অনলাইন প্রকাশনা
স্বপ্নময়ী শীত

স্বপ্নময়ী শীত

— এম,এইচ, জনি

 

শীত মানেই বাঙ্গালী সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন, শীতকালে বাংলার গ্রামে শুরু হয় নানান স্বাদের পিঠা তৈরীর তুমুল প্রতিযোগিতা। নতুন নতুন শাক-সবজিতে ভরে উঠে আমাদের ফসলের মাঠ। গাছের ডালে ডালে আমাদের দেশিও পাখি ও অতিথি পাখির কলরবে, মুখরিত হয় আমাদের গ্রামীন জনপথ। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ ও ঝাকে ঝাকে উন্মুক্ত পাখিদের আকাশের উড়ার দৃশ্য দেখে, তরুন তরুনীর মনেও লাগে রোমাঞ্চের ঢেউ। স্বপ্নময়ী বাসরের দৃশ্য ভেসে উঠে, বাঙ্গালী তরুন তরুনীর আবেগ ভরা হৃদয়ে। তেমনি শীতের এক বিকেলে প্রেমের একটি বিয়েতে যোগ দিলাম আমি। আমি ছিলাম মেয়ে পক্ষের, তাই আমার দায়িত্ব ও কাজ ছিল বেশি। সব কাজ মোটামুটি গুছিয়ে বর যাত্রী আসার অপেক্ষায় ছিলাম। কিছুক্ষন পরেই বর-যাত্রীর গাড়ী এসে উপস্থিত গেটের সামনে। শুরু হলো আমাদের বাধ ভাঙ্গা আনন্দ, বর-যাত্রীদরে বরন করতে গেটের মূল দায়িত্ব দেয়া হলো আমাকে। সাথে কিছু ছেলে মেয়ে নিয়ে বরযাত্রীদরে বরন করতে গেলাম। বর পক্ষের অনেকগুলো তরুন তরুনী আমাদের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু করল, সাধারণত বিয়েতে যা হয়। এক পর্যায়ে তুমুল ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল। কেউ কারো কথা বুঝতে পারছিলাম না, তাই বর যাত্রীদরে বললাম তাদের পক্ষ থেকে একজন দলনেতা নির্বাচন করার জন্য। তাই তাদের পক্ষথেকে এক ললনাকে নির্বাচন করা হলো, আর কনে পক্ষ থেকে আমি। শুরু হলো দুজনার মধ্যে মধুর যুক্তি-তর্ক। বিষয় ভিত্তিক তর্ক ছেড়ে আমরা চলে গেলাম গল্প কবিতা ও উপন্যাসের দিকে। তর্ক করতে করতে রেগে গিয়ে আমাকে বলল, জানেন আপনি কার সাথে কথা বলছেন। আমি তাকে রাগানোর জন্য বললাম, আপনি রবিন্দ্রনাথের লাবণ্য-ও না, জীবনানন্দের বনলতা সনে-ও না, লিওনার্দো দ্যা ভঞ্চিরি আঁকা ভূবন ভূলানো হাঁসিমাখা মোনালসিা-ও না। এগুলো বলার পর সে কি উত্তর দিবে, কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল না। তাই পরিবেশটা স্বাভাবিক করার জন্য, সে আমার জীবন বৃত্তান্ত জানতে চাইল এবং প্রথমেই আমার নাম জিজ্ঞাসা করল। আমি মজা করে বললাম আমার নাম রোমাঞ্চ, তারপর জানতে চাইল আমি কি করি বললাম পড়াশোনা, জিজ্ঞাসা করল কোন ইউনিভার্সিটি, বললাম প্রেম নগর ইউনিভার্সিটি। জানতে চাইল কোন সাবজেক্ট উত্তর দিলাম ভালোবাসা। এগুলো শুনে আমার প্রতি ভীষন ক্ষঁেপে গেল সে। যা-ই হোক অনেক যুক্তিতর্কের পর আমরা স্বাদরে বরন করে নিলাম বরযাত্রীদরে। বিশেষ করে ঐ ললনাকে, কেননা তর্কে হেরে গিয়ে আমার প্রতি তার রাগটা একটু বেশিই মনে হলো। শত হলেও-তো তিনি সম্মানী ব্যক্তি, কারণ তিনি যে বরযাত্রী। তাই তাকে একটু বেশি করে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করলাম। তারপর তাদেরকে প্যান্ডেলে বসানো হলো খাবার দেয়ার জন্য। মেয়েটি বসেছিল বরের সঙ্গে, আমারও দায়িত্ব পড়ল বরের ষ্টেজে খাবার পরিবেশনের। খাবারের একপর্যায়ে মেয়েটি আমাকে, এক টুকরো মাংস দিলো খাওয়ার জন্য। আমি মজা করে তাকে আরো রাগানোর জন্য বললাম, আমার নিকট-আতœীয় ছাড়া অন্য কোন মেয়ের হাতে কিছুই খাই না। আবারো সে আমার প্রতি ভীষন রেগে গেল। যাইহোক সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে বর যাত্রীদরে বিদায়ের পালা। আমি তার মনটা ভালো করার জন্য বললাম, ম্যাডাম ভালো থাকবেন, আপনার সাথে একটু মজা করলাম। আর বিয়ের অনুষ্ঠানে এ রকম কিছু না হলে বিয়েটা আনন্দের হয় না । উত্তরে সে বলল আপনি স্বাভাবিক মানব নন। আমি বললাম আপনার কথাই ঠিক, কারণ আমি স্বাভাবিক মানব নই, আমি হলাম মহা মানব। আবারো সে রেগে বলল আমি আপনাকে দেখে নেব, এ বলেই চলে গেল বরপক্ষ। আমরাও সব কাজ শেষ করে। সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে ঘুমাতে গেলাম, মুহুর্তেই হারিয়ে গেলাম ঘুমের রাজ্যে। অবিশ্বাস্য! আমার ঘুমের মাঝে স্বপ্নে দেখতে পেলাম সেই মেয়েটিকে। যার সাথে অনেক রোমান্টিক ঝগড়া হয়েছিল। স্বপ্নের এক পর্যায়ে সে আমাকে অনুষ্ঠানের তর্ক-বিতর্কের জন্য সরি বলতে অনুরোধ করল। আমিও তার মন ভালো করার জন্য স্বপ্নের মাঝে সরি বললাম। মূহুতেই সে রাজ্যের সকল সৌর্ন্দয নিয়ে, একটি ভূবন ভুলানো হাঁসি দিল এবং আমার কাছে সে জানতে চাইল এই মূহুর্তে তার কাছে আমি কি চাই। আমি বললাম একটি গান শুনতে চাই। যে কথা সেই কাজ, তার সুরেলা কন্ঠে সে গাইতে লাগলো, “আমি খোলা জানালা, তুমি ঐ দখিনা বাতাস, আমি নিঝুম রাত, তুমিত জাগরি আকাশ…।”  কিন্তু দূভাগ্য গানটি শেষ হতে না হতেই, আমার সেল ফোনটি বেজে উঠলো, আর ভেঙ্গেগেল আমার রোমান্টিক স্বপ্নটি। তাই এখন শীত এলেই মনে পড়ে সেই দিনের বিয়ে ও রোমাঞ্চকর স্বপ্নের কথা।

মন্তব্য করুন..

১ thought on “স্বপ্নময়ী শীত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.