Categories
অনলাইন প্রকাশনা

প্রকাশ্য চুম্বন – পর্ব ১

প্রকাশ্য চুম্বন – পর্ব ১
————- রমিত আজাদ

“তুমিই প্রথম বাঙালী মেয়ে যাকে আমি চুম্বন করলাম!” ভরাট চোখে তাসনুভার দিকে তাকিয়ে বললো তানভীর। তারপর প্রশ্ন করলো, “ডু ইউ বিলিভ”। সদ্য চুম্বনসুখের স্বাদ পাওয়া চঞ্চলা ঊনবিংশতি তরুনী মাথা নীচু করে লাজুক হেসে মাথা নাড়িয়ে ইশারায় জানালো যে, সে এটা বিশ্বাস করেনা।
তানভীর আরেকবার জোর দিয়ে বললো, “আমি প্রতারণা করবো না। আমি এই বলছি না যে, তুমিই প্রথম নারী যাকে আমি চুমু খেয়েছি। আমি এর আগে অনেক মেয়েকেই চুমু খেয়েছ. তবে তারা ছিলো বিদেশিনী। আর তুমি প্রথম বাঙালী মেয়ে যে আমাকে এই সুখ দিয়েছ!”
এবার চোখ তুলে তাকালো তাসনুভা। তার চোখ দেখে মনে হলো, তানভীরের কথাটা সে বিশ্বাস করেছে।

তাসনুভাঃ আপনি বিদেশে গিয়েছিলেন কত বছর বয়সে?
তানভীরঃ উনিশ বছর বয়সে।
তাসনুভাঃ ওখানে ইউনিভার্সিটিতে পড়তে গিয়েছিলেন, তাই না?
তানভীরঃ হ্যাঁ।
তাসনুভাঃ এর আগে দেশে থাকতে আপনার কেউ ছিলো না?
তানভীরঃ না, ঐভাবে কেউ ছিলো না। আমার বয়সতো তখন খুব কম ছিলো।
তাসনুভাঃ আজকাল তো ঐ বয়সেই অনেক কিছু হয়।
তানভীরঃ হতে পারে। তবে আমাদের সময়ে বাংলাদেশের সমাজ কিছুটা ক্লোজড ছিলো।
তাসনুভাঃ কনজারভেটিভ ছিলো?
তানভীরঃ ‘কনজারভেটিভ’ শব্দটি ব্যব হার করবো কিনা জানিনা। শব্দটির অর্থ তো অনেক ব্যাপক।
তাসনুভাঃ আপনি অনেক জানেন। আমি অত কিছু জানি না। মাত্র তো ইউনিভার্সিটিতে থার্ড সেমিস্টারে পড়ি।
আরেকবার তাসনুভার দিকে তাকালো তানভীর। মেয়েটি খুব সুন্দরী, তবে সদ্য যৌবনা। সত্যি কথা বলতে কি মেয়েটিকে প্রথম দেখায়ই ভালো লেগেছিলো তানভীরের। সদ্য প্রস্ফুটিত গোলাপের মত মেয়েটিকে ভালো লাগার অনেকগুলো কারণই ছিলো। তবে তাসনুভা-কে এই কথাটি কখনো বলেনি তানভীর। তাসনুভা-ই প্রথম এসেছিলো ওর কাছে। এ যেন ছিলো, মেঘ না চাইতেই জল!

তানভীরঃ তোমার বয়স কত তাসনুভা?
তাসনুভাঃ উনিশ বছর।

তানভীর এবার ভাবতে শুরু করলো, মেয়েটির সাথে সে যা করছে, তা ঠিক হচ্ছে কিনা? ওর বয়স তো সেই অর্থে খুবই কম। তানভীর নিজে তো ওর চাইতে বয়সে অনেক বড়! আবার ভাবলো, মেয়েটিতো নিজে থেকেই ধরা দিয়েছে, সে তো আর জোরপূর্বক কিছু করছে না, বা প্রতরণাও করছে না। অতএব সমস্যা কি? তানভীর আবার ভাবলো, নিজের বিবেকের কাছে কি সে দায়ী থাকবে। এদিকে মেয়েটি তার একটা অভাব পূরণ করতে যাচ্ছে। খুব অল্প বয়সে দেশ ছেড়েছিলো তানভীর। নারীসঙ্গ চায় না এমন স্বাভাবিক পুরুষতো আর নেই এই দুনিয়ায়। তবে বিদেশে যত সুধা সে পান করেছে, তারা সবাই-ই ছিলো বিদেশিনী। কিন্তু তানভীরের বাঙালী মন চিরকাল চেয়েছিলো একটি বাঙালী মেয়ের ভালোবাসা। তাসনুভা-কে দিয়ে এই অভাব-টা সে পূরণ করতে পারবে। তানভীর তার দীর্ঘ প্রবাস জীবনে দেখেছে যেসব বাঙালী ছেলেরা অল্প বয়সে দেশ ছেড়েছে এবং তার জীবনে কেবল বিদেশিনীদেরই সংস্পর্শ পেয়েছে, তাদের মন বাঙালী ললনার স্বাদ পাওয়ার জন্য আকুলী-বিকুলি করে!

তাসনুভাঃ আমি তাহলে যাই আজকে?
তানভীরঃ যাবে? আর কিছুক্ষণ বসলে ভালো লাগতো। আচ্ছা যাও তাহলে আজকে। আবার আসবে কবে?
তাসনুভাঃ আমি ফোন করবো।
তানভীরঃ ওকে। বাই দ্যা বাই, আমি যদি তোমাকে ফোন করি, কোন সমস্যা হবে?
তাসনুভাঃ না। আমি আপনার সাথে কথা বলার পর কলটা ডিলিট করে দিব।
তানভীরঃ তাই? কিন্তু তোমার মোবাইলে যে আমার নামটা সেইভ করা আছে ওটার কি হবে?
তাসনুভাঃ জ্বিনা। আপনার নাম নাম্বার কোনটাই আমার টেলিফোনে সেইভ করা নাই।
তানভীরঃ তাহলে বোঝ কি করে, যে ওটা আমার নাম্বার? (অবাক হয়ে জানতে চাইলো তানভীর)
তাসনুভাঃ আপনার নাম্বারটা মুখস্থ আছে আমার।
বাহ! মেয়েটাতো বেশ ইন্টেলিজেন্ট! ভাবলো তানভীর।

চেয়ার ছেড়ে উঠলো তাসনুভা। তানভীর আবারো তৃষিত দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে। তাসনুভার দেহবল্লরীর প্রতিটি ভাঁজই অপূর্ব লাগছে তার কাছে। আবার তার দিকে এগিয়ে এলো তানভীর।

তানভীরঃ যাওয়ার আগে আর একবার?
এবার আর কোন বাধা দিলো না তাসনুভা, যেই সংকোচটা সে প্রথমবার করেছিলো। আইস ব্রেকিং হয়েছে বোধ হয়।
আলতো আলিঙ্গনে তাসনুভার আরক্তিম কপোলে উষ্ণ চুম্বন করলো তানভীর। তাসনুভার শরীরে কি হলো জানে না তানভীর, তবে তার সর্বাঙ্গে গেয়ে উঠলো গান পাহাড়ী ঝর্ণার কলতান!

হঠাৎ কার্লার কথা মনে পড়লো তানভীরের। বলিভিয়ান মেয়ে কার্লাই প্রথম তাকে প্রকাশ্য চুম্বন করেছিলো। দৃশ্যটা এখনো স্পষ্ট মনে পড়ে। কার্লার প্রতি দুর্বলতা ছিলো তানভীরের। কিন্তু সেকথা তাকে কখনো বলেনি তানভীর। সেই কার্লার সাথেই সহসা ঘটেছিলো ঘটনাটা। ইউনিভার্সটির সামনের রাস্তাটির বাসস্ট্যান্ডের সামনে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে আরেকজন বাংলাদেশীর সাথে কথা বলছিলো তানভীর। হঠাৎ এই সময়েই একটা বাস এসে থামলো স্টপেজে, বাসের অটোমেটিক দরজা খুলে গেলো । আর সেখান থেকে প্রথম যেই যাত্রিটি বেরিয়ে এলো সে ছিলো কার্লা। কার্লার দিকে চোখ তুলে তাকাতেই, সে এগিয়ে এসে প্রকাশ্য চুম্বন করলো তানভীরের গালে। তানভীরের মনে হয়েছিলো, এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব চাইতে সুখী মানুষ সে। যেন যুগ যুগ ধরে সে অপেক্ষা করছিলো এমন একটা মুহুর্তের!

তানভীরের দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার দেশী বন্ধু। বললো, “আমি তাহলে যাই।” কপোত-কপোতীর একান্ত সময়ে তাদের মধ্যে আর থাকতে চায় নি থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার। এটাই ওখানকার কালচার। তানভীর বুঝতে পেরেছিলো, সে এতদিন যেটা চেয়েছিলো সেটাই হতে যাচ্ছে। কার্লার দিকে তাকিয়ে বললো, “চলো কোন ক্যাফেতে গিয়ে বসি।” মিষ্টি হেসে কার্লা বলেছিলো, “চলো বসি”।

(চলবে)

——————————————————————————
সময়: রাত আট-টা দশ মিনিট
তারিখ: ২৫শে জুলাই, ২০১৮

চুম্বনের স্বাদ
———— ড রমিত আজাদ
০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৪

আনত নয়নের তলে মিশে থাকা উদগ্র বাসনা,
তুলে ধরে পানপাত্র নেশাগ্রস্ত অধর মদিরার,
সর্বাঙ্গে গাহিয়া ওঠে গান প্রাচীন ঝর্ণার,
ধরা দিয়ে বাহুডোরে তৃষিত হৃদয় রাখে অধরে অধর।
কঠিন দেহের আলিঙ্গনে দুটি কোমল কুসুম,
হৃদয়ের ব্যকুলতা বাসনা হয়ে মিশেছে অধর মিলনে,
ঘণিভূত কুয়াশা ঝরেছে শিশির হয়ে ওষ্ঠদ্বয়ের স্পর্শরেখায়,
প্রণয়ে লাজ ভেঙে সজল আবেগে হয়েছে বিলীন ঐ চুম্বনের স্বাদে।

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.