নিঃসঙ্গ কার্নেশন (পর্ব -২৬)

নিঃসঙ্গ কার্নেশন (পর্ব -২৬)
————————————- রমিত আজাদ

আনিতা নাই, তাই ঘরেও কেউ নাই। এখন ঘরের চাইতে বাইরেই বেশি সময় কাটাই।
ডর্মিটরির সামনেই ছিলো একটি আফগান কাফে। ওদের ওখানে প্রথমবার গিয়েছিলাম একটা অনুষ্ঠানের জন্য খাবার বুকিং দিতে। মস্কোতে আমি কোন অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ পেলেই সটান যোগাযোগ করতাম কোন এক বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টের সাথে। আমার দর্শন ছিলো আমাদের টাকাটা বাংলাদেশীরাই পাক। তা একবার এক বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টে গেলে এমন একটা বিল হাঁকলো যে আমার তো একেবারেই আক্কেল গুরুম। অথচ এই তারাই আগের প্রোগ্রামে সহনীয় বিলেই খাবার সাপ্লাই দিয়েছিলো! বুঝলাম চোখ বড় হয়ে গিয়েছে, নয়তো সুযোগ নিতে চাইছে, ভাবছে হয়তো আমার যাওয়ার আর জায়গা নাই; বাঙালী খাবার কিনতে আর কোথায়ই বা যাবো; তাই ইচ্ছামত দাম হেঁকে বসেছে। আমিও কম বাঘা তেতুল নই; আমি জানি আফগানীদের রন্ধন আমাদের মতনই, বরং আরেকটু টেস্টিই বলা যায়। তাই যোগাযোগ করলাম এই আফগান কাফেটির সাথে। ওরা আমাকে মুখরোচক পরোটা থেকে শুরু করে কাবাব পর্যন্ত খুব মজাদার মজাদার আইটেম খুব সস্তায়ই দিলো। পরে অনুষ্ঠানে ঐ আফগান খাবার খেয়ে বাঙালীরা ধন্য ধন্য করেছিলো! সেই থেকে ওদের সাথে আমার একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

আজ গেলাম সেই আফগান কাফেটিতে। ভিতরে ঢুকে দেখলাম, সেখানে চলছে অর্ধ-উলঙ্গ নাচ। দুটি অতীব রূপসী রাশান তরুণী মধ্যপ্রাচ্যের বেলী ডান্স-এর পোষাক পড়ে নাচছে। সহস্র এক আরব্য রজনীর বইয়ে উন্নত বক্ষ, সরু কটি ও ভারী নিতম্বের অর্ধনগ্নিকাদের হাতে আঁকা যে ছবিগুলি দেখেছিলাম, মনে হলো তাদেরই দুজন বোধহয় আজ মূর্ত হয়ে আবির্ভূত হয়েছে, আর এই ক্যাফের অতিথিদের মনোরঞ্জন করছে। আনার-কলি গাত্রবর্ণ মেয়ে দুটির একজন ছিলো ব্রুনেট মানে কৃষ্ণকেশী আর অপরজন ছিলো ব্লন্ড মানে স্বর্ণকেশী। অনেকেই তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করছিলো, তবে তাতে তাদের মধ্যে কোন ভাবান্তর ছিলো না, বরঞ্চ মুখের হাসিটি ধ্রুবক হয়ে আছে।

আমাকে দেখে, ক্যাফের ম্যানেজার শমশের এগিয়ে এলেন।

শমশের: আস সালামু আলাইকুম।
আমি: ওয়া আলাইকুম সালাম।
শমশের: কেমন আছেন। বসেন।
আমি: আছি ভালো-ই। শোকরান।
শমশের: নাচ দেখুন, ভালো লাগবে।
আমি: হুম। নাচের আয়োজন করেছেন দেখছি। এরকম কি মাঝে মাঝে করেন, নাকি রুটিন আছে?
শমশের: নাহ্‌, কোন রুটিন নাই। তাহলে ঝামেলা হবে। হঠাৎ করেই আয়োজন করি।
আমি: আগে থেকে কোন বিজ্ঞাপন দেন?
শমশের: আরে না না। তাহলে দেখা যাবে যে কাফেতে উটকো লোকজন এসে উপস্থিত। এখন রাশিয়ার আইন-শৃঙ্খলা পদ্ধতির যা অবস্থা, ঝামেলা বেধে যেতে পারে।
আমি: তাহলে লোকে জানবে কি করে?
শমশের: এই যে, এইভাবে জানাই। (উনার হাত দেখালেন)
উনার হাতে কিছু হাতেলেখা লিফলেট দেখলাম। হরফগুলো দেখে, ফারসী ভাষায় লেখা মনে হলো।
শমশের: চলেন আমার রুমে বসে চা খাই।
আমি: চলেন।

ম্যানেজারের রুমটিতে আলো কম। চারটি দেয়ালেই নগ্নিকাদের ছবি টানানো। এখানে সম্ভবত কাফের মালিক তার একান্ত আপন লোকজনদের সাথে সুরা পান করে থাকেন। তাদের সাথে সাকী-রা থাকে কিনা জানিনা, তবে দেয়ালে কিছু সাকীর ছবি টানানো আছে। আমার বহুকাল আগে ঢাকায় দেখা, পানশালা শ্যালের কথা মনে পড়লো। এখন যেখানে পান্থপথ আগে সেখানে একটি চওড়া খাল ছিলো। সেই খালের পাড়েই ছিলো সেই পানশালা। সেখানেও ভিতরে ছিলো হালকা আলো, আর দেয়ালে দেয়ালে নগ্ন তরুণীদের ছবি। ওমার খৈয়ামের রুবাই মনে পড়লো,

‘আমার আজের রাতের খোরাক তোর টুকটুক শিরীন ঠোঁট
গজল শোনাও, শিরাজি দাও, তন্বী সাকি জেগে ওঠ!
লাজ-রাঙা তোর গালের মত দে গোলাপি-রং শরাব,
মনে ব্যথার বিনুনি মোর খোঁপায় যেমন তোর চুনোট।’

আমরা দুজন ম্যানেজারের রুমে বসে চা খেতে খেতে, নাচিয়ে তরুণী দু’টি ম্যানেজারের রুমে প্রবেশ করলো। বুঝলাম এখন বিরতী শুরু হয়েছে। তারা দুজন আমাদের ডিস্টার্ব না করে রুমের অপর প্রান্তে চলে গেলো। পোষাক ঠিক করতে করতে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো তারা। আমি দূর থেকে কিনলী অবজার্ভ করছিলাম ওদেরকে। নাচের সময় ওদের মুখে যেমন ঝলমলে হাসি দেখেছিলাম, এখন আর তেমন কিছুই নাই। বরং ওদের মুখ যথেষ্ট গোমড়া মনে হলো।

বুঝলাম এই হলো মনোরঞ্জন ও মনোরঞ্জকদের অবস্থা! পেশাগত কারণে কত অভিনয়ই না তাদের করতে হয়। আমরা পর্দার সামনে যা দেখি, আর পর্দার অন্তরালে যা দেখি, এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য বিশাল!
খৈয়ামের আরেকটি রুবাই মনে পড়লো,

‘সুরা দ্রবীভূত চুনি, সোরাহি সে খনি তার,
এই পিয়ালা কায়া যেন, প্রাণ তার এই দ্রাক্ষাসার।
বেলোয়ারির এই পিয়ালা-ভরা তরল হাসির রক্তিমা,
কিংবা ওরা ব্যথায়-ক্ষত হিয়ার যেন রক্তাধার।’


ক্রেস্তের আড্ডা:

আজ আমাদের আড্ডায় আছেন রুপালী আপা। তিনি আমাদের চাইতে বয়সে অনেক বড়। অনেক বছর আগেই পড়ালেখা শেষ করেছেন, তবে দেশে আর ফেরেননি, মস্কোতেই রয়ে গিয়েছেন। অবশ্য তার কারণ আছে, রুপালী আপাটা বিয়ে করেছেন একজন রাশিয়ান-কে। আমাদের আড্ডার মাঝে রুপালী আপার জামাই এসে উপস্থিত। উনাকে দেখে আমরা সমস্বরে চিৎকার করে উঠলাম, “আরে দুলাভাই, ও দুলাভাই।” তিনি আবার খুব রসিক মানুষ! ‘দুলাভাই’ শব্দটার সাথে আজ বহু বছর যাবৎ পরিচিত তিনি। একগাল হেসে আমাদের সাথে বসলেন। বসেই বললেন,

দুলাভাই: আজ কিন্তু ভাই আমিই তোমাদের কফি খাওয়াবো।
টিটো: আরে আপনি হলেন আমাদের দুলাভাই, আপনি শালাশালীদের কফি খাওয়াবেন এতো আমাদের সৌভাগ্য!
রুপালী আপা রিনরিন করে হেসে উঠলেন। রুপালী আপা একদিন আমাদেরকে একান্তে বলেছিলেন যে, কিভাবে উনাদের পরিচয় হয়েছিলো, কিভাবে একদিন একগাদা ফুল নিয়ে এসে উনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন উনার রুশ বন্ধু।

এজাজ: ভাই আপনারা শুধু শুধু আমাদের দোষ দেন। গতবার গিয়েছিলাম দেশে। তা বন্ধুবান্ধবীদের কাছ থেকে যা শুনলাম, তাতে তো মনে হলো আজকাল দেশের পোলামাইয়ারাও কম যায় না, পুরা ইউরোপীয়ান লাইফই লীড করে!
রুপালী আপা: (মিটিমিটি হেসে বললেন) যা করে করুক। তাতে তোমার অসুবিধা কি?
এজাজ: আমার কোন অসুবিধা নাই। সুবিধা-অসুবিধা ওদের ব্যাপার। আমি বলতে চাই যে, দেশেও দিন পাল্টাইছে।
আমি: রশিদ ভাই আপনি তো ডাক্তার মানুষ। আপনি কি বলেন? “একটা মেয়েকে কত বছর বয়স থেকে কনজুগাল লাইফে থাকতে হয়? এবং একটা ছেলেকে কত বছর বয়স থেকে কনজুগাল লাইফে থাকতে হয়?”
ডাক্তার রশিদ ভাই: ডাক্তারী শাস্ত্রমতে, মেয়েকে সতেরো বছর বয়স থেকে কনজুগাল লাইফে থাকতে হয়। এবং ছেলেকে থাকতে হয় উনিশ বছর বয়স থেকে।
আমি: এবার আপনিই ভেবে দেখেন, এই আধুনিক যুগে কত বছর বয়সে বিয়ে-শাদী দেয়া হয়? পঁচিশ-তিরিশ বছরের আগে কি আদৌ বিয়ে হয়? একদিকে বিয়েশাদী কিছু নাই। আরেকদিকে এতগুলা তরুণ-তরুণী একসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে বা কলেজে পড়ছে। শরীরের ন্যাচারাল চাহিদাটাকে কতক্ষণ দমন করে রাখা যায়?
ডাক্তার রশিদ ভাই: জ্বী, কঠিন অবশ্যই। শারীরিক চাহিদা যেমন আছে, মানসিক চাহিদাও তো রয়েছে!
আমি: তাহলে আধুনিক ছেলেমেয়েরা এক্সট্রামেরিটাল বা প্রিম্যারিটাল রিলেশনে যাবে না কেন? লীভ-টুগেদার করবে না কেন?
ডাক্তার রশিদ ভাই: ভাববার মত বিষয়ই বটে!
নাসিম ভাই: আপনাদের একটা ঘটনা বলি। এই মস্কো কম্যুনিটির মধ্যেই। ছেলেটা এখানে পড়ালেখা করেছে। তা বোঝেনই তো, এখানে সে রূপসীদের সাথে এদিক-সেদিক ঠিকই করেছে। কিন্তু তার শেষটা ছিলো ভিন্নরকম।
টিটো: কি রকম?
নাসিম ভাই: ছেলেটার দেশে একজন প্রেমিকা ছিলো। মেয়েটাকে সে ভালোই বাসতো। তা পড়ালেখা শেষ করে সে গেলো বাংলাদেশে, তারপর সেই মেয়েকে দিলো সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব।
এজাজ: ইন্টারেস্টিং! তারপর কি হলো?
নাসিম ভাই: মেয়েটাও ছেলেটাকে ভালোবাসতো। সে সাথে সাথেই মেনে নিলো। তারপর গার্জিয়ানরা আর আপত্তি করতে পারলো না। ওদের বিয়ে হয়ে গেলো।
আমি: ওরা কি এখন বাংলাদেশে থাকে?
নাসিম ভাই: আরে নাহ। তাহলে তো আর এই ঘটনা এক্সসেপশনাল হতো না। ওরা এখন মস্কোতেই থাকে। ছেলেটা এখানে চাকুরী করে, কিছুদিন আগে তার বাংলাদেশী বৌকে মস্কোতে নিয়ে এসেছে।
টিটো: কে সেই ভাগ্যবান? নাম বলা যাবে?
নাসিম ভাই: নারে ভাই, নাম বলবো না।
আমি: কেন? নাম বললে চাকরী থাকবে না?
সবাই হো হো করে হেসে দিলো।

নাসির ভাই: কদিন পরেই নিউ ইয়ার। এদিকে শীত তো জমকালো হয়ে নেমে গেল!
টিটো: শীতকালে শীত তো নামবেই!
আমি: (মুচকি হেসে) শীত নামা মানেই কিন্তু দুটা অসুবিধা!
টিটো: কি অসুবিধা?
আমি: এক. নিউ ইয়ারের পরপরই সেমিস্টার পরীক্ষা হবে।
টিটো: আহহারে! একেবারে কষ্টের কথা মনে করাইয়া দিলেন। একমাস আর কোন আড্ডা-ফাড্ডা চলবে না। শুধু পড়া আর পড়া!
এজাজ: আর দ্বিতীয় অসুবিধাটা কি?
আমি: (আবারো মুচকি হেসে) সেটা হলো, তোমরা আগামী ছয়মাস রূপসীদেরকে আর মিনিস্কার্ট বা ঐ জাতীয় পোষাকে বাইরে দেখতে পাবা না!
টিটো: হা হা হা। এক্কেবারে মনের কথা কইছেন!
রুপালী আপা: তোমরা যে শয়তান! তোমাদের অনেকেই সামারে নদীতীরে যাও বিকিনি পড়া মেয়েগুলাকে দেখতে।
টিটো: এইটা কি বলেন আপা? আমরা তো ওখানে যাই সাঁতার কাটতে। এখন ওরা যদি ঐখানে ঐ বেশে আসে, তাহলে কি দোষটা আমাদের?

সবাই আরেক দফা হাসলাম।

————————————————————-

রাতে ডর্মিটরিতে ফেরার আগে ইন্টারনেট কাফেতে ঢুকলাম ই-মেইল চেক করতে। আনিতার কোন ই-মেইল নেই। তাই ওর মেইল চেক করার বিষয়টা নেই। আর আমার আগ্রহও নাই। আমি মোনালিসার ই-মেইল চেক করতে চাই। ওকে আগের মেইলে লিখেছিলাম, ও নিউ ইয়ার সেলিব্রেশন কিভাবে কোথায় করবে ইত্যাদি।
ইমেইলে মোনালিসার উত্তর পেলাম।
“আমি ইংল্যান্ডে একেবারেই নতুন। আমার এখনো একটা কম্পিউটারও নেই। অন্যের কম্পিউটারে বসে তোমার কাছে ই-মেইল পাঠাই । বুঝতেই পারো! গোছাতে তো একটু সময় লাগবে। নিউ-ইয়ার সেলিব্রেশন কি করবো-টরবো এখনো কিছু বুঝতে পারছি না। কিস ইউ এ্যান্ড হাগ ইউ।” – মোনালিসা


বাইরে এখন জাঁকালো শীত পড়েছে। নিউ-ইয়ার আসার আগে আগে মস্কোতে একটা দারুণ শীত পড়ে। কথিত আছে যে, নিউ-ইয়ারের রাতে যদি ভীষণ শীত পড়ে তো নতুন বছরটা খুবই শুভ হবে। মনে হচ্ছে তারই তোরজোড় চলছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাগিচার পথ ধরে আমার হোস্টেলের দিকে হাটছিলাম। রাত এখন নয়টার কাছাকাছি। তারপরেও পথে লোক চলাচল কমে আসছে।

আমি রুমের দরজা খুলে ভিতরে ঢোকার সাথে সাথেই আমার পকেটে রাখা মোবাইল-টা বেজে উঠলো। লম্বা রিং হয়েছে, তার মানে বিদেশ থেকে কল এসেছে। মোনালিসাই কি ফোন করলো? নাকি আনিতা ইন্ডিয়া থেকে কল করেছে? তাকিয়ে দেখলাম কল এসেছে বাংলাদেশ থেকে। সুইচ অন করে ফোন কানে ধরতেই আমার মায়ের কন্ঠস্বর শুনলাম। উনার কন্ঠস্বর শুনে মনটা আনন্দে ভরে উঠলো! প্রথমে তিনি আমার খোঁজখবর নিলেন, কেমন আছি, পড়ালেখা কেমন চলছে, ইত্যাদি। তারপর হঠাৎ করেই তিনি প্রশ্ন করে বসলেন, “আচ্ছা, তুই কি বিয়েটিয়ে কিছু করেছিস নাকি?”
আমার বুকটা ধড়াক করে উঠলো! উনি হঠাৎ এই প্রশ্ন করলেন কেন? কেউ কি উনাকে কিছু বলেছে?
আমি: বিয়ে? নাতো! কেন?
আম্মা: এম্নিই জিজ্ঞাসা করলাম।
আমার মোনালিসার প্রস্তাবটার কথা মনে পড়লো। মোনালিসাকে মা ভালো করেই চেনেন। এই বিয়েতে উনার আপত্তি করার কিছুই থাকবে না। তাই ভাবলাম উনাকে একটু হিন্টস দেই।
আমি: না। আমি এখনো কোন বিয়ে করিনি। তবে!
আম্মা: তবে কি?
আমি: বিয়ের ব্যাপারে একটা কিছু বলার আছে।
আম্মা: কি বলার আছে?

আমি: আমি পরে আপনাকে জানাবো।

(চলবে)

রচনাতারিখ: ০৩রা অক্টোবর, ২০২০ সাল
সময়: রাত ০৩টা ০১ মিনিট

The Lonely Carnation – 25
—————————- Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.