Categories
অনলাইন প্রকাশনা

প্রেমপত্রের ঝড়

প্রেমপত্রের ঝড়
—————————- রমিত আজাদ

হঠাৎ করে আজ যে এলো, কালবোশেখী ঝড়;
স্বপ্নগুলো কেমন যেন উড়ছে মাথার পর।
প্রেমের চিঠি উড়ছে যেন একের এক,
বলছে তারা, “ভুলেই গেলি? দেখরে চেয়ে দেখ!”

ঐ তো সেথায় প্রথম চিঠি, প্রথম প্রেমের দাগ!
কাঁপা কাঁপা হাতের ছোঁয়ায় প্রথম অনুরাগ!
প্রথম যেদিন দেখি তারে, বাজলো প্রথম বাঁশি;
মুচকি হেসেই পালিয়ে গেলো, মুক্তো ঝরা হাসি!

ঐ চিঠিটা একটু পরের তখন তারে চিনি,
ছুটির পরে তার আশাতেই ঘন্টাধ্বনি গুনি।
পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকি, দেখবো তাকে বলে;
বিদ্যালয়ের পোশাক গায়ে ঐ পথে সে চলে।

নীল চিঠিটা আরো পরের, বছর দুয়েক গেলে;
আমি লিখি, সেও লেখে, পাল্লা দিয়ে চলে!
মাঝে মাঝে বিকেল বেলায় নদীর তীরে দেখি,
দূর থেকে তার হাত নাড়ানোর বাতাস গায়ে মাখি।

আর ঐ চিঠিটা পাগলামী তার, রাগ করেছে মন!
মান-অভিমান চলছে তখন, বৃথাই সারাক্ষণ।
বৃষ্টিসম ঝরছে আঁখি, ভিজছে চোখের পাতা।
তারই সাথে ভিজলো চিঠি, ভিজলো পড়ার খাতা।

রুলটানা ঐ কাগজটাতে যেই চিঠিটা লেখা,
সেই বেলাতে মাঝে-সাঝে হচ্ছে মোদের দেখা।
পারিবারিক মিলন কিবা ঈদ-মিলাদে দাওয়াত পেলে।
সুযোগ হলেই কাছাকাছি, বলছি কথা মনটা খুলে।

আমার তখন বয়স উনিশ, তার ফুরলো ষোল,
সরব-নীরব সব ভাষাতেই মনের কথা হলো।
চিঠির পরে চলছে চিঠি প্রেমের মহাকাব্য,
হৃদয় জুড়ে খোদাই করি, কার কথা কে ভাববো?

লাল চিঠিটা যখন লিখি তখন যাবো অনেক দূর,
বিদেশ থেকে কল এসেছে, পড়তে যাবো অচিনপূর!
ঐ চিঠিটা ওর হাতে আর হয়নি দেয়া তাই,
বন্ধু হাতেই গুঁজে দিলাম, “পৌছে দিও ভাই।”

এরপর তো অনেক বছর কেউ লিখিনি চিঠি,
মনে মনেই তাকে ভাবি, মনের পটেই দেখি।
বছর কয়েক ফুরিয়ে গেলে হঠাৎ দেখি একি!
সাত সাগরের ওপার থেকে আসলো তাহার লিপি!

সেও গিয়েছে আরেক দেশে, গড়বে সেথায় ভাগ্য,
আমার মত সেও নিয়েছে নির্বাসনের যজ্ঞ!
দেশ তো আছে যেমন ছিলো, আমরা শুধু দূরে দূরে;
একমুখী এক টিকিট কেটে যে যার মত আছিই সরে।

চিঠি লেখার চল তো কবেই উঠে গেছে জগৎ থেকে,
এখন সবাই ইমেইল করে, আকাশ জুড়ে জালক পেতে।
আমিই শুধু রইনু পড়ে সেকেলে এক বুড়োর মত,

আজও তারে লিখছি চিঠি কাব্য কথার ছলে যত!

রচনাতারিখ: ২২শে এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: আত ১২টা ২০ মিনিট

The Storm of Love Letters
——————— Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.