আবীরে অভিসার মম – ৩

আবীরে অভিসার মম – ৩
———————————– রমিত আজাদ

মেয়েরা অপেক্ষা করে, ছেলেরা কখন একটু মুখের কথায় ইঙ্গিত দিবে, তার পরপরই তারা নদীর মত ছুটে সাগরের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়বে। বিষয়টা আমি জানি। বয়স তো আর কম হলো না! এ্যাট লিস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীদের চাইতে তো বয়স বেশি। অভিজ্ঞতাবিহীন শূণ্য জীবনও নয়! তবে যে কোন মেয়েকেই তো আর সেই ইঙ্গিত দেয়া যায় না। আর বাংলাদেশী মেয়েদের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সাবধান থাকতে হয়! বাংলাদেশী সমাজের এই একটা বিষয় আছে, বিদেশী মেয়েদের সাথে যত খুশী লটর-পটর করো, কুছ পরোয়া নেহি! কেউ তো কিছু বলবেই না, উল্টা পৌরুষের বাহবা দিবে। কিন্তু ভুলেও যদি বাঙালী মেয়ের সাথে কিছু করেছ, ব্যাস পড়লে আটকা! তারপর তাকে বিদায় দিতে চাও, অত সহজ নয়! সিনিয়র থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব পর্যন্ত যেচে এসে কথা শুনিয়ে যাবে, “কাজটা ভালো করছ না! ও তো আর বিদেশী নয়, বাঙালী মেয়ে। প্রেম করার আগে সিরিয়াসলি ভাবা উচিৎ ছিলো! ইত্যাদি ইত্যাদি।”

আজ আমাকে খুব সাবধান থাকতে হচ্ছে। চন্দ্রিকা আমার রুমে এসে বসেছে সেই রাত এগারোটায়, এখন বাজে রাত একটা কিন্তু যাওয়ার কোন নাম নেই!
চন্দ্রিকা একটা বাংলাদেশী মেয়ে, সে ইউনিভার্সিটির ফাইনাল ইয়ারে পড়ে। চেহারা-ছবির দিক থেকে সেও একটা আটপৌরে মেয়ে। তবে শারমিন-এর চাইতে চটপটে বা স্মার্ট! থাকে আমার ডরমিটরির উল্টা দিকের ডরমিটরিতে। দালান দুটি বাগানের এপাশ-ওপাশ। আমার রুমে সন্ধ্যার দিকে একবার এসে বললো, “আপনার কাছে নাকি পুরাতন ইন্ডিয়ান সিনেমার কিছু গানের ক্যাসেট আছে? আমাকে ক্যাসেট দেবেন?” আমি বললাম, “আছে, দেব।” ও বললো, “এখন থাক, আমি কিছুক্ষণ পরে এসে নিয়ে যাবো।”

সেই কিছুক্ষণ আর শেষ হয় না। আমি অনেকক্ষণ ওর জন্য অপেক্ষা করলাম। তারপর ভাবলাম ‘লেট হার গু টু হেল!’ একথা সত্য যে, একটা ইয়াং মেয়ের সাথে কথাবার্তা বলতে ভালো-ই লাগে, তাই বলে চন্দ্রিকা এমন আহামরি কোন সুন্দরী নয়! গায়ের রঙও শ্যামলা। লোকে হয়তো আমাকে বর্ণবাদি বলে ঠাওরাতে পারে কিন্তু, আমি কোন বর্ণবাদি নই। ‘বর্ণবাদ’ মানে হলো গাত্রবর্ণ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় বা সামাজিকভাবে ডিসক্রিমিনেট করা। আমি সেটা করিনা।
তবে আমাদের বাংলাদেশে মেয়েদের গাত্রবর্ণ নিয়ে বেশিরভাগ ছেলেদের মধ্যেই একটা পক্ষপাতিত্ব কাজ করে, এই বাস্তবতাটাই সত্য।
লক্ষ্য করে দেখবেন যে, আমাদের কবি সাহিত্যিকরাও রূপসী মেয়ে বলতে ‘দুধে-আলতা রঙ’, ‘সোনা রঙ’, ‘কাঞ্চণ বর্ণ’, ‘কাঁচা-হলুদ বর্ণ’ টাইপের পরিভাষাগুলো ব্যবহার করেছেন। তাই হয়তো সর্বসাধারণের মধ্যেও সৌন্দর্য্যের সংজ্ঞায়নে ঐ বিষয়টি প্রচলিত হয়ে গিয়েছে! ইউরোপেও কিন্তু মেয়েরা শ্যামবর্ণের পুরুষদের অধিক রূপবান মনে করে!

যা বলছিলাম, চন্দ্রিকা ক্যাসেট নিতে আসবে বলে সেই যে উধাও হলো! আর কোন নাম-গন্ধ নেই! এরপর আমি নিজের কাজ করতে শুরু করলাম। তারপর রাত দশটার দিলে গেলাম উচ্ছল-এর রুমে। উচ্ছল আর উত্তাল একরুমে থাকে। ওরা আর চন্দ্রিকা ক্লাসমেট। ঐ রুমে গিয়ে দেখি চন্দ্রিকা ওখানে বসে আছে। তা হতেই পারে, বন্ধুদের রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে দিক। আমি ওকে বললাম, “কি ব্যাপার, তুমি না গানের ক্যাসেট নিতে আমার রুমে আসবে?” যেই না, আমি এই কথা বলেছি, অমনি সে উল্টা ঘুরে উচ্ছল আর উত্তাল-এর দিকে পিঠ দিয়ে, আমার দিকে তাকিয়ে নীরবে ঠোটে আঙুল দিয়ে ‘চুপ চুপ’ এর ইশারা করলো। ‘টিনের চালে কাক, আমি তো অবাক!’ কি ব্যাপার এই মেয়ে সহসা এই ইশারা করছে কেন? আমি কি ওকে কোন নিবেদন করেছি? আমি তো সাদা মনেই জোর কন্ঠেই ক্যাসেটের কথাটা ওকে বললাম। কিন্তু ও এমন লুকিয়ে-চুড়িয়ে ‘চুপচুপ’ ইশারা করছে কেন? এর মধ্যে লুকোচুরির কি আছে? ওকি উচ্ছল আর উত্তাল-কে জানাতে চায় না যে, ও আজ আমার রুমে আসবে? কেন? আমি আর ঐ রুমে বেশি কথা না বলে, একটা ভাবনা নিয়ে আমার নিজের রুমে চলে এলাম।

রাত এগারোটার দিকে চন্দ্রিকা এলো আমার রুমে। ডরমিটরিতে এটা কোন রাত নয়। আমরা আরো বেশি রাত জাগি। কিন্তু আজই প্রথম ও এত রাতে আমার রুমে এলো। রুমে ঢুকে বেশ সাবলীল ভঙ্গিতে সোফায় বসলো। তারপর বললো, “কই দেখান তো দেখি, আপনার কাছে কি কি গানের ক্যাসেট আছে?” আমি বললাম, “শ্রীদেবীর গান দেখবে?” চন্দ্রিকা বললো, “দেখান।”

আমি গানের ক্যাসেট-টা ভিসিআর-এ চালু করলাম। ও বসে বসে দেখছে। মাঝে মাঝে টুকটাক কমেন্ট করছে। তারপর আরেকটা ক্যাসেট চালাতে বললো। আমি অমিতাভের একটা গানের ক্যাসেট চালু করলাম। ফাঁকে চা-কফি বানালাম। গান দেখার পাশি টুকটাক গল্প করছি। ওর সাথে আমার গল্প খুব একটা জমে না। আমার মনে হয়, ওর আলোচনার জ্ঞান অত সমৃদ্ধ নয়! এভাবে বেজে গেলো রাত একটা! কিন্তু ওর নিজ রুমে যাওয়ার কোন নাম নেই। এখানকার ডরমিটরিতে, এভাবে এত রাতে এসে মেয়েরা থেকে যায় একটা বিশেষ উদ্দেশ্যে। তবে সেটা আগে থেকেই বলা-কওয়া, পরিকল্পনা করা থাকে। কখনো-সখনো আকস্মিক-ও হয়, তবে তার হার কম। এভাবে যুগলের বিনোদনে বিদেশের ডরমিটরিতে উইক-এন্ডগুলো কাটে উল্লসিত। কিন্তু চন্দ্রিকা কি আজ ঐ মতলবেই এলো নাকি? যেই মতলবেই আসুক, আমি এর মধ্যে নাই। বাংলাদেশী মেয়েদের সাথে সাবধান থাকা ভালো। সাবধানের মার নাই। সোয়া একটার দিকে চন্দ্রিকা উঠে দাঁড়ালো। দুটা গানের ক্যাসেট হাতে নিয়ে বিরস বদনে বললো, “আমি তবে এখন যাই?” আমি এই কথার অপেক্ষাই করছিলাম, দ্রুতই বললাম, “যাবে, আচ্ছা যাও। গুড নাইট। ভালো থেকো।” খুব হতাশার ভঙ্গিতে হেটে বের হলো চন্দ্রিকা। আমিও হাফ ছেড়ে বাঁচলাম!

পরদিন ভারতীয় বাঙালীদের একটা অনুষ্ঠান ছিলো ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে। অনুষ্ঠানটা পূজার। তবে এই পূজাটা ভারতের অন্যান্য অংশে হয় না, মূলত বাঙালী-রাই করে। আমরা সবাই দল বেধে গেলাম ওখানে। বাংলাদেশী শিল্পীরাও গান গাইবে ওখানে। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে চা খেতে বসলাম। শুরু হলো গপ্পো।

খালেক ভাই: কলিকাতার বাঙালী মেয়েগুলা সাঁজগোজ করে বেশি। ওদের পোশাকেও জড়তা কম।
সেলিম: ওরা প্রেমিকা হিসাবেও ইন্টারেস্টিং হয়!
আমি: কিসে ইন্টারেস্টিং?
সেলিম: না মানে ওরা আমাদের মতো কনজারভেটিভ না তো। তাই অভিজ্ঞতাও থাকে বেশি। তাই জায়গামত ইন্টারেস্টিং।
সুমন: অভিজ্ঞতাবলে?
খালেক ভাই: শোন মিঞারা। প্রেমিকার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটা ব্যাপার না। প্রেমিক যদি খেলায় দক্ষ হয়, তাহলে যেকোন প্রেমিকার সাথেই ভালো খেলতে পারে। আর অভিজ্ঞতা বেশি হলে সমস্যাও হতে পারে, অন্যের শেখানো খেলার টেকনিক যে তোমার সাথে ম্যাচ করবে, এই গ্যারান্টি আছে কি?

উনার আদিরসাত্মক কথা শুনে সবাই সমস্বরে হেসে উঠলাম!
হঠাৎ দেখি দরজা দিয়ে শারমিন প্রবেশ করছে। গলা খাঁকারি দিয়ে সবাই চুপ মেরে গেলাম। কলিকাতার মেয়েদের সামনে যে আলাপ করা যায়, বাংলাদেশী মেয়েদের সামনে সেই আলাপ করা যায় না। আমাদের কালচার ভিন্ন!

শারমিন এসে খালেক ভাইয়ের পাশে বসলো। ওর পড়নে আবারো শাড়ী। এবারের শাড়িটি সম্ভবত কারুকার্য খচিত জামদানী। আমি ভরাট চোখে ওর দিকে তাকালাম। জানি না শারমিন খেয়াল করছে কিনা। তবে শাড়ী পরিহিতা শারমিন-কে দেখে আমার একটা কবিতা মনে পড়লো।

অভিসারে শাড়ি
——————— রমিত আজাদ

পছন্দের এক পোশাক শাড়ি;
হোক ষোড়শী নয় কিশোরী, পড়লে শাড়ি, তবেই নারী।
যখন হতাম অভিসারী, আসতো নারী, জড়িয়ে শাড়ি!
নারী হলো পুরুষ মনের মহান উপহার,
দৃষ্টি হবে, মুগ্ধ হবো; এই তো অভিসার!

শাড়িই যদি না পড়লো, আমার প্রেমিকা!
কেমন করে মুগ্ধ হবো, কানন বালিকা?
ঝলকে উঠে চমকায় রঙ মিষ্টি গালের কূপ।
ইন্দ্রজালী ঐ পোশাকে উপচে পড়ে রুপ!

জামদানি হোক নওভারী হোক, কিংবা মহিশুরী;
সব শাড়িতেই মানাবে তায়, মেঘনা পারের নারী!
প্রেয়সী মোর ঢাকাই তাঁতেও পরী বাধনহারা!
শাড়ির মায়ায় যাই হারিয়ে, প্রেমিক মাতোয়ারা!

মন মোহনায় সব প্রেয়সীই ছুটে আসা নদী,
সাগর আমি কেমনে হবো, শাড়ি না পাই যদি?
ডুববে নদী সাগর জলে, মিলবে ঢেউয়ে ঢেউয়ে,
শাড়ির ঢেউয়েই দুলবে হৃদয়, আকাশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে!

শাড়ির সাথে নারীর আছে প্রাচীন যোগাযোগ,
‘শাড়ি ছাড়া নয় অভিসার’, আমার অনুরোধ!
প্রেয়সীরা আসতো যে তাই, শাড়ির শোভায় সেজে,

ভালোবাসার পান্না হিরে পেতাম শাড়ির ভাজে।

এরপর থেকে শারমিন-এর সাথে এখানে ওখানে দেখা হতো। তবে অত গভীর কথা হয়নি কখনো। ওর চলাফেরা ও পোশাকে-আশাকে একটা পরিবর্তন এসেছে বলে আমার মনে হলো। ইদানিং বেশ হাল-ফ্যাশনের প্যান্ট-শার্ট, স্কার্ট-টপস ও অন্যান্য ইউরোপীয় পোশাক বেশ ফ্যাশনেবল ভঙ্গিতে পড়তে শুরু করেছে। আগের চাইতে চটপটে হয়েছে বলেও মনে হলো।

আমার রুমেও দুইএকবার এসেছিলো। আমি শারমিনের সাথে কথাবার্তা বলেছি তবে একটা লিমিট রেখে। ঐ যে বললাম, বাংলাদেশী মেয়েদের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হয়। আর সিরিয়াস কোন রিলেশনের কথা যদি বলি, তাহলে বলবো ওকে এখনো ঐ দৃষ্টি দিয়ে দেখা শুরু করেনি। বেশ কিছু বিষয় আছে, যা ভাসা ভাসা হওয়া ঠিক না, ভিতর থেকে আসতে হয়ে।

এভাবে দেখতে দেখতে দু’টা বছর কেটে গেলো। আমি পিএইচডি-র ডিফেন্স নিয়ে ভীষণ ব্যাস্ত হয়ে গেলাম। আর কারো সাথে দেখা করা তো দূরের কথা, কথা বলারও সময় পেলাম না।

একদিন শুনলাম, মাস্টার্স-এর ডিফেন্স হয়ে গেছে। আমাদের সার্কেলের সবাই পাশ করেছে শারমিন সহ। রাস্তায় একদিন শারমিন-এর সামনে দেখা হলো, আমি ওকে অভিনন্দন জানালাম। ও জানতে চাইলো, আমার ডিফেন্স কবে? আমি বললাম, একমাস পরে।
শারমিন: তারপর কি করবেন?
আমি: সেপ্টেম্বরের দিকে দেশে চলে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। ওখানেই সেটেল করবো। তুমি কি করবে?
শারমিন: আমিও আগস্টের দিকে বাংলাদেশে চলে যাবো।
আমি: ভালো। খালেক ভাইতো এখানেই থাকবেন, তাই না?
শারমিন: না। ভাইয়াও বাংলাদেশে চলে যাবে। ব্যবসা গুটিয়ে আনছেন।
আমি: স্ট্রেঞ্জ! ঠিক আছে খালেক ভাইয়ের সাথে আলাপ করবো নে। আমার ডিফেন্সে এসো কিন্তু।

শারমিন: জ্বী অবশ্যই আসবো।

আমার পিএইচডি ডিফেন্সের আগের দিন দেখলাম হৈচৈ অবস্থা! দুপুর বেলা খালেক ভাই দলবল নিয়ে উপস্থিত।
খালেক ভাই: আমরা থাকতে তোমার চিন্তা কি?
আমি: কিসের?
খালেক ভাই: বারে। কাল তোমার ডিফেন্স। তারপরে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন আছে না!
আমি: ও আচ্ছা। জ্বী। কাজের চাপে আমি সব ভুলেই গিয়েছিলাম।
খালেক ভাই: তোমাকে ভাবতে হবে না। আমরাই রান্না-বান্না আর বাকি কাজ করবো। তুমি চুপচাপ ইউনিভার্সিটিতে চলে যেও।
আমি: আচ্ছা। এই নিন টাকা। (উনার হাতে কয়েক শত ডলার ধরিয়ে দিলাম)
খালেক ভাই: বিরিয়ানী হবে, দেশী কিছু আইটেম হবে। বাকীটা ইউরোপিয়ান ডিশ। ঠিকআছে?

আমি: আপনারা যা ভালো মনে করেন।

পরদিন ঠিকঠাক মতন ডিফেন্স হলো। সব মিলিয়ে আট ঘন্টার মামলা। আমি এত উৎকন্ঠা আর চাপে ছিলাম যে, কোনদিকে খেয়াল ছিলো না।
যখন ডিফেন্স শেষ হওয়ার পর সবাই আমাকে অভিনন্দন জানাতে আসলো, তখন দেখলাম বাংলাদেশী আমার সব বন্ধুরাই এসেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দু’জন ডিপ্লোম্যাট এলেন। অছাত্র ভাইদের-ও চারপাঁচজন এলেন। একজন যা বললেন, তাতে আমার চোখে পানি চলে এলো। তিনি বললেন, “ভাইজান, আমরা নাইলে নানা কারণে পড়ালেখা করতে পারিনাই। এখন বিদেশের মাটিতে কিছু একটা কইরা খাই। তাই বইলা আপনারা বাংলাদেশী ভাইরা যারা মেধাবী আছেন তাদের আমরা খুবই ভালোবাসি। আপনারাই তো দেশের ভবিষ্যৎ। দেশে গিয়া দ্যাশের জন্য কিছু করবেন অবশ্যই, যদি কোন কিছু লাগে আমাদের জানাইবেন, আমরা সামর্থের মধ্যে সাহায্য করমু।”
বাংলাদেশীদের দেশপ্রেম অতুলনীয়! তারপরেও আমরা নানাবিধ কারণে পিছিয়ে আছি! দোষটা মোটেও আমজনতার না, ঘাপলা অন্য কোথাও।

এরপর ডিনার অনুষ্ঠান চললো অনেকক্ষণ। তবে এখানে সামারের দিন গুলি খুব বড় তাই বাইরে আঁধার নামছিলো না। দেশি-বিদেশি ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক ও অন্যান্যরা সবাই প্রাণখুলে গল্পসল্প করছিলেন। চমৎকার কাটলো সন্ধ্যাটা! শারমিনও ছিলো। আজ ও এসেছিলো জমকালো একটা সালোয়ার-কামিজ পড়ে। একবার আমার এক বিদেশী বন্ধু শারমিন-কে দেখিয়ে জানতে চাইলো, “মেয়েটি কে?” আমি কপট হেসে বললাম, “কি? পছন্দ হয়েছে?” ও হেসে বললো, “চারপাশে শ্বেতাঙ্গিনী দেখে দেখে টায়ার্ড, এই শ্যামবর্ণের মেয়েটি বেশ মিষ্টি!” ওর কথায় কেন জানিনা আমি একটু ঈর্ষান্বিত হলাম।

(চলবে)

রচনাতারিখ: ২৯শে জুলাই, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১১টা ০৯ মিনিট

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.