Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ডান্ডি কার্ড চেকিং – ১, ২

আইডি কার্ড চেকিং সমাচার:

বাইরে বের হলে সাথে আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট নেয়ার বিড়ম্বনায় বহু বছর ছিলাম রাশিয়াতে।খুবই অস্বস্তিকর ছিলো বিষয়টি। দিনের মধ্যে কয়েকবার পুলিশের মুখোমুখী হতে হতো, আর তারা আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করতো। কিছু পুলিশ ভদ্রসভ্য ছিলো, কিছু ছিলো রাফ! এই নিয়ে বহুবার বহু ভালো/মন্দ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সবগুলো লিখতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে!দুই-একটা লিখছি।১। ওখানকার কার্টেসী হলো যেকোন নাগরিক-কেই পুলিশ প্রথম স্যালুট দিবে তারপর তার আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চাইবে। একবার দুজন পুলিশ (বয়স পচিশ-ত্রিশ) আমাকে আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করার উদ্দেশ্যে থামালো, তারপর স্যালুট দিলো। উত্তরে আমিও স্যালুট দিয়ে তাদের অভিবাদন গ্রহন করলাম। এবার তারা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। একজন মুচকি হেসে আরেকজনকে বললো, “তিনি স্যালুটের উত্তর দিয়েছেন!” আমি হেসে বললাম, “ভাই মিলিটারী স্কুলে লেখাপড়া করেছি, এই কার্টেসী আমার জানা আছে।” এবার তারা হেসে বললো, “থাক, আপনি যান। আর চেক করতে হবে না।”২। ছাত্রাবস্থায় সাথে পাসপোর্ট নিয়ে বের হওয়াটা বাধ্যতামূলক ছিলো। পুলিশ চেক করতো যে, আমরা ভিসা-রেজিস্ট্রেশন পাওয়া লিগাল বিদেশী, নাকি ইল্লিগাল এলিয়েন। আর যখন চাকুরীতে ঢুকলাম, তখন আর পাসপোর্ট সাথে নিতাম না। আমার সাথে সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড ছিলো, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিলো যে, আমি একটি প্রতিনিধিত্বমূলক বিদেশী অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তা। এটাকে পুলিশ ইউজুয়ালী সমীহ করতো। তা একবার এক ঘাড়ত্যাড়া ও অভদ্র টাইপ পুলিশের পাল্লায় পড়লাম। তার র‍্যাঙ্ক ছিলো ক্যাপটেন। সে কিছুতেই এটা মানতে চায় না। বলে, “পাসপোর্ট কই? ভিসা আছে নাকি?” আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। আমিও ঝকঝকে রুশ ভাষায় ত্যাড়া কথাবার্তা বললাম। কিছুক্ষণ গজগজ করে সে চলে গেলো।৩। একদিন উইকএন্ডে বেরিয়েছি। গ্রোসারী করতে যাবো। তা দুই পুলিশ কনস্টেবল, আমার পাসপোর্ট চাইলো। আমি সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড-টি দেখালাম। তারা কতক্ষণ মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে বলে, “এটা বুঝলাম না।”আমি: না বোঝার কি আছে? সব তো লেখাই আছে।পুলিশ: আপনার পাসপোর্ট কোথায়?আমি: পাসপোর্ট বাসায় আছে। সেটা নিয়ে বের হই না। আমাদের ক্ষেত্রে এই আইডি কার্ডই যথেষ্ট!পুলিশ: না ভাই। আপনাকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে। গাড়ীতে ওঠেন।আমি উঠলাম ওদের গাড়ীতে। যাওয়ার পথে ওরা আমার ঝকঝকে রুশ ভাষা শুনে কিছুটা কনফিউজড হলো। যাহোক, থানায় নিয়ে একটা সোফায় বসতে বললো। এ সময় সেই ঘাড়ত্যাড়া ক্যাপ্টেন সেখানে উপস্থিত হলো। কনেস্টেবল দু’জন তাকে বলে, “ক্যাপ্টেন, দেখেন তো, এই যে উনি। উনার কাগজপত্র সব ঠিক আছে কি না?”আমাকে দেখেই ঐ ক্যাপ্টেন চিনতে পারলো; তারপর কোন কথা না বলেই সোজা থানা থেকে বের হয়ে গেলো, আর ফিরে আসার নাম নাই। এর কিছুক্ষণ পর ডিউটি অফিসার এসে বলে, “নেন ভাই আপনার আইডি কার্ড নেন। ছুটির দিন, যোগাযোগ করে কোথাও কাউকে পেলাম না। আশা করি আপনার সব বৈধতা আছে। যেখানে যাচ্ছিলেন যান।”

ডান্ডি কার্ড চেকিং – ২

গতকাল ডান্ডি কার্ড চেকিং-এর উপর একটা লেখা দিয়েছিলাম। আজ আরেকটি দিচ্ছি।

বাইরে বের হলে সাথে আইডি কার্ড অথবা পাসপোর্ট নেয়ার বিড়ম্বনায় বহু বছর ছিলাম পরাশক্তি রাশিয়াতে।
খুবই অস্বস্তিকর ও বিড়ম্বনাময় ছিলো বিষয়টি। দিনের মধ্যে কয়েকবার পুলিশের মুখোমুখী হতে হতো, আর তারা আইডি কার্ড/পাসপোর্ট চেক করতো। কিছু পুলিশ ভদ্রসভ্য ছিলো, কিছু ছিলো রাফ! অনেকেরই মাথায় থাকতো যে কোনভাবে মক্কেল-কে আটকাতে পারলে টু-পাইস ইনকাম হবে! এই নিয়ে বহুবার বহু ভালো/মন্দ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। সবগুলো লিখতে গেলে মহাকাব্য হয়ে যাবে!
গতকাল তিনটা লিখেছিলাম। আজ একটা লিখছি:

ঘটনা ৪: আমি তখন আর ছাত্র জীবনে নাই। ছাত্রাবস্থায় সাথে পাসপোর্ট নিয়ে বের হওয়াটা বাধ্যতামূলক ছিলো। পুলিশ চেক করতো যে, আমরা ভিসা-রেজিস্ট্রেশন পাওয়া লিগাল বিদেশী, নাকি ইল্লিগাল এলিয়েন। আর যখন চাকুরীতে ঢুকলাম, তখন আর পাসপোর্ট সাথে নিতাম না। আমার সাথে সরকার প্রদত্ত আইডি কার্ড ছিলো, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিলো যে, আমি একটি প্রতিনিধিত্বমূলক বিদেশী অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তা। এটাকে রুশ পুলিশ ইউজুয়ালী সমীহ করতো। আমাদেরকে অনেকটা ডিপ্লোম্যাট-দের কাছাকাছিই ধরা হতো। থাকতেও দেয়া হয়েছিলো, ডিপ্লোমেটিক ব্লক-এর এ্যাপার্টমেন্ট-এ।

তা একদিন গিয়েছি অল রাশান এক্সিবিশন সেন্টার-এ। এটা একইসাথে ছিলো বেড়ানো ও কেনাকাটার জায়গা। তাই পুরো রাশিয়ার ছেলেবুড়ো সকলেই এখানে আসতো। সঙ্গত কারণেই পুলিশের আনাগোনা, টহলও ওখানে বেশী ছিলো। তা পুলিশের মধ্যে পুরুষ ও লেডী পুলিশ দুই রকমই ছিলো। অল রাশান এক্সিবিশন সেন্টার-এর একটা বড় ফোয়ারার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছি। এসময়, হঠাৎ ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে দুইজন টহল পুলিশ আমার দিকে এগিয়ে এলো। এদের একজন ছিলো পুরুষ আর অপরজন লেডী পুলিশ। ঘোড়সওয়ার পুরুষ পুলিশটিকে নায়ক ওয়াসীম-এর মত একদম লাগছিলো না। আমাকে তারা বললেন, “আপনার পাসপোর্ট দেখান।” আমি তখন আর পাসপোর্ট ক্যারি করিনা, আমার আইডি কার্ডটা সাথেই ছিলো। আমি তাকিয়ে দেখলাম যে, লেডী পুলিশটি ইয়াং এবং আগুন রূপসী! আমি ডান্ডি কার্ড-টি ঐ রূপসীর হাতে তুলে দিলাম; সাথে একটা ভূবন ভোলানো হাসিও উপহার দিলাম। আমি জানি, যতই ইউনিফর্মধারী হোক না কেন, নারী তো! চতুর্দিকে শেতাঙ্গ পুরুষ দেখে দেখে সে হয়তো ক্লান্ত। এ সময় একজন শ্যামবর্ণ তরুণের মোহনীয় হাসি, তার হৃদয়ে তোলপাড় ঘটাতেও পারে! সেটা ঘটেছিলো কিনা তা সেই রূপসী তরুণী তার ফেশিয়াল এক্সপ্রেশনে আমাকে বুঝতে দেয়নি। তবে আমার অভিজ্ঞ চোখে তার হাতের রঙিন নখরওয়ালা সরু আঙুলগুলোতে কম্পন আমি ঠিকই লক্ষ্য করেছিলাম!

পিছন থেকে একটা দুষ্ট কিশোর বলে উঠলো, “এই মেয়ে, এই মেয়ে, আমার ডকুমেন্ট-টাও চেক করোনা! আমিও চেকড হতে চাই।”

আমার আইডি কার্ডটি হাতে নিয়ে রূপসী পুলিশ এক মিনিট-ও দেখলো না। দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে বললো, “ধন্যবাদ আপনাকে।” সহকর্মী পুরুষ পুলিশটি অস্থির হয়ে উঠলো, “কি কি? সব ঠিক আছে তো?” উঁকি ঝুঁকি দিয়ে কার্ডটি দেখতে চাইলো। এম্নিতেও পাসপোর্ট না দেখে সে অসন্তস্ট ছিলো। হা করে তাকিয়ে আছে পুরুষ পুলিশটি। আগুন রূপসী লেডী পুলিশ-টি কনফিডেন্স নিয়ে তাকে বললো, “ইটস ওকে! এভরিথিং ইজ নর্মাল। নো প্রব্লেম।”

তারপর দ্রুত ঘোড়া ঘুরিয়ে ওখান থেকে চলে গেলো! আমি কিছুক্ষণ তার চলার পথের দিকে তাকিয়ে ছিলাম! আমি তখনও পুরোপুরি কবি হইনি!!!!!

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.