মৈথিলীর হাসি

মৈথিলীর হাসি
——————— রমিত আজাদ

মৈথিলীর নগ্ন শরীর কখনোই দেখিনি,
দেখার ইচ্ছেও জাগেনি কোন ক্রমেই!
কি হবে শরীর দেখে?
মৈথিলীর হাসিই তো সব!

নয়মাসী শীতের দেশে কুয়াশার আস্তরন কেটে
হঠাৎ উষ্ণ বসন্ত এলে,
শ্বেতাঙ্গিনী তরুণীদের পোষাকও সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে।
তাদের অর্ধ অনাবৃত পরিপুষ্ট স্তনযুগলে
প্রলুদ্ধ দৃষ্টি হেনেছি বহুবার।
তদুপরী মৈথিলীর স্তন কতটা পুরুষ্টু ?
সেটা দেখার আগ্রহ জাগেনি কখনোই।
ওর স্তনের নিচের হৃদয়টার খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করতাম সারাক্ষণ।

রোদেলা সৈকতে আধো উদোম শ্বেতবর্ণ ললনাদের
দেহের উদ্বেল ঢেউ দেখেছি অনেক।
খড়তাপে ছড়ানো তাদের দুবাহুর মসৃণ রোমহীন কাঁক
আমার নিবদ্ধ দৃষ্টিতে ভস্মিভূত হয়েছে বারংবার।

তারপরেও আস্তিনহীন জামায় মৈথিলীকে কেমন দেখাবে
সে কথা একবারও মনে জাগেনি।
আমার বাড়িয়ে দেয়া হাতে মৈথিলীর অঙ্গুলীর স্পর্শই তো
ঝড় তুলেছিলো আমার অস্থির বুকে।

নিদাঘী য়ুরোপীয় রাজপথে হেটে চলা
কাঁচুলিবিহীন ক্ষুদ্র নিচোলী তরুনীদের
অবাধ্য নিতম্বের দুরন্ত স্পন্দন
পলকহীন লোভাতুর দৃষ্টিতে দেখেছি ফিরে ফিরে।

ছোটখাট গড়নের মৈথিলীর নিতম্বের বাড়তি স্ফীতি,
সেই আমাকে মোটেই পুলকিত করেনি।
ওর উপচে পড়া উল্লসিত
আঁখিতেই আমি উচ্ছাসী পুলক খুঁজে পেতাম।

রতিচিত্র দেখা উত্তাল যৌবনের
কনকনে শৈত্যপ্রবাহী নিভৃতবিলাসী মধ্যরাতে,
কামাসক্ত অগ্নিউনানী চোখে একবারও দেখিনি
মৈথিলীর সাথে মৈথুনের স্বপ্ন।

মৈথিলীর শিশির ভেজা কালো চুলগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে
কেবলই বলতে ইচ্ছে করতো
ঐ আবহমান যুগ্ম-নয়নের ধ্রুপদী ধারায়
তুমি আমার বিস্তৃত সায়র!

কে বলে যে, পুরুষ কেবল নারীর শরীরতত্ত্বেই আসক্ত?

প্রেমের পবিত্রতার নন্দনতত্ত্বে কায়ার ঊর্মিমালা গৌণ।

রচনাতারিখ: ০২রা এপ্রিল ২০২১ সাল।
রচনাসময়: দুপুর ১১টা ২৭ মিনিট।

The Smile of Maithili
—————– Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.