Categories
অনলাইন প্রকাশনা

না-বলা কথা!

না-বলা কথা!
——————— রমিত আজাদ

কিছু কিছু ঘটনা মনে খুব দাগ কাটে, তারপরেও মনের কথা মনেই রাখতে হয়, কাউকে মুখ ফুটে বলা যায় না! লেখা তো যায়-ই না!!!

যেমন, সদ্য প্রস্ফুটিত ডালিয়া ভালোবেসেছিলো তার চাইতে প্রায় দ্বিগুন বয়সী টগর-কে। একটা দীর্ঘ সময় টগর সেটা বুঝতেই পারেনি। এমনও হতে পারে যে প্রথম দর্শনে প্রেম এটা ছিলো না, ডালিয়া ধীরে ধীরে ভালোবাসতে শুরু করে টগর-কে; অথবা ডালিয়ার মনের অজান্তেই তার হৃদয়ে কিভাবে যেন স্থান করে নেয় টগর; কিংবা হঠাৎ কোন একটা ঘটনার পর ডালিয়া ভালোবেসে ফেলে টগরকে! একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলো তারা। ঘন ঘনই দেখা হতো তাদের। সেতো ঐ প্রতিষ্ঠানের সকলের সাথেই সকলের প্রায়শঃই দেখা হচ্ছে। ডালিয়া অবশ্য দু’একবার এসেছিলো টগরের অফিসরূমে, সে কাজের কথা বলতেই এসেছিলো, টগরও অফিস ডেকোরাম মেনেই কথা বলেছিলো। তবে সেই ক্ষণে দু’একটা গল্প-স্বল্পও হয়েছে। তবে তা মামুলিই ছিলো। তারপর টগর চাকুরীটি বদল করলো। অফিস ক্যাফে-তে টগর কলিগদের বলছিলো, “এই অফিসে আপনাদের সাথে এটাই শেষ দিন।” কোন এক জায়গায় কিছু সময় থাকলে একটা মায়া জন্মেই যায়! তাই কথাটা বলার সময় টগর কিছুটা বিমর্ষ ছিলো। টগরের দুই হাত দূরে দাঁড়িয়ে ছিলো ডালিয়া। ডালিয়ার পাশে ছিলো তার ঘনিষ্ট বান্ধবী চৈতালী। বাকীরা পিছনে ছিলো। চৈতালীর দিকে তাকিয়ে ডালিয়া করুণ স্বরে বললো, “উনার আজ শেষ দিন!” তারপর ডালিয়ার চোখ ফেটে সবেগে অশ্রু বেরিয়ে এলো! ডালিয়া কিছুতেই সংবরণ পারেনি সেই বেদনার ঢল! বান্ধবী চৈতালী বড় বড় চোখে তাকালো ডালিয়ার দিকে, তারপর অনেকটাই ভর্ৎসনা আর বিস্ময়ের স্বরে বললো, “ডালিয়া!!!”

বিস্মিত টগরও কম হয় নি! কি বলবে কিছু বুঝে উঠতে পারছিলো না ! ডালিয়ার দিকে তাকালো সে। ডালিয়া চোখ ভরা জল নিয়ে টগরের দিকে তাকালো। টগর ডালিয়াকে বুঝতে দিতে চাইলো না যে, সে সব বুঝতে পেরেছে। কলিগদের উদ্দেশ্যে আরো কিছু মামুলি কথাবার্তা বললো সে। মনে মনে ভাবছিলো টগর, ‘আমি যে তার মনের কথাটা বুঝতে পেরেছি সেটা যেন ডালিয়া জানতে না পারে!’

কিন্তু ঐ ক্ষুদ্র মুহূর্তটি টগরের মনে আজও কাঁটার মত বিধে আছে!!!

তারিখ: ৪ঠা জানুয়ারী, ২০১৯
সময়: মধ্যরাত ২টা ৫০ মিনিট

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.