কবিতা ধুসর হয়নি

কবিতা ধুসর হয়নি
————————— রমিত আজাদ

শিশির ভেজা ভোর ছাপিয়ে সকাল যখন দশটা,
তার কলেতেই ঘুম ভেঙেছে দেখে ফোনের পৃষ্ঠা!
এক এক নয়, দুই দুই নয়, দশ দশটি বছর,
দশ বরষা, দশ গ্রীস্ম, আস্ত একটি দশক!

এক রিংটোন করায় মনে কত রঙের স্মৃতি,
রৌদ্র মুখর প্রখর দিবস, নিদ্রাবিহীন তিথি।
টইটুম্বুর প্রেমে ভরা এক বরষার ধারা,
আকুল প্লাবন কানায় কানায় তৃষ্ণা তিথি হারা!

উঁকিঝুঁকি গোলাপ কুঁড়ি শেষমেশ তো বললে,
তৃষ্ণা তোমার রঙ গোধুলী; প্রেমের ঝড়ে ঝরলে।
মন হারানো, মন ভোলানো প্রেম কাহিনীর শুরু,
শেষটা ছিলো এলোমেলো, কেমন উড়ু উড়ু!!!

উনিশবর্ষী বন-কামিনী সৌরভীত বল্লরী!
রেশমী অলক, চন্দ্র-অধর, রূপ ললিত ফুল্লরী!
মঞ্জরী তার চিত্রল ছল, দৃষ্টিপাতে শুদ্ধতা,
কথার লয়ে সুর লহরী, ঐকতানের মুগ্ধতা!

নিরিবিলি ভালোবাসায় ছিলাম মেতে ভুলেই রীতি,
নিজের মনেই প্রশ্ন শুধাই, প্রেমে কি আর আছে নীতি?
প্রেমের মাঠে কোন সে বিধান? কোনটা সেথায় অনিয়ম?
কিসের সম? অসম তায়? আবেগ যখন পাহাড় সম!

আমায় দিলে পূর্ণিমা চাঁদ, পূর্ণ তিথির শর্বরী,
পুষ্প মুকুল সুবাস দিলে, বিলিয়ে দিলে বল্লরী।
আগলে রাখা বাগান তোমার বিলিয়ে দিলে অকাতরে,
বাগান ভরা ফুলের পরাগ, মাখতে দিলে পরাণ ভরে।

তোমার ছিলো দুইটি যে নাম, ভালো নাম আর ডাকনাম,
আমার থেকে নাম দেইনি, ঐ দুটোতেই মন ভরালাম।
চুপি চুপি অভিসারে তোমার আমার দেখা হতো,
রূপক দীঘির জলে ভিজেই কাটতো বেলা অবিরত!

বেলকুনিতে টব ছিলো তার, ম্যাজেন্টা রঙ ফুল এস্টার,
আফসোসে তার মন ভেঙেছে, যাচ্ছে মরে ফুলের ঝার!
শান্তনা তায় দিতাম আমি, এই তো কেবল বাগান শুরু,
আস্তে ধীরে সব হবে তায়, তুমিই হবে বাগান গুরু!

ভেবেছিলাম ঘুরবো মোরা রাজধানীটার পথ দাপিয়ে,
গ্রামান্তরের ক্ষেত পেরুবো, কাশের ফুলের পদ ছাপিয়ে।
সেই ঘোরা আর হয়নি তেমন, রিক্সায় হুড ঝাঁপ নামিয়ে,
শহর কিবা গ্রামান্তরে যাই নি মোরা পথ হারিয়ে!

একবার শুধু সিএনজি-তে কিছুটা পথ এগিয়ে যাওয়া,
হাতের উপর হাত রেখেছি, পায়ের সাথে পায়ের ছোঁয়া!
সেদিন প্রেমের সুরভীতে উঠলো ভরে ঢাকার শহর,
প্রেমহীন এই নগরবাসীর মন মেতেছে প্রেমের বহর!

একদিন তায় বলেছিলাম, “পড়বে শাড়ী আমার তরে?”
মন রেখে সে পড়লো শাড়ী, ছাইরঙা তাঁত নকশী পাড়ে।
কেউ যেন তায় জানতে না চাও, অনাবৃত করেছি কি?
রূপকুমারীর কর্ণমূলে প্রেমের স্মারক রেখেছি কি?

শুভ্র ডানার মন বলাকা, বৃষ্টি ভেজা দীঘির জল,
বশীভূত মন রমণী, গাঙের ঢেউয়ে ছলাৎ ছল।
প্রেমের তাপে জ্বললো নারী, মন বীথিকা কাশবনে,
মিষ্টি রোদের বিকেলগুলো জাদুর ছোঁয়ায় ফুলবনে।

টেলিফোনে বলেছিলাম, “প্রতীক্ষাতে ক্ষণ চলে যায়,
আছি যে মন ধৈর্য্য ধরে! আসবে তুমি এই বেলায়?”
বললে তুমি, “সবুর করো, আর কিছুক্ষণ, রাখো ধরে,
তোমার তরেই প্রসাধনী, সাজছি আমি হৃদয় ভরে।”

বলেছিলে লিখতে আমায়, তোমার তরে মন কবিতা,
তখন আমি ছোট্ট কবি, ফুলের কুঁড়ি সদ্য ফোটা।
সেই কুঁড়ি আজ ফুল হয়েছে, বই ছেপেছে কবিতার,
তোমায় নিয়ে অনেক লেখা, মিটিয়ে আশা উষ্ণতার!

এতকাল পর কল দিয়েছ, পাত্ত ডিলিট করোনি,
জানতাম আমি মন বীথিকা, আমায় তুমি ভোলনি।
মিথ্যে নয় সে অনুভূতি, মরুর বুকেও বৃক্ষ জাগে;

আঘাত পাওয়া ঝিনুক মাঝে, অশ্রু-মণির মুক্তো থাকে।

রচনাতারিখ: ৭ই মে, ২০২০ সাল
সময়: বিকাল ০৪টা ০৭ মিনিট

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.