ঝড়ের পরে – ১

ঝড়ের পরে – ১

আজ কয়েকদিন যাবত বেশ ঢেউ-তরঙ্গ-ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
আমার শুভাকাঙ্খীদের প্রায় সকলেই আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। মানুষকে আমি যতটা না ভালোবাসা দিতে পেরেছি তার চাইতে অনেক বেশী ভালোবাসা মানুষের কাছ থেকে পেয়েছি। আমার শুভাকাঙ্খীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

যারা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তারা অনেকেই চিন্তাগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন!
আমি উনাদেরকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনপূর্বক বলতে চাই যে অত উতলা হওয়ার কিছু নাই।
আমার জীবনে ঝড় বহুবার এসেছে। প্রতিবাদই ঝড়কে মোকাবেলা করেছি। ঝড় শেষে উঠে দাঁড়িয়েছি। তাই ঝড়কে খুব বেশী ভয় পাই না।

এ্যালেক্স হ্যালি রচিত ‘কুইন’ নামক কালজয়ী উপন্যাসটিতে কৃষ্ণাঙ্গ কুইন-এর শ্বেতাঙ্গ পিতা কন্যাকে বলেছিলেন, “যেখানেই যাও, আশা করি খারাপ থাকবে না। কারণ সৃষ্টিকর্তা সবখানেই আছেন।” এই কথার সত্যতা আমি আমার সারা জীবন ধরে দেখেছি।
অচেনা অজানা জায়গায় বিপদগ্রস্ত অবস্থায় সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে অনেক বড় সাহায্য পেয়েছি। সেটা যেমনটা পেয়েছি নিজ দেশে তেমনি হাজার-হাজার মাইল দূরের বিদেশের মাটিতেও।

চেনা মানুষ অচেনা হয়েছে, অচেনা মানুষ অতি চেনা হয়েছে। চেনা মানুষ দূরে ঠেলে দিয়েছে, অচেনা মানুষ কাছে টেনে নিয়েছে পরম ভালোবাসায়।

জীবনে ব্যর্থ প্রেমের কাহিনী যেমন রয়েছে, তেমনি আছে সফল প্রেমের কাহিনী। আছে অপরিনত ও অসম প্রেমের কাহিনীও। আছে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি। ব্যর্থতা, সফলতা, আনন্দ, বিষাদ, আলো, আঁধার, উত্থান, পতন, এই সবকিছু নিয়েই জীবন।

সাহিত্য ও দর্শন চর্চা আমাদের দেশে আরো প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন।

খুব ছোটবেলায় একটা গল্প পড়েছিলাম। গল্পটির নাম ‘ঝড়ের পরে’। যেই গল্পে এগারো-বারো বছরের একটি এতিম ছেলেকে ইচ্ছামত এক্সপ্লয়েট করতো একজন দোকান মালিক। সারাদিন অমানুষিকভাবে খাটাতো তো বটেই আবার মনের জ্বালা মিটিয়ে তাকে গালমন্দ-অপমানও করতো। বাচ্চাটি দুমুঠো ভাতের জন্য সব সহ্য করতো। ভাবতো যে, তার যাওয়ার তো আর কোন জায়গা নেই! একদিন বনের ভিতরে প্রবল ঝড়ের কবলে পড়লো ছেলেটি। তারপর সেই ঝড়ের সাথে লড়াই করে সে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচলো। এরপর তার সাহস বেড়ে গেলো। দোকানে পৌঁছতেই মালিক যেই তাকে অপমান করলো অমনি সেই মালিকের মুখে ঝাঁটা মেরে সে তার চাকরি ছেড়ে চলে গেলো। হতবাক মহাজন জুজুর ভয় দেখিয়ে বললো, “আমার কাছ থেকে চলে গেলে তুই ভাত পাবি কোথায়?” শোষকদের এটা একটা চিরন্তন বুলি! ক্ষুদে ছেলেটি বললো, “ঝড়ের হাত থেকে বেঁচে এসেছি, এখন আর কোন কিছুকেই ভয় পাইনা।” এই গল্পটি আমার মনে সারা জীবনের জন্য স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। বাকি জীবনও আশা করি এই গল্পটি আমার পাথেয় হয়ে থাকবে।

সকলের জন্য একটি মোটিভেশনাল গান শেয়ার করলাম।

ড. রমিত আজাদ
তারিখ: ২৭মে ২০২২ সাল
সময়: দুপুর ০১টা ১৩ মিনিট

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.