সিকিউরিটি গার্ড প্রসঙ্গ:

সিকিউরিটি গার্ড প্রসঙ্গ

বিভিন্ন বাহিনীর হাতে যেহেতু অস্ত্র ও ক্ষমতা থাকে তাই তাদের সদস্যদের ২৪ ঘন্টা নানাবিধ কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্যে রাখা হয়, যাতে তারা এই অস্ত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহার না করে। ‘কারাতে’ যারা শেখে তাদেরকেও শুরুতে শপথ নেওয়ানো হয় যে, এই কৌশল ও শক্তি তারা কখনোই অপব্যবহার করবে না। অথচ সিকিউরিটি গার্ড-দের বেলায় দেখেছি গতকাল যে রাস্তায় টো টো করে ঘুরে বেড়াতো, ফট করে আজকে তার গায়ে ইউনিফর্ম। ঐ জৌলুসে পোষাক পড়ে সে নিজেকে রাজা-বাদশা ভাবতে শুরু করে। আমি একসময় ঢাকা নগরীর একটি অভিজাত এলাকায় থাকতাম যার চতুর্দিক ছিলো দেয়াল ঘেরা আর ভিতরে ছিলো সিকিউরিটি গার্ডদের দৌরাত্ম! ঢুকতে সমস্যা, বের হতে সমস্যা, কখনো ব্যাক্তিগত বা প্রয়োজনীয় কাজে রাত বারোটা বেজে গেলে এলাকার ভিতরে ঢুকতে সমস্যা, এমনকি শান্তিতে পার্কে বসতেও সমস্যা, সর্বদাই এই সিকিউরিটি গার্ডদের দৌরাত্ম! আবার ঈদ এলে এরাই গাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে লম্বা সালাম ঠুকে বলতো, “আপনাদের খেদমত করছি, কিছু বখশিস দিন”। একবার আমি দেখেছিলাম যে মোটর সাইকেল নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করা নিয়ে সামান্য কথাকাটাকাটি নিয়ে ঐ সিকিউরিটি গার্ডরা ভদ্রলোক ও এমনকি তার স্ত্রীর গায়ের উপর হাত তুলেছিলো। জ্যামের কারণে লেইন পরিবর্তন করেছিলো বলে সিএনজি স্কুটারের উপর চারপাশ থেকে ভারী বুটের লাত্থি মারছিলো অহরহ। ভিতরে বসে থাকা স্কুলগামী ছোট্ট শিশু ও তার মা আতংকিত হয়ে পড়েছিলো। ভাগাড় থেকে উঠে এসে জমিদার হলে যা হয় আরকি! ইতিহাস পাঠ করলে দেখা যায় যে, ইংরেজ বদমাসগুলো একদল লোককে গোমস্তা-পেয়াদা থেকে সরাসরি জমিদার বানিয়ে দিয়েছিলো, এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়েছিলো, এক ঐ সব অপদার্থের দল এহেন প্রাপ্তি-তে ইংরেজদের প্রতি পরম কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ হয়েছিলো তাই প্রভুর সকল অনাচারি আদেশ তারা ‘জো হুকুম হুজুর’ বলে পালন করতো, দুই স্থানীয় জনগণের টাকায় খেয়ে তাদের উপরই প্রবল অত্যাচার করতো, যা আমাদের জাতিকে দুর্বল করে দিয়েছিলো।

এইসব অষ্টম শ্রেণী পাস অথবা আদৌ পাশ নয় লোকগুলোর মধ্যে হীনমন্যতা ও হিংসাপরায়নতা থাকে। সেই হীনমন্যতা ও হিংসাপরায়নতা থেকেই তারা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদের গায়ে হাত তোলে। মটরসাইকেল আরোহী ভদ্রলোক ও তার স্ত্রীকে লাঠিপেটা করে, স্কুটারের উপর মুহুর্মুহু লাথি মারে। আমি এখন ঢাকার যে এলাকায় থাকি সেখানে আপাততঃ এলাকাভিত্তিক কোন সিকিউরিটি গার্ড-দের দৌরাত্ম নেই, অতএব ভালোই আছি। তবে স্পর্শকাতর এই বিষয়টি নিয়ে সমাজকে নতুন করে ভাবতে হবে।

—- রমিত আজাদ

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.