ইউক্রেণের ইন্না (পর্ব – ভ)

কিছু গল্প লেখা যায় না – ১
——————————– রমিত আজাদ

ইউক্রেণের ইন্না (পর্ব – ভ)

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

রুশ লেখক ম্যাক্সিম গোর্কী-র কালজয়ী উপন্যাস ‘আমার ছেলেবেলা’ পড়ছিলাম। সেখানে একটা জায়গায় এসে চোখ আটকে গেলো, “তুই কি মনে করিস মেয়েরা বোঝে না যে, আমরা পুরুষরা তাদেরকে প্রতারণা করতে চাই? অবশ্যই বোঝে। কিন্তু জেনেশুনেও তারা প্রতারিত হতে চায়।” কিশোর গোর্কী-কে এই কথা বলেছিলো কোন এক সৈনিক। যারা কোথাও প্রশিক্ষণে গেলে সেখানে অথবা, সেনানিবাসের আশেপাশের গ্রামের তরুণীদের ভজিয়ে-ভাজিয়ে বিছানায় টেনে নেয়। গোর্কীর কিশোর মন এটাকে স্রেফ প্রতারণা মনে করেছিলো। তাই এই বিষয়ে জনৈক সেনা জেসিও-র কাছে প্রশ্ন তুললে, সে উত্তরে ঐ কথাগুলি বলেছিলো।

রুশ সাহিত্যের সাথে আমার পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। কালজয়ী সব সাহিত্য সরাসরি বাংলা ভাষায়ই পড়েছি দেশে থাকতেই। সোভিয়েত সরকার উদ্যোগ নিয়ে অনুবাদগুলো করেছিলো। বইয়ের দামও বেশি ছিলো না। কিন্তু ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো যে, সোভিয়েত দেশেই বাংলা ভাষায় অনুদিত রুশ সাহিত্যের বই কিনতে পাওয়া যায় কম। মস্কো নগরী ছাড়া অন্যান্য নগরীতে প্রায় পাওয়াই যায় না। তবে সোভিয়েতে পড়তে আসা বাংলাদেশী ছাত্রদের রিডিং হ্যাবিট ভালো। অনেকেই দেশ থেকে বইপত্র নিয়ে আসেন। নিজেদের মধ্যে বইপত্র বিনিময় করে পড়েন। সেই সুবাদে এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে আমি গোর্কীর লেখা বইটা হাতে পেয়েছি।

রুমে এই মুহূর্তে কেউ নেই। আমি একা একা বসে বসে বই পড়ছিলাম। আমাদের এক বড় ভাইয়ের কথা মনে পড়লো। ভাইটা ভালো। এখানে উনার একজন ইউক্রেণীয় বান্ধবী ছিলো। পড়ালেখা শেষ করে সেই বড় ভাই চলে গেলেন বাংলাদেশে। উনার ইউক্রেণীয় বান্ধবী এখানেই রয়ে গেলেন। কয়েকদিন পরে দেখলাম যে, সেই বান্ধবীর খুব বিধ্বস্ত অবস্থা। সেই ইউক্রেণীয় বান্ধবী বারবার আমাদের আড্ডায় আসতে থাকলেন। খুব কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, “মিলন কি একেবারেই চলে গেলো? ও কি আর ইউক্রেইনে ফিরে আসবে না? আমার ওর জন্য খুব মন পোড়ে! আপনাদের কাছে আসলে আমার মন কিছুটা শান্ত হয়! আপনারা তো আমার ভাইয়ের মতনই।” মেয়েটির ঐ মানসিক অস্থিরতা দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগতো। কিন্তু করার তো কিছুই ছিলো না। উনারা দুজন কেউ কাউকে কোন প্রতারণা করেননি। সম্পর্কটা ভালোবাসারই ছিলো। কিন্তু বিবাহ করে ঘর-সংসার করার মত কোন পরিস্থিতি ছিলো না সামগ্রিকভাবেই। আমরা জানতাম ও বুঝতাম যে ঐ দু’জনার মিলন আর কোনদিনও হবে না! পুরো সোভিয়েত জুড়ে এরকম ঘটনা অজস্র!


আজ ৩১শে ডিসেম্বর। মানে আগামীকল্য পহেলা জানুয়ারী। মানে হ্যাপী নিউ ইয়ার আরকি! খুব সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। সবাই যখন ভাবছে নিউ ইয়ার কত ঘটা করে পালন করবে, আমি তখন মরি দুশ্চিন্তায়! আজ একটা কঠিন পরীক্ষা। সকাল দশটায় পরীক্ষা শুরু হবে। প্রথমে লিখিত পরীক্ষা, তারপর ভাইভা। প্রিপারেশন খুব একটা ভালো না! তবে একটা আশার আলো আছে যে, এই সাবজেক্টের স্যারটি খুব নরম-সরম! যাহোক প্রাতরাশ সেরে, কিছুক্ষণ পড়ালেখা করলাম। তারপর সেই শীতের সকালে বেরিয়ে পড়লাম জ্ঞান মন্দির বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে।

ক্লাসরুমে গিয়ে দেখি ইতিমধ্যে অনেকেই চলে এসেছে, কিছুক্ষণ পর পরীক্ষা দেয়া শুরু হলো। প্রশ্ন হাতে নিয়ে তো মাথা গরম! আমার মনে হলো যে এই বছরটা আমার ভালোভাবে শেষ হবে না। এই পরীক্ষায় পাশ করবো কিনা পরম করুনাময় মালুম! আর পাশ করলেও রেজাল্ট ভালো হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই!

কিছুক্ষণ গুতাগুতির পর, চারটার মধ্যে তিনটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলাম। চতুর্থ প্রশ্নটি একটি জটিল অংক ছিলো। যার উত্তর দিতে পারলাম না। স্যার ডাকলেন ভাইভার জন্য। খাতা দেখে বললেন, “অংক সল্ভ করেননি কেন?”
আমি: ওটা পারি না স্যার।
স্যার: না পারার তো কথা নয়। যান সময় দিলাম, বসে অংকটা সল্ভ করেন।

আমি বেজাড় মুখে বসলাম। মনে মনে ভাবলাম, কি সল্ভ করবো? পারিই তো না!
কিছুক্ষণ পর স্যার আসে আমার পাশে ঘুরে গেলেন, বললেন, “কি ব্যাপার বসে আছেন কেন? অংক সল্ভ করেন।” আমি বিরস বদনে, প্রশ্নটার দিকে তাকালাম। মনযোগ দিয়ে প্রশ্নটা পড়লাম। এরপর আমার ব্রেইনে ক্লিক করলো, আরে অংকের এই পার্ট-টা তো আমি বুঝি! তারপর গুতিয়েগাতিয়ে ঐ পার্ট-টা সল্ভ করলাম।

স্যার আমার খাতা টা হাতে নিয়ে বললেন, “হুম, এই পার্ট-টা তো সল্ভড হয়েছে। তা বাকি তিনটা পার্ট কে সল্ভ করবে?” আমি বললাম, “কোনমতে এই পার্ট-টা সল্ভ করেছি। বাকিগুলা পারবো না স্যার।”
স্যার: ওসব শুনতে চাইনা। আবারো বসেন। বাকি পার্টগুলো সল্ভ করেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, পুরো সেমিস্টারের ছয়টা মাস এই স্যারটাকেই নরম-সরম ভেবেছিলাম, আর আজ পরীক্ষার দিন তিনি আমাদের ঘাম ঝরিয়ে দিচ্ছেন!

কিছুক্ষণ গুতিয়ে-গাতিয়ে অংকের দ্বিতীয় অংশটাও সমাধান করলাম। স্যার এবারও কিঞ্চিৎ খুশি হয়ে, বললেন, “ভালো তো। তারপর আগান, বাকি দুইটা পার্ট সল্ভ করেন।” আমি ঘড়ির কা টার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, বাইরে সন্ধ্যা নেমে এসেছে।

এরকম করতে করতে কত সময় যে পার হলো, তা ভেবে আর কোন লাভ ছিলো না। নাছোড়বান্দা এক প্রফেসরের পাল্লায় পড়েছি, যিনি মহাবিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যার সমাধান আমাকে দিয়ে করিয়েই ছাড়বেন। সেই প্রাচীন কালের গুরু-শিষ্য প্রকল্প!

জানিনা, কত সময় পার হলো, তবে আমাকে দিয়ে স্যার ইলেকট্রিসিটির জটিল অংকটা সল্ভড করিয়েই ছেড়েছিলেন। সব শেষ হওয়ার পর বিধ্বস্ত আমার মধ্যে, অসম্ভব একটা কনফিডেন্স সৃষ্টি হলো; ভাবলাম, ‘আরে, আমি তো শুরুতেই হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম যে আমাকে দিয়ে হবে না; এদিকে গুরু তো আমাকে দিয়েই কাজটা করিয়ে নিলেন! তার মানে আমার অন্তর্নিহিত শক্তি সম্পর্কে জ্ঞানী অধ্যাপক অবহিত ছিলেন। আর সেটাই আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন! আমার ভিতরেই সুপ্ত আরো একজন রয়েছে!’

পরীক্ষা শেষ করে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল ভবনের বাইরে বেরিয়ে এলাম, তখন রাত অনেক, আসমান থেকে ঝরে ঝরে পড়ছে শুভ্র তুষার! শীতের কালো মেঘে ঢাকা আকাশটা নিকষ অন্ধকার। শুধু পথে জ্বলে থাকা সোডিয়ামের বিজলী বাতিগুলো, বিজ্ঞানের জয়যাত্রা ঘোষণা করে যাচ্ছে! বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা এইসব যাদুকরী অধ্যাপকরাই পৃথিবীটাকে এতটা উজ্জ্বল করেছেন।

থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোন ট্যাক্সি পাওয়া মুশকিল। সবাই যার যার বাড়ীতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আছেন উৎসব পালনের অপেক্ষায়। রাত বারোটা বাজার ঘন্টা পড়লেই, আনন্দে ফেটে পড়বেন তারা। আমি একটি ট্রলিবাসে চেপে, ডরমিটরিতে পৌঁছলাম। ঐ বাসে পেশাগত কর্তব্য পালনরত ঐ ড্রাইভার ছাড়া, আমার মত আরো গুটিকয়েক প্রাণী ছিলো, জানিনা তারা কেন এত রাতে পথে আছে?! এভরি ওয়ান হ্যাজ হিজ অর হার ওউন স্টোরি।

ডরমিটরিতে পৌঁছে দেখলাম, সবাই ফিটফাট। সুন্দর পোশাক-আশাক পড়ে রাত বারোটা বাজার অপেক্ষা করছে। ওদিকে নিচে হলরুম থেকে ভেসে আসছে উচ্চকন্ঠ মিউজিকের আওয়াজ। রাত বারোটা বাজার আগেই সেখানে অনুষ্ঠান শুরু হবে। নাচতে নাচতে সবাই বিদায় জানাবে পুরাতন বৎসরকে ও নাচতে নাচতেই স্বাগত জানাবে নতুন বর্ষকে।

করিডোরে দেখলাম যে, অনেক তরুনীই সংক্ষিপ্ত ঝলমলে পোশাকে ছুটোছুটি করছে। এই দেশে এইটাই রীতি। অনুষ্ঠান মানেই পুরুষদের পুরো শরীর ঢাকা বাহারী স্যুট-বুট পড়া। আর নারীদের শরীর প্রদর্শন করা সংক্ষিপ্ত পোশাক পড়া। ছুটোছুটি করা মেয়েদের মাঝে আমি ইন্না-কে দেখতে পেলাম না। স্ভেতা বা তানিয়াকেও দেখলাম না। ওদের রুমে গেলে হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু আমার আর সেটা ইচ্ছা হলো না। আমার মধ্যে তখন ছিলো কিছু অবসাদ। সারাদিন একটা কঠিন পরীক্ষা যাওয়ার একটা ধকল ছিলো একদিক থেকে, আরেকদিক থেকে ছিলো সেমিস্টার সফলভাবে শেষ করার আনন্দ।


টেলিভিশন ছেড়ে দিয়ে একা একাই অপেক্ষা করতে থাকলাম, কখন বারোটা বেজে নিউ ইয়ার আসে। এখানে অবশ্য একটা বিষয় ছিলো। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরেও, আমরা বিদেশীরা কিন্তু খোদ ইউক্রেনে বসেও টেলিভিশনে মূলত দেখতাম মস্কোর চ্যানেল। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ নিয়ে আমাদের খুব একটা আগ্রহ ছিলো না। আসলে খারকোভে বসবাসরত বেশীর ভাগ নাগরিকেরই ছিলো ঐ মনোভাব, মানে মস্কোমুখীনতা। তাছাড়া ইউক্রেনিয় টিভি চ্যানেলগুলোতে ব্রডকাস্টিং হতো ইউক্রেনীয় ভাষায়, যেই ভাষাটা আমি বুঝলেও কমফোর্ট ফীল করতাম না। খারকোভ শহরের টিভি চ্যানেলগুলার প্রচারণাও ছিলো, রুশ ভাষায়। খারকোভ মূলত একটি রুসিফাইড সিটি ছিলো।

মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিলো এক ঘন্টা। মানে মস্কোতে যখন রাত বারোটা, কিয়েভে তখন রাত এগারোটা। সেই হিসাবে, ঐতিহাসিক মস্কোর ঘন্টায় যখন রাত বারোটার ধ্বনি শোনা যাবে, কিয়েভে তখনো চলবে পুরাতন বৎসর, এবং নতুন বৎসরটি পাওয়ার জন্য ইউক্রেইনবাসীকে আরো একটি ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, আমাদের ডরমিটরির ছাত্রছাত্রীরা, কোন হিসাবে নিউ ইয়ার বরণ করবে, মাস্কোর সময়ে নাকি কিয়েভের সময়ে? পরিস্থিতিতে যা বুঝলাম যে, কিয়েভ সময়েই নিউ ইয়ার বরণ করা হবে, ঐ সময়টাই তো খারকোভবাসীরা মানে।

কিছুক্ষণ পরে মস্কোর ওআরটি টিভি চ্যানেলের পর্দায় রুশ রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলৎসিন-কে দেখা গেলো। একটি জ্বলজ্বলে পানপাত্র হাতে তিনি বসে আছেন। যার ভিতরে দুলছে শিরিন শরাব। ক্রেমলিনের ঐতিহাসিক বিশালাকৃতির ঘন্টায় যখন ঠিক রাত বারোটা বাজলো, জনাব রাষ্ট্রপতি রঙিন পানপাত্রটি তুলে সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে, এক চুমুক শরাব পান করে নিউ ইয়ার-কে বরণ করলেন। আমি জানালার বাইরে দুই-একটা পটকা ফাটার আওয়াজ পেলাম! বুঝলাম এটা রুশী জাতীয়তাবাদীদের কাজ, তারা মস্কো টাইমে নিউ-ইয়ার পালন করছে!

এরপর আমি আমার রুম থেকে বেরিয়ে নিচে হলরুমে গেলাম, সেটা একটা কমনরুম প্লাস রিডিংরুম। তবে আজ রাতের জন্য সেটা নাচঘর। ভিতরে ঢুকে দেখলাম সেটা গিজগিজ করছে। আমাদের ডরমিটরীর ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও, আরো কিছু গেস্টও আছে। এদের মধ্যে কিছু ইয়াং পুরুষদেরকে দেখলাম, যারা মূলত মেয়েধরা। মানে হলো এই রাত-টা নতুন মেয়ে পটানোর ও শয্যাসঙ্গিনী করার জন্য মোক্ষম। কারণ কিছু মেয়ে ওভাবে মাইন্স সেটআপ হয়েই থাকে, আর কিছু মেয়ে শরাব পিয়ে অর্ধবেহুশ হয়ে থাকবে, তখন তাদেরকে বুকে টেনে নেয়া সহজ!

এখানকার বড় শহরগুলোতে বাইরের ছোট ছোট শহর ও গ্রামগুলো থেকে তরুণী মেয়েরা বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। এদের কেউ কেউ থাকে সভ্রান্ত পরিবারের। তা সেটা তাদের চলাফেরা দেখলেই বোঝা যায়, তারা যথেষ্ট ব্যাক্তিত্ব নিয়ে চলে। কিন্তু অনেকেই আসে সাধারণ পরিবার থেকে, তার তুলনামূলকভাবে দরিদ্র ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে থাকে। এদের মধ্য থেকে কেউ কেউ থাকে ঢিলা চরিত্রের। আবার কেউ কেউ থাকে উচ্চাভিলাষী, মানে তাদের ভাবনা হলো, ‘আমার জন্ম যেহেতু সাধারণ পরিবারে, তাই আমাকে সমাজের উঁচুতলায় উঠতেই হবে’, এই টাইপ মনোভাব। এই উভয় গ্রুপই চারিত্রিক স্খলনে পড়ে। মানে সুযোগ বুঝেই এই-সেই পুরুষের সাথে শুয়ে পড়ে। এর সাথে প্রেম-ভালোবাসার কোন সম্পর্ক নেই, যেটা আছে সেটা বস্তুগত স্বার্থচিন্তা, ম্যাটেরিয়াল কিছু প্রাপ্তির লক্ষ্যে। এরা লোভাতুর পুরুষদেরকে সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহার করে উপরে উঠতে চায়। পাঠকরা যদি আমার কথা শুনে অবাক হয়ে থাকতে পারেন যে, পুঁজিবাদী সমাজে না হয় এটা রয়েছে; কিন্তু কম্যুনিস্ট সমাজেও কি এমনটা ছিলো? উত্তরে বলছি, জ্বী ছিলো। এই নিয়ে তাদের দেশে অনেক নাটক সিনেমাও হয়েছে, যার মধ্যে বিখ্যাত একটি সিনেমার নাম, ‘মস্কভা স্লেজাম নি ভেরিত’ মানে ‘মস্কো ডাজ নট বিলিভ ইন টিয়ারস’।

যাহোক, সেদিনের ঐ নাচঘরে অনেক তরুনীই ছিলো। তবে তাদের সবার দিকে আমার চোখ ছিলো না। আমি না চাইলেও আমার চোখ ইন্নাকে খুঁজছিলো। আধুনিক সাউন্ডবক্সে উচ্চকন্ঠ মিউজিকের সাথে সাথে চলছিলো উদ্দাম নৃত্য। কেউ একা একাই চিংড়ির মত লাফালাফি করছিলো, আবার কেউ বা দল বেধে। মাঝে মাঝে স্লো মিউজিক হলে যুগল নাচ হচ্ছিলো। নারী ও পুরুষ দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে হারিয়ে যাচ্ছিলো রোমান্সের ভুবনে! ইন্নাকে কোথাও দেখছিলাম না। হঠাৎ আমার কানের কাছে সুরেলা কন্ঠে কেউ যেন বলে উঠলো, “এসেছ?” আমি চকিত হয়ে তাকিয়ে দেখলাম যে, এটা তানিয়া।

আমি: ওহ! তোমরা এসেছে?
তানিয়া: হ্যা, এইমাত্রই আসলাম।
আমি: ভালো।
ইন্নার কথা আর কিছু ওকে জিজ্ঞাসা করলাম না। কয়েক মিনিট পরেই দেখলাম যে, ইন্না নাচঘরে প্রবেশ করলো অপরূপ সাজে। বাহ্‌ মেয়েটিকে তো আজ আরো রূপসী লাগছে! এ যেন পাহাড়ী ঝর্ণার মত রূপ ঝরে ঝরে পড়ছে! কিন্তু পর মুহূর্তেই আমার খুশি মিলিয়ে গেলো যখন দেখলাম ওর হাত ধরে আছে ভিতালিক। আমারই ক্লাসমেইট এই ছেলেটাকে দেখলে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়! ভীষণ আনপ্লিজেন্ট আর এক নম্বরের বেয়াদব! ইন্না ওর হাতে ধরা কেন? আর বেয়াদবটার হাতে ধরা ইন্নার মুখেই বা এত মিষ্টি হাসি কেন?!

(চলবে)

গল্পের রচনাতারিখ: ২৯শে সেপ্টেম্বর (বৃহষ্পতিবার), ২০২২ সাল
রচনাসময়: সন্ধ্যা ০৬টা ৫৯মিনিট

Some Stories Cannot be Written – 1
————————————– Ramit Azad

পূর্বের পর্বের লিংক:

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.