অনলাইন প্রকাশনা
ব্যতিক্রমী-নির্লজ্জ উলঙ্গ বিয়ে !

ব্যতিক্রমী-নির্লজ্জ উলঙ্গ বিয়ে !

 
“শুভ বিবাহ” শব্দটা শুনলেই যেনো সবার মনটা আনচান করে উঠে। বর-কণে, উৎসব-আনন্দ সহ অনেক কিছুই মিশে রয়েছে বিবাহ শব্দটির মধ্যে। বিয়ে একটি মানবিক বিষয়। মানুষ যখন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে উঠে তখন সে তার জৈবিক চাহিদা মেটানো ও পারিবারিক কাঠামো তৈরি করার জন্য ধর্মীয় রীতি নীতি অনুযায়ী বিয়ে করে থাকে। মানুষের জন্ম লগ্ন থেকে শুরু করে আজ অবধি বিশ্বে বিয়ে প্রথা প্রচলিত আছে এবং থাকবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নিয়মে বিবাহ সম্পন্ন করা হয়। বিয়েকে ঘিরে উৎসব আমেজও বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। বিয়েতে সাধারণত বিয়ের দিন বর ও কণে উভয়ই ঐতিহ্যগত ও ধর্মীয়ভাবে ঝলমলে পোশাক পরিধান করে থাকে। বর্তমান আধুনিক সমাজে প্রত্যেকটা বিষয় পরিবর্তন হচ্ছে ঠিক তেমনি বিয়ের উৎসবেও এসেছে অনেক পরিবর্তন ও নতুনত্ব। আধুনিক এই বিশ্বে মানুষ সব কিছুতেই একটু ব্যতিক্রম খোজার চেষ্টা করে। ফলে পৃথিবী আধুনিক হচ্ছে নাকি অসভ্য হচ্ছে সেটাও একটি মূল্যবান প্রশ্ন। আপনারা হয়তো ভাবছেন বিয়ের অনুষ্ঠানে আবার সভ্য-অসভ্যের কথা আসছে কেন? আসছে এই কারণে যে, বিয়েতে ব্যতিক্রম আনার জন্য মানুষ সভ্যতার চূড়ান্ত সীমা লংঘন করে ফেলছে। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে, একটি বিয়ে অনুষ্ঠান চলছে আর সেখানে বর কণে পুরো উলঙ্গ হয়ে বসে আছে। হয়তো এমন অবস্থা কল্পনাও করতে পারছেন না। কিন্তু এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে জ্যামাইকাতে। আর এই ঘটনাটি বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বিশ্ব ব্যাপী।
২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী তারিখে জ্যামাইকার সমুদ্র সৈকতে আয়োজন করা হয়েএক নগ্ন বিয়ের উৎসব। যে বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ে পড়ানো হয় ৯ জোড়া বর কনেকে। যে অনুষ্ঠানটি ছিল খুবই রুচিহীন ও সমালোচনা মুখর। এ দিন বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কণের পায়ে দামি জুতা, হাতে রিস্টব্যান্ড এবং গলায় টাই আর নেকলেস থাকলেও তাদের শরীরে ছিল না কোনও পোশাক। শরীরে কোনও পোশাক না থাকলেও যথারীতি কনেদের অনেকের মাথায়ই ছিল ঘোমটা বা অবগুণ্ঠন! আবার দু-একজন কণে মুকুট বা হ্যাটও পরেছিলেন। উলঙ্গ বর-কনেরা যাতে সহজেই সবার চোখে পড়ে সেজন্য তাদের দেহে বাড়তি সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে তাদের শরীরে ব্যবহার করা হয়েছিল উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করার পেইন্ট! আর কনেদের হাতে লাগানো হয়েছিল লাল, সাদা আর হলুদ রংয়ের বাহারি ফুল।
নয়টি নগ্ন জুটির আলোচিত-সমালোচিত এ গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জামাইকার নেগ্রিল সমুদ্র সৈকতে উন্মুক্ত আকাশের নিচে। এমন নির্লজ্জ ও উদ্ভট নগ্ন বিয়ের আয়োজন করেছিল ‘দ্য হেডোনিজম টু রিসোর্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করার পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে বহন করেছে এই নয় জুটির নগ্ন হয়ে বিয়ে করার যাবতীয় খরচও।
নগ্ন বিয়ের এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারীদের বাছাই করার জন্য ‘কেন তোমরা নগ্নতার মধ্য দিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে চাও?’ এ প্রশ্নটিসহ আরও কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়। এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তরদাতার মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয় ১০০ জুটিকে। পরে এদের মধ্য থেকে বাছাই করা হয় ভাগ্যবান সেরা ১০ জুটিকে। যাদের প্রদান করা হয় নগ্ন বিয়ের বিশেষ সুযোগ। আনন্দের বিষয় এই যে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য মোট ১০টি জুটি নির্বাচন করা হলেও পরে একটি জুটির শুভবুদ্ধির উদয় হলে তারা এই অনুষ্ঠান থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। ফলে অনুষ্ঠানটি নয়টি জুটিকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
নগ্ন বিয়েতে অংশ গ্রহণ করে এই নয় জুটি নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান ভেবেছে। অবশ্য বিশ্বের বিবেকবান মানুষরা ভেবেছে তারাই সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব। এই বিয়েকে ঘিরে জ্যামাইকা সহ সমগ্র বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিবেকবান মানুষেরা আশা করেন আধুনিকতা বা ব্যতিক্রমতার নামে ভবিষ্যতে কেউ যেনো আর কোনও দিন এই ধরনের নির্লজ্জ কাজে অংশ গ্রহণ বা আয়োজন না করে।
– (সুমন)

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.