আবীরে অভিসার মম – ২

আবীরে অভিসার মম – ২
———————————– রমিত আজাদ

মনেপ্রাণে চাইলাম, শারমিন যেন আমার কবিতার অনুবাদক হয়ে অনুষ্ঠানে ওটা পাঠ না করে।
ক্যাফেতে বসে বসে কফি খেতে খেতে ওটাই ভাবছিলাম। একটু সামনের দিকে চোখ গেলো। আমার দিকে পায়ে পায়ে এগিয়ে আসছেন খালেক ভাই। একটু ভালো করে তাকালাম, সাথে কি কেউ আছে? নাহ্‌, সাথে কেউ নাই, তিনি একাই। তিনি এসে নীরবে আমার পাশে বসলেন। এতদিন খালেক ভাইকে আমার ভালো-ই লাগতো। আমাদের মধ্যে একটা মধুর সম্পর্কও ছিলো। যদিও অনেকে উনাকে পিছে পিছে ধান্দাবাজ বলে! আমার কখনো সেরকম মনে হয়নি। এত লিস্ট আমার সাথে কখনোই তিনি কোন ধান্দাবাজি করেননি। কিন্তু ইদানিং তা মনে হতে শুরু করেছে। তাই আমি চুপচাপ রইলাম।

খালেক ভাই: কি ছোটভাই কেমন আছো?
আমি: জ্বী, ভালো আছি। (কিছুটা নির্লিপ্ত থাকার চেষ্টা করলাম)
খালেক ভাই: গবেষণা কেমন চলছে?
আমি: জ্বী, ভালোই চলছে।
খালেক ভাই: তুমি তো আবার বিজ্ঞানীর পাশাপাশি কবিও।
আমি উনার দিকে তাকিয়ে নির্মল হাসলাম। নিজের প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে? এরপর ফট করে মনে পড়ে গেলো উনার অনুবাদ উদ্যোগের কথা। আমি একেবারে চুপ মেরে গেলাম। মনে মনে ভাবছি, দেখি বর্ষার ঝিলের জল কোথায় গিয়ে গড়ায়?
খালেক ভাই: বুঝলা, আমার কপালটা ভালো না!
আমি: কেন ভাই কি হলো আবার?
খালেক ভাই: ভাবছিলাম অভিজিৎ ব্যাটারে দিয়া তোমার কবিতাটা অনুবাদ করামু। তা কাউয়া উড়াল দিছে!
আমি তড়াক করে উঠলাম! ভাবছি, কি বলে? কি হলো?
আমি: জ্বী, কি বিষয়? (কন্ঠস্বর আবারও নির্লিপ্ত রাখার চেষ্টা করলাম)
খালেক ভাই: ঘটি ব্যাটা, রাজধানী ছাইড়া কোন শহরে জানি গেছে। বান্ধবীর বাড়ীত গেছে মনে হয়। এক সপ্তাহ-দশদিন পরে আসবো।
আমি: তারপর?
খালেক ভাই: তার আর পর কি? তোমার কবিতা আর অনুবাদ হইলো না, শারমিনও আর পাঠ করতে পারবে না।

উনার কথা শুনে আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। আমার মনের ভিতরে নাইটেঙ্গেল পাখী গান গেয়ে উঠলো – “এমন মজা হয় না, মিটলো আমার বায়না!’

আমি দ্রুত এক কাপ কফি কিনে খালেক ভাইকে আপ্যয়ন করলাম।

অনুষ্ঠানের দিন বেশ ঝামেলা হলো! এই ঝামেলাটা বাংলাদেশীদের অনুষ্ঠানে সবসময়ই হয়, সেটা আমি দেশেও দেখেছি, বিদেশেও দেখেছি। শিল্পীদেরকে অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে একটা সিকোয়েন্স তালিকা তৈরী করা হয়েছিলো। প্রথমে কার গান, তারপর কার নাচ, এরপর কার আবৃত্তি, ইত্যাদি। সবার সম্মতি নিয়েই এটা করা হলো, কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন, হঠাৎ করে দুইএকজন বেঁকে বসলো, “না ভাই, আমার গানটা আগে দিতে হবে।” অথবা, “না ভাই আমার কবিতাটা তালিকায় পাঁচ নম্বর থেকে তিন নম্বরে নিয়ে আসেন।” এরকম ছেলেমানুষি ও গোয়ার্তুমি বাহানা। মিমাংসা করতে না পেরে অবশেষে সভাপতি এলো আমার কাছে, “ভাই আমি আর পারলাম না। আপনি এখন ওদেরকে বোঝান।” আমি জানি, এটা ট্যাকল করা খুবই কঠিন! যদি ওদের মন না যোগাই, তাহলে বলবে, “তাইলে আমি গেলাম, আজ আর গান গাইবো না।” অনিচ্ছা সত্ত্বেও এগিয়ে গেলাম। ঘাড়ত্যাড়া শিল্পীদের জটলা-র দিকে যেই আমি গেলাম, অমনি সবাই চুপ মেরে গেলো। বাংলাদেশীদের এই একটা ভালো দিক আবার আছে, সিনিয়র এবং কোয়ালিফাইডদের-কে সম্মান করে। দেশে এই কথাটাকে ‘ভয় করা’ বলে, বাট ঠিক না, ‘ভয়’ না এটা ‘সম্মান’। যাহোক আমি তাদের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে, সব মিটমাট করলাম।

অনুষ্ঠান ভালো-ই চলছিলো। হঠাৎ আরেকটা সমস্যা হলো। একজন জুনিয়র ছেলে দৌড়ে এসে আমাকে বললো, “সুবীর-দা চলে যেতে চাইছেন। উনি গান গাইবেন না” আমি বললাম, “সেকি ব্যাপার! উনি এত সুন্দর গান গান, উনাকে না হলে আমাদের চলবে? উনি চলে যেতে চাইছেন কেন?” ছেলেটি বললো, “প্রধান অতিথি নাকি অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত থাকবেন না। তা সুবীরদার গান দিয়েই তো অনুষ্ঠান শেষ করার কথা ছিলো। এখন সুবীর-দা বলছেন, “প্রধান অতিথিকেই যদি গান শোনাতে না পারলাম, তাহলে আর আমার গান গাওয়ার দরকারটা কি?”” আমরা আলাপ করতে করতেই সুবীর-দা স্টেজের পাশের পর্দার আড়ালে থাকা আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, “আমি তাহলে যাই। আপনারা অনুষ্ঠান করে.” আমি বললাম, “সেকি সুবীরদা, আপনার গান ছাড়া অনুষ্ঠানটাই তো মাটি হবে!” সুবীরদা বলেন, “তাহলে আমাকে এখনি গাইতে সুযোগ দেন।” এতক্ষণে অনুষ্ঠানের সভাপতি-ও এসে গিয়েছিলো। আমার দিকে তাকালো, আমি মাথা ঝুঁকালাম। অতঃপর আমি নিরুপায় হয়ে তখনি স্টেজে গিয়ে ঘোষণা দিলাম, “এবার আপনাদের উদ্দেশ্যে গান নিয়ে আসছেন গায়ক সুবীর বিশ্বাস।” আশেপাশে মৃদু গুঞ্জন শোনা গেলেও, একটু পর তা থেমে গেলো। সুবীর-দার গানের কন্ঠ চমৎকার, গানের সুরে সবাই হারিয়ে গেলো!

যা ঘটেছে, তার জন্য আমাকে অনুষ্ঠানের পরে ভালো কথা শুনতে হবে বুঝতে পারলাম। তারপরেও ঐ মূহুর্তে স্পট ডিসিশান নেয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিলো না। রাজনীতি এতটাই কঠিন!

যাহোক, অনুষ্ঠান হলো। উপস্থাপনা আবৃত্তি সবই হলো। তবে খালেক ভাই আর শারমিন রইলেন দর্শকদের সারিতে। অনুষ্ঠান শেষে অনেকেই এসে আমাকে আভিনন্দন জানালেন। আমি চোখের কোনা দিয়ে দেখতে পেলাম, খালেক ভাই শারমিনকে নিয়ে আমার দিকে আসছে। আমি উনারা আসার আগেই দ্রুত ওখান থেকে কেটে পড়লাম।

তিনতলার সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে যাবো, হঠাৎ অনুষ্ঠানের সভাপতি ও আরো তিনজন আমার দিকে এগিয়ে এলো। আমি বুঝলাম যে, সুবীরদার ঘটনাটা নিয়ে এখন একপশলা হবে। মনে মনে প্রস্তুতি নিলাম। ওরা আমাকে এসে বললো, “ভাইয়া। বেশ ভালোভাবে পরিস্থিতি ট্যাকেল করেছেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমরা ওদের সাথে পারছিলাম না।”
যাক বাঁচা গেলো, আমি ভাবছিলাম, ঝড় শুরু হবে!

তাদের একজন বললো, “এবার ভাইয়া আরেকটা উপকার করতে হবে।” আমি বললাম, “আবার কি?”
সভাপতি: নিচে আপ্যায়নের খাবারের প্যাকেট ডিস্ট্রিবিউট করা হবে। আপনি একটু ওখানে থাকবেন প্লিজ।
আমি: মানে কি?
সভাপতি: ঐ খাবারের প্যাকেট ডিস্ট্রিবিউশন নিয়েও অনেক সময় ঝামেলা হয়। বাঙালী, বোঝেন তো; বিদেশে আসলেও হাভাতে স্বভাবটা যায় না। এত বিলাসিতার মধ্যেও, খাবার নিয়ে অনেকে গোলমাল করে। আপনি শুধু একটু পাশে দাঁড়িয়ে থাকবেন। তাহলে আর কেউ গোলমাল করতে সাহস পাবে না।

আমি ভাবলাম আবারো কঠিন দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে আমাকে। তারপর ভাবলাম, ওদের রিকোয়েস্ট রাখা উচিৎ। তাছাড়া গোলমাল হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সম্মান থাকবে না। এর আগে আফগানিস্তানের একটা অনুষ্ঠানে গোলমাল হয়েছিলো, এই নিয়ে কর্তৃপক্ষ খুব বিব্রত ও নাখোশ ছিলো!

আমি তাই করলাম। খাবারের প্যাকেট ডিস্ট্রিবিউশন-এর দায়িত্বে যারা আছে, তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। লক্ষ্য করলাম আমি থাকাতে, কেউই কোন হৈচৈ করছে না। অছাত্র অনেকেই আমাকে সালামও দিলো। এর আগে একটা দুর্যোগের সময়, আমি ওদের অনেকেরই পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, সেটা হয়তো তারা মনে রেখেছে। আমি মনে মনে ভাবলাম, ‘রিয়েলী লাভ দিস কালচার।’ সম্মান করা বিষয়টি আমাদের সমাজ থেকে এখনো যায় নি।

লাইনের শেষের দিকে দেখলাম, খালেক ভাই ও শারমিন এগিয়ে আসছে। আমি উনাদের দেখে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকলাম। খালেক ভাই কাছে এসে বলেন, “এক্সিলেন্ট ম্যান! সুন্দর উপস্থাপনা হয়েছে। সুন্দর আবৃত্তি হয়েছে!” শারমিন কিছু বললো না। লক্ষ্য করলাম আজও ওর পরনে আটপৌরে সালোয়ার-কামিজ! আবারো খুব সাদামাটা মনে হলো ওকে। খালেক ভাইয়ের কথা শুনে, আমি শুকনো হাসি হাসলাম শুধু।

ডিসট্রিবিউশন শেষ হলে দেখলাম, ভলান্টিয়ারস, সভাপতি ও আমার জন্য আর খাবার কিছু অবশিষ্ট রইলো না। ইতিমধ্যেই সব শেষ হয়ে গিয়েছে। এমন হতে পারে যে দুই-একজন প্যাকেট বেশি নিয়েছে, আবার দর্শক হিসাবের চাইতে বেশি হয়েছে সেটাও হতে পারে। তারপরেও আমরা সবাই খুশী থাকলাম, এটলিস্ট মসৃনভাবে সব কিছু শেষ হয়েছে। বিরিয়ানীর ঘ্রাণ নাকে নিয়ে, খালিপেটে ডরমিটরির দিকে এগিয়ে গেলাম আমরা কজন।

আজ ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে খোদ ইউনিভার্সিটিরই কোন একটা অনুষ্ঠান আছে। কি অনুষ্ঠান, আমি জানি না। তবে অনেককেই লক্ষ্য করলাম আনুষ্ঠানিক পোষাকে বিল্ডিংয়ের একতলায় ও গার্ডেনে ঘোরাঘুরি করছে।

আমি ক্যাফেতে ঢুকে দেখলাম বাংলাদেশী কয়েকজন অলরেডি ওখানে বসে আছে।
আমি: কি ভাই, কি অনুষ্ঠান আজকে?
সেলিম: জানি না।
সুমন: সুন্দরী প্রতিযোগিতা হবে।
আমি তাই নাকি? তা কি আয়োজন?
সুমন: গতবারের মতই হবে, নানান দেশের সুন্দরী ছাত্রীরা নিজেদেরকে মঞ্চে প্রদর্শন করবে। তারপর তাদের মধ্যে থেকে একজনকে ‘মিস ইউনিভার্সিটি’ ঘোষণা করা হবে।
সেলিম: (লোভাতুর কন্ঠে) গতবারের মতই মেয়েরা টু-পিস সুইম স্যুটে দাঁড়াবে নাকি?
আমি: গতবার তুমি অনুষ্ঠানে গেছিলা নাকি?
সেলিম: হু, টিকিট যোগাড় করে রেখেছিলাম আগে থেকেই। তা এইবার যে কোন আওয়াজ পাইলাম না?
সুমন: কি দেখায় রূপসীরা?
সেলিম: টু-পিস সুইম স্যুট পড়লে যা দেখা যায় সবই দেখায়! তবে এই দেশী মেয়েগুলাকেই বেশী সুন্দর লাগে! ওদের ফিগার ভালো, স্বাস্থ্য ভালো, স্কিন কালারও অনবদ্য!

ইতিমধ্যে দেখলাম খালেক ভাই এগিয়ে আসলেন। আমাদের পাশে বসে বললেন
খালেক ভাই: কি মিঞারা অনুষ্ঠানে যাইবা নাকি?
আমি: আপনে বুড়া বয়সে এই অনুষ্ঠানে যাইবেন? দেশে ভাবীর কানে যদি সংবাদ যায়?

খালেক ভাই গত বছর দেশে গিয়ে বিয়ে করে এসেছেন। উনার পড়ালেখা শেষ হয়েছে দুই বছর হয়, এখন নামকা ওয়াস্তে একটা কোর্সে ভর্তি হয়ে, আসল কাজ মানে ব্যবসা করছেন। তা উনার তো বয়স অনুযায়ী বিয়ে করা ফরজ-ই হয়ে গিয়েছিলো। এখানে বিদেশী মেয়েদের সাথে যতই লটর-পটর করুক না কেন, বিয়ে ঠিকই দেশে গিয়ে দেশী মেয়েকে করেছেন।

খালেক ভাই: কি অনুষ্ঠান? কিসের বুড়া মানুষ? কি বলো তোমরা?
আমি: ‘মিস ইউনিভার্সিটি’ সুন্দরী প্রতিযোগিতা হবে নাকি?
খালেক ভাই: দুরো! ভূয়া কথা কে কয়? আজকে আফ্রিকান দেশ ‘ককক’-এর প্রেসিডেন্ট-কে হনারারি ডক্টরেট দেয়া হবে। সেই অনুষ্ঠান।

এবার আমরা সবাই সমস্বরে হেসে উঠলাম।
সুমন: এখন থেকে কি উনার নামের পাশে ডক্টর লাগানো হবে?
আমি: আরে নাহ্‌! হনারারি ডক্টরেট কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়। ওটা একটা এ্যাওয়ার্ড মাত্র। যখন সম্মানসূচক ডক্টরেট দেয়া হয় তখনই উনাদেরকে বলা হয় যে, উনারা উনাদের জীবনবৃত্তান্তে ওটা যেন কিছুতেই এডুকেশন সেকশনে না রাখেন, বরং এ্যাওয়ার্ড সেকশনে রাখেন। এবং নামের আগে যেন ডক্টর ব্যবহার না করেন।
সুমন: ও! বুঝলাম।

এরমধ্যে কখন যে শারমিন এসে দাঁড়িয়েছে টের পাইনি। হঠাৎ করেই এক মিটার দূরে ওর দিকে চোখ গেলো। আমি অনেকটা বিস্মিতই হলাম। আমার চোখ যে শুধু ওর দিকে গেলো তাই না, ওখানে চোখটা আটকেই গেলো! এই প্রথম ওকে শাড়ী পড়া দেখলাম! নীল রঙের প্রাধান্যওয়ালা একটা প্রিন্টেড শাড়ী পড়েছে ও। শাড়ীর পাড়টাতে গোল্ডেন কালারের কারুকাজ। সাথে গাঢ় নীল রঙের ব্লাউজ। মেকআপ-টাও বেশ মানানসই মনে হলো। যেটা আগে কখনো দেখিনি, আজ ও আই শ্যাডোও ইউজ করেছে হালকা আশমানী রঙের। শ্যামলা রঙা, ছোটখাটো গড়নের, স্লিম শারমিন-কেও যে এতটা সুন্দর লাগতে পারে তা আমি কল্পনাতেও ভাবিনি! একবার ভাবলাম, ওকে কি সত্যিই সুন্দর লাগছে, নাকি আমার চোখে কোন ঘোর লেগেছে?

সুমন: বসো শারমিন।
শারমিন বসলো। শাড়ী পড়ে বসার ভঙ্গিমাটা ভিন্ন।
সেলিম: আমি সবার জন্য কফি নিয়া আসি। বিল দেন আসিফ ভাই।
আমি: বিল দেব আমি?
সেলিম: বারে, এত সুন্দর স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করলেন, সবাই ধন্য ধন্য করলো। সেলিব্রেট করতে, আমাদেরকে খাওয়াবেন না?
সুমন: ঠিক কথা। দেশের কোন ইউনিভার্সিটিতে হলে তো এতদিনে বেশ কয়েকটি প্রেমপত্র পেয়ে যেতেন!
আমি লাজুক শব্দে হেসে উঠলাম। বললাম,
আমি: যাও, তোমাদের মুখ বন্ধ করতে তো এখন খাওয়াতেই হয়। শুধু কফি না, এক পিস করে পপি সিডের বানও নিয়ে এসো।
খালেক ভাই: গুড বয়!
আমি শারমিন-এর দিকে তাকিয়ে বললাম।
আমি: কি ব্যাপার শারমিন? আজ হঠাৎ শাড়ী পড়লে?
শারমিন আস্তে আস্তে বললো,
শারমিন: ঐ যে, ভিতরে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান আছে। আমাকে ওখানে দাওয়াত প্লাস কিছু কাজ দিয়েছে। কর্তৃপক্ষই শাড়ী পড়ে আসতে বলেছে।
আমি: ও আচ্ছা।
খালেক ভাই: কেমন লাগতেছে আমার বোনকে?
আমি: (কন্ঠটা একটু উঁচুতে তুলে) লা জওয়াব খালেক ভাই! একেবারে মাথা ঘুরে যাওয়ার মত অবস্থা!
চমকে উঠে আমার দিকে তাকালো শারমিন!
হঠাৎ করে এই কথা বলে আমিও অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম! ‘মাথা ঘুরে যাওয়া’ টার্ম-টা ব্যবহার করা ঠিক হয় নাই বোধহয়!

শারমিন দুই ঠোট মৃদু ফাঁক করে অস্ফুট শব্দ করে বিস্মিত স্বরে বললো, “মাথা ঘুরে যাওয়ার মত!”
আমি এতটাই বিব্রত হলাম যে, কি করবো ভেবে পেলাম না। কথা কাটানোর মতও কোন কথা আপাততঃ খুঁজে পাচ্ছিলাম না! শুধু আরেকবার শারমিন-এর দিকে তাকালাম। ও আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।

আজ হঠাৎ ওকে অনেকটাই অচেনা মনে হলো!

(চলবে)

রচনাতারিখ: ২৯শে জুলাই, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১২টা ৩৭ মিনিট

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.