Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কৃষ্ণবিবরি শতরঞ্চ

কৃষ্ণবিবরি শতরঞ্চ
—————————- রমিত আজাদ

ছলনার চৌষট্টি চতুষ্কে গুটি ছোটে নিরন্তর
কখনো আড়াআড়ি, কখনো সোজাসুজি,
প্রয়োজনে আড়াই চাল লম্ফ হয়!
মুখোমুখী দাঁড়িয়ে যায় অশ্বারোহী।
কে কাকে ঠেলে দেবে অপার প্রান্তরে?

সাদার বিপরীতে কালো,
কালোর বিপরিতে সাদা।
সাদা-কালো বর্গেরা আছে পাশাপাশি।
যেমন বিবশি রাত্রির গা চিরে
ছুটে চলে উজ্জ্বল আলোক রশ্মি।

তবে যদি একবার সে দীপ্তি পতিত হয় গুরুভার কৃষ্ণবিবরে,
আলোকের আর ফেরা হবে না কোনকালেও।
এমনকি কালেরাও দিকভ্রান্ত হয় অলুক্ষণে কৃষ্ণ গহ্বরে!

তাহাদের শতরঞ্চ খেলায়,
আমাদের কেউ কেউ দাবার গুটি হয়ে ছোটে
ছলনার চৌষট্টি চতুষ্কে।
আমাদের কেউ কেউ নীরব পুতুল হয়ে থাকে
ছলনার চৌষট্টি চতুষ্কে।

শিশিরে ঘুমের আবেশ ভাসেনা আর,
অশরীরীরা বিষাক্ত নিশ্বাসে বাতাস করেছে ভারী।
তন্দ্রাতুর নৈশ প্রহরীরা অশরীরীদের দেখা পায়না,
কেবলই জোনাকীর নাচ দেখে গাঢ় নিদ্রার ঘোরে।
খট্টাসের ডাক শুনে চমকে ওঠে মাসুম শিশু।
সাইরেন কোন বাঁশরীর সুর নয় উদাসী রাখালের,
কেবল নিষ্প্রদীপ আঁধারের ভয়ার্ত বার্তা!
হয়তো পূর্বাভাস কোন এক আসন্ন দুর্যোগের।

এভাবে উল্কার প্রজ্বলনে প্রার্থনা করে,
অজস্র তারকারূপী বিগতের আত্মারা।
শৃঙ্খলিত অরন্যতটে ছায়াচ্ছন্ন নিস্তদ্ধতায়
তাহাদের চক্রবৎ আবর্তনে আবিষ্কৃত হয়
অতিগুরুভার নীরন্ধ্র বস্তুসত্তা,

গ্যালাক্সির কেন্দ্রিভূত কৃষ্ণ গহ্বরে!

রচনাতারিখ: ৭ই অক্টোবর, ২০২০ সাল
সময়: রাত ০১টা ০৪ মিনিট

The Black Hole Chess
———————- Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.