নওরিন এসেছে – পর্ব ৫ (শেষ পর্ব)

নওরিন এসেছে – পর্ব ৫ (শেষ পর্ব)
———————————-রমিত আজাদ

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

লেকের ওপাশে গিয়ে একটা ক্যাফে খোলা পাওয়া গেলো। দুজনে মিলে উঠে গেলাম দোতলায়। একটা উইনডোতে আইসক্রীম বিক্রি হচ্ছে। এই করোনাকালে কেউ আইসক্রীম খেতে চায় না। তাই ক্রেতাও নেই। ছুটকা দুতিন জন দাঁড়িয়ে আছে। নওরিন বললো, “আমি ক্যাফেটা চিনি এখানে বসার জায়গা আছে।” আমি বললাম, “ভালো হলো, আমরা তো বসার জায়গাই খুঁজছি।”

উইনডোর কাছে গিয়ে আমি বললাম, “কিছু আছে?”
সেলসম্যান: শুধুই আইসক্রীম।
আমি নওরিনের দিকে তাকালাম। ওর চোখের এক্সপ্রেশন দেখে মনে হলো, যা কিছু একটা হলেই চলবে। খাওয়াটা তো উপলক্ষ, আমরা তো এসেছি বসতে।
আমি দোকানীকে বললাম, “ঠিকআছে, নেব আইসক্রীম। আমরা কোথায় বসতে পারি?”
এক জায়গায় তাকিয়ে দেখলাম কিছু চেয়ার টেবিলের উপর তুলে উল্টো করে রাখা আছে। সেলসম্যান বললো, “সরি স্যার, বসা যাবে না। শুধু সেলস আছে, করোনাভীতিতে বসার ব্যবস্থা বন্ধ।”
হায়রে! যা একটু খোলা পেলাম, তাও বসার ব্যবস্থা নাই!?
নিচে নেমে আমরা আবার হাটতে শুরু করলাম। নওরিন-কে বললাম, “নওরিন, আজ বোধহয় আমাদের আর বসার ভাগ্য নেই!”

নওরিন: তাই তো মনে হচ্ছে!
আমি: তুমি না ‘সাউথ পোল’ ক্যাফেতে বসতে চাইলে?
নওরিন: আমি তো আপনাকে তখন দেখালামই ক্যাফেটা, আপনি তো হেটে সামনে চলে গেলেন।
বুঝলাম কম্যুনিকেশন গ্যাপ হয়েছে। ও একটা দালান আমাকে দেখিয়েছিলো, আমি বুঝতে পারিনি। অথবা, ও-ই হয়তো আরো কিছুটা পথ আমার সাথে হাটতে চাইছিলো!

আরেকটু হেটে হাতের ডানে একটা ক্যাফে মত কিছু চোখে পড়লো। দ্রুত ঢুকে গেলাম ভিতরে। বাহ! যা চেয়েছিলাম তেমনই পেলাম। ছোট্ট ছিমছাম ক্যাফে। লোকজন কম। উঁচু পার্টিশন দিয়ে আলাদা আলাদা টেবিল, যেখানে দুই থেকে চারজন বসা যায়। আমরা কর্নারে শেষ টেবিলটা বেছে নিলাম। দু’জন মিলে কাউন্টারে গেলাম। কফি ও স্ন্যাকস-এর অর্ডার দিলাম। টেবিলের উত্তর দিকে আমি বসলাম, দক্ষিণ দিকে বসলো নওরিন। আমি হাসিমুখে গল্প শুরু করলাম, “যাহোক, শেষমেশ বসার জায়গা পেলাম।”
দেখলাম নওরিন রুমাল দিয়ে ঘাড় মুচছে।
আমি বললাম, “কি হলো?”
নওরিন: আমার গরম লাগছে।
আমি: ওহ! সরি। তাহলে তুমি এই দিকটায় বসো। এখানে মাথার উপরে এসি পাবে। আমি টেবিলের ঐদিকে বসি। আমরা দিক পাল্টালাম। এবার আমি সমস্যায় পড়লাম। এতটা পথ হেটে গা ঘামে ভিজে গিয়েছে। এসির বাতাস সরাসরি আমার গায়ে এসে লাগছে। এভাবে আমার ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
আমি: নওরিন। আমার এসির বাতাস সরাসরি সহ্য হয় না। আমিও ওপাশটাতে বসি?
তারপর আমি একটু দূরত্ব রেখে ওর পাশেই বসলাম। এই পর্যায়ে নওরিনের সাথে সামাজিক দূরত্ব রাখা আর হলো না। নওরিন একবার আমার দিকে তাকালো, আবার চোখ নামিয়ে নিলো। তারপর ঝলমল করে হেসে উঠলো।
হঠাৎ ক্যাঁফের সাউন্ডবক্সে গান বেজে উঠলো, “এ জীবন ছিলো, নদীর মতন দিশেহারা গতিহারা, ওগো তোমার আকাশ দুটি চোখে আমি হয়ে গেছি তারা।” আমি নওরিনের দিকে তাকালাম। নওরিনের দৃষ্টি কেঁপে উঠলো।

নওরিন: এত জমজমাট জায়গাটা করোনার ভয়ে কেমন ম্লান হয়ে আছে! আচ্ছা করোনা শেষ হবে কবে?
আমি: ভাইরাসের গ্রোথটা এক্সপোনেনশিয়াল। তোমার কি মনে পড়ে যখন ইন্টার্নশিপ করেছিলে আমি তোমাকে এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ ও তার কার্ভ সম্পর্কে কিছু আইডিয়া দিয়েছিলাম?
নওরিন: হ্যাঁ মনে আছে তো। এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ – যা অল্প সময়েই খুব দ্রুত বাড়ে। কার্ভটা কি ফ্লাট হবে না?
আমি: কিছু মানুষের শরীরে ইমুনিটি বেশি থাকে তারা বেঁচে যাবে। কিছু মানুষ টেকনিক জানে, যেমন শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে ভাইরাস মারা যায়, ডাক্তার বলেছে। ভাইরাল ফ্লু হলে হট শাওয়ার খুব হেল্প করে। তবে সাবধান, আবার বেশি তাপমাত্রায় ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। জ্বালা-যন্ত্রণা কম না!
নওরিন: এই ভাইরাসটা মরবে কিভাবে?
আমি: ভাইরাসের একটা লাইফটাইম আছে সেটা শেষ হয়ে গেলে গ্রোথ কার্ভ ফ্লাট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো যে, ভাইরাস একজনার শরীর থেকে আরেকজনার শরীরে যায়, এভাবে তো চলতেই থাকে।
নওরিন: তাহলে এটা অনন্তকাল থাকবে?
আমি: থিওরেটিকালী তাই। আবার সেই ক্ষেত্রে ভরসা হলো ভ্যাকসিন। যদি বিজ্ঞানীরা করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলেন, তাহলে বাঁচা গেলো!
নওরিন: বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করছে না কেন?
এবার আমি হেসে ফেললাম।
আমি: নওরিন, আবিষ্কারটা এত সহজ নয়। আবিষ্কার কঠিন বলেই জগদীশ চন্দ্র বসুরা স্যার উপাধি পান, ইবনে সিনা, আকশামসউদ্দীন-রা অনন্তকাল বেঁচে থাকেন মানুষের হৃদয়ে।
নওরিন: ইবনে সিনা-কে তো চিনি। আকশামসউদ্দীন কে?
আমি: মুসলিম বিজ্ঞানী। তিনিই প্রথম জীবাণু বা অণুজীব আবিষ্কার করেছিলেন।
নওরিন: আলেকজান্ডার ফ্লেমিংরা কোথায় আজ?
আমি: এই জমানায় ফ্লেমিং আসাটা কঠিন হবে। ঐ যে জনৈকা স্প্যানিশ বিজ্ঞানী বলেছিলেন, “একজন ফুটবল খেলোয়ার বা একজন চিত্রাভিনেতা এক সিজনে বা এক সিনেমায় যে টাকা পায়, একজন বিজ্ঞানী সারাজীবন গবেষণা করেও ঐ টাকা পায়না। তাহলে বিজ্ঞানীরা মাথা খাটাবে কেন, মেধা চর্চায় মানুষ আগ্রহী হবে কেন?
নওরিন: আমার ভয় লাগছে।
আমি: কিসের ভয়?
নওরিন: আমার মেয়েটা আমেরিকায় আছে, আমার প্রাক্তন স্বামীর সাথে। ওর যদি কিছু হয়!
এবার আমার মন খারাপ হয়ে গেলো। কিছুদিন আগে আমেরিকা প্রবাসী আমার এক বন্ধু করোনায় আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু এই কথা বললে তো নওরিন ভয় পেয়ে যাবে।
আমি: আরে নাহ। কিচ্ছু হবে না। ভয় পেয়ো না। সব ঠিক হয়ে যাবে।
নওরিন: আমার স্বামী যে এমন করবে আমি কোনদিনও ভাবিনি! জানেন প্রথম এক বৎসর আমাদের মধ্যে এত ভালো সম্পর্ক ছিলো!
এই আলোচনাটা আমার ভালো লাগে না। আমি লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশে যখনই কোন বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া নারীর সামনে আলাপ শুরু হয়, কেউ না কেউ ইচ্ছে করেই তার বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে আলাপ তোলে। এতে মেয়েটা মনে কষ্ট পেতে শুরু করে!
আমি কথা ঘোরাতে চাইলাম। থাক ওসব কথা, পাস্ট ইজ পাস্ট। আমি চাই তোমার বাকী জীবনটা আনন্দে ভরে উঠুক!
নওরিন আমার দিকে তাকালো!

হঠাৎ করে একজন লোক কাউন্টারের দিকে এগুলো। মাঝ বয়সী লোকটাকে আমার চেনা চেনা মনে হলো। আমি একটু পিঠ সোজা করলাম। নওরিন একপাশে সরে মাথাটা নিচু করে ফেললো। দেখলাম লোকটা আমাকে খেয়াল করেনি। কিছুটা কাছে আসতে মনে হলো তাকে আমি চিনি না।

আমি: লোকটাকে চেনা চেনা মনে হচ্ছিলো।
নওরিন: আমারও।

বুঝলাম নওরিন আজকের সাক্ষাৎটিকে অভিসারের মতই নিচ্ছে। পরিচিত কেউ আমাদের দেখুক তা ও চায় না। এটা আমাদের কালচারের একটা দিক। নারী সে যত বয়ষ্কই হোক না কেন, যত স্মার্টই হোক না কেন, সমাজের ভয়ে কিছুটা জড়তা থেকেই যায়। আজকে যেমন ও বিল্ডিংয়ের সবার চোখ এড়িয়ে বাইরে এসেছিলো। কথিত আছে যে, ঢাকা নগরীর অভিজাত এলাকার ফ্লাট বাড়ীগুলোতে, পাশ্চাত্যের মত কেউ কারো দিকে তাকায় না, কেউ কারো কাজে নাক গলায় না। কিন্তু কথাটা আসলে পুরোপুরি ঠিক নয়। নতুন নতুন যখন এ্যাপার্টমেন্ট কালচার চালু হয়েছিলো, তখন অমনই ছিলো, কারণ কেউ কাউকে চিনতো না। কিন্তু একটা দালানে চেনাজানা হয়ে গেলে আবারো ঐ শুরু হয়ে যায়! জাতীয় চরিত্র খুব সহজে বদলায় না।

নওরিন: আমি কিন্তু গান গাইতে পারি।
আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম।
আমি: তাই? তুমি গানও গাইতে পারো?
নওরিন: পারিতো। ইউনিভার্সিটিতে থাকতে স্টেজে কতবার গেয়েছি।
আমি: কোন ধরনের গান? নজরুল গীতি?
নওরিন: জ্বী, সবই গানই পারি। তবে নজরুল গীতি বেশী গাই।
আমি: নজরুল গীতি আমার ফেভারিট। আমাকে শোনাবে একদিন তোমার গান?
নওরিন আমার দিকে তাকালো। ওর চোখের এই এক্সপ্রেশনটার মানে আমি বুঝি না। কি আছে ঐ এক্সপ্রেশনে? থাক, না বোঝাই থাক। একটা মানুষকে পুরোপুরি জানলে, আর কোন আকর্ষণ থাকে না।
নওরিন: আমার গান শুনতে চান? ঠিক আছে শোনাবো একদিন।

নওরিন: আচ্ছা আমি যখন আপনার অফিসে ইন্টার্নশীপ করতাম তখনকার আমাকে আপনার মনে আছে?
আমি: হুম। মোটামুটি সবই মনে আছে। প্রথম দিন তুমি একটা পিংকা কালারের সালোয়ার-কামিজ পড়ে এসেছিলে।
নওরিন: ও বাব্বা! আপনি জামার রংও মনে রেখেছেন?
আমি: আমার স্মৃতিশক্তি ভালো। তবে একটা খুঁত আছে।
নওরিন: কি খুঁত?
আমি: আমি কোন মেয়ের চুলের দৈর্ঘ্য মনে রাখতে পারিনা। বাই দ্যা ওয়ে, তোমার চুল লম্বা না ছোট? (হিজাবের কারণে চুল দেখা যায় না)
নওরিন: আপনি যখন আমাকে প্রথম দেখেছিলেন, আমার চুলের লেংথ তখন নানান রকম ছিলো, কখনো লম্বা কখনো ছোট। আমি চুল নিয়ে অনেক রকম এক্সপেরিমেন্ট করেছিলাম।
আমি: এখন তোমার চুলের লেংথ কেমন?
নওরিন: মাঝারি লেংথ, বেশি লম্বাও না ছোটও না।

আমাদের কফি ও স্ন্যাকশ শেষ হয়ে এলো। নওরিন ওর ব্যাগে হাত দিলো বিল দেয়ার জন্য। কাজটা একদম ঠিক হবে না। “নওরিন, আমি বিল দিচ্ছি।” বলে আমি ওর হাতটা চেপে ধরলাম। ওর সাথে আমার হাতের স্পর্শ এই প্রথম! নওরিন, আবার আমার দিকে তাকালো।

আমরা দুজন ক্যাফের বাইরে বাইরে বেরিয়ে এলাম।
আমি: নওরিন, থ্যাংকস ফর দিস ইভিনিং! আই হ্যাড এ ভেরী নাইস টাইম।
নওরিন: হুম!
আমি: তোমার যদি আবার কখনো বসতে ইচ্ছে করে। গল্প করতে ইচ্ছে করে, বলো। ডোন্ট হেজিটেট।
নওরিন: ঠিকআছে। আমি ফোন করবো।

তেমন কোন রাত নয়। স্বাভাবিক সময় হলে এখনই শহর জমে উঠতো। আর আজ একেবারে ভুতুরে পরিবেশ! রাস্তায় জনমনুষ্যি নেই। আমি এদিক-ওদিক তাকালাম যদি কোন রিকশা পাই।
কোন রিকশা পেলাম না। এদিকে মৃদু বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
নওরিন বললো, “এখন কোন রিকশা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। হেটেই যেতে হবে। আপনি বরং বাসায় চলে যান, আমি এখান থেকে হেটে আমার বাড়ীতে যেতে পারবো।”
আমি: কি যে বলো? এই পরিস্থিতিতে তোমাকে একা যেতে দিতে পারি? আগে তোমাকে ঘরে পৌঁছে দেই।

হালকা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে দুজনা হেটে চলললাম।

কোলাহল ও দূষণমুক্ত কিন্তু আতংকিত শহরের একটি নির্জন পথ বেয়ে আমরা চলছি, পাশাপাশি দু’জনা। এবারের পথ চলায় আমাদের কারো মুখে কোন কথা নেই। শহর ও পথটা এতটাই নির্জন যে আমাদের পায়ে চলার শব্দ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। এই পথে কয়েকটি কদম গাছ আছে। আমার সুযোগ থাকলে আমি নওরিনকে বৃষ্টিভেজা কিছু তাজা কদমফুল উপহার দিতাম। চলতে চলতে আমার মনে হলো, ওর জন্ম কেন হয়নি অনেকগুলো বছর আগে? অথবা আমার জন্ম কেন হয় নি অনেকগুলো বছর পরে? নাকি এই ভালো? বয়সের এই এতটা ব্যবধানই হয়তো আমাদের মধ্যে সৃষ্টি করছে রোমান্টিকতার অন্য এক মাদকতা!

রচনাতারিখ: ৩রা জুলাই, ২০২০ সাল
সময়: রাত্রী ০১টা ০৪ মিনিট

—————————————————————————————————————————————————————————————————————————————-

কার নয়নের চাউনি
——————————- রমিত আজাদ

কার নয়নের চাউনি আজি দুলিয়ে দিলো মন,
তাইতো হৃদয় আকুল হলো, অধীর সারাক্ষণ!
কান্না হাসি বুকের মাঝে ছলাৎ ছলাৎ ছলে,
এমন মধুর বিধূর কথা কাহার কাছে বলে?

মনের কথা মনেই থাকে বরফ না আর গলে,
সব বেদনা আগুন হয়ে বুকের মাঝে জ্বলে।
ইচ্ছে জাগে তার তরে আজ ঘরছাড়া হই বনে,
ছটফটানি দেখুক আকাশ, ঝড় তুলে ফাল্গুনে।

ফাগুন যদি আগুন না হয় কৃষ্ণচূড়ার রঙে,
কোন পলাশে ফুটবে হাসি মনের বাতায়নে?
দূরের মানুষ কাছের হবে এই তো ভবের খেলা,

পরকে আপন করে নিয়েই অনন্ত পথচলা!

রচনা তারিখ: ০২রা জুলাই, ২০২০ সাল
সময়: রাত ৯টা ১১ মিনিট
(খসড়া রচনা: ২৯শে জুন, ২০২০ সাল)

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.