Categories
অনলাইন প্রকাশনা

প্রেম, বিয়ে, ভাগ্য

প্রেম, বিয়ে, ভাগ্য:

ঠিক পরষ্পর বিপরীত চরিত্রের দুজনের মধ্যে বিয়ে হলে কেমন হয়, এই নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। কোন একটা কারণে এদের মধ্যে বিয়ে হয়। ঘর-সংসার হয়, মনের মিল না হওয়া সত্বেও টিকে থাকে ঐ সংসার। সংসারের প্রয়োজনেই সংসারকে টিকিয়ে রাখতে হয়!

আবার মনের মিল হয়েছে প্রেম হয়েছে কিন্তু শেষতক বিয়ে হয়নি, এমনও দেখেছি। স্বচ্ছ সুন্দর স্ফটিকের মধ্যেও যেমন হঠাৎ খাঁদ থাকে, ঐ সম্পর্কেও সামান্য খাঁদ ছিলো। ঐ খাঁদের জন্যই হয়তো শেষতক বিয়েটা হয়নি।

আবার সমবয়সী সহপাঠি-সহপাঠিনীর মধ্যে এমন প্রেম হয়েছে, যেই প্রেমের কথা কখনো কেউ কাউকে বলেনি। শুধু একে অপরের নয়নের ভাষা পড়ে নিয়েছে। তারপর মেয়েটির বিয়ে হয়েছে অন্যত্র এক ধনকুবেরের সাথে। মেয়েটিই স্বামী চুজ করেছিলো ধনকুবের বলেই। সেই বিয়ের পরেও মেয়েটি তার সহপাঠির সাথে কার ড্রাইভিং-এ গিয়েছে, বোট রাইডিং করেছে, রেস্টুরেন্টে বসে মন খুলে কথা বলেছে। এ সব কিছুই করেছে কিছুটা মনের উষ্ণতা পাওয়ার আশায়, যা তাকে কোনদিনও দেয়নি তার ধনকুবের স্বামী।

বলি বলি করে বলা হয়নি, তারপর দুজন হয়ে গেলো অন্য দুজনার। তারপর একটা বয়স পরে তারা একে অপরের নয়নের ভাষা পড়তে পারলো। নীরবে আফসোস করলো দুজনায়। এরপর তাদের দুজনার মধ্যে প্রেম না হলেও হলো গাঢ় বন্ধুত্ব। যা রয়ে গেলো চিরকাল।

অসম প্রেমের কাহিনী আছে। প্রায় দ্বিগুন বয়সের পুরুষের প্রেমে পড়েছে সদ্য যৌবনা তরুণী। যাদিও জানে যে এই প্রেমের কোন পরিনতি নাই, তারপরেও ভালোবাসা! হৃদয়কে তো আর বেঁধে রাখা যায় না।

দূরত্বের প্রেম কাহিনী আছে। একেবারে প্লেটনিক প্রেম। সেই কিশোর বয়স থেকেই প্রেম, অথচ তারা দুইজন থাকে দুই শহরে। তারপরের ছেলেটি যখন মেয়েটির শহরে এলো, মেয়েটি গেলো বিদেশে। মেয়েটি ফিরে এলো, এবার ছেলেটি গেলো বিদেশে। ছেলেটি ফিরে এলো, এবার মেয়েটি ইমিগ্রান্ট হয়ে পাড়ি জমালো ভিনদেশে। হায়রে কপাল! এই দূরত্বের কারণেই তাদের প্লেটনিক প্রেম আর কোন পরিণতি পায়নি।

পারস্পরিক ভালোবাসা নেই তারপরেও সংসার টিকে আছে কেবল একপাক্ষিক ভালোবাসার কারণে, এমনও দেখেছি।

নার্গিস-নজরুলের প্রেম তো ছিলো একেবারেই এক্সোটিক! প্রেম হলো, বিয়েও হলো, কিন্তু সংসার হলো না কোনদিনও!!!
‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো, তবু আমারে দেব না ভুলিতে।’ ‘শাওন এলো যে ফিরে, সে ফিরে এলো না, বরষা ফুরায়ে গেলো, আশা তবু গেলো না’।

পরকীয়া, গুরু-শিষ্যার প্রেম, বস-কর্মচারী প্রেম, রুপাজীবার সাথে প্রেম, ললিতা প্রেম, অফিস রোমান্স, এগুলো অবাস্তব কিছু নয়, সমাজেই ঘটে। তারপরেও এইগুলা নিয়ে লিখতে কলম চলে না। বিপ্লবী লেখকরা মাঝে মাঝে লিখেছেন এই নিয়ে।

নারী-পুরুষ সম্পর্কের জটিলতা যেমন ছিলো অতীতে তেমনি হয়তো থেকে যাবে জনম জনম।

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.