Categories
অনলাইন প্রকাশনা

রুবাই ৩৬১ – ৩৭০

রুবাই ৩৬১ – ৩৭০
———————————— রমিত আজাদ

৩৬১।
আমার প্রিয়ার মধুর কানে সব ফুলই তো দুল,
হোক সে জবা, নয়ন তারা, ঝুমকো লতা ঝুল!
শ্বেত জমিনে কমলা আভা শিউলি ফুলের হাসি,
মিষ্টি সুবাস কেশের ছোঁয়ায় জোয়ার রাশি রাশি!

——————— রমিত আজাদ
২০ এপ্রিল, ২০২০

৩৬২।
ঘরবন্দী মানুষ পীড়ায় বিনিদ্র রাত জাগে,
শুদ্ধ হাওয়ায় রাতের শেষে মুক্ত পাখি ডাকে!
দূষণ মুক্ত নগর পথে ফুলের শোভা হাসে,
ফুলকুঁড়িরা জাগিয়ে মাথা টাটকা বায়ে ভাসে!

——————— রমিত আজাদ
২১শে এপ্রিল, ২০২০

৩৬৩।
আমি তোমার সাথে ভাসতে পারি,
মরন খেলায় একসাথে,
আমি তোমার সাথে হাসতে পারি,
পুলছিরাতের এক পথে!
আমি তোমার সাথে চলতে পারি,
অগ্নি দহের তাপ প্রাতে।
আমি তোমার সাথে জাগতে পারি,
রোজ কিয়ামের সেই রাতে!

———————- রমিত আজাদ
২২শে এপ্রিল, ২০২০

৩৬৪।
এক চুমুতেই বদলে গেলো দুইটি একা জীবন,
এক চুমুতেই পড়লো বাধা দুইটি স্বাধীন মন!
এক চুমুতেই শূন্য হৃদয় ভরলো সোনার হস্তে,
এক চুমুতেই সাধ জাগলো নতুন করে বাঁচতে!

—————————— রমিত আজাদ
২২শে এপ্রিল, ২০২০

৩৬৫।
কবিতাই তো ভালোবাসা, কবিতাই তো মেম,
কবিতাকেই সঁপে দিলাম, আমার যত প্রেম!
কবিতাতেই দিল হারিয়ে, হলাম দেওয়ানা,
কাব্য নেশায় বুঁদ হয়ে তাই দিলাম নজরানা!

—————————— রমিত আজাদ
২৩শে এপ্রিল, ২০২০

৩৬৬।
এক কবিতার গন্ধে মাতাল, কস্তুরী-কেশ সুবাসী,
ফুল্ল আঁখির জেল্লা জ্বলে, নৃত্যে পাগোল ঊর্বশী!
সাধ জাগে ঐ কাব্য সুধায় ডুবসাঁতারে গা ভেজাই,
লাবণ্যে তার খুশির তুফান, রূপ ছটাতে মূর্ছা যাই!

—————————— রমিত আজাদ
২৩শে এপ্রিল, ২০২০

৩৬৭।
খুলবে দোকান, পরিবহন, আকার হবে সীমিত,
কারখানা-কল তাও খুলবে, দালান হবে নির্মিত।
হাট-বাজার আর বিকিকিনি সেটাও হবে অবিরাম,
তোমার আমার ঘরে কি কাজ? ঘুরে আসি সুধারাম!

৩৬৮।
তিনারা কি গাছে ধরে? নাকি থাকে ঘাসে?
তিনারা তো কাছেই থাকে, আমার বাড়ীর পাশে।
অসুখ হলে তিনারা-তো ছোটেন দূরের দেশে,
তিনারা কি যে সে কথা? উড়িয়ে দেবে হেসে!!!

৩৬৯।
ত্রাণ চাই, ধান চাই, ক্রান্তিন জানি না,
ক্ষুধা পেটে জান যায়, লক-ডাউন মানি না!
কাজ নাই খাবো কি? শ্রম দেই সস্তায়!
হাত পেতে বসে রই জনহীন রাস্তায়!

৩৭০।
গাঁয়ের মেয়ের চলন-বলন, সেও তো মদির বন-শিকারী,
ছন্দ তোলা কায়ায় তাহার, ঝলকানো তেজ রূপ-নেহারি!
সিক্ত বসন জলছবি এক চিত্রকরের রূপসা পটে,

মেঠো পথের বক্র রেখায় বক্রতা তার ঝলকে ওঠে!

রচনাতারিখ: ২৪শে এপ্রিল, ২০২০ সাল
সময়: রাত ১২টা ৩২ মিনিট

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.