Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মৈথিলী তুমি

মৈথিলী তুমি
——————— রমিত আজাদ

ঢাকার আকাশে বৃষ্টি হতে দেখলে
আমার খুব ভিজতে ইচ্ছে করে!
মন চাইলেই দালানের ছাদে উঠে
ইচ্ছেমত ভিজতে পারি নিশ্চয়ই।

না, এই ভেজা আমি চাইনা।
আমি চেয়েছিলাম,
ঢাকার জনবহুল রাজপথে
অথবা রমনার নির্জন সবুজে,
তোমার হাত ধরে ভিজতে!

বাংলা থেকে গুজরাত-এর দূরত্ব কতটুকু?
চট্টলা থেকে লোথাল-এর ব্যবধান যতটুকু?
জানিনা, মেপে দেখার সুযোগও হয়নি কখনো!
দিল্লীতক গিয়েছিলাম একবার,
ভেবেছিলাম, আরেকটু পশ্চিমে গেলেই তো তোমার শহর।
যাবো নাকি একবার?

তারপর ভাবলাম,
না থাক।
শূণ্যতার শহরে গিয়ে কাজ নেই।
ঘরবাড়ী, দালান-কোঠা, মন্দির-মাজার,
পথ-ঘাট, অফিস-আদালত, রবিবারি বাজার
সবই আছে ঐ শহরে।
শুধু তুমিই নেই!
যেখানে তুমি নেই,
সেই শহর আমার কাছে শূণ্যতার ময়দান!

মহাসাগরের এপারে আমি, আর ওপারে তুমি!
আচ্ছা কি হতো, কলম্বাসের জাহাজটি যদি ডুবে যেত,
হারিয়ে যেত অতলান্তিকের গভীর তলদেশে?
ইন্ডিজ শুধু ইস্টেই রয়ে যেত, তাইনা?
তখন হয়তো তুমি আমি দুজনাই
মহাসাগরের এপারেই রয়ে যেতাম।

তারপর,
কোন এক সুযোগ বুঝে,
আকবর-এর সাম্রাজ্য থেকে
তোমাকে নিয়ে আসতাম ঈসা খাঁ-র দেশে।
এই নিয়ে আরেকটি ট্রয়ের যুদ্ধ হয়তো হত না!
‘ওয়ার ফর প্রিন্সেস’, অর
‘এ লিটল রোমান্স ইন দ্যা ওয়ার!’
এ যুগে বেমানান বোধহয়!
আমি নিশ্চিত, নতুন কোন ডুয়েল যুদ্ধ হলে,
মানসিংহ-রা আবারো পরাজিত হবে।

মৈথিলী,
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, এই শহর কখন কৃষ্ণচূড়ায় ছেয়ে যাবে।
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, এই শহর মাধবীলতার সুবাসে ভেসে যাবে।
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, এই শহর বোশেখের রুদ্র ঝড়ে উত্তাল হবে।
আমি এখনো অপেক্ষায় থাকি, শীর্ণ বালু নদীর বুকে আবারো সাম্পান ভাসবে।

বর্ষার অঝোর ধারায় ভিজে যাবে
আধুনিক ঢাকার রাজপথ, ফ্লাই-ওভার, মেট্রো-রেলের পিলার,
দৈত্যাকার শপিংমল, থীম পার্ক, সিনেপ্লেক্স, সব সবকিছু।
সেদিনের মত, আমাদের হাতের ছাতাদুটো ছুঁড়ে ফেলে দেব,
অঙ্কুরিত ব্যাগ্র শস্যের মত আমরা স্বেচ্ছায় ভিজবো।
আমার কর্কশ হাতে তোমার পেলব হাত।
পাঁচ পাঁচ দশটি আঙুলের সোহাগের ছোঁয়াছুয়ি!
কিই বা এমন বয়স হয়েছে আমাদের?

চাইলে কি আমরা আরেকবার কাছাকাছি হতে পারিনা?

রচনাতারিখ: ৭ই এপ্রিল, ২০২১ সাল
রচনাসময়: রাত ০১টা ৫৭ মিনিট

Maithili You
—————— Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.