নিঃসঙ্গ কার্নেশন (পর্ব – ১৫)

নিঃসঙ্গ কার্নেশন (পর্ব – ১৫)
———————————- রমিত আজাদ

আনিতা: জানো আজ কি হয়েছে?
আমি: কি হলো?
আনিতা: গেলাম পিএইচডি অফিসে। ঐ যে তোমার সেই পাওয়ারফুল মহিলা যে কিনা ইউনিভার্সিটি প্রো-রেক্টর প্রফেসর শিলনোভ-এর টৌ। সেই ইরিনা ইভানোভ্‌না।
আমি: তা কি হলো? ঝগড়া করেছ নাকি ইরিনার সাথে ভুলেও এই কাজ করতে যেওনা কিন্তু!
আনিতা: আরে না, আমি অত বোকা নই।
আমি: তাহলে কি হলো?
আনিতা: আমি উনার কাছে গিয়ে বললাম, আমি আনিতা ঐ যে পিএইচডি স্কলারশীপের জন্য পেপারস জমা দিয়েছিলাম। তা ইরিনা বলে, “তাই নাকি? তুমি পেপার জমা দিয়েছিলে কবে?” উনি মনেই করতে পারলেন না। তারপর আমি আমার পুরো নাম, দেশ, ফ্যাকাল্টি ইত্যাদি বললাম।
আমি: তারপর? (আমার বুকটা একটু ঢিপ ঢিপ লাগছিলো। ঐ মহিলা সুবিধার না, আবার তিনিই ঐ অফিসের চীফ। কি জানি কি গোলমাল করলো আবার!)
আনিতা। সব শুনে তিনি টেবিল-শেলফ এদিক-ওদিক খুঁজে বলেন, “কই নাতো। তুমি তো কোন পেপারই জমা দাও নি!” দেখোত অবস্থা!
আমি” সর্বনাশ! ঐ মহিলা ঐ টাইপই! এখন কি করবে?
আনিতা: আমি একটু জোর দিয়ে জমা দেয়ার ডেট টাইম সবই বললাম। তা উনি বলেন, “যাই হোক পেপার জমা দিলেও, হারিয়ে গিয়েছে অফিস থেকে, এখন আর কোন কাজ হবে না। যাও।”
এবার আমি সত্যিই ঘাবড়ে গেলাম। বেচারা আনিতা, ঐ মহিলার গাফিলতির জন্য এখন ওর এ্যাডমিশনটাই হবে না?
আমি: কি বলো? এখন কি হবে?
আনিতা: আরে শোনই না। আমি তারপর ছুটলাম আমার রুমে। ঐ যে তুমি একসেট ফটোকপি দিয়েছিলে না? ঐ সেট-টা নিয়ে ইরিনা ইভানোভ্‌না-কে দেখালাম।
আমি: তারপর?
আনিতা: পেপারের কপিগুলো দেখে প্রথমে মনে হলো সে ক্ষেপেছে। তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে বলে, “এইগুলা দিয়ে আমি কি করবো? আমার দরকার অরিজিনাল!” আমি বললাম, ” অরিজিনাল তো আমি জমা দিয়েছিই। এই কপিগুলা তো তারও প্রুফ!”
আমি: ওভাবে বলতে গেলে কেন? এখন তো মহিলা আরো ক্ষেপবে!
আনিতা: না, আমি রাগ করে বলিনি। খুব অভিনয় করে কেঁদে কেঁদে বললাম। তারপর দেখি মহিলা নরম হয়ে গেলো। বললো, “আচ্ছা, ফটোকপিগুলা রেখে যাও। অরিজিনাল-টা বোধহয় অফিসেই কোথাও আছে, আমি খুঁজে দেখি।
আমি: সাব্বাস! তুমি অভিনয়ও করতে পারো?
আনিতা: কি আর করবো বলো। জীবনে চলতে গেলে তো অনেক অভিনয়ই করতে হয়।

এবার আমি একটু দোটানায় পড়লাম। আনিতা আমার সাথে আবার কোন অভিনয় করে নাতো? তারপর ভাবলাম, নাহ্‌, আমার সাথে তার পুরোটাই খাঁটি। আমাকে তো আনিতা তার সবই দিয়েছে!

আজ একটু ফ্যাকাল্টিতে যাওয়া প্রয়োজন ছিলো। সকাল সকাল উঠে বাস স্টপেজে গেলাম। দেখলাম বাস স্টপেজে ভালো ভীড়। সকালের দিকে এরকমই হয় ‘পিক আওয়ার’ যে! একটু পরে সিকাও বাস স্টপেজে আসলো।
সিকা আমাকে দেখে বলে, “আরে তুষার যে! কোথায় যাওয়া হচ্ছে?”
আমি: ফ্যাকাল্টিতে যাবো। আপাতত এখান থেকে যাবো মেট্রো বেলিয়াভাতে।
সিকা: আমিওতো ফ্যাকাল্টিতে যাবো। চলো একসাথে যাই।
আমি: যেতে তো চাই-ই কিন্তু এত ভীড়ে বাসে উঠবো কি করে?
সিকা: আরে ধাক্কাধাক্কি করে উঠে যাও। আরে ধাক্কাধাক্কিতে তো আরো বেশি মজা!
আমি: কিসের মজা?
সিকা: বুঝলে না? আরে এত এত ইয়াং সুন্দরী মেয়ে ওদের শরীরের সাথে আমাদের শরীরের স্পর্শ হয়, ঐ মজা!
আমি: ও আচ্ছা! তা আমার তো ভীড়ে দম বন্ধ হয়ে যায়।

এ সময় হঠাৎ এক ট্যাক্সি ড্রাইভার এসে বলে, “তরুণরা তরুণীরা, কারা কারা মেট্রো বেলিয়াভাতে যেতে চান? উঠে পড়েন আমার গাড়ীতে। মাত্র দশ রুবল।”
আমি আর সিকা, ঝপ করে উঠে গেলাম গাড়ীর পিছনের সীটে। আমাদের সাথে পিছনের সীটে উঠলো এক রূপসী রুশ তরুণী। আর সামনের সীটে উঠলো এক ল্যাটিন আমেরিকান ছেলে। গাড়ী চলতে শুরু করলো।
সিকা বললো, “ড্রাইভার ভাই, আপনি যদি প্রতিদিন এ্যামন সার্ভিস দেন। তাহলে অল্প দিনেই আপনার অনেক টাকা হয়ে যাবে!”
ড্রাইভার বলে, “জ্বী, আপনারাও উঠবেন। মাত্র তো দশ রুবল।”
রুশ মেয়েটি মুচকি হেসে কৌতুক করে বললো, “প্রত্যেকের কাছ থেকে আলাদা আলাদা দশ রুবল, নাকি সবার কাছ থেকে একত্রে দশ রুবল?”
এবার ড্রাইভার সহ পুরো গাড়ীর সবাই কোরাসে হাসলো।
মেট্রো স্টেশনে নেমে, আমরা সবাই ড্রাইভার-কে দশ টাকা করে দিয়ে নেমে গেলাম। বললাম, “বাঁচালেন ভাই।”

আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোতে চেপে খুব দ্রুতই পৌছে গেলাম পনেরো কিলোমিটার দূরের ‘মেট্রো শাবলোভস্কায়া’-তে। স্টেশন থেকে বেরিয়ে আমি হাটা পথের দিকে রওয়ানা দিলাম। সিকা বলে, “আরে কই যাও।”
আমি: ফ্যাকাল্টিতে।
সিকা: তা হাটা পথে কেন?
আমি: কাছেই তো। ট্রামে গেলে মাত্র দ্বিতীয় স্টপেজ।
সিকা: ধুর! ট্রামে আসো তোমাকে একটা মজা দেখাবো।
আমি: ট্রামের ভীড়ের মধ্যে আবার কি মজা দেখাবে?
সিকা: ভীড়ের মধ্যেই তো মজা।

আমি ওর সাথে গিয়ে ট্রামে উঠলাম। পিক আওয়ার তাই বেশ ভীড়। সিকার পাশেই ছিলো একটা আঠারো-উনিশ বছরের ইয়াং মেয়ে। ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ার মেয়ে হতে পারে। ভীড়ের চাপে মেয়েটি একেবারে সিকার গায়ের সাথে চেপে ছিলো। সিকা আমাকে চোখ টিপলো। আমি লক্ষ্য করলাম, সিকা মেয়েটির নিতম্বে হাত রেখেছে। এভাবে আরো কয়েক মিনিট। আমার বুকটা ঢিপ ঢিপ করতে লাগলো! সিকা এটা কি করছে? মেয়েটাতো ক্ষেপে উঠবে। আরো কয়েক মিনিট পার হলো। দেখলাম, মেয়েটা একটুও ক্ষেপলো না। একটু পরে সে সিকার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি উপহার দিলো! আমি ভাবলাম, লে হালুয়া, এ আবার কি দেখলাম!

ট্রাম থেকে নেমে সিকা আমাকে বললো, “কি মজা দেখলি?”
আমি: তুই কাজটা কি করলি? মেয়েটা যদি ক্ষেপে যেত?
সিকা: না ক্ষেপতো না। আমি মেয়ে দেখে বুঝতে পারি, কে কেমন।
আমি: মানে?
সিকা: ভাবভঙ্গি দেখে ধরতে পারি। ঐ যে জহুরী জহুর চেনে। ওদের বেশিরভাগই এটা পছন্দই করে। আমাদের পুরুষ মানুষদের মতই একটা চাহিদা আরকি। ক্ষণিকের রোমান্স যাকে বলে।
আমি আর ওকে কিছি না বলে চুপ করে থাকলাম।
সিকা আবার বললো, “আচ্ছা আজ কি লেনা ফ্যাকাল্টিতে আসবে?”
সিকার এই প্রশ্ন শুনে আমার মেজাজটা গরম হয়ে গেলো। মনে মনে ওকে একটা গালি দিলাম। ভাবলাম, ‘বদমাশ ব্যাটা লেনা আসবে কি না আসবে এটা তার ব্যাপার; তোর বাপের কি?’
তবে কিছুই বললাম না। এমন ভাব দেখালাম যেন, ওর কথাটা শুনতেই পাইনি। তারপর ভাবলাম, লেনা যদি আসেও, আমি সিকার সামনে বসেই ঘন্টার পর ঘন্টা লেনার সাথে কফি খাবো আর গল্প করবো। ব্যাটাকে এখাত দেখানো দরকার, অন্যের বান্ধবীর দিকে নজর দিস!
আবার ভাবলাম, আমি এরকম ভাবছি কেন? লেনা তো আসলে আমার বান্ধবী নয়। ওর সাথে গল্পগুজব করা ছাড়া আমার তো আর কিছুই হয় না, বা হয় নাই। এই পাশ্চাত্যে বান্ধবীর মিনিং তো ভিন্ন!
হ্যাঁ, এটাই বোধহয় ‘পুরুষালী ভ্যানিটি’; বান্ধবী হোক বা না হোক ও আমার, অন্য কোন পুরুষের সাথে ওকে দেখতে চাই না।

তবে ঐ দিন লেনা ফ্যাকাল্টিতে আসেনি। তাই সিকার সাথে আমাকে কোন অঘোষিত যুদ্ধেও যেতে হয় নি।

সন্ধ্যার দিকে আনিতার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আজ ওর পিএইচডি অফিসে যাওয়ার কথা, স্কলারশীপের খোঁজ নিতে। আমি আনিতাকে আরেক সেট ফটোকপি হাতে দিয়ে দিয়েছিলাম। রুশ ভাষায় একটা এক্সপ্রেশন আছে, ‘না সিয়াকিই স্লুচাইয়ে’; কথাটার সরাসরি বাংলা অনুবাদ বোধহয় নাই, তবে অর্থ হলো ‘সব ক্ষেত্র হিসাব করে’ এই পদক্ষেপ-টাই নেয়া উচিত। মানে যত কিছুই ঘটুক, এটা তোমাকে বাঁচাবে। আমি ঐ ‘না সিয়াকিই স্লুচাইয়ে’ অতিরিক্ষ এক সেট ফটোকপি আনিতার হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলাম।

কিছুক্ষণ পর আনিতা এলো। একেবারে জবুথবু অবস্থা!
আমি: কি হলো? তুমি এত বিধ্বস্ত কেন?
আনিতা: আর বলো না। আবারো সেই একই ঘটনা!
আমি: কি ঘটনা?
আনিতা: আজ ইরিনা ইভানোভ্‌না অফিসে ছিলো না। ছিলো তার সহকারী আরেক মহিলা। সেই মহিলাও কম যায় না। কি তার হম্বিতম্বি! ফাইলপত্র ঘেটে আমাকে বলে, “কই নাহ্‌, তুমি তো কোন কাগজই জমা দাও নাই। আমি তো কিছুই খুঁজে পেলাম না।”
আমি: আবারো”
আনিতা: হ্যাঁ, আবারো। তারপর আমি জোর দিয়ে বললাম যে, “আমি জমা দিয়েছি। এই যে দেখেন ফটোকপি, তার প্রমাণ হিসাবে।” এবার মহিলার মুখ হা হয়ে গেলো। তারপর বলে, “ও আচ্ছা। তাহলে আছে কোথাও অফিসে। আমি খুঁজে দেখি।”
আমি: কি বুঝলে?

আনিতা: বুঝলাম যে, তুমি খুব ইন্টেলিজেন্ট! ফটোকপিগুলাই আমাকে বারবার বাঁচাচ্ছে।

এখন রাত আনিমানিখ নয়টা বাজে। আমি বসে বসে খবর শুনছিলাম। এই দেশের প্রধান সরকারী চ্যানেলে খবরটা বেশ আকর্ষণীয় হয়। ইউজিয়ালী দুজন খবর পড়েন, একজন পুরুষ আরেকজন নারী। বৈপরিত্যে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পায়। মাঝে মাঝে অবশ্য ব্যাতিক্রম হয়, যেমন দুজনই পুরুষ অথবা দুজনই নারী। পাঠিকা দুজনই নারী হলে দেখতে খারাপ লাগে না; তবে দুজনই পুরুষ পাঠক হলে মেজাজ খারাপ হয়। আজ যে পাঠিকা খবর পড়ছিলেন তার নাম তাতিয়ানা মিতকোভা। বেশ রূপসী ভদ্রমহিলা! আমি এক ধরনের উনার প্রেমি। আমাকে একবার এক বন্ধু বলেছিলো, “এতই যখন মিতকোভাকে পছন্দ, তা একবার দেখা করে আয়।” আমি বললাম, “কোথায় দেখা করবো?” বন্ধু বললো, “যতদূর জানি, উনি ‘মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি’-র জার্নালিজম ডিপার্টমেন্টের টিচার। তুই তো ঐ ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চের কাজে প্রায়ই যাস। তা একবার জার্নালিজম ডিপার্টমেন্টে গিয়ে উনার সাথে দেখা করে আয়।” যাহোক, খবর যা শুনছিলাম তাতে আজ আমার মন বসছিলো না। রুশ চ্যানেলগুলা আজকাল পাশ্চাত্যের মত শুরু করেছে, নীতি হলো ‘খারাপ সংবাদই ভালো সংবাদ’। মানে যত বেশী, দুর্নীতির সংবাদ দেখাবে, খুন-খারাবীর সংবাদ দেখাবে, স্ক্যান্ডাল নিউজ করবে কাটতি ততই বেশী! হঠাৎ পাশের রুম থেকে একটা বিচিত্র আওয়াজ পেলাম।

একটু কান পেতে আওয়াজটা বোঝার চেষ্টা করলাম। এটা লাভ মেকিং-এর আওয়াজ। বাংলায় যাকে বলে শিৎকার ধ্বনি। পাশের রুমে থাকে একটা ভিয়েতনামিজ তরুণী। নাম খুরা। তবে খুরা সবাইকে পরিচয় দেয় ওর নাম আঞ্জেলা বলে। ফার ইস্টার্নদের এই একটা বিষয় আছে, ইউরোপীয় হিসাবে ওদের নামগুলো বিদঘুটে হয় বলে ওরা দেশী নামের পাশাপাশি একটা ইউরোপিয়ান নামও রাখে, যাতে ভীনদেশী কাউকে বললে নামটা সহযে উচ্চারণযোগ্য হয়। বেশ স্টাইলিশ মেয়েটি, আবার সুন্দরীও। ওর একটা ভিয়েতনামী বয়ফ্রেন্ড আছে। কয়েকমাস হলো বয়ফ্রেন্ড-টি ভিয়েতনাম গিয়েছে। একটু বেশি সময়ের জন্য যাওয়া, তার বাড়ীতে কোন একটা বিষয় থাকতে পারে। আমি লক্ষ্য করলাম, মাসখানেক যাবৎ একটা সাউথ আমেরিকান ছেলে খুয়া (আঞ্জেলা)-র পিছনে ঘুরঘুর করছে। এখন পাশের রুমে যে ধ্বনি শুনছি! তবে কি? ওদের শুরু হয়ে গেলো? ঐ বয়ফ্রেন্ড-টার তাহলে কি হবে? হায়রে? দূরত্ব কি ভালোবাসাকে হত্যা করে?

আনিতার পিএইচডি-র কাগজপত্রগুলা এপ্রুভ হয়ে গেছে। এখন বাকি ডীন অফিসের এ্যাপ্রুভাল। ওটা হয়ে গেলেই কাজ শেষ। যদিও অফিসিয়ালী প্রো-রেক্টর ও রেক্টরের স্বাক্ষর ছাড়া কিছুই হবে না। তবে আসল কথা হলো, ফ্যাকাল্টি এ্যাপ্রুভ করলে উনারা অটোমেটিক সাইন করেন।

আজ ডীন অফিসে আনিতাদের স্কলারশীপ নিয়ে মিটিং আছে। আমি একটু কায়দা করে ঐ মিটিংয়ে উপস্থিত থাকার ব্যবস্থা করলাম। আমি আগেভাগেই আনিতার সুপারভাইজার ডক্টর গোর্দিয়েভ-কে বলে রেখেছিলাম। কি কারণে যেন তিনি আমাকে খুব পছন্দ করে ফেলেছেন। আমাকে দেখলেই বলেন, “আরে মিস্টার রাজকাপুর!” যেই কাপড়ই বলুন না কেন। স্যার আমাকে পছন্দ করেন এটাই বড় কথা। আমি উনাকে আনিতার বিষয়ে বলার পর, তিনি আমাকে বললেন, “মিটিং-এর দিন আমি তো ওখানে থাকবো-ই, আপনিও আমার সাথে যাবেন। পিছনের একটা চেয়ারে বসবেন। আমি এমন ভাব করবো যেন আপনি আমার গেস্ট, আমার পিএইচডি ছাত্র। তাহলে আর কেউ কিছু বলবে না।”

মিটিং যাথাসময়ে শুরু হলো। সময়ের ব্যাপারে রুশীরা খুবই পাংচুয়াল। একটা একটা করে ক্যান্ডিডেট-এর কাগজ হাতে নেন, আর আলোচনা করেন। ডীন স্যার আলোচনা সাপেক্ষে কারো টা এ্যাপ্রুভ করেন, আবার কারোটা করেন না। পাশে বসে সব লিখে রাখছেন, ডীনের সেক্রেটারি এক ভদ্রমহিলা। একসময় আসলো আনিতার পেপারস। আমার বুকটা ধুঁক ধুঁক করে উঠলো! ডীন স্যার পেপারটি হাতে নিলেন, সব দেখলেন। তারপর বললেন, “মেয়েটার থার্ড ইয়ার থেকে রেজাল্ট খুবই ভালো। তবে ফার্স্ট ইয়ার ও সেকেন্ড ইয়ার থেকে রেজাল্ট এভারেজ। এখন কি ওকে আমরা স্কলারশীপ দেব?” সবাই চুপ রইলো, ডীন জ্ঞানী মানুষ, তার উপর বয়োজ্যোষ্ঠ। উনার উপরে কথা বলার তেমন কেউ নেই। আমার বুকের ধুক ধুকানি আরো বাড়লো। তিনি আবার কাগজগুলো উল্টালেন, ওখান থেকে একটা পেপার বের করে বললেন, “এটা ওদের এ্যাম্বেসীর ‘লেটার অব রিকমেন্ডেশন’। অতীতে নিঃসন্দেহে আমরা এই ধরনের চিঠিকে গুরুত্ব দিয়েছি। কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে, রাস্ট্রীয় পলিসিও পাল্টেছে। এখন আর এই চিঠিকে গুরুত্ব দেয়ার কিছু নাই। তাহলে আমরা কি করবো? মেয়েটাকে পিএইচডি-তে স্কলারশীপ দেব কি?”

আমি প্রচন্ড উৎকন্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম, নাটকের যবনিকাপাত ঠিক কিভাবে হয়!

(চলবে)

তোমার সাজা খোপা থেকে, আমায় কিছু গোলাপ দিও
————————————————- রমিত আজাদ

অমন রাঙা গোলাপ খোপায়, রাঙা পরীর মেঘলা কেশে,
হাতেও ধরা গোলাপ কুঁড়ি, গোলাপ রঙা বোশেখ বেশে!
দৃশ্যপটেও গোলাপ বাগান! কি কাজ তোমার ঐ বাগানে?
আঁখির পাতা স্বল্প নত, কি কথা কথা কও গোলাপ সনে?

গোলাপী তোমার বসন ঘিরে মৌমাছিরা বাধন হারা?
কোনটা গোলাপ কোনটা তুমি, এই ভেবে যে দিশেহারা!
ওদের মত আমিও তো বিহ্বলিত হয়েই আছি,
পাপড়ি রাঙা রূপের ছটায় উদ্বেলিত প্রণয় যাচি!

আমায় তুমি কি দিতে চাও? প্রণয়, নাকি শুধুই গোলাপ?
যেটাই দেবে দিয়েই ফেলো, নয়তো আমি বকবো প্রলাপ!
একের ভিতর দুই যদি দাও, বিনিময়ে সবই নিও,
তোমার সাজা খোপা থেকে, আমায় কিছু গোলাপ দিও


রচনাতারিখ: ৩১শে জুলাই, ২০২০সাল
রচনা সময়: রাত ০১টা ৩১মিনিট

The Lonely Carnation
——————- Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.