নওরিন এসেছে – পর্ব ৩

নওরিন এসেছে – পর্ব ৩
———————————-রমিত আজাদ

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

যে ঘরটায় আমরা বসলাম সেটা আসলে একটা অফিসকক্ষ। সবার যিনি মুরুব্বী তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাশাপাশি একজন ভালো লেখক। একাধিক বই লিখেছেন বিভিন্ন বিষয়ের উপর। তবে বেশিরভাগই স্মৃতিচারণমূলক। মেধাবী হিসাবে উনার সুনাম ছিলো স্কুল জীবন থেকেই। উনার সাথে কথা বললে অনেক কিছুই শেখা যায়। আমি নিজে যদিও অনেক লেখাপড়া করি, এবং নিজেকে একসময় অনেক জাননেওয়ালা ভাবতাম, কিন্তু এই মুরুব্বীগ্রুপটির সংস্পর্শে এসে বুঝলাম, পৃথিবীতে জানার শেষ নাই। আসলে বয়সের অভিজ্ঞতা বলেও একটা বিষয় থাকে! আমার যে সময়টা দেখা এখনো বাকী আছে, উনারা সেই সময়টা অনেক আগেই পার করেছেন!

পাঁচ ছয়জন মুরুব্বী বসেছেন। তাদের কেউ প্রাক্তন কূটনৈতিক, কেউ প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা, কেউ রিটায়ার্ড আমলা, কেউ বা অধ্যাপক। বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক সারের নিজের বাড়ী এটা। এর একটা তলায় তিনি থাকেন, অন্যান্য তলা গুলো ভাড়া দিয়েছেন। আর নীচের তলার অর্ধেক গ্যারেজ ও বাকী অর্ধেক অফিস হিসাবে ব্যবহার করেন তিনি। এই বয়সেও কিছু সোশাল ওয়ার্ক করেন। দেশের প্রতি টান থেকেই করেন।

অন্যান্য দিনের সাথে আজকের মিটিংয়ের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। আজ সবাই মাস্ক পড়ে এসেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাই একটু দূরে দূরে বসলাম। টার্মটা ‘সামাজিক দূরত্ব’ হবে নাকি ‘শারিরীক দূরত্ব’ হবে সেটা একটা প্রশ্ন বটে! মূল বিষয়টা হলো, একজনার শরীর থেকে আরেকজনার শরীর যেন কিছুটা দূরে থাকে যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে। সেই অর্থে আসলে টার্মটা ‘শারিরীক দূরত্ব’ হলেই যথাযথ হবে। কিন্তু ‘শারিরীক দূরত্ব’ বললে শুনতে অশালীন লাগে বোধহয়!

আমাদের বাংলাদেশীদের আলোচনাগুলো শুরু হয় মামুলিভাবে, তারপর আলাপ জমতে থাকে আলোচনার সবশেষ টপিক হয় রাজনীতি, আর ঐ পর্যায়ে আলোচনা হয়ে ওঠে জমজমাট! মুরুব্বীরা ওভাবেই আলোচনা শুরু করলেন। কার কি অবস্থা, কেমন হলো এই করোনাময় ঈদ, কার পরিবার কেমন আছে, আশেপাশের অবস্থা কি, সামনে কি দিন আসতে পারে, ইত্যাদি। যেই টপিক আসলো সামনে সামনে কি দিন আসতে পারে, অনেকেরই মুখ অন্ধকার হয়ে এলো। অধ্যাপক স্যার বললেন, আমি তো রিটায়ার করেছি অনেক আগে, সম্পদ বলতে নিজের দুইটা ফ্ল্যাট, একটায় আমি পরিবার নিয়ে থাকি, আরেকটা ভাড়া দিয়েছি; আর একটা সদ্য প্রতিষ্ঠিত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্ট টাইম শিক্ষকতা করি। এখন নতুন ঐ বিশ্ববিদ্যালয় আর বেতন দিতে পারছে না। তবে তাদের অনলাইন ক্লাস চলছে। এদিকে আমার ভাড়াটিয়াও নোটিশ দিয়ে দিয়েছে যে, তিনি আর ভাড়া থাকবেন না। এখন তো আমার শ্যাম কূল দুই-ই গেলো। ইনকামের দুটা উৎসই তো বন্ধ হয়ে গেলো! উনার কথা শুনে সবার মুখই অন্ধকার হয়ে গেলো। একজন বললেন, আজকাল রাস্তায় বের হলেই দেখা যায়, ট্রাক ভরে মালামাল নিয়ে ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে নিম্ন-মধ্যবিত্তরা। ১ম জন বললেন: হ্যাঁ, এরপর ঢেউটা আসবে মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের মধ্যে।
২য় জন: আপনাদের কি মনে হয়। এই সংকট কি দেশ মোকাবেলা করতে পারবে?
৩য় জন: কি জানি! পরিস্থিতি তো ভয়াবহ! তাছাড়া কেউ লক-ডাউনও মানছে না! আরে বাঙ্গালী না???
এই পর্যায়ে আমি ইন্টারফেয়ার করলাম।
আমি: স্যার। এভাবে বলা ঠিক না! ফেইসবুকেও দেখি জাত তুলে গালি দিতে পারলে সবাই খুশী হয়। অথচ আমি ইন্টারনেট ঘেটে পত্র-পত্রিকা ঘেটে পড়ে দেখেছি। লক-ডাউন অমান্য করার ঘটনা সব দেশেই ঘটেছে! বাঁচার জন্য শহর থেকে দলে দলে লোক গ্রামে পালিয়ে গিয়েছে এমন ঘটনাও ঘটেছে চীন থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত। গরীব দেশগুলোতে মানুষ পেটের দায়ে বাইরে না বেরিয়ে পারে না! অর্থনীতিবিদ ড. অভিজিৎ-তো ঠিকই বলেছেন, ‘খেতে দিন। সবাই লক-ডাউন মানবে।’
এরপর মুরুব্বীরা চুপ মেরে গেলেন, কেউ ঠিক বুঝতে পারছে না; এই পরিস্থতিতে কি করণীয়!

গুমোট পরিবেশটা হালকা করতে একজন আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আরে তুমি তো দেখছি দাঁড়ি রেখে ফেলেছ!”
আরেকজন বললেন, “ইচ্ছে করে কি আর রেখেছে? করোনার মধ্যে সেলু-টেলুন তো সব বন্ধ!” সবাই হেসে উঠলেন।
আমার মনে পড়লো আমার এক ভাগ্নের কথা। ব্রিলিয়ান্ট ভাগ্নেটি ইউনিভার্সিটির এ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর। ওকে হঠাৎ একদিন দেখি মুখভর্তি দাঁড়ি। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালে ও বললো, “দাঁড়ি রাইখা ফালাইছি মামা।”
আমি: কেন?
ভাগ্নে: এমবিএ ক্লাসে পড়াই মামা। অনেক বয়ষ্ক স্টুডেন্ট আছে। আমারে ইয়াং দেইখা পাত্তা দেয়না! তাই বাধ্য হয়ে রাখলাম দাঁড়ি, যাতে একটু ভারিক্কী লাগে।

আমাদের আলাপের মধ্যে ২য় জন একটা ফোন কল পেলেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। উনার মেয়ের ফোন, “বাবা তুমি কোথায়?”
আপনজনের সুস্বাস্থ্য নিয়ে সবাই শংকিত!

১ম জন: কি ব্যাপার?
২য় জন: দেখেন তো! আমি বাইরে বেরিয়েছি, আমার ছেলে অস্ট্রেলিয়া-তে তার বোনকে ফোন করে বলে দিয়েছে। মেয়ে ভয় পেয়ে ফোন করেছে আমি কোথায় গেলাম, বাইরে বেরিয়ে আবার না করোনা আক্রান্ত হয়ে যাই! যাহোক আমি ওকে বুঝিয়ে বলেছি যে, আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে বসেছি।

৪র্থ জন: শুনেছেন নাকি, শালুম গ্রুপের দুই ভাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে বড় ভাইটা মারা গেছে?
১ম জন: প্রচুর টাকার মালিক! সোজা পথে তো আর এত এত টাকার মালিক হয় নাই! তাদেরই তো দায়িত্ব ছিলো যে, বাংলাদেশে ভালো একটা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। অথচ সময় থাকতে তারা তা করেনি! আজ এক ভেন্টিলেটর দিয়ে দুই মিলিয়নিয়ার-কে নিশ্বাস নিতে হলো!
৩য় জন: কথায় কথায় সিঙ্গাপুর দৌড়ানো এখন বন্ধ! এখন হয়তো তারা বুঝবে যে, নিজ দেশে ভালো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা কতটাই জরুরী।

কিছুক্ষণ পর শুরু হলো নিউ জেনারেশন-এর বেপোরোয়া জীবন যাপন সম্পর্কে আলাপ।
১ম জন: ঐদিন শুনলাম একটা ঘটনা। আরে এক ছেলে ঢাকায় কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো। এই করোনার ছুটিতে গ্রামে নিজ বাড়িতে গেলো। ওখানে বাপ-মা তার বিয়ে ঠিক করেছে। ছেলেও রাজী। হঠাৎ ঢাকা থেকে এক মেয়ে গিয়ে উপস্থিত। মেয়ে দাবী করলো যে, সেই-ই ছেলেটির বৌ। সবাই অবাক, মানে কি? মেয়েটা প্রমাণ করলো যে ঢাকাতে গত দুই বছর যাবৎ তারা একই ফ্লাটে থেকে ঘর-সংসার করছে; তাহলে বৌ হওয়ার আর বাকী আছে কি?
অতঃপর কি আর করা তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়া হলো।
মুরুব্বীরা সব হায় হায় করে উঠলেন। এ কি অবস্থা? পাশ্চাত্য সমাজ শুরু হয়ে গেলো নাকি? রীতিমত লীভ টুগেদার শুরু হয়ে গিয়েছে!
আমি আমার ভারতীয় বন্ধুদের কাছ থেকে শুনেছি যে ওখানে বহু আগে থেকেই ‘লীভ টুগেদার’ চলছে।
কিছু পুরুষ মানুষ যখন একত্রে হয়, তখন কোন এক সময়ে এইসব রসালো আলাপ শুরু হয়ে যায়! তা সে তারা যেই বয়সেরই হোক না কেন!
আলাপ যে ভাবে শুরু হলো, আমি এখন চিন্তায় পড়ে গেলাম; আজ নওরিনের সাথে দেখাটা কি হবে?
আমাকে বারবার ঘড়ির দিকে তাকাতে দেখে একজন জিজ্ঞাসা করলেন, “কি ব্যাপার উসখুশ করছো যে?”
আমি বললাম, “জ্বী অনেকক্ষণ হয়ে গেলো।”
১ম জন: তাইতো। কথায় কথায় কত সময় পেরিয়ে গেল! আমরা তাহলে আজ শেষ করি।
একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম। তখনও সন্ধ্যা হয় নি।

উনাদের থেকে একটু দূরে গিয়ে। আমি মোবাইলটা হাতে নিলাম। নওরিনের নাম্বারে দু’বার রিং হতে ও ধরলো।
আমি: নওরিন।
নওরিন: জ্বী।
আমি: (দুরু দুরু বুকে) আমার মিটিংটা মাত্র শেষ হলো। তুমি কি আসবে? আমি কি তোমার বাসার দিকে রওয়ানা হবো। (আমার মনে ভয় হচ্ছিলো। নওরিন না বলবে। হয়তো বলবে, ‘অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে, আজ থাক।’ এতগুলো মাস পড়ে একটা সাক্ষাৎ ঠিক করলাম, সেটা কি বাতিল হবে?!)
নওরিন: আপনি এখন কোথায় আছেন?
আমি: (জায়গাটার নাম বললাম) তোমার বাসায় আসতে বড় জোড় পনেরো মিনিট সময় লাগবে! (আমার কন্ঠে আকুতি ছিলো)
নওরিন: আসুন। আমি আছি।
আমি: তুমি তৈরী থেকো তাহলে। (আমার মনটা নেচে উঠলো)
নওরিন: জ্বী, আমি তৈরী থাকবো।
আমি: আরেকবার তোমার বাসার নাম্বার, আর রোড নাম্বারটা বলো তো।
নওরিন তার বাসার নাম্বার, আর রোড নাম্বারটা বললো।

আমি দ্রুত হাটতে শুরু করলাম। মেইন রোডে গিয়ে একটা রিকশা নিতে হবে।

ফাঁকা ফুটপাত দিয়ে হাটতে হাটতে হঠাৎ একজন মানুষ আমাকে অতিক্রম করলো। আমি দু’কদম গিয়েই চমক খেলাম! আরে চেনা মানুষ তো!
আমি: এই মঈজ ভাই?
তিনি ঘুরে তাকালেন।
আমি: আরে মঈজ ভাই-ই তো। আপনি আমাকে দেখেননি?
মঈজ ভাই: দেখেছি। চিনেছি।
আমি: তাহলে ডাকলেন না কেন?
মঈজ ভাই: না মানে ভাবলাম তুমি ব্যাস্ত কিনা!
আমি: ব্যাস্ত হই আর না হই। ভাইয়ের সাথে কি দু’মিনিট কথা বলতে পারবো না!
মঈজ ভাই: তা ঠিক।
আমি: দেখেন তো। কতগুলো বছর পরে দেখা। তারপরেও কথা না বলি কিভাবে! একটু আগে পরে হলেই তো আর দেখা হতো না। (মনে পড়লো যে, কয়েক মাস আগে নওরিনের সাথে ঠিক এভাবেই ইনসিডেন্টালি দেখা হয়েছিলো আনএক্সপেকটেড একটা জায়গায়) বাই দ্যা ওয়ে, এই অবেলায় এই অজায়গায় আপনি কি করেন? আপনার বাসা তো নগরীর শেষ মাথায়? (তারপর ভাবলাম কথাটা জিজ্ঞেস করা ঠিক হয়নি। উনারও যদি আমার মত কারো সাথে দেখা-সাক্ষাতের ধান্দা থাকে তাহলে লজ্জায় পড়ে যাবেন)
মঈজ ভাই: আমার অফিস তো এখানে।
আমি: এই এলাকায় আপনার অফিস? জানতাম না তো! আমি তো এখানে প্রায়ই আসি।
মঈজ ভাই: কোথায় আসো? আজই বা কোথায় এসেছিলে?
আমি: হুম, বলা যাবে না।
তিনি আমার দিকে তাকালেন।
আমি: (রহস্য করে বললাম) একা মানুষ। আমার কি প্রেমিকা-ট্রেমিকা থাকতে পারে না?
তিনি লাজুক হাসলেন।
আমি: নাহ। এখানে কোন প্রেমিকার কাছে আসিনা। একজন মুরুব্বীর বাসায় এসেছিলাম।
মঈজ ভাই: এখন কোথায় যাচ্ছ?
আমি: এখন তো প্রেমিকার কাছেই যাচ্ছি।
বিশাল ধনী ব্যবসায়ী মঈজ ভাই আবারো হাসলেন। এই হাসিটা অবিশ্বাসের। বোধহয় আমার কথা বিশ্বাস করলেন না। না বিশ্বাস করলেই ভালো।
আমি ইচ্ছে করেই হেয়ালীটা করেছি।
আমার একটা সাইকোলজিকাল ক্ষমতা আছে। আমি চাইলে কাউকে আমার প্রয়োজনমত প্রভাবিত করতে পারি। লোকটা সেটা টেরও পাবে না! মঈজ ভাইয়ের মত অত ঝানু ব্যবসায়ীও না।

উনার সাথে এর আগে আমার সর্বশেষ দেখা হয়েছিলো বিদেশে। কি একটা কাজে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, আমিও সেখানে ছিলাম, আমার সেখানে কানেকশন ভালো ছিলো, আমি উনাকে কিছু লোকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। আজ মঈজ ভাইকে মনে হলো, আমার থেকে একটু দূরে দূরে থাকলেন। বোধহয় করোনার ভয়ে! এবার আমি মনে মনে হাসলাম। একটা লোকের জীবনের সব পাওয়াই বোধহয় হয়ে গিয়েছে, পরিবার, অর্থ, সম্পদ, সামাজিক অবস্থান, কিছুই পাওয়া উনার জীবনে আর বাকি নেই; তারপরেও এত মৃত্যুভয়?!

মেইন রোডে উঠে একটা রিকশায় চড়লাম। সোজা রাস্তার শেষ মাথার কাছে গিয়ে একটা চেকপোস্ট দেখলাম। রিকশাওয়ালা বললো, “স্যার, আর মনে হয় যেতে দেবে না। এখানেই নামতে হবে।” করোনার জন্য নগরীর বিভিন্ন জায়গায় এরকম পথ আটকে দেয়া হয়েছে। এতে কি লাভ হয় আমি জানি না। মানুষ তো বাহন থেকে নেমে ঠিকই হেটে ভিতরে ঢুকবে! যাহোক, পথ বেশি বাকি ছিলো না। আমি রিকশা থেকে নেমে হাটতে শুরু করলাম। আরেকটু সামনে গিয়ে আবার নওরিনকে ফোন দিলাম।

আমি: নওরিন, তুমি রেডী?
নওরিন: আপনি এখন কোথায়?
আমি: তোমার বাসার খুব কাছেই, বড় জোড় আর পাঁচ মিনিট লাগবে। তুমি তোমার বিল্ডিংয়ের নীচে নামো।
নওরিন: আচ্ছা আমি নীচে নামছি।

আমি ওদের বিল্ডিয়ের গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার ধারনা ছিলো, নওরিন এতক্ষণে নীচে নেমে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমি সেখানে কাউকে পেলাম না। আমি গেটের কাছাকাছি গিয়ে, নেমপ্লেটে বাসার নাম্বার আর রোড নাম্বারটা মিলালাম। সব ঠিকই আছে। তাহলে ও গেটের সামনে নেই কেন?
আমি ওর মোবাইলে কল করলাম। নওরিন ফোন ধরলো।
আমি: তুমি কোথায়?
নওরিন: আপনি কোথায়?
আমি: আমিতো তোমার বাসার সামনেই দাঁড়ানো।
নওরিন: আপনি দাঁড়ান, আমি নামছি।

এরপর আরো পনেরো মিনিট পেরিয়ে গেলো। কিছু বুঝলাম না। বিশতলা থেকে নামতেও তো এত সময় লাগে না! আর এতো অল্প কয়েকটা তলা!
আমি আবার কল দিলাম। এবার আর ও ফোন ধরলো না। তিন-চার মিনিট পর আমি আবারও কল দিলাম। এবার ও ফোন ধরলো
আমি: তুমি কি নেমেছ?
নওরিন: আমি নামছি (তবে খুব চাপা স্বরে বললো। অনেকটাই ফিসফিসিয়ে বলার মত। ও এরকম করছে কেন বুঝলাম না!)
আমি: ওকে। আমি অপেক্ষা করছি।
আমি আরো পনেরো মিনিট অপেক্ষা করলাম। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে অনেক সময় পার হয়ে গিয়েছে। রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা। এই ফাঁকা নির্জন রাস্তায়, একটা লোক এতক্ষণ কি করছে, অনেকের মনেই এই প্রশ্ন জাগতে পারে। রাস্তায় লোকজন না থাকলেও, এই অভিজাত এলাকায় প্রতিটি বাড়ীতেই একতলায় গ্যারেজে একাধিক লোক দাঁড়িয়ে বসে থাকে। কোন কোন বাড়ীর মেইন গেইট গ্রীলের, ভিতর থেকে বাইরে সবই দেখা যায়। তারা এখন আমাকে দেখে কি ভাববে?
আমি একটু এদিক-ওদিক হাটতে শুরু করলাম। একবার মনে হলো, আমি কি ওকে তৈরী হওয়ার পর্যাপ্ত সময় দিইনি। ও কি মেকআপ করতে সময় নিচ্ছে? আবার ভাবলাম হিজাবী মেয়ে এত কি মেকাপ করবে?
আবার তাকে ফোন কল করলাম। এবার ও ফোন ধরলো না। কিছু সময়ের ব্যবধানে পর পর তিনবার ফোন দিলাম, নওরিন ফোন ধরলো না!!!

(চলবে)

রচনাতারিখ: ০২রা জুলাই, ২০২০ সাল

সময়: রাত ১২টা ৫২ মিনিট

সত্য ভালোবাসাও ছেড়ে যায়!
ছেড়ে যায় নানা কারণে,
ফিরতে চেয়েও পারেনা।
গভীর দুঃখে বেছে নেয় স্বেচ্ছামৃত্যু!

শুধু গাঢ় ঘুম বারবার ভেঙে যায়,
বুকের আকস্মিক বজ্রপাতে!
নিশুতি আঁধারে চারপাশে তাকিয়ে দেখে,
কেউ নেই, কেউ নেই, কেউ নেই!

———————– রমিত আজাদ
০১লা জুলাই, ২০২০ সাল

বন্ধু আমায় আর ডেকোনা তোমার পথের মাঝে!
তোমার কথা ভাবতে গিয়ে কান্না চেপে আসে!
দুইটি হৃদয় দুইটি পথেই থাকনা যেমন আছে,
দরকার কি দুই হৃদয়ের একটি পথে মিশে?

——————————— রমিত আজাদ
০২রা জুলাই, ২০২০ সাল

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.