Categories
কবিতা

আমার নাম বাংলাদেশ

ট্যাঙ্ক, কামান আর মর্টারের মুহুর্মুহু আঘাতে
আমার নিরস্ত্র সবুজ ঝাঁঝরা বুকের উপর রক্তাক্ত যে মানচিত্র
তার নাম বাংলাদেশ।
শোষন, অপশাসন ও বঞ্চনার উদর ভেদিয়া
সেদিন পৃথিবীর আলো দর্শন করেছিল
এক শিশু,
যে শিশু, বাহান্নের আগুন ঝরা ফাগুনে,
মাতৃ জঠরে, যার ভ্রূণ।
এরপর, ছাপ্পান্ন, ছেষট্টি, ঊনসত্তরে গর্ভকোষে বেড়ে উঠা,
এক সাগর নিষিক্ত রক্তের স্রোতধারায়,
গর্ভিণীর উদরে বুটের প্রহারে প্রহারে যার জন্ম,
তার নাম বাংলাদেশ।
আমার ধূলিমাখা তন্বী সরণির ধারে,
জনশূন্য অঁচলে, গভীর তরূবীথিকায়
কিংবা ছোট্ট জলাশয়ের ধারে,
আলোহিত কৃষ্ণচূড়া কিংবা পলাশ, শিমুলের রক্তিম আভায়,
রমনার প্রান্তরে পুণ্য রক্তের নহর,
অতঃপর সবুজ ঘাসের চাদরে লাল সূর্যের দীপাবলি।
শক্ত হাড় মাংসের বুনিয়াদ,
মাটি-প্রানের তৈলাক্ততা, চটচটে রক্তের জমিয়া-জমান পিণ্ড,
আর এক গর্তে বেশুমার আত্মার অবসন্ন ব্যাকুল কামনা,
এবং একটা স্বপ্নাবেশের নাম
বাংলাদেশ।
অর্জন আর বিসর্জনের রক্তরাগ সমীকরণ,
একটা চরম বিভীষিকাময়,
দুঃস্বপ্নের পরিসমাপ্তি নাম
বাংলাদেশ।
আমার শৃঙ্খল-পরম্পরায় মুক্তির টান,
উচু-নিচু, ভেদাভেদ ভুলিয়া হৃদয়ে হৃদয়ের টান,
তবু মিলেনি মুক্তি,
জীবন্ত আত্মার আকুতি,
নিষ্প্রাণ আত্মার ফুঁপিয়ে ওঠা কান্নার নিদারূণ নীরব আর্তনাদ,
কোটি জনতার কর্ণে বাজে মরা আত্মার ছায়ার নিস্বন।
ক্ষুধার্ত শিশুর চিৎকার
কিংবা শরণার্থী শিবিরে কুকুর শেয়ালে খাওয়া লাশ,
বোবা কান্নায় নির্বাক চেয়ে থাকা নারীর মুখ,
কাক ঠুকরানো বিক্ষত বাঙ্গালীর লাশ,
লাশ নিয়ে কুকুরের টানাটানি,
আশ্রয়ের খোঁজে শত শত নারী-পুরুষের উন্মত্ত আর্তনাদ,
বিবস্ত্র নারীর লাঞ্ছনার ছবি,
পাক জানোয়ারের লোমহর্ষক নির্যাতন, নৃশংসতার পরিসমাপ্তির নাম
বাংলাদেশ।
আমার এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গমাইলের
প্রতি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে
দীর্ঘ নয় মাস ধরে লক্ষ লক্ষ পাকি পশুদের
পাশবিক কামনায় রক্তাক্ত মা-বোন
প্রতিনিয়ত বাধ্য হয়ে ইজ্জত বিলিয়ে দেয়া নারী,
হায়েনাদের কামড়ে কামড়ে ছিলে নেয়া নারীর রক্ত মাংস,
বন্দুকের নল-বেয়নট দিয়ে খুচিয়ে ক্ষত বিক্ষত নারীর বুক, উরু, গুপ্তাঙ্গ,
নিদারুন দম বন্ধ করা এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে
অচেতন বীরঙ্গনারা হঠাৎ জেগে
আবার আঁতকে উঠেছে,
তার চোখের সামনে, মুখের উপর
বারেবার গলে পড়ছে পাকি মুখনিঃসৃত কামনার লালা।
তবু নির্লিপ্ত আর্তনাদে বীরাঙ্গনাদের বাঁচার আকুলতা,
তার নাম বাংলাদেশ।
ট্যাঙ্ক, কামান আর মর্টারের আঘাত থেমেছে হয়তো,
থামেনি এখনো মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার আঘাত,
এও থামবেই একদিন,
সেদিন নিরদ ঝরাবে সুখের আঁখিজল,
যে জলে ভরে যাবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা
যে জলে দুকুল ছাপিয়ে প্লাবিত হবে জমিন,
যে জলে সবুজেরা পাবে তার চিরায়ত রূপ।
বাংলার সংস্কৃতিতে মাতবে বাঙ্গালী
জোস্নার অবগাহনে জমে উঠবে রাতের উৎসব,
তারায় তারায় খচিত রজনীতে
মাতবে যেদিন আপন মেহফিলে,
তোমরা ভুলে যেওনা আমাকে,
যার বুলেটে ঝাজরা বুক, বেয়নটে খুঁচানো সম্ভ্রম হারা নারীর বুক,
কামানের আঘাতে ছিন্নভিন্ন দেহ,
নির্বাক নারীর বোবা কান্না,
সহস্র-কোটি অভিমান আর ভালবাসার নাম
অধিকার
স্বাধিকার
স্বদেশ,
বাংলাদেশ।
-০-
মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম
Email_ Sahidul77@gmail.com

মন্তব্য করুন..

By মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম

I AM MOHAMMAD SAHIDUL ISLAM (M.COM._MGT._N.U._BD),
1998-2008_ WORKING IN BANGLADESH IN NGO
AS AN ACCOUNTS OFFICER

2009-STILL NOW STAY IN SINGAPORE, WORKING IN
INTERNATIONAL COMPANY
AS A COMPUTER OPERATOR

আমি মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম (এম,কম_ব্যবস্থাপনা-ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি_বাংলাদেশ),
১৯৯৮ হতে ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এন,জি,ও তে কাজ করেছি

২০০৯ হতে অদ্যাবধি কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে সিঙ্গাপুরের
একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে কাজ করছি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.