Categories
অনলাইন প্রকাশনা

একজন নির্লিপ্ত পুরুষ ও একটি অধীর মেয়ে

একজন নির্লিপ্ত পুরুষ ও একটি অধীর মেয়ে
———————————————- রমিত আজাদ

তানপুরাটির ছয়টি তারে সাতটি সুরের কেমন মেলা!
এই জীবনেও এমনতরো জটিল-কঠিন চলছে খেলা!
ঐ যে সেদিন ঐ মেয়েটি বাসলো ভালো হঠাৎ করেই,
বিবাহিত পুরুষকে এক, রীতিমত যে সংসারী!

মেয়েটিতো কম বয়সের, সদ্য ফোটা গোলাপ সে যে!
পাপড়ি মেলে দিচ্ছে ধরা, আকাশ ঝরা রোদের কাছে।
এই তো সেদিন পুতুল খেলে ভাঙতো মাটি খেলনাগুলার।
এখন সে তার আঁচল টেনে লুকিয়ে রাখে লাবণ্য তার।

মেয়েটি কি জানতো ভুলেও এমনতরো ঘটবে আহা?
টুপ করে তার হৃদয় মাঝে ডুব দেবে ঐ শাহেনশাহা!
শাহেনশাহ্‌ না হতচ্ছাড়া! কি আছে ওর গল্প-কথায়?
বয়স যে তার অনেক হলো, তাও মজালো অল্প কথায়!

মেয়েটি নয় একটু অসৎ, যায়নি কোন গোল বাধাতে;
জোর করে সে মন বাধেনি, চায়নি তাহার মন রাঙাতে।
ছিলো না তার একটুখানি, মন্দ কোন লক্ষ্য বিলাস,
কষেনি সে অংক কোন, মিটাতে তার হীন্‌ অভিলাষ!

অজান্তে সে বাসলো ভালো বিবাহিত একটি পুরুষ,
একান্তে তার অশ্রুজলে, মুক্ত আঁখি রইলো বেহুশ!
কার কাছে যে পড়বে বাধা, কার মন যে কেমন করে?
কার নয়নে লাগবে ভালো কোন মানুষে চুপটি করে!

আছে কোন যুক্তি-লজিক ভালোবাসার এই আবেগের?
থাকলেও তা সুক্ষ এত, সাধ্যি বোঝার কোন মানুষের?
তোমরা শুধু বকতে জানো, বলতে পারো, “বুদ্ধু কেন!”
দরদ মাখা হাত বাড়িয়ে, দিতে পারো বুদ্ধি কোন?

মেয়েটি তো জানায়নি তার ভালোবাসার কথা তারে,
নিজের মনেই গুমরে মরে, কাঁদলো শুধু ব্যাথার ভারে!
তবুও সে পুরুষটি আজ জেনেছে তার মনের কথা,
ভাববে কি সে? পাতক মেয়ে? বেশর্মিলা বুনোলতা?

স্বর্ণলতার কি দোষ বলো? কোমল যে তার মন-অবয়ব!
তাই তো সে যে লুটিয়ে পড়ে, তৃষ্ণাতুরা অবুঝ পতগ।
গৃহী পুরুষ, বয়স হলো; তাছাড়া তার মন টানেনা পথে;
বালিকা তা ঠিকই জানে, গৃহের স্বপন বৃথাই তাহার সাথে।

এখন মেয়ে করবে কি যে? এমন করেই কাটিয়ে দেবে বেলা?
জীবন নিয়ে খেলবে সে এক ব্যার্থ পথিক, অর্থহীনা ছিনিমিনি খেলা?
উপেক্ষিতা থেকে থেকে, ব্যাকুলতায় ভেসেই যাবে যেন!

মায়ার জালেই বাধলে যদি, এত রুপের পৃথিবীটা, এতই নিঠুর কেন?

রচনাতারিখ: ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ০১ মিনিট

An Aged Man and a Young Girl
—————————————— Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.