Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সৃজনশীল প্রকাশনা

সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা

সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা
—————————— ডঃ রমিত আজাদ

সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা,
কেবলই শুনি গান,
সুরের মূর্ছনার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হই,
যেমনটি হয় কোঁচবিদ্ধ ছটফটে মাছ ।

হৃদয়টাকে টেনে ছিঁড়ে বুকের মাঝখানে একটা গহবর তৈরী করেছ,
তাই আমি আজ একেবারেই হৃদয়হীন,
সুদুর সাইবেরিয়ার হীমশীতলে নির্বাসিত।
কালাপানির আন্দামান হলে ভালো হত,
অন্ততপক্ষে মহাসাগরের গর্জন শুনতে পেতাম।

একদিন তুমি তো আমারই ছিলে,
তোমার সুমিষ্ট নারীকন্ঠের ডাক,
এই কানে ঢেলেছে সুধা মৃন্ময়ী বসন্ত হয়ে,
স্বপ্নে তো নয়, বাস্তবেই তোমাকে চুমু খেয়েছি সহস্রবার,
একেবারে বুকে জড়িয়ে, নিস্পেষিত করেছি,
অজস্র আকুলতা নিয়ে।
আবেগঘন মুহুর্তগুলোতে ঘনঘন দীর্ঘশ্বাসের সাথে
ছিল ফিসফাস কথপোকথন,
এই আঙুলের সব উষ্ণতা দিয়ে তোমাকে ছুঁয়েছি।
হ্যাঁ, নিশ্চিত তোমাকে ছুঁয়েছি বাধাহীন, বারংবার,
দেখিয়েছি তোমাকে, আমি কতটুকু উত্তাল হতে পারি,
মনে হয়েছে যেন আমিই তোমার স্বামী।

সদ্য পঠিত কবিতা রেখে, ছুঁয়েছি তোমার অধর,
তোমার দেহবল্লরীকে মনে হয়েছে খরস্রোতা নদী যেন
তোমার সজল আঁখী,
তোমার পেলব ঠোট,
তোমার গোপন তিল
একসময় এই সবকিছুর অধিকার শুধুই আমার ছিল।

আমার আকাশ বিদ্ধ করেছে ডাকিনীর তীর,
পূর্ণিমার চাঁদ গিয়েছে নিভে ,
নিঃশব্দে নেমেছে ঘোর অমাবশ্যা ,
আজ তোমার গায়ে পরপুরুষের ঘ্রান
পেচিয়ে আছে সম্মোহিত সাপ হয়ে।
ক্লান্তিকর খেলা শেষে,
আমার হতাশা আর নিরুত্তাপ তুমি ।

আমি ডানা ঝাপটানো একটি নিঃসঙ্গ বিহঙ্গ যেন,
টর্নেডো ভেঙেছে কপাট,
ভূমিকম্প গুড়িয়ে ঘর,
সুনামীর তীব্র স্রোতে উঠেছে ভয়াল ঝড়।
মনের গভীরে চোখের জল ঝড়ে ঝড়ে হয়ে গেল যেই নদী,
ধীরে ধীরে বাড়ছে সে নদীর জল, এই প্লাবন এলো বলে,
আমাকে কি ধুর্ত প্রেমিক বলবে?
কিংবা প্রতারক যুবক?

কোন মায়াবী খাঁচায় তো তোমাকে পুরে রাখিনি,
তুমি মুক্ত বিহঙ্গ, উড়ে যাও যেখানে চাও।
আমি বড়জোড় লিখতে পারি একঝাক চিঠি।
প্রেমের অনন্তলোক ছুঁয়ে,
আমার চিঠিগুলো কাগজের পতঙ্গ হয়ে,
একের পর এক ঢুকে পড়বে তোমার জানালা গলে
দুর্নিবার পূর্ণিমার আকাশ ছেঁয়ে দেবে তমশায়,
নিশি জাগা তুমি আর তোমার স্বামী
নিশ্চিত বঞ্চিত হবে জোছনার মাধুরী থেকে।

আমার আকাশেও এখন আর চাঁদ ওঠেনা,
তবু সিদ্ধার্থের মত গৃহত্যাগী হতে চাই,
পাশে শুয়ে থাকা বধু আর শিশু ইচ্ছেটাকে অবদমিত করে

এই ভয়ার্ত আঁধারে কার কাছে যাব আমি, তোমাকে ছাড়া?
সেই তুমিই রয়েছ ফিরে, হয়েছ বৈরী,
অসহায় আমি আজ আকাশের মত একলা।
আমাদের বিচ্ছেদে অনেক কেঁদেছি আমি,
তুমিতো দেখনি সে কান্না!
আমি একাই সে অশ্রুবারির দর্শক।
তোমার কাছে ফিরে যাবার আর কোন পথ নেই তো খোলা।

এখন হাতড়ে বেড়াই,
কেবলই স্মৃতি, কেবলই স্মৃতি, কেবলই স্মৃতি,
বারবার মনে পড়ে একটি মায়াবী মেয়ের মুখ!

মন্তব্য করুন..

By ডঃ রমিত আজাদ

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনুলোতে, অজস্র তরুণ কি অসম সাহসিকতা নিয়ে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেছিল!
ব্যাটা নিয়াজী বলেছিলো, “বাঙালী মার্শাল রেস না”। ২৫শে মার্চের পরপরই যখন লক্ষ লক্ষ তরুণ লুঙ্গি পরে হাটু কাদায় দাঁড়িয়ে অস্র হাতে প্রশিক্ষন নিতে শুরু করল, বাঙালীর এই রাতারাতি মার্শাল রেস হয়ে যাওয়া দেখে পাকিস্তানি শাসক চক্র রিতিমত আহাম্মক বনে যায়।
সেই অসম সাহস সেই পর্বত প্রমাণ মনোবল আবার ফিরে আসুক বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে। দূর হোক দুর্নীতি, হতাশা, গ্লানি, অমঙ্গল। আর একবার জয় হোক বাংলার অপরাজেয় তারুণ্যের।

One reply on “সেই থেকে আমি আর কবিতা পড়িনা”

Daniel শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.