প্রজা থেকে নাগরিক এবং একটি রাষ্ট্র গঠন করার সফল বিপ্লব

প্রজা থেকে নাগরিক এবং একটি রাষ্ট্র গঠন করার সফল বিপ্লব:

আমাকে একবার একজন প্রশ্ন করেছিলেন, “শের-ই-বাংলা-র পার্টির নাম ছিলো ‘কৃষক প্রজা পার্টি’, কৃষক তো বুঝলাম, কিন্তু প্রজা শব্দটি কেন ছিলো?” তিনি উচ্চ শিক্ষিত ও যথেষ্ট ভালো পদ-পদবীওয়ালা একজন মানুষ ছিলেন। আমি উনাকে বিশেষ সম্মান ও শ্রদ্ধা করতাম। বুঝলাম, উনার কোন দোষ নাই, আসলে স্কুল কারিকুলামেই বিষয়টি খোলাসা করে লেখা নাই, তাই পরবর্তি প্রজন্মের অনেকেই বিষয়টা সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন না, আর নতুন প্রজন্মতো প্রায় কিছুই জানে না।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ইংরেজ উপনিবেশিক-রা ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ নামে একটি ঘৃণ্য পদ্ধতি চালু করে আমাদের দেশে একটি জনঅমঙ্গলজনক সামন্ততন্ত্র চালু করেছিলো। যেই তন্ত্রে বৃটিশের তল্পিবাহক সামন্তপ্রভু জমিদার-রা ছিলো ‘রাজা’ আর বাকি দেশবাসী সবাই ‘প্রজা’। সামন্ততন্ত্রে প্রজাদের কোন অধিকার থাকে না! তাই সেই তন্ত্রের শোষনের যাতাকলে পিস্ট হয়ে জাতি দ্রুতই শ্রীহীন হয়ে মুর্খ ও হাড়জিরেজিরে হয়ে পড়ে। শেরে বাংলা ও তাঁর সমসাময়ীক বাঙালী নেতা ও বুদ্ধিজীবিরা বিষয়টি সম্যকভাবে অনুধাবন করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তাই উনাদের মরণপণ সংগ্রাম ছিলো ঐ গণবিরোধী সামন্ততন্ত্র উৎখাত করা। সামন্ততন্ত্র উৎখাত করে গঠন করতে হবে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। যেখানে থাকবে না কোন রাজা-প্রজা সম্পর্ক! সবাই হবে ‘নাগরিক’। উনাদের, মানে আমাদের পিতামহদের মরণপণ সংগ্রাম সফল হয়েছিলো। উনারা সমর্থ হয়েছিলেন হিন্টারল্যান্ড হিসাবে ব্যবহৃত অবহেলিত এই ভুখন্ডে একটি রাষ্ট্র গঠন করার বিপ্লব সাধন করতে।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম নিয়ামক হলো নাগরিকদের ভোটের অধিকার। আমাদের পিতামহ ও পিতা-পিতৃব্যরা যে অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বুকের রক্ত ঢেলে দিতেও দ্বিধা করেন নি। কোন দেশে ভোট ডাকাতি হলে সেই অধিকারের শ্বাসরোধ করা হয়। রুমেনীয় শাসক নিকোলাই চসেস্কুর বিচারের সময়ে একজন আইনজীবি উচ্চকন্ঠে বলেছিলেন, ” চসেস্কু, আপনি সমগ্র জাতির আত্মার শ্বাসরোধ করেছিলেন!!!”

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.