নিঃসঙ্গ কার্নেশন (পর্ব ১১)

নিঃসঙ্গ কার্নেশন (পর্ব ১১)
———————————-রমিত আজাদ

কিছুক্ষণ পর দরজায় নক করার শব্দ পেলাম। দরজা খোলার সাথে সাথে ভিক্টর ঢুকলো আনিতার রুমে, পিছনে পিছনে ঢুকলো টিটো।
আনিতা অবাক হয়ে তাকালো, ভিক্টর ও টিটোর দিকে। ঘটনার আকস্মিকতায় ও ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।

ভিক্টর: সরি আনিতা। আমি বেখেয়াল হয়ে গিয়েছিলাম। দোষটা আমারই। তোমার ডিফেন্সের আর বাকি আছে দুইদিন। এক রাতের মধ্যে এতগুলা পৃষ্ঠা কম্পোজ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। এই নাও তোমার পেপারের অরিজিনাল কপি।

কথাগুলো বলে দ্রুত চলে গেলো ভিক্টর।
টিটো: পুরা কান্ডজ্ঞানহীন একটা লোক! ওর এক দেশী ভাই আছে, শহরে এ্যাপার্টমেন্টে থাকে, ডরমিটরিতে ওর নিজের রুম ছেড়ে সেইখানে গিয়ে ছিলো এই কয়েকদিন। এদিকে ওর কাছে আনিতা আপার থিসিস পেপার পড়ে আছে সেটা বেমালুম ভুলে বসে আছে! আমি ঐ এ্যাপার্টমেন্ট থেকে ওকে ধরে আনলাম। তাও ভালো যে বেয়াদব না। আমার সাথে এসে পেপারটা বুঝিয়ে দিয়ে গেলো।
আমি: অনেক ধন্যবাদ ভাই। অনেক বড় উপকার করলেন!
টিটো: আরে না তেমন কিছু না! আমি নিজেই খুব টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম!
আমি: থাকেন ভাই টিটো। আজ আমাদের সাথে লাঞ্চ করেন।
টিটো: আরে বাদ দেন ভাই লাঞ্চ। আগে কাজ সারি আসেন। নাসিম ভাই ওয়েট করছেন, বড় ভালো মানুষ। আজ রাত জেগে এক রাতেই কম্পোজ করে দেবেন বলেছেন। আশা করি কাল সকালেই প্রিন্টেড কপি রেডি হয়ে যাবে।
আনিতা আপা চলেন যাই নাসিম ভাইয়ের রুমে।
আমি: আনিতা আগে একসেট ফটোকপি করো। এক কপি নিজের কাছে রাখতে হবে। এই ভুল আর করোনা।
আনিতা: চোখ মুছতে মুছতে বললো। তোমাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেব টিটো ভাই!
টিটো: আরে ধন্যবাদ দিতে হবে না। চলেন তাড়াতাড়ি চলেন।

আমরা অটো-জেরক্স মেশিনে দ্রুতই ফটোকপি করে নিলাম। তারপর ছুটলাম নাসিম ভাইয়ের রুমে।

নাসিম ভাই: অরিজিনাল-টা ভাবীর কাছে থাকুক। আমি ফটোকপি থেকে কম্পোজ করতে পারবো। ভাবীর হাতের লেখা দেখছি খুবই ঝকঝকে!
নাসিম ভাইয়ের মুখে ভাবী শব্দটা শুনে আনিতা আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসলো। আমি কিছুটা বিব্রত হলাম তবে তখন আর বলার কিছু নাই। আগামী দুটা দিন টেনশনে যাবে।
নাসিম ভাই: আমি প্রয়োজন হলে আজ সারারাত জাগবো, তাও কাজটা শেষ করা চাই। ভাবী কোন চিন্তা করবেন না, উই আর উইথ ইউ।
আনিতা: ধন্যবাদ ভাইয়া।
আমি: আমরা তাহলে যাই। নাসিম ভাইকে আর বিরক্ত না করি।
নাসিম: আরে, কোথায় যান? ভাবীকে নিয়ে আসলেন আর চা না খেয়ে যাবেন?
টিটো: আপনি কম্পিউটার চালু করেন। আমি চা বানিয়ে দিচ্ছি।
নাসিম ভাইয়ের রুমে টিটো-ই আমাদের সবাইকে চা বানিয়ে খাওয়ালো। নাসিম ভাই ততক্ষণে কম্পিউটারে কম্পোজ করা শুরু করে দিয়েছেন।

টিটো নাসিম ভাইয়ের রুমে রয়ে গেলো। আমি আর আনিতা আমার রুমে চলে এলাম।
আমি: আনিতা, চিন্তা করোনা। আশা করি ভালো-ভালাই মতই সব হবে।
আনিতা: তাই হোক।
আমি: তবে তোমাকে একটা কথা বলি। তুমি কি ভেবেছিলে ভিক্টর সব কাজ ঠিকমত করে ও তোমার জন্য থিসিস পেপার প্যাকেট করে রেখে দেবে?
আনিতা: তাই নয় কি? এটা কি ওর করা উচিৎ ছিলো না? দায়িত্ব বলে কি কোন কথা নেই?
আমি: হ্যাঁ আছে। তবে তোমারও বোঝা উচিৎ ছিলো, এই পৃথিবীতে সবাই দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন হয় না। সবাই-ই টিটো আর নাসিম ভাই নন। তাই হিসেব করে একটা ব্যাক-আপ রাখতে হয়। সেই হিসাবে তোমার কাছে থিসিস পেপারের একটা কপি রাখা উচিৎ ছিলো।
আনিতা: আর বকা দিও না প্লিজ! আমার শিক্ষা হয়েছে। আমি এরপর থেকে খুবই সতর্ক থাকবো।
আমি: তোমার পাসপোর্টের ফটোকপি আছে?
আনিতা: না।
আমি: তোমার সার্টিফিকেটগুলোর ফটোকপি আছে?
আনিতা: না।
আমি: অন্যান্য ভাইটাল ডকুমেন্টগুলার ফটোকপি আছে?
আনিতা: না তো।
আমি: এই দেখো। তুমি কতটা অসতর্ক! অথচ সবগুলা ভাইটাল ডকুমেন্টের এ্যাট-লিস্ট একটা করে ফটোকপি রাখতে হয়। রাখা উচিৎ দুইটা, এক সেট তোমার কাছে, আরেক সেট কোন এক আপন মানুষের কাছে।
আনিতা: চলো তাহলে।
আমি: কোথায়?
আনিতা: এখনই আমার সব ভাইটাল ডকুমেন্টের দুইসেট ফটোকপি করবো।
আমি হেসে ফেললাম, “এখনই?”
আনিতা: হ্যাঁ, এখনই।

কাজটা করতে ঘন্টাখানেক লাগলো। এরপর আমি নিচে দাঁড়িয়ে রইলাম, আর আনিতা ওর রুমে গিয়ে কাগজপত্রগুলো রেখে আসলো। তারপর আমরা দুজন আমার রুমে চলে এলাম। রুমে ঢোকার পর আনিতা আমার হাতে একটা প্যাকেট দিলো।
আমি: কি এটা?
আনিতা: বারে, নিজেই তো বললে!
আমি: কি বললাম আমি?
আনিতা: বললে না, যে ভাইটাল ডকুমেন্টগুলার একসেট আপন কোন মানুষের কাছে রাখতে?
আমি: হ্যাঁ, আমি বলেছি।
আনিতা: এই মস্কোতে, তুমিই তো আমার সব চাইতে আপন।
আনিতার সাথে আমার শুরুটা কোন গভীর প্রেম দিয়ে ছিলো না। যা দিয়ে শুরু হয়েছিলো, তা ছিলো কেবলই দেহজ! অবসরে সময় কাটানো আর সঙ্গসুখ পাওয়ার জন্য।
তবে আজ ওর চোখের এক্সপ্রেশনে যে আবেগটা দেখলাম তা ভোলার না। অথচ ওর সাথে আমি কোন স্থায়ী বন্ধনে জড়িয়ে পড়তে চাই না।

পরদিন সকালে পরিমরি করে দৌড়ালাম নাসিম ভাইয়ের রুমে। অফিস থেকে দুইদিনের জন্য ছুটি নিয়ে নিয়েছি, এই পারপাজে। সকাল নয়টা, নাসিম ভাইয়ের রুমের দরজা নক করলাম। স্লিপিং স্যুট পড়ে হাই তুলতে তুলতে দরজা খুললেন নাসিম ভাই। ডিভানের একপাশে ঘুমাচ্ছে টিটো।
নাসিম ভাই: বসেন ভাই। বসেন ভাবী।
আমরা বসলাম। আমাদের মুখে কোন কথা নাই। নাসিম ভাই যেটা করছেন সেটা অমূল্য! এখন যদি তিনি বলেন যে, কাজ পুরা শেষ হয় নাই, তআও আমাদের মুখ খুললে চলবে না।
নাসিম ভাই একটা ব্রাউন খাম আর একটা ট্রান্সপারেন্ট ফাইল আমাদের হাতে দিলেন।
নাসিম ভাই: খামে থিসিস পেপারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট-টা আছে। আর ট্রান্সপারেন্ট ফাইলে আছে তিন কপি প্রিন্টেড থিসিস পেপার।
আনিতা “থ্যাংক ইউ নাসিম ভাই”, বলে কেঁদেই ফেললো।
নাসিম ভাই অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন, “আরে ভাবী কান্নার কি আছে? আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র। আমরা একসাথে চলিফিরি, একসাথে আড্ডা দেই, আর একের বিপদে অন্যে ঝাঁপিয়ে পড়বো না?”
আমি: আপনাকে যে কি দিয়ে কৃতজ্ঞতা শোধ করবো?
নাসিম ভাই: ভাইজান। কিছু দিতে হবে না। আপনি এখন আনিতা ভাবীকে নিয়ে বাকি কাজগুলো সারেন। আর আমি সারাদিন ঘুমাই। কাল ভাবীর ডিফেন্সে আমি আর টিটো উপস্থিত থাকবো। বাকী বাঙালীরাও থাকবে। টিটো বেচারা এখানেই ছিলো কাল রাত, আমাকে কয়েক দফা চা কফি বানিয়ে দিলো।

আমরা নাসিম ভাইয়ের ওখান থেকে ছুটলাম বাইন্ডিংয়ের দোকানে। ওখানে আধঘন্টা লাগলো। তারপর ছুটলাম আনিতার ফ্যাকাল্টিতে। আনিতার বৃদ্ধ কিন্তু সুদর্শন সুপারভাইজার ডক্টর অব সায়েন্স ‘গোর্দিয়েভ’ উনার রুমেই ছিলেন। আনিতাকে দেখে উচ্ছসিত হয়ে বললেন, “ওয়েল কাম, ওয়েল কাম, ইন্ডিয়ান চিত্রনায়িকা আনিতা মেহতা। তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আমি জানতাম তুমি ঠিক সময়ে হাজির হবে। তা তিনকপি প্রিন্টেড থিসিস পেপার এনেছ তো?”
আনিতা: জ্বী, এনেছি।
ব্যাগ থেকে বাইন্ডেড পেপারগুলো বের করে উনার হাতে দিলো আনিতা।
গোর্দিয়েভ: তুমি দেখতে যেমন মায়াবতী, তোমার কাজকর্মও তেমন নিখুঁত, একেবারে টাইমলি সব কিছু রেডী।
আমরা তখন ভিতরে ভিতরে ভাবছি, এর পিছনে যে আমাদের কতবড় ঝক্কি গিয়েছে তা আর স্যারকে না বলি।
আমার দিকে তাকিয়ে ডক্টর গোর্দিয়েভ নির্ভেজাল ইংরেজীতে বললেন, “ইউ আর মিস্টার তুষার, দি ফিজিসিস্ট। এ্যাম আই রাইট?”
এখানকার প্রফেসররা সবাই প্রচন্ড মেধাবী আর জ্ঞানী। তিনি আমার নাম ও এডুকেশন জানেন এই দেখে আমি অবাক হলাম না। আনিতা হয়তো কোন এক সময়ে উনাকে বলেছে, আর তিনি সারাজীবনের জন্য মনে রেখেছেন।
গোর্দিয়েভ: বাই দ্যা ওয়ে, ইউ লুক লাইক রাজ কাপুর।
আমি এবার হেসে ফেললাম। এখানকার বয়ষ্ক জেনারেশনের কাছে অভিনেতা ‘রাজ কাপুর’ একজন খুব পপুলার ফিগার আমি জানি। সুদর্শন ভারতীয় বলতে উনারা ‘রাজ কাপুর’-ই বোঝেন।
গোর্দিয়েভ: (আবার রাশান ভাষায় আনিতাকে বললেন) ঠিকআছে। আগামীকাল সকাল নয়টায় আরেকবার দেখা হচ্ছে এখানে। আমি আজ প্রিন্টেড কপিটা পড়বো, কোন রিমার্কস থাকলে কাল তোমাকে জানাবো। আর ঠিক সকাল দশটায় শুরু হবে ডিফেন্স, স্থান ফ্যাকাল্টি অডিটোরিয়াম। তুমি এর মধ্যে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন রেডী করো। তোমার সিরিয়াল সম্ভবত তিন নাম্বারে। ক্লিয়ার?
আনিতা: অল ক্লিয়ার।
গোর্দিয়েভ: নাউ গো এ্যান্ড মেইক দ্যা প্রেজেন্টেশন রেডী। একটা সামারি পেজও করবে, কাল আমি দেখবো। বাকী কাজগুলা আমি করছি।
আনিতা: বাকী কাজ?
গোর্দিয়েভ: আরে ডিফেন্স কোন সহজ বিষয় না। পুরোটাই আনুষ্ঠানিকতা। ছেলেদেরকে আমি অনেক কাজই দেই। মেয়েদেরকে অত প্রেশার দেই না। ঐকাজগুলা আমি নিজেই করি। নাউ গো, এ্যান্ড টেইক প্রিপারেশন, টেইক রেস্ট। কাল অনেক কাজ আছে।

আমি রুমে এসে আনিতাকে বললাম, “কম্পিউটার অন করো, সামারীটা রেডি করো। স্পীচ ও প্রেজেন্টেশনটাও রেডী করতে হবে।”
আনিতা: ওকে। লাঞ্চ করবো না?
আমি: তুমি কাজ করতে থাকো। আমি বাইরে থেকে লাঞ্চ নিয়ে আসছি, ঘরে রান্না নেই।
আনিতা: ওক্কে।
আমি: বাই দ্যা ওয়ে, কাল কি কোন ডিনার এ্যারেঞ্জ করবে, ডিফেন্স উপলক্ষে?
আনিতা: যে প্রেশার আমার উপর দিয়ে গেছে ও যাবে। আমি কাল পারবো না বাবা। উইক এন্ডে করি?
আমি: ওকে, সেই ভালো।

পরদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে আনিতা চলে গেলো। ওকে অনেক প্রস্তুতি নিতে হবে, সাজগোজ করতে হবে, সুন্দর পোষাক পড়তে হবে, সুপারভাইজারের সাথে দেখা করে স্পীচ-প্রেজেন্টেশন সব ঠিকঠাক করতে হবে, কাজ অনেক। আমি যখন ঘুম থেকে উঠলাম তখন সকাল নয়টা বাজে। আমি দ্রুত তৈরী হয়ে নিলাম। বাইরে বের হয়ে একতোড়া গোলাপ ফুল কিনলাম, ডিফেন্স শেষে আনিতাকে দিতে হবে। আমি ওকে ফুল না দিলে কে দেবে?

চলে গেলাম নাসিম ভাইয়ের রুমে। দরজা নক করতেই টিটো দরজা খুললো।
টিটো: আমরা রেডী। চলেন যাই।
নাসিম ভাই: ফুল কিনে ভালো করেছেন। আমরাও কিনবো।
আমি: আপনাদের আর কেনার দরকার কি? আমি তো কিনলামই।
টিটো: আরে ওটা তো আপনার উপহার! আমরা কি কিছু দেব না? বাই দ্যা ওয়ে বাকি বাঙালীরাও যাবে। আজ নাসির ভাইও আসবে।
আমি কৃতার্থ হলাম। ওরা সবাই এমনভাবে ট্রিট দিচ্ছে যেন আনিতা সত্যিই ওদের ভাবী!
ফুলের দোকান থেকে নাসিম ভাই আর টিটো তিনটা করে কার্নেশন ফুল কিনলো।

ফ্যাকাল্টিতে গিয়ে দেখি হুলস্থুল ব্যাপার! নাসির ভাই সহ একদল বাঙালী উপস্থিত, সবাই এসেছে আনিতার ডিফেন্স দেখতে। সবা হাতে কার্নেশন ফুল! ঢুকলাম সবাই মিলে অডিটোরিয়ামে। একেবারে ঠিক সময়ে আমরা ঢুকলাম, আমাদের প্রবেশের সাথে সাথেই আনিতার নাম ঘোষণা হলো। আনিতা এগিয়ে গেলো স্টেজের দিকে। এমন এক পোষাক ও আজ পড়েছে, যাতে আমি আগে কোনদিনই ওকে দেখিনি। আনিতা চমৎকার একটা শাড়ী পড়ে, অদ্ভুত সুন্দর ভঙ্গিতে হেটে স্টেজের দিকে গেল! মনে হলো সত্যি সত্যিই কোন ভারতীয় চিত্রনায়িকা মঞ্চের দিকে যাচ্ছে।

পনেরো মিনিট দীর্ঘ ওর প্রেজেন্টেশনটায় পুরো অডিটোরিয়ামে ছিলো পিন পতন নীরবতা। ‘প্ল্যান্ট সেল’-এর জেনেটিক্স নিয়ে ওর কাজ। স্পীচ শেষ হওয়ার সাথে সাথে পুরো অডিটোরিয়াম করতালিতে ফেটে পড়লো। মনে হলো জনপ্রিয় কোন গায়িকা এইমাত্র গান শেষ করলো!

বাংলাদেশী ছেলেগুলা বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিলো। আমি একটু লজ্জ্বায়ই পড়ে গেলাম!
সবার ডিফেন্স শেষ হতে সময় লাগলো। ঐ পর্যন্ত আনিতা তার ক্লাসমেটদের সাথেই বসে ছিলো। আর সবাই ইউরোপীয় পোষাকে, শুধু আনিতাই শাড়ী পড়া। মনে হচ্ছিলো যেন কার্নেশনের বাগানে একটা পদ্মফুল ফুটে আছে!

ডিফেন্স শেষ হওয়ার পর। ফলাফল ঘোষণা হলো। আনিতা ‘এক্সিলেন্ট’ গ্রেড পেয়েছে। চেয়ারম্যান স্যার আনিতার রিসার্চের প্রশংসাও করলেন।

সব শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশীরা ছুটে গেলো আনিতার দিকে। একে একে সবাই ওর হাতে তুলে দিলো নানা বর্ণের কার্নেশন ফুল। সবশেষে গেলাম আমি, টিটো, নাসির ভাই আর নাসিম ভাই। টিটো আর নাসিম ভাইকে দেখে আরেকদফা চোখ মুছলো আনিতা। তারপর আমি ওর হাতে তুলে দিলাম এক তোড়া রক্তলাল গোলাপ ফুল! আনিতা আমার হাত ধরে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো!

(চলবে)

‘বৈশাখী মেঘের কাছে জল চেয়ে তুমি কাঁদবে আমি চাইনা,
শুধু স্বপ্নকে সত্যি ভেবে তুমি কাঁদবে আমি চাইনা।’


রচনাতারিখ: ২৯শে জুলাই, ২০২০সাল
রচনা সময়: রাত ১২টা ৫৫মিনিট

Lonely Carnation
——————- Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.