Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ঠিকানা স্থায়ী নিবাস

ঠিকানা স্থায়ী নিবাস
—————– রমিত আজাদ

রথের সারথী দেবদূত,
তোমার চারুতা গাঁয়ের হিজল গাছে কি
এখনো ফুল ফোটে?

ঐ ফুলের বন্যার নীচে
সারি সারি শায়িত ছিলো
মহাকালে মিশে যাওয়া দেহগুলো!
কাছিপাড়ার গোরস্থানে দাঁড়িয়ে এক শিশু
অপার বিস্ময় নিয়ে দেখতো নিশ্চল সমাধিরাজি।
ভাবতো, ওরা সবাই মৃত্তিকায় শায়িত কেন?
কেনই বা তাদের রাখা হয়েছে উঁচু পাঁচিল ঘিরে?
অথচ নিষ্প্রাণদের শিয়রে শিয়রে একেকটি মহীরুহে
কত না প্রাণের উচ্ছাস!
কেউ কেউ ভেসে যাচ্ছে ফুলের প্লাবনে!
কেউবা নানা বয়সী পাতার জোয়ারে!
সাইট্রাস তরূদের পুষ্প-সৌরভে
আবিষ্ট হতো সারা গ্রাম!
কেবল কবরগুলোই নির্বাক।

কারো পিতামহ, কারো মাতামহ,
আবার দুয়েকটি অকাল প্রয়াণের
ক্ষুদ্র গোর।
মৃতেরা কথা বলতো না শিশুটির সাথে।
শিশুটি গাঁয়ের উঠানের চারপাশ ঘিরে
খাড়া থাকা চৌচালা দোচালা ঘরগুলোর
সাথে মেলাতে পারতো না ঐ ক্ষুদে নিবাসগুলোকে।
দিনান্তে মেঘের গর্জন,
মাসান্তে দুঃসহ কুজ্ঝটিকা,
অণুটুকুও বিচলিত করতো না মৃতদের।
পাঁচিলের চারপাশে প্রাণ,
পাঁচিলের ভেতরে এক অলৌকিক নিস্তব্ধতা!
শিশুটি ব্যাকুল হয়ে জানতে চাইতো তাদের পরিচয়!
জানতে চাইতো,
কেন তারা আলোর ঘর ছেড়ে ওখানে গেলো।
শিশুটা জানতো না,
একদিন তারও ঠিকানা হবে ঐ আলোহীন ঘর।

——————————————-
তারিখ: ২৪শে ফেব্রুয়ারী, ২০১৯
সময়: দুপুর ৩টা ২৭ মিনিট

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.