন পল যেমন নাস্তিক কম্যুনিস্টদের ভীত কাঁপিয়েছিলো। তেমনি তেহরানে ইমাম খোমেনীও নাস্তিক কম্যুনিস্টদের কলিজা কাঁপাতে শুরু করলো। ভাববাদী দর্শন বনাম বস্তবাদী দর্শন-এর এক অদৃশ্য/দৃশ্যমান দড়ি-টানাটানি শুরু হলো।

১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে ইরানে ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় আসে। ১৯৭৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর সোভিয়েত কেজিবি এবং গ্রু-র বিশেষ বাহিনী আলফা গ্রুপ ও জেনিথ গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৭০০ সোভিয়েত সৈন্য কাবুলের প্রধান প্রধান সরকারি, সামরিক ও প্রচারমাধ্যমের ভবনগুলো দখল করে নেয়। ফেব্রুয়ারী থেকে ডিসেম্বর, দশ-দশটি মাস সময়! মস্কোতে কি ঘটেছিলো, এই দশ মাস সময়ে? আফগানিস্তান প্রসঙ্গে কি ভাবলেন মস্কোর শীর্ষ নেতারা? কিভাবে বিকশিত হলো রাজনৈতিক প্রোসিডিউর? সোভিয়েত পার্লামেন্ট ও পলিতবুরো কি আফগানিস্তানে সৈন্য প্রেরণে প্রথমে রাজী ছিলো? যদি না থাকে তাহলে পরে কেন এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো? কে/কারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো? কেন?

(চলবে)

রচনাতারিখ: ২৮শে আগস্ট, ২০২১ সাল
রচনাসময়: দুপুর ১২টা ২৯মিনিট

Afghan War: My memories – 13
—————————- Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.