মেট্রোরেলে প্রেম (পর্ব ৮)

মেট্রোরেলে প্রেম (পর্ব ৮)
(কঠোরভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)
——————————————– রমিত আজাদ

মস্কো নগরীটি বিশাল! তার জনসংখ্যা ও বিশালত্বের বর্ণনা ইতিমধ্যেই দেয়া হয়েছে। এখানে ইনসিডেন্টালি দেখা হয়ে যাওয়া কারো সাথে দ্বিতীয়বার আর দেখা হয় না সাধারণত:; একথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু নয়নের এমন একাধিকবার হয়েছে। একবার মাঝ ডিসেম্বরের তুহীন শীতের রাতে রাজপথে দাঁড়িয়ে ট্যাক্সি খুঁজছিলো নয়ন। কাছে এসে থামলো একটি ট্যাক্সি। নয়ন জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বললো, “রুবলোভকায় যাবো। কত নিবেন?” অ-রুশী উচ্চারণে মাঝ বয়সী ট্যাক্সিচালক পুরুষটি বললো, “তিনশত রুবল।” তার কথার উচ্চারণ ও দেহাবয়ব দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, মধ্য-এশিয়ান মানুষ। নয়ন তাকে বললো, “দুইশত রুবল।” এবার ট্যাক্সিচালক পুরুষটি বললো, “না তোমার দাবী, না আমার দাবী; মাঝামাঝি হোক, দুইশত পঞ্চাশ রুবল। যেমনটা হয়েছিলো সেইবার। হা হা হা!!!” এবার নয়ন-ও জোরে হেসে ফেললো। আরে তাইতো! মাসখানেক আগে তো এই ট্যাক্সিচালকের ট্যাক্সি চড়েই সে বাড়ীতে গিয়েছিলো। দ্রুত উঠে গেলো তার গাড়ীতে। এখান থেকে এই শীতের রাতে নয়নের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগবে, একঘন্টা তো মিনিমাম। এর আগের বার তার সাথে বেশি কথা হয় নাই, শুধু মনে আছে যে লোকটা আজারবাইজানের। আজ সে গল্প জুড়ে দিলো, “বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন আমি জানি না। তবে আজারবাইজানের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। তাই আমি মস্কোতে ট্যাক্সি চালাই। এখানে ইনকাম ভালো। আর আমাদের ওখানে খরচা কম। যে টাকা এখানে কামাই তাই দিয়ে আমার পরিবার ওখানে ভালো-ই থাকে। আমার মেয়েটা বড় হয়েছে, সামনে তার বিয়ে। তুমি তো আমার মতই মুসলমান; তুমি তো জানো যে, মেয়ের বিয়েতে টাকা-পয়সা খরচ করতে হবে। আমি এখান থেকে টাকা পাঠাই, আর আমার বৌ আমাদের মেয়ের সংসারে যা লাগবে, মানে আসবাবপত্র, হাড়ি-পাতিল, ডিনার সেট, ইত্যাদি কিনতে থাকে। কোন পিতামাতাই তো চায়না যে কন্যা খারাপ থাকুক। আর একটা পনেরো বছর বয়সের ছেলে আছে আমার। বৌ আর দুইটা সন্তান। বুঝলা?” নয়ন বললো, “জ্বী, বুঝলাম। ভালো। সৎ পথে কাজ করে সংসার চালাচ্ছো, গুড।”

ট্যাক্সিচালক একটু চুপ থেকে বললো, “ওটাই আমার মূল সংসার। তবে কি, ঐ ইয়াং বয়সের মিসটেক আর কি! আমার আবার আরেকটা ছোট বৌ আছে। মানে ইয়াং রূপসী মেয়েটাকে পছন্দ হয়ে গিয়েছিলো, তখন গোপনে ওর সাথে দেখা করতাম। তারপর বোঝই তো গোপনে বিয়ে-শাদীও করে ফেললাম। তা ঐ ঘরেও একটা ছোট ছেলে আছে আমার। আমি ওদেরকেও খরচাপাতি দেই।”

নয়ন: বিয়ে করেছ, ঐ মেয়েটিকে?
ট্যাক্সিচালক: হ্যাঁ হ্যাঁ, অবশ্যই বিয়ে করেছি। আজারবাইজান তো মুসলিম সমাজ। ওখানে ইউরোপের মত ওসব চলে না। বিয়ে না করে মেয়ের সাথে শারীরীক সম্পর্ক করা যাবে না।
নয়ন: তোমার বড় বৌ ওর বিষয়ে জানে?
ট্যাক্সিচালক: শুরুতে জানতো না। গোপনে বিয়ে করেছিলাম তো! তা কতদিন আর সত্য গোপন থাকে? একসময় তো জেনে গেলোই।
নয়ন: তোমার বৌয়েরা একজন আরেকজনকে চেনে।
ট্যাক্সিচালক: বিলক্ষণ চেনে! তবে তারা দেখা-সাক্ষাৎ করে না। একবার ইনসিডেন্টালি দেখা হয়ে গিয়েছিলো তাদের দুজনার। তারপর যে ফাইট হলো, তা বলার মত না। হায় হায় হায়!!!
নয়ন: হুম!
ট্যাক্সিচালক: কি করবো বলো পুরুষ মানুষ আমি। তাই দুইটা বৌ আছে। আবার এখানে এই মস্কোতেও আমার একটা প্রেমিকা আছে।
নয়ন: তাই নাকি?
ট্যাক্সিচালক: হ্যাঁ। কোরিয়ান মেয়ে। মানে সোভিয়েত কোরিয়ান।
নয়ন জানে যে এই দেশে ছোট একটা কোরিয়ান কম্যুনিটি আছে। তারা কয়েক পুরুষ আগে কোন এক সময়ে কোরিয়া থেকে এসেছিলো এই দেশে।
ট্যাক্সিচালক: সুন্দর মেয়েটা। আমার সাথেই থাকে এ্যাপার্টমেন্টে।
নয়ন: তাই বুঝি?
ট্যাক্সিচালক: কি করবো বলো? দেশে বৌ আছে, তাতে কি? আমি জীবিকার তাগিদে মস্কোতেই থাকি মাসের পর মাস। আমার তো একটা চাহিদা আছে তাই না?
তারপর ট্যাক্সিচালক সিরিয়াস টোনে কনফেস করার মত করে বললো,
“বুঝলে ভাই, পুরুষোচিত প্রকৃতির ডাক! মাঝরাতে যখন হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, মন ও শরীর উভয়েই চায় যে, হাতের কাছেই থাক ‘নারীর যোনী’। দন্ডায়মান উত্তেজিত পুরুষাঙ্গকে তুষ্ট করার জন্য এটা খুবই প্রয়োজন।”

নয়ন, তার কথা শুনে প্রাণখুলে হাসতে হাসতে ভাবলো। নেইভ লোকটা কি ভুল কিছু বলেছে? নয়ন এমন অনেক পুরুষকে দেখেছে যে, ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর বা প্রেমে কঠিন ঘাত খাওয়ার পরেও নতুন করে বিয়ে বা প্রেম করে। কেন? ঐ পুরুষোচিত প্রকৃতির ডাকেই কি?

এত রাতে ট্য়াক্সিতে কেন যাচ্ছে নয়ন? রাত বেশী হলে মেট্রোতে চড়ে না নয়ন। তখন মেট্রোর বগিগুলোতে যাত্রী থাকে খুব কম। রিস্ক আছে, আজকাল কিছু শয়তানের উপাসক তৈরী হয়েছে শহরে। রাতের মেট্রোতে ওদের দেখা যায়! তাছাড়া স্টেশনগুলির বাইরেও হোলিগান কর্তৃক আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভীষণ খারাপ অবস্থা!

সকালের দিকে মেট্রোতে চড়েই গন্তব্যে যায় নয়ন। একদিন ঠিক সকাল না, দুপুর বারোটা নাগাদ হবে মেট্রোতে চড়ে যাচ্ছিলো নয়ন।হঠাৎ একটা কাপল চোখে পড়লো তার। লোকটার বয়স অনেক ফিফটি প্লাস হবেই। তার সাথে যে মেয়েটি তার বয়স খুবই কম, বড় জোড় একুশ হতে পারে। তাহলে তারা একত্রে কেন? তারা কি পিতা-কন্যা? উহু, মনে হয় না। যেভাবে মেয়েটি ঐ পুরুষটির বাহুলগ্না হয়েছে, তাতে মোটেও তারা বাবা-মেয়ে নয়! পুরুষটিকে দেখে যথেষ্ট ধনী মনে হলো। তাহলে তারা গরীবের বা মধ্যবিত্তের বাহন এই মেট্রোতে চড়েছে কেন? সেটা একটা খেয়ালও হতে পারে, আজ হয়তো তরুণীটি বায়না ধরেছে যে, সে মেট্রোতে চড়ে যাবে। আবার বাইরে খুব জ্যাম থাকলে সময় বাঁচানোর জন্যও অনেকে মেট্রোতে উঠে পড়ে। বয়স্ক পুরুষের সাথে কচি মেয়ে, এই বিষয়টি নিয়ে শুনেছে নয়ন। তবে দেখলো এই প্রথম। পাশ্চাত্যে এই রীতি অনেক আগে থেকেই চালু আছে। ভারতেও আছে, সেই প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে, মুজরা, বাধা-বাঈজী ইত্যাদি। এই দেশে যদি থাকেও তবে তা রাখ-ঢাক করে ছিলো। কিন্তু এখন মনে হয় ওপেন হতে যাচ্ছে। এইগুলা সাগরের ঢেউয়ের মত, প্রথম ঢেউ শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপে, তারপর চলতে চলতে সেই ঢেউ পৌঁছায় পূর্ব-ইউরোপে, অবশেষে এশিয়ায়, দক্ষিণ-এশিয়ায়। এদেরকে বলে সুগার বেবি ও সুগার ড্যাডি।

‘সুগার ড্যাডি’ বলতে সাধারণত সম্পদশালী বয়স্ক এমন ব্যক্তিকে বুঝানো হয়, যিনি যৌন সুবিধা পাওয়ার বিনিময়ে অল্প বয়স্ক তরুণীদেরকে আর্থিক সহায়তা দেন। খুব অল্পবয়সী একটা মেয়ের ‘সুগার ড্যাডি’ চুজ করার পিছনে মূল কারণটাই হলো অর্থ। ‘সুগার ড্যাডি’-র কাছ থেকে প্রাচুর্য ও প্রেম দুইটাই পাওয়া যায়। অনেকের তো রাতারাতি জীবনধারাই বদলে যায়। দামি গাড়ি, দামি বাড়ি, বাহারি পোশাক, বিলাসী জীবন, ইত্যাদি। কোথায় পাওয়া যায় সুগার বেবিদেরকে? অভাব নাই, রাজপথেই তো চলছে কত রূপসী স্বল্পবসনারা। তাছাড়া এই জমানা নেটের জমানা। যেই দুনিয়া বাইরে আছে ঐ দুনিয়া নেটেও আছে। নেটেই এখন আছে সুগার বেবি খুঁজে পাওয়ার হাজারটা সাইট!

তবে পোষাকী হলিউডি ফিল্মের মতন, অর্থ ও যৌনতাই মানবজাতির সবটা নয়। নিখাঁদ প্রেমও রয়েছে এই দুনিয়ায়। সাদা মেঘ ও কালো মেঘ দুই-ই তো আকাশে ওড়ে!

অনেকগুলো বছর আগে যাযাবরের ‘দৃষ্টিপাত’-এ পড়েছিলো নয়ন: ভালোবেসে কেবল ছেলেরাই ত্যাগ স্বীকার করেছে ও ইতিহাস গড়েছে। কথাটি তখন কেন জানি পছন্দ হয়নি ও বিশ্বাস হয়নি তার। কিন্তু তখন নয়নের কাছে তথ্য-উপাত্ত ছিলোনা বলে যাচাই করার সুযোগ ছিলোনা। তবে পরবর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একটি নাটিকায় অংশগ্রহন করতে গিয়ে জেনেছিলো সে, এমন এক প্রেমের কাহিনী যেখানে মেয়ে ভালোবেসে ত্যাগ স্বীকার করেছিলো ও ইতিহাস গড়েছিলো।

১৮০৪ সালে আমেরিকা মহাদেশের আলতা ক্যালিফোর্নিয়া পা রাখেন রুশ কর্মকর্তা নিকোলাই রেজানোভ (Nikolai Petrovich Rezanov) । তিনি ছিলেন আলাস্কা এক্সপিডিশনের প্রধান। উনার বয়স তখন ছিলো চল্লিশ বছর। সেখানে তিনি দেখা পান পঞ্চদশী রূপবতি কাঞ্চিতা (Conchita, Concepción Argüello)-র। কাঞ্চিতা ছিলো স্প্যানিশ গভর্নর José Darío Argüello-র কন্যা। তাদের এই অসম প্রেম মেনে নেয়া সম্ভব হয়নি কোন পক্ষেরই। রোমান ক্যাথলিক স্প্যানিশদের অনুমতি ছিলোনা অর্থোডক্স রুশদের বিয়ে করার, অনুরূপভাবে অর্থোডক্স রুশদের অনুমতি ছিলো না রোমান ক্যাথলিক-দের বিয়ে করার। কিন্তু প্রেম তো আর কোন বাধা মানে না। তাই বিয়ের জন্য কাঞ্চিতা চাইলেন পোপের অনুমতি, আর নিকোলাই দেশে ফিরে গেলেন এই বিয়েতে রুশ জারের অনুমতি চাইতে। কিন্তু ভাগ্য ছিলো অপ্রসন্ন, ১৮০৭ সালে সাইবেরিয়ায় ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন নিকোলাই। আলতা ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরে কাঞ্চিতা-কে বিয়ে করা তার আর হলোনা। এই মৃত্যুর খবর কাঞ্চিতা-ও জানতে পারলো না কোনদিন। শোনা যায় যে কাঞ্চিতা আর কোনদিনও অন্য কোন পুরুষের পাণিগ্রহন করেননি, এবং জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিকোলাইয়ের অপেক্ষা করেছিলেন। প্রেমে পড়ে ইতিহাস গড়েছিলেন কাঞ্চিতা। এই বিয়োগান্তক প্রেমের কাহিনী নিয়ে পরবর্তিতে অনেক থিয়েটার অপেরাও হয়েছে।

অনুরূপ কাহিনী রয়েছে আমাদের বাংলাদেশেও।
বিংশ শতকের গোড়ার দিকের কথা। আমাদের দেশের সর্বদক্ষিণের ভুমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি টেকনাফে তৎকালীন সরকার একটি পুলিশ ফাঁড়ী স্হাপন করে, সেই ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় ধীরাজ ভট্টাচার্য-কে। ধীরাজ কলকাতা থেকে নানা পথে এসে অনেক কষ্টে পৌছান টেকনাফে। সেই সময়ের হিসাবে এটি ছিলো অনেক দূরদেশে যাওয়া। সেখানে ধীরাজের সাথে প্রেম হয় অপরূপা মগ কন্য মাথিনের। ধীরে ধীরে দু’জনের প্রেমের কথা জেনে যায় পুরো টেকনাফ। আবার সেই অসম প্রেমের কাহিনী! পারিবারিক ও সামাজিক বাধা। ধর্মীয় বাধা তো রয়েছেই। তদুপরী নানা বাধা সত্বেও অবশেষে দুজনের মধ্যে বিয়ের অনুমতি দেয় মাথিনের বাবা-মা। তারপর ধীরাজ যায় কোলকাতায় নিজের বাবা-মার কাছ থেকে অনুমতি আনতে। কিন্তু ধীরাজের আর টেকনাফ ফেরা হয় না। শোনা যায় যে, ধীরাজ তার ব্রাহ্মণ পিতামাতার অনুমতি পায়নি। প্রিয়তম ধীরাজের এভাবে চলে যাওয়াকে প্রেমিকা মাথিন সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। ধীরাজকে হারিয়ে মাথিন অন্ন-জল ত্যাগ করে হন শয্যাশায়ী। পরিবারের সদস্যরা শত চেষ্টা করেও অন্ন জল ছোঁয়াতে পারেন নি। তার এককথা – প্রিয়তমকে ফেরত চাই। প্রেমের এই বিচ্ছেদ এবং অন্নজলের অভাবে একদিন মাথিন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। কুয়ায় ঝাঁপ দিয়ে মাথিনের আত্মহত্যার কথাও প্রচলিত রয়েছে।

পাখিদেরও দেশ থাকে, থাকে কোন ঠিকানা;
পরিযায়ী পাখি হলে, থাকে কিছু বাহানা।
নিজ দেশ ছেড়ে থাকে ভীনদেশে কিছুদিন,
সেখানেই কাটে তার প্রমোদের নিশিদিন!

ঋতু শেষে হয় তার আমোদের অবসান,
ফিরে যায় নিজ দেশে, ফেলে রেখে পিছুটান।
রেখে যাওয়া প্রেমিকার নির্ঘুম কাটে রাত;
চোখ ভরা জল নিয়ে নিশ্চুপ দেখে চাঁদ।

————————————-রমিত আজাদ


রচনাতারিখ: ২৬শে অক্টোবর, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ১২টা ৪৭মিনিট

Love in Metrorail (8)
——————- Ramit Azad

আগের পর্বগুলি
https://www.facebook.com/ramit.azad/posts/10225409099830882

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.