Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মনের আবেগ কোন বাঁধে ঠেকাবে?

মনের আবেগ কোন বাঁধে ঠেকাবে?
——— রমিত আজাদ

যার সাথে মন খুলে কথা বলা যায় সেই তো মনের মানুষ। মনের মানুষের সন্ধান হয়তো অনেকেই পায়, কিন্তু শেষতক মনের মানুষের সাথে ঘর বাধা হয়ে ওঠে না অনেকেরই। তারপর সামাজিক কারণে অথবা অন্য কোন তাড়নায় কোন একজনার সাথে ঘর বাধা হয়ে যায়। একই ঘরে একই ছাদের নীচে, একই মশারীর ভিতরে জীবনের পুরোটাই হয়তো পার করে দেয় তারা, তারপরেও মনের সম্পর্ক হয়না।

রবীন্দ্রনাথের মনের সম্পর্ক হয়েছিলো তার বৌদি বা বৌঠান কাদম্বরী দেবী-র সাথে। সেই প্যাশন থেকে বেরিয়ে আসে কত কত কাব্য! কবি তাকে নিয়ে ‘ভারতী’ পত্রিকায় লিখেছিলেন, ‘সেই জানালার ধারটি মনে পড়ে, সেই বাগানের গাছগুলি মনে পড়ে, সেই অশ্রুজলে সিক্ত আমার প্রাণের ভাবগুলিকে মনে পড়ে। আর একজন যে আমার পাশে দাঁড়াইয়া ছিল, তাহাকে মনে পড়ে, সে যে আমার খাতায় আমার কবিতার পার্শ্বে হিজিবিজি কাটিয়া দিয়াছিল, সেইটে দেখিয়া আমার চোখে জল আসে। সেই ত যথার্থ কবিতা লিখিয়াছিল। তাহার সে অর্থপূর্ণ হিজিবিজি ছাপা হইল না, আর আমার রচিত গোটাকতক অর্থহীন হিজিবিজি ছাপা হইয়া গেল।’

এই লেখাটি প্রকাশের পরেই তাদের বাড়িতে আগুন জ্বলে উঠেছিল। আর সে কারণেই যুবক রবির বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়। সাত পাকে বাধা হলেও, আইনসিদ্ধ স্ত্রী মৃণালিনী (ভবতারিনি) দেবী-র সাথে রবির মনের সম্পর্ক কখনোই গড়ে ওঠেনি। শোনা যায় যে স্বামীর সাহিত্য প্রতিভার বিষয়ে ভবতারিনি ছিলেন একেবারেই উদাসীন।

অনেকে রবি-কাদম্বরী সম্পর্কটিকে মিথ বলতে চান। এর পিছনে কারণ হয়তোবা রবি ঠাকুরের শেষ জীবনের ঋষিতূল্য ছবি। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে মুনি-ঋষিরাও মানুষ। জৈবিক-মানসিক চাহিদার উর্ধে তারা নন। প্রেম, কাম, সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন, প্রতিভা এইগুলোর মধ্যে সম্পর্ক লিনিয়ার নয় বরং নন-লিনিয়ার। বিশাল সাহিত্য প্রতিভা লেভ তলস্তয় যৌবনে একাধিক প্রেমে আসক্ত ছিলেন, একইভাবে বিপুল বিজ্ঞান প্রতিভা আইনস্টাইনের ছিলো তিন-তিনটি এক্সট্রামেরিটাল এ্যাফেয়ার্স, বামপন্থিকূলের গুরু দার্শনিক কার্ল মার্কসেরও বিবাহ বহির্ভুত সন্তান ছিলো।

কোন ব্যাক্তির যশ যত বাড়ে, খ্যাতি যত বাড়ে ততই সে সর্বসাধারণের হয়ে যায়, সে আর কাদম্বরী বা মিলেভার থাকেনা। দীর্ঘ জীবন পরিক্রমায় কাশবনের কন্যারা আসবে এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম। বাঁধ দিয়ে আবেগহীন সীমিত নদীর জোয়াড় হয়তো ঠেকিয়ে রাখা যায়, কিন্তু সীমাহীন মনের আবেগকে ঠেকায় এমন কোন বাঁধ সম্ভবত এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।

প্রেম মনের চাহিদা, মনকে বেধে রাখা যায়না। একইভাবে কাম সর্বগ্রাসী তা সম্রাটের প্রতাপকেও অগ্রাহ্য করে!

তারিখ: ৩০শে মার্চ, ২০১৭
সময়: দুপুর ২টা ১৬ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

গবেষক কাকে বলে?

গবেষক কাকে বলে?
— ড. রমিত আজাদ

যে কোন ব্যাক্তিকেই গবেষক বলা যাবে না। এমনকি তিনি লেখক হলেও না, শিক্ষক হলেও না। কি কি গুনাগুন থাকলে একজন ব্যাক্তিকে গবেষক বলা যাবে তার কিছু নিম্নে বর্ণনা করা হলো।

১। একজন গবেষকের থাকতে হবে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান (Specialized knowledge), মূল সমস্যাগুলো শনাক্ত করার ধারণাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা। পাশাপাশি থাকতে হবে সমালোচনামূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সামর্থ্য, এবং সেই সাথে থাকতে হবে নতুন চিত্তাকর্ষক অন্তদৃষ্টি তৈরী করার ক্ষমতা।

২। একজন গবেষকের থাকতে হবে উচ্চমানসম্পন্ন পান্ডিত্যপূর্ণ লিখিত পত্র ও গবেষণাপত্র প্রকাশ করার একাডেমিক দক্ষতা। এই পত্রগুলোতে উপস্থাপিত বক্তব্যের সমর্থনে পর্যাপ্ত পরিমানে এভিডেন্স ও আর্গুমেন্ট থাকতে হবে। গবেষণাপত্রের উপস্থাপনা এতটাই চিত্তাকর্ষক হতে হবে যেন তা উৎসুক পাঠক বা শ্রোতাদের মন কেড়ে নেয় (হতে পারে সেই পাঠক বা শ্রোতা একজন বিশেষজ্ঞ অথবা একজন সাধারণ মানুষ)।

৩। একজন গবেষকের থাকতে হবে কার্যকরীভাবে জ্ঞানের উৎস ব্যবহারের দক্ষতা। তিনি এটা করবেন তথ্য সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করার উদ্দেশ্যে। তিনি এটা করবেন টেক্সট, ডাটা ও থিওরী বিশ্লেষণ করার উদ্দেশ্যে।

৪। একজন গবেষকের থাকতে হবে এমন কিছু ব্যাক্তিগত গুণাগুণ যেন, তাঁর উচ্চাকাঙ্খা ও সামর্থ্য থাকে উচ্চমানের গবেষণা করার। তিনি যেন উদ্যোগ নিতে পারেন ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন হন। অন্যদের সাথে সহযোগিতা করার নিমিত্তে তিনি যেন হন সুসংগঠিত ও সুবিচারক।

৫। একজন গবেষকের থাকতে হবে সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা, যেন তিনি ছাত্র, সহকর্মী ও শিক্ষাবিদদের সাথে কার্যকরী ও যথাযথভাবে ইন্টারএ্যাকট করতে পারেন। উনার আরো থাকতে হবে বিভিন্ন পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবেলা করার দক্ষতা। পাশাপশি তিনি যেন পণ্ডিত মহলের বৃহত্তর পরিসরে নিজেকে একীভূত করতে পারেন।

এককথায় বলা যায়, যেই উচ্চজ্ঞানসম্পন্ন ও উচ্চমানসম্পন্ন ব্যাক্তি নতুন জ্ঞান তৈরী, নতুন ধারণা তৈরী, নতুন নতুন উৎপাদন (products), প্রক্রিয়া (processes), উপায় (methods) ও পদ্ধতি (systems) সৃষ্টি এবং নতুন কোন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত আছেন, তিনিই একজন গবেষক।

উল্লেখ্য যে আনুষ্ঠানিক গবেষণা করতে গেলে আনুষ্ঠানিক গবেষণা করার পদ্ধতি (Research Methodology) জানতে হবে। Research Methodology না জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় ত্রুটি হবেই, যেমনটি হয়েছিলো গণিতবিদ রামানুজান-এর ক্ষেত্রে। তবে কেউ কেউ নিছক তাঁর ব্যাক্তিগত জ্ঞানের ক্ষুধা মিটানোর জন্যও নিজের মত করে অনুসন্ধান করে যেতে পারেন। যদি এভাবে তিনি নতুন কোন কিছুর সন্ধান পান, তাহলে সেটাও গবেষণা এবং তিনিও একজন গবেষক। তবে তিনি নতুন কিছুর সন্ধান পেলেন এবং পৃথিবীকে জানালেন না, এটা হবে স্বার্থপরের মত কাজ। তাই পৃথিবীকে জানানোর উপায় হলো গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা, অথবা নিদেনপক্ষে কনফারেন্স বা সেমিনারে তা তুলে ধরা। গবেষণাপত্রটির পূর্ণতা না থাকলে বা তা আদৌ গবেষণা না হলে কর্তৃপক্ষ তাকে প্রকাশ করবে না নিঃসন্দেহে। আর কনফারেন্স বা সেমিনারে তা তুলে ধরলে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের প্রশ্ন-মতামতের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসবে তার গবেষণাপত্রের স্বীকৃতি ও মান।

যেই ব্যাক্তির কোন গবেষণাপত্র কোন স্বীকৃত জার্ণালে প্রকাশিত হয়নাই তাকে গবেষক বলা যাবে না। তবে তাঁর লিখিত প্রকাশিত কোন পত্র বা বই যদি এমনভাবে সাড়া ফেলে যে অন্যান্য গবেষকরা তা আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করছে সে ক্ষেত্রে হয়তো বিদগ্ধ মহল তাকে গবেষকের মর্যাদা দিতেও পারে।

তারিখ: ২৯শে মার্চ, ২০১৭
সময়: ২০ টা ৪৫ মিনিট

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:
১। http://port.modernlanguages.sas.ac.uk/videos/interdisciplinarity

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

পিইইইম পিইইইম পাগোল

পিইইইম পিইইইম পাগোল:
ছোটবেলায় একটা লোককে দেখতাম ছালা পড়ে রাস্তা দিয়ে হাটতো আর একটু পরে পরেই বলতো, “পিইইইম পিইইইম পিইইইম ……..।” এর বেশী কোন কথা বা শব্দ তার মুখে কোনদিন শুনিনি। ইউজুয়ালী সন্ধ্যার পরে তাকে দেখা যেত। আলো-আঁধারী পরিবেশে অমন লোক অমন ডাক কিছুটা রহস্যময়তারও সৃষ্টি করতো! সেই সময় লোকটাকে আমি ভয় পেতাম, তাই কাছে কখনো যাইনি, দূর থেকে দেখতাম। বুঝতাম পাগোল, তাই ওরকম করে। পাগোলের থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই নিরাপদ। তবে মানুষ কেন পাগোল হয়, এই প্রশ্ন আমার মনে মনে ফিরতো। আমার বয়স যখন সতেরোর কাছাকাছি তখনও তাকে দেখতাম। তাকে ইউজুয়ালী দেখা যেত ঢাকার সিদ্ধেশরী রমনা বেইলী রোড ইত্যাদি এলকায়। আমাদের এলাকার এক বড় ভাই আমাকে স্নেহ করতেন, উনার কাছে একবার ঐ পাগোল সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি দেখলাম তথ্য আমার চাইতে বেশী রাখেন। বললেন, “ও চিৎকার করে করে বলে প্রেম প্রেএএম প্রেএএএম। ও হেটেই চলাচল করে মীরপুর মাজার থেকে যাত্রা শুরু হয় সদরঘাট পর্যন্ত যায়।” সব শুনে ভাবলাম প্রেমের পাগোল-টাগোল হবে বোধ হয়। হায়রে প্রেম, মানুষের অবস্থা কেমন শোচনীয় করে ফেলে! একদিন সন্ধ্যার সময় গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, দেখি রাস্তা দিয়ে সে যাচ্ছে আর তার বিখ্যাত শ্লোগানটি দিচ্ছে, “প্রেম প্রেএএম প্রেএএএম।” গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো কয়েকটি রিকশা। এদের মধ্যে ইয়াং এক চালকের মতিভ্রম হলো, সেও তাকে ভেঙচি কেটে বলে উঠলো, “প্রেএএম”। পাগোলটি কোন ভ্রুক্ষেপ না করে আবারো বললো, “প্রেএএম”। ইয়াং রিকশাচালকটি আবারো ভেঙচি কেটে বলে “প্রেএএম”। এবার পাগোলটি কড়া চোখে তার দিকে তাকালো। পাগোলটি আবারো চিৎকার দিয়ে উঠলো, “প্রেএএম”। ইয়াং রিকশাচালকটি আবারো হেসে বলে “প্রেএএম”, এবার তার সাথে আরেক রিকশাচালক যোগ দিলো। বুঝলাম ওরা মজা পেয়েছে। আমি ভাবলাম আহারে পাগোল, বেচারা ঐ একটি শব্দই জানে, তাই ও আর কি বলতে পারে? আমাকে অবাক করে দিয়ে এবার পাগোলটি ঐ রিকশাওয়ালার দিকে তাকিয়ে বলে, “ঐ কুত্তার বাচ্ছা!” দেখলাম না সে আরো দুটি শব্দ বলতে পারে। রিকশাচালকটি এবার হো হো হেসে উঠলো। পাগোলটি কয়েক পা সামনে গিয়ে আবারো চিৎকার করে উঠলো, “প্রেএএম”। এবার দুজন রিকশাচালক সমস্বরে, প্রতিধ্বনী করলো, “প্রেএএম”। পাগোল আবার ওদের দিকে তাকিয়ে বললো, “ঐ শুয়োরের বাচ্ছা!” দেখলাম না পাগোলটি আরো কিছু কথা জানে! এবার, পাগোলটি ওদের দিকে এগিয়ে এলো। এই প্রথম আমি তাকে কাছ থেকে দেখলাম। তামাটে রঙের মাঝ বয়সী একটা লোক, বয়স ত্রিশ-পয়ত্রিশের মাঝামাঝি, বলিষ্ঠ শরীর, লম্বা চুল, মুখে হালকা দাড়ি আছে। এগিয়ে এসে ইয়াং রিকশাচালকটিকে বললো, “কি হইছে? এইহানে কি করস?” দেখলাম না সে আরো কথা বলতে পারে। রিকশাচালকটিও ত্যাঁদর কম না, হাসতে হাসতে বলে “এইত তো ক্ষ্যাপ লমু”। পাগোলটি বলে, “ক্ষ্যাপ লবি তো ক্ষ্যাপের চিন্তায় থাক। আমারে চেতাস ক্যা?” তারপর কিছুক্ষণ রিকশাচালকটির দিকে গরম চোখে তাকিয়ে থেকে, চলে গেলো। যাওয়ার পথে কিছুক্ষণ আর “প্রেএএম” বলে চিৎকার দিলো না। রিকশাচালকটিও আর ভেঙচি কাটলো না। আমি মনে মনে একবার ভাবলাম যে, রিকশাচালকটি কাজটা ভালো করেনি, পাগোল চেতানো ঠিক হয়নি, আবার ভাবলাম একদিক থেকে ভালোই হয়েছে, না হলে পাগোলটি সম্পর্কে আমার মনে চিরকাল ভুল ধারনাই থেকে যেত!

হায়রে প্রেম! এই প্রেমের কারণে এত সমস্যা!

রমিত আজাদ
তারিখ: ২৯শে মার্চ, ২০১৭
সময়: ভোর ১২ টা ২৫ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কোনদিন আচমকা আমি

কোনদিন আচমকা আমি
—— রমিত আজাদ

আমাকে যদি দেখো হঠাৎ
তোমার পথে কোনদিন আচমকা,
তুমি কি এড়িয়ে যাবে?
নাকি এগিয়ে আসবে হাসিমুখে?
নাকি কিছুটা দ্বিধান্বিত হবে?
চোখ নামিয়ে ফেলবে এমন করে যেন দেখোনি আমাকে।
তারপর মনে মনে ভাববে কি করা যায়?
হয়তো তুমি অপেক্ষা করবে,
আমিই যেন এসে বলি, ‘কেমন আছ তুমি?’

আমি নিশ্চিত, তোমার বুকে তোলপাড় হবে।
যেমনটি বৈশাখী ঝড় অশান্ত করে
আমার হৃদয়ের অরন্য।
মাঝরাতে উত্তাল হই আমি।

আচ্ছা, আমি যদি সত্যিই এগিয়ে এসে প্রশ্ন করি,
‘কেমন আছ তুমি?’
কি উত্তর হবে তোমার?

তারিখ: ২৮শে মার্চ, ২০১৭
সময়: সন্ধ্যা ছয়টা।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

প্রাচীন বাংলা ‘গঙ্গাঋদ্ধি’

পলিম্যাথ টলেমী, রোমান কবি ভির্জিল ও প্রাচীন বাংলা ‘গঙ্গাঋদ্ধি’:
—————————— ড. রমিত আজাদ

বাংলার প্রাচীন নাম ‘গঙ্গাঋদ্ধি’ এখন হারিয়েই যাচ্ছে। আমি ছোটবেলায় স্কুলের ইতিহাস বইয়ে এই গঙ্গাঋদ্ধি সম্পর্কে পড়েছিলাম। বাংলা এ্যাকাডেমী থেকে প্রকাশিত একটি বইয়ের নাম আছে ‘গঙ্গাঋদ্ধি থেকে বাংলাদেশ’ লেখক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। দুশো বছরের বৃটিশ শাসনের আগুনে আমাদের ইতিহাস সহ অন্যান্য অনেক গ্রন্থই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। মহাজ্ঞানী অতীশ দীপংকরের বইগুলোও এখন পড়তে হচ্ছে তিব্বতী ভাষায়। স্বাধীনতার পরেও ঐসব গ্রন্থ পুনরুদ্ধারের খুব একটা চেষ্টা হয়েছে বলেছে মনে হয়না। আবার স্কুলের কারিকুলাম থেকেও আমাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবগাঁথা ধীরে ধীরে তুলে দেয়া হচ্ছে। জাতিকে ডিমোরালাইজ করার এক অদ্ভুত চাল।

যাহোক, বহুবিদ্যাজ্ঞ টলেমী সেই ৯০ সালে গঙ্গাঋদ্ধি নামটি উল্লেখ করেছেন। ইউরোপীয় ভাষায় এর উচ্চারণ Gangaridai।
টলেমি গঙ্গারিডাই-এর অবস্থান সম্পর্কে মোটামুটি বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, গঙ্গার পাঁচটি মুখ সংলগ্ন (নদীগুলো হলো মেঘনা, পদ্মা, যমুনা, কর্ণফুলী এবং রূপসা) প্রায় সমূদয় এলাকা গঙ্গারিডাইগণ দখল করে রেখেছিল, ‘গাঙ্গে’ নগর ছিল এর রাজধানী। তার বর্নণাকৃত চারটি দ্রাঘিমা ডিগ্রি সমূদ্র উপকূলের সর্ব পশ্চিম থেকে সর্ব পূর্ব নদীমুখ পর্যন্ত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করছে। কার্যতঃ এর অর্থ হলো ‘গঙ্গারিডাই’ বঙ্গপোসাগরের উপকৃলবর্তী গঙ্গার সর্বপশ্চিম এবং সর্বপূর্ব নদীমুখ পযর্ন্ত বিস্তৃত ছিল। ভাগীরথির (তমলুক এর নিকটে) এবং পদ্মার (চট্টগ্রামের নিকটে) নদীমুখের দ্রাঘিমা রৈখার পার্থক্য ৩৫ ডিগ্রির সামান্য কিছু বেশি। তাই টলেমির তথ্যানুযায়ী গব্দারিডাই-কে শনাক্ত করা যায় বর্তমান পশ্চিমবাংলা ও বাংলাদেশে গঙ্গার প্রধান দুটি শাখার মধ্যবর্তী অঞ্চলটিতে।

‘গঙ্গারিডাই রাজ্য ৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অর্থাৎ জ্ঞানী এরিস্টটল ও লুটেরা আলেকজান্ডার-এর সময়কালে ভারতীয় উপমহাদেশের বাঙলা অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। গ্রিক পর্যটক মেগাস্থিনিস তার ইন্ডিকা গ্রন্থে এটা বর্ণনা করেছেন। ধ্রুপদী গ্রিক এবং ল্যাটিন ঐতিহাসিকদের বর্ণনানুযায়ী আলেকজান্ডার দি গ্রেট বাংলায় অবস্থিত এই গঙ্গারিডির লোকেদের পরাক্রমের কাহীনী শুনে শংকিত হয়ে যমুনার পশ্চিম পাড় থেকেই ফেরৎ চলে যান। তবে ইদানিংকার গবেষণায় উঠে আসছে যে, এটি মূলতঃ গ্রীসের দরবারী ইতিহাস। তাদের বর্ণনার ফাঁক-ফোকর থেকে বেরিয়ে আসে যে, যুদ্ধটি হয়েছিলো এবং লুটেরা আলেকজান্ডার সেই যুদ্ধে পরাজিত হয়ে কোমর ভেঙে পালিয়েছিলো।

Ptolemy (c. 90 – c. 168), wrote that the Gangaridai occupied the entire region about the five mouths of the Ganges and that the royal residence was in the city of “Ganges”. The five mouths were the Kambyson, the Mega, the Kamberikhon, the Pseudostomon and the Antibole. These rivers may refer to the Meghna, Padma, Jamuna, Karnaphuli and Rupsa. Ptolemy also noted a large natural harbour in the Chittagong coastline.

গঙ্গাঋদ্ধি-র সুনাম এত দীর্ঘকাল বিস্তৃত ছিলো যে, পাশ্চাত্যের দূরবর্তী দেশগুলি পরবর্তী ৫০০ বছর তাদের নাম ও যশ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিল। রোমান কবি ভির্জিল খ্রীষ্টপূর্ব ২৯ সালে গঙ্গাঋদ্ধি নামটি তাঁর কবিতায় উল্লেখ করেছেন।

In foribus pugnam ex auro solidoque elephanto Gangaridum faciam victorisque arma quirini

On the doors will I represent in gold and ivory the battle of the Gangaridae and the arms of our victorious Quirinius. –Virgil, “Georgics” (III, 27)

নীচে কয়েকটিতে ছবিতে এভিডেন্স উল্লেখ করলাম।

(date: 28th March, 2017, Time: 1400 hours)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

বডি ল্যাংগুয়েজ – ১

বডি ল্যাংগুয়েজ:
মুখের ভাষাই সব নয়। আরও ভাষা আছে, ওগুলো নন-ভার্বাল। আসলে নন-ভার্বাল ভাষার এক্সপ্রেশনই বেশী। একে বলা হয় শরীরের ভাষা (body language)। নানা পারপাজে এই বডি ল্যাংগুয়েজ রিড করতে পারাটা খুব জরুরী। রাজনীতিবিদদের কথাই ধরুন, মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা কতই না মনোমুগ্ধকর কথা বলে যাচ্ছে, কিন্তু তার মুখে যা, অন্তরে কি তাই? যদি তাই হয় তবে তো ভালোই, আর যদি তা না হয়, তাহলে? সেই ক্ষেত্রে আসে ঐ বডি ল্যাংগুয়েজ। বডি ল্যাংগুয়েজ রিড করতে পারলে বোঝা যাবে যে, ঐ রাজনীতিবিদের অন্তরে কি আছে।

জুলিয়াস সিজার যদি বডি ল্যাংগুয়েজ পড়তে পারতেন, তাহলে হয়তো বুঝতে পারতেন যে, তাকে মিষ্টি কথা বলে সিনেটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে যে ব্রুটাস তার চোখের আড়ালে ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।

পরিচালকদেরও জানতে হয় বডি ল্যাংগুয়েজ, তা সে তিনি সৈন্যদলের পরিচালক হন, আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকই হন। ইন্টারভিউ বোর্ডের মেম্বারদেরও বডি ল্যাংগুয়েজ রিড করা জানতে হয়, তাহলে তারা চকুরী প্রার্থীর মনের কথা পড়তে পারবেন। নিয়মিত গোয়েন্দাদের বডি ল্যাংগুয়েজের উপর প্রশিক্ষণ থাকাটা জরুরী। বডি ল্যাংগুয়েজ জানতে হয় সাংবাদিকদেরও, কারো সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় যেন তার বডি ল্যাংগুয়েজ চোখ এড়িয়ে না যায়।
আমি অনেক পেশাজীবিদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তারা বডি ল্যাংগুয়েজের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কিনা, অথবা বডি ল্যাংগুয়েজের উপর তাদের লেখাপড়া আছে কিনা? বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের উত্তরটি ছিলো অস্পষ্ট!
— রমিত আজাদ

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

শ্রেষ্ঠ দৃশ্যপট

শ্রেষ্ঠ দৃশ্যপট
— ড. রমিত আজাদ

তারপর একঝাঁক প্রজাপতি,
অথবা একটি চঞ্চল দোয়েল,
ঘাসফড়িং-এর পদাঘাতে তৃণ
কেঁপে কেঁপে ওঠে,
যেন স্পন্দিত হৃৎপিন্ড আমার
যখন তোমাকে দেখি,
বৃষ্টিস্নাত বিকেলের রোদে।

সেই গার্লস স্কুল,
তার পাশ ঘেসে বয়ে চলা রাজপথ,
ছুটির ঘন্টার জন্য অপেক্ষা,
অপেক্ষা তোমার জন্য।
বিদ্যালয়ের ফটক গলে বেরিয়ে আসবে তুমি,
হালকা রঙের ইউনিফর্ম পরিহিতা,
একরঙ একঢঙ পোষাকের অতগুলো কিশোরীর মাঝে,
তোমাকে ঠিকই সনাক্ত করতাম আমি,
তুমি যে অনুপমা!
তারপর কম্পিত হৃৎপিন্ড আমার,
মেঘেদের চিত্রানুগ স্পন্দন।

তোমার পথচলা দেখতাম একমনে,
সোনারোদ বিকেলের আভায়,
যেন জলরঙে আঁকা এক ছবি,
নামহীন পৌরাণিক চিত্রকরের।
কাঁচা বয়সের সেই অস্থির দিনগুলিতে,
কবিতার তিথি অথবা সঙ্গীতের ঐকতান ভেঙে,
ওটিই ছিলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দৃশ্যপট!

তারিখ: ১৯শে মার্চ, ২০১৭
সময়: রাত ১২টা ৪৭ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

সিজার ও ব্রুটাস

সিজার ও ব্রুটাস
—- রমিত আজাদ

জুলিয়াস সিজার নামটি ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে ফেলা যাবে না কখনো। সিজার যখন যুবা, প্রবল প্রতাপশালী রোম তখন নিজেকে প্রজাতন্ত্র বলে দাবী করে। দেশ চালায় আইনসভার সিনেটরেরা। তারপরেও ব্যাপক অরাজকতা! স্পার্টাকাসের নেতৃত্বে দাসদের বিদ্রোহ রোমের ঐদ্ধত্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে মাত্র কয়েক বছর আগে। এইসব রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে দিয়ে সেনাপতি সিজার রোমে প্রবেশ করে গল, মিশর, ফার্নাসেস ও জুবা লুন্ঠন শেষে। রোমানরা জানতো যে, লুন্ঠনের চাইতে লাভজনক আর কিছু নাই, ইতিপূর্বে তাদের এই পথ দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো ইউরোপের আরেক লুটেরা ‘আলেকজান্ডার’। যদিও প্রাচীন বাংলা ‘গঙ্গাৃঋদ্ধি’-র সৈন্যদের কাছে মার খেয়ে লুটেরা আলেকজান্ডার আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি! তদুপরি গ্রীসের দরবারী ইতিহাসে আলেকজান্ডার-কে হিরো হিসাবেই দেখানো হয়েছে। যাহোক, সিজারের লুন্ঠনের অর্থ-সম্পদ কাজে লাগানো হবে রোমের বিলাসিতায়, এই কারণে রোমানরা সিজারকেও বিজয়ীর মর্যাদা দিয়ে কাউন্সিলারের পদে বসিয়েছিলো। কিন্তু কয়েকমাস পরেই অভিযোগ শুরু হলো, সিজার সিনেট-কে গুরুত্ব দিচ্ছেনা, তার খেয়াল-খুশী মতো দেশ চালাচ্ছে। ক্ষিপ্ত সিনেটররা প্রকাশ করলো যে সিজারের কার্যকলাপ ভালো নয়, এতে রোমের চেতনা ভুলুন্ঠিত হবে, রোম প্রজাতান্ত্রিক রূপ বদলে সাম্রাজ্যে পরিণত হতে পারে। তবে সিজার কারো কথায়ই কর্ণপাত করছিলো না। একসময় একদল অসন্তষ্ট সিনেটর ষড়যন্ত্র করলো সিজারকে হত্যা করার। একে একে অনেকেই ঐ দলে ভিড়লো, তবে একজনকে তারা কিছুতেই কনভিন্স করতে পারছিলো না, নাম তার ‘ব্রুটাস’। কে এই ব্রুটাস? পিতা জুনিয়াস ও মাতা সার্ভেলিয়ার সন্তান ব্রুটাস। ছেলেবেলা থেকেই ব্রুটাস ছিলেন জ্ঞানানুরাগী। ছিলেন জুলিয়াস সিজারের কন্যা জুলিয়ার সমবয়সী প্রায়, এবং সিজারের পিতৃতুল্য স্নেহে বড় হয়েছিলেন জুলিয়ার সাথেই। তবে ‘সিজার’ ‘পম্পেই’ দ্বন্দ্বে ব্রুটাস সমর্থন দিয়েছিলো পম্পেই-কে। তারপর একসময় সিজার তাকে ক্ষমা করে দেয় ও তাকে গলের গভর্নর হিসাবে নিয়োগ দেয়। পাশাপাশি এ’কথা সর্বজনবিদিতই ছিলো যে ব্রুটাসের মাতা সার্ভেলিয়া চিরকালই সিজারের প্রণয়িনী ছিলো (সিজারের একাধিক স্ত্রী ছিলো ও তিনি বহু নারীতে আসক্ত ছিলেন)। আর সেই কারণে অনেকেই মনে করে থাকে যে, ব্রুটাসের প্রকৃত পিতা ছিলেন জুলিয়াস সিজার স্বয়ং। কাহিনীটির ড্রামাটা ঠিক এখানেই। সিজার বিরোধী সিনেটররা কিছুতেই কনভিন্স করতে পারছিলো না ব্রুটাস-কে। তাই তারা তাদের ষড়যন্ত্রকেও বাস্তবে রূপ দিতে পারছিলো না। তবে একসময় তারা সফল হয়, ব্রুটাস মেনে নেয় তাদের কথা, ‘ডিক্টেটর সিজার প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করছে’ রোম শিগগীরই সাম্রাজ্যে পরিণত হতে পারে, তাই প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে সিজার-কে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে। ব্যাস নেমে গেলেন তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে। যথাদিনে সিনেট ভবনের ভিতরে ষাটজন সিনেটর উন্মুক্ত খঞ্জর হাতে ঝাঁপিয়ে পড়লো সিজারের উপর। একের পর এক তারা ছুরিকাঘাত করতে থাকে সিজারের দেহে। রাজ্যজয়ী সেনাপতি সিজার নিরস্ত্র হাতে কিছুই করতে পারছিলো না, শুধু ষড়যন্ত্রকারীদের সনাক্ত করছিলো, একসময় যখন ছুরিকাঘাত করতে এগিয়ে আসে ব্রুটাস, বিস্মিত সিজার তখন কেবল বলেছিলো “Kai su, teknon?”: “You too, child?”
এই আকস্মিক ভায়োলেন্সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে, অন্যান্য সিনেটররা দ্রুত দৌড়ে সেখান থেকে পালাতে থাকে। একসময় সিনেট ভবন ফাঁকা হয়ে যায়, পড়ে থাকে কেবল একটি দেহ, ‘জুলিয়াস সিজারের রক্তাত মৃতদেহ’। জীবিতাবস্থায় প্রবল প্রতাপশালী সিজারের নিথর দেহ কয়েক ঘন্টা ওভাবেই পড়েছিলো পাষাণ মেঝের উপর। কয়েক ঘন্টা পর সৈন্যরা তার মৃতদেহ ওখান থেকে সরিয়ে নেয়।
এই ঘটনাটি ইউরোপের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই নিয়ে অনেক নাটক-নভেলও হয়েছে। স্বয়ং উইলিয়াম শেক্সপীয়ারও লিখেছেন নাটক ‘জুলিয়াস সিজার’।
উল্লেখ্য, এই একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি মানব ইতিহাসে আরো বহুবার হয়েছে।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

অষ্টাদশীর লাজুক কামুক হাসি

অষ্টাদশীর লাজুক কামুক হাসি
———– রমিত আজাদ

অষ্টাদশীর কষ্ট দেখি
ষষ্ঠ তিথির ভ্রষ্ট জলে।
ফানুস হয়ে, মানুষ ভাসে,
চন্দ্রাবতীর মিষ্ট ছলে।

অষ্টাদশীর গুপ্ত মনে
আর্ত রতির বহ্নি জ্বলে।
কামুক হয়ে, লাজুক হাসে,
প্রভাবতীর ওষ্ঠ কোলে।

অষ্টাদশীর গাত্র ভাজে
মুর্ত রঙ্গের অঙ্গ পলে,
সাগর হয়ে, নাগর আসে,
লজ্জাবতীর হৃদয় দোলে।
_________________________________

তারিখ: ১৫ই মার্চ, ২০১৭
সময়: ভোর ৩টা ১০ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

আমার জীবনে দেখা প্রথম হোলি উৎসব ও টুকরো ঋণাত্মক স্মৃতি

আমার জীবনে দেখা প্রথম হোলি উৎসব ও টুকরো ঋণাত্মক স্মৃতি:

ঘটনা ১৯৮৯ সালের। আমি তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের জর্জিয়া প্রজাতন্ত্রের রাজধানীতে তিবিলিসি স্টেট ইউনিভার্সিটির ল্যাংগুয়েজ কোর্সের ছাত্র। আমরা সেখানে অধ্যায়ন করছিলাম মোট ২২ জন বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী, এদের মধ্যে ১৮ জন ছেলে ও চারজন মেয়ে। চারতলা ডরমিটরির তিনতলার একপাশে থাকতাম আমরা বাংলাদেশীরা ও অপর পার্শ্বে ভারতীয়রা। তাদের মধ্যে আবার ছিলো ২০ জন ছেলে ও ২০ জন মেয়ে। ঐ প্রথম আমরা ভারতীয়দের খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম, এর আগে বোম্বাই ফিল্মেই কেবল ওদের দেখতাম। একই উপমহাদেশের বলে আমাদের মধ্যে কিছুটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিলো। তবে ভারতীয় ছেলেদের চাইতে ভারতীয় মেয়েরা আমাদের সাথে বেশী বন্ধুভাবাপন্ন ছিলো। আমরা বাংলাদেশীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম ও কিছুটা ঝাঁঝালো ছিলাম বলে, ভারতীয় ছেলেরা আমাদের কিছুটা সমঝে চলতো। আমরা বাংলাদেশীরা খুব উৎসবমুখর ছিলাম, নানা অজুহাতে পার্টি, দাওয়াত এটা-সেটা আমাদের লেগেই থাকতো। তবে আমাদের উৎসবগুলোতে শালীনতা ছিলো, আমরা দলবেধে রান্না-বান্না করে খাওয়া-দাওয়া করে, গানের আসর বসাতাম, কবিতা পাঠ করতাম, গল্প-গুজব, হাসি-ঠাট্টা ইত্যাদি। কখনো কখনো হঠাৎ অন্য ডরমিটরি থেকে এসে আমাদের সাথে সামিল হয়ে যেতেন আমাদের সিনিয়র ভাইয়েরা। তারা এসে বলতেন, “ছোট ভাই-বোনেরা এই পার্টিটার খরচ কিন্তু আমি/আমরা দিচ্ছি”। আমাদের সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক ছিলো মধুর, স্নেহ-শ্রদ্ধার (যা আমাদের আবহমান কালের সংস্কৃতি)। পক্ষান্তরে ভারতীয়দের দেখেছি সিনিয়র-জুনিয়র র‍্যাগিং ও অন্যান্য তিক্ততা করতে (হয়তো ওটাই ওদের আবহমান কালের ঐতিহ্য!)। আমাদের এই উৎসব মুখরতা এত বেশী ছিলো যে, একবার ডরমিটরির এক শিখ বন্ধু আমাকে বললো, “তোমাদের আজ কোন পার্টি নেই?” আমি বললাম, “কিসের পার্টি?” সে বলে, “তোমাদের তো হররোজই পার্টি!” আমি হেসে ফেলেছিলাম। যাহোক, একবার এলো হোলি উৎসব। সকাল থেকেই লক্ষ্য করলাম এতে ভারতীয় ছেলেরা বেশী তৎপর! আর ওদের টার্গেট মেয়েরা। কিছু ভারতীয় মেয়েদের দেখলাম স্বেচ্ছায় ঐ মাস্তিতে যোগ দিতে, আর কিছু মেয়েদেরকে দেখলাম যোগ না দিতে। আরপরেও ছেলেরা জোর করে ওদের গায়ে রঙ মাখানোর চেষ্টা করছিলো। আমাদের বাংলাদেশী মেয়েদের মুখে ওরা জোর করে রঙ মাখাতে সাহস পায়নি, আমরা বাংলাদেশী ছেলেরা শক্ত অবস্থান নিয়েছিলাম বলে। এক পর্যায়ে ভারতীয় ছেলেরা বেপরোয়া হয়ে উঠলে, কয়েকজন ভারতীয় মেয়ে আমাদের রূমে এসে আশ্রয় নিলো। ওদেরকে ভিতরে রেখে আমরা করিডোরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এবার দেখলাম বেপরোয়া ছেলেগুলা আর আমাদের রূমে ঢুকতে সাহস করলো না। কিছুক্ষণ পর আমরা রূমে ঢুকে দেখলাম, একটি মেয়ে টেনশনে জ্ঞান হারিয়েছে। পুরো বিষয়টি সেদিন আমাদের খুব অসহ্য লেগেছিলো, ‘এ কেমন উৎসব?!”
—————– রমিত আজাদ

তারিখ: ১৫ই মার্চ, ২০১৭
সময়: ভোর ১২ টা ৫৮ মিনিট।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

Epistemology (জ্ঞানতত্ত্ব)

Epistemology (জ্ঞানতত্ত্ব)
————- ড. রমিত আজাদ

এলোমেলোভাবে ঘোরাঘুরি করলে ভ্রমণ করা হবে প্রচুর কিন্তু তাতে গন্তব্যে পৌঁছানো হবেনা, আর যদি হয়ও তবে তার পিছনে অযথা ব্যায় হবে অনেক সময় ও শ্রম। একইভাবে কোন একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন বা তৈরী করতে গেলে অপ্রাসঙ্গিক বহুসংখ্যক পাঠ ঐ সুনির্দিষ্ট বিষয়ে অবগত করায় সহায়ক হবে কম এমনকি কিছু পরিমানে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করতে পারে। সুনির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন বা তৈরী করার জন্য প্রয়োজন কিছু লাগসই পদ্ধতি অনুসরণ করা। দর্শনের একটি শাখা সেই পদ্ধতিগুলো বাতলে দেয় তার নাম Epistemology (জ্ঞানতত্ত্ব বা জ্ঞানবিদ্যা)।

পৃথিবীর অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘History of ideas’ নামে ডিপার্টমেন্ট রয়েছে, সাবজেক্ট তো আছেই। বিষয়টি গবেষণার এমন একটি ক্ষেত্র যা মানব ভাব (human ideas)-এর প্রকাশ, সংরক্ষণ ও পরিবর্তন নিয়ে কাজ করে। Epistemology-র সাথে ‘history of ideas’-এর সম্পর্ক গভীর। Epistemology ও ‘History of ideas’ পড়লে চিন্তা সংহত হয়।

কোন একটি গবেষণা করতে গেলে জ্ঞানতত্ত্বের ভিত্তি স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। তা নইলে কনফিউজড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোন একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে চিন্তা করলে তার ফসল হিসাবে নতুন একটি জ্ঞান সহজেই পাওয়া যেতে পারে।

জ্ঞান কাকে বলে?
একজন ব্যাক্তি কর্তৃক অর্জিত facts, information, and skills হলো জ্ঞান। পাশাপাশি এরকমও বলা হয় যে, জ্ঞান হচ্ছে যাচাইকৃত সত্য বিশ্বাস (justified true belief)। আমরা যা বিশ্বাস করি তা কখনো ‘সত্য’ কখনো ‘অসত্য’। যেমন, আমি বিশ্বাস ঘরের বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, এটা সত্য হতে পারে নাও হতে পারে। আমরা যা নিশ্চিত জানি তা অবশ্যই ‘সত্য’।

জ্ঞান = বিশ্বাস + সত্যা + কনফিডেন্স+ গুড বেসিস
যেমন, একজন ব্যাক্তি বললো, “আমি জানি যে মানুষ চাঁদে গিয়েছে”। এটা সত্য জ্ঞান হবে কিনা? এটা সত্য জ্ঞান হতে গেলে ১। এটা জাস্টিফাই করা সম্ভব হতে হবে, ২। এটাকে ফ্যাক্ট হতে হবে, ৩। ব্যাক্তিটিকে বিশ্বাস করতে হবে যে, মানুষ চাঁদে গিয়েছে।
এখন কথা হলো যে জাস্টিফাই করবো কি করে? ১। ভালো মানের এভিডেন্স থাকতে হবে, ২। এভিডেন্সগুলোকে logical ও reasonable হতে হবে।

Epistemology কি?
Epistemology হলো জ্ঞান অর্জন বা তৈরীর পদ্ধতি সংক্রান্ত বিদ্যা। ‘কি করে আমি জানতে পারবো?’ এই প্রশ্নটির উত্তর দেয় Epistemology। ধারণার প্রকৃতি, ধারণার নির্মান, ইন্দ্রিয়ের বৈধতা, যৌক্তিক ব্যাখ্যা(logical reasoning) এবং এর পাশাপাশি চিন্তন, ভাব, স্মৃতি, আবেগ ও মন:-সংক্রান্ত সবকিছু ইত্যাদিকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে Epistemology। আমাদের মন বাস্তবতার সাথে কি করে সম্পর্কিত, ও এই সম্পর্কগুলো বৈধ কি অবৈধ এই নিয়েও কাজ করে Epistemology।
Epistemology – এখানে দুটি শব্দ আছে ‘Episteme’ মানে Knowledge বা understanding আর Logy মানে বিদ্যা বা শাস্ত্র।

Epistemology গুরুত্বপূর্ণ কেন?
Epistemology হলো আমরা কি করে ভাবি তার ব্যাখ্যা। মূল্যায়ন-এর একটি যথাযথ পদ্ধতি নির্ধারণ করে সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায় Epistemology। আমাদের চারপাশের জগত সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞানকে ব্যবহার করার জন্যে প্রয়োজন Epistemology। Epistemology না থাকলে আমরা বুঝতে পারতাম না যে আমাদের চিন্তনটি ফলদায়ক ও সঠিক। Epistemology-র সঠিকতার মাত্রা যত বেশী হবে, বাস্তবতাকে বোঝার মাত্রাও তত বেশী হবে, এবং ঐ জ্ঞানকে আমাদের জীবন ও লক্ষ্যকে উন্নীত করার মাত্রাও তত বেশী হবে।

Epistemology-র কুঞ্জিকা উপাদান গুলো কি?
আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি বৈধ, এবং বাইরের জগত থেকে তথ্য সংগ্রহের একমাত্র উপায়। Reason হলো জ্ঞান লাভের ও প্রতীতি (understanding) অর্জনের পদ্ধতি। Logic হলো আমাদের জ্ঞানের সেট (set)-এর জ্ঞানগুলির মধ্যে সঙ্গতি বজায় রাখার পদ্ধতি। Objectivity হলো জ্ঞানের বৈধতা নির্ণয় করার উদ্দেশ্যে উপায় বাস্তবতা ও জ্ঞানকে সমন্বিত করা। Concept হলো বাস্তবতার সুনির্দিষ্ট বিবরণ-এর বিমূর্ত ধারণা, অথবা অন্য কোন কিছুর বিমূর্ত ধারণা। Rational epistemology ই হলো যথাযথ epistemology।

Philosophical Epistemology-র দুটি শাখা:
Philosophical Epistemology-র দুটি শাখা আছে, empiricism rationalism।

Epistemology ও Methodology-এর মধ্যে পার্থক্য:

Epistemology হলো জ্ঞান সংক্রান্ত দর্শন। ‘কি করে আমি জানতে পারবো?’ এই প্রশ্নটির উত্তর দেয় Epistemology। আর Methodology হলো সুনির্দিষ্ট পথ। Methodology-ও ‘কি করে আমি জানতে পারবো?’ এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করে তবে, Methodology অনেক বেশী ব্যবহারিক।
Methodology-তে আছে theories, methods, technical approach, ইত্যাদি। আর Epistemology-র ফোকাস হলো কি করে জ্ঞান তৈরী হয় ও বৈধতা পায়।

Epistemology ও skepticism:
Skepticism মানে হলো সন্দেহবাদ। এই সন্দেহ হওয়াটা জরুরী। কোন কিছু সম্পর্কে সন্দেহ না হলে কষ্ঠি পাথরে ঘষে সঠিক জ্ঞানটাও পাওয়া যাবেনা।

Epistemology জানা ও না জানা:
এপিস্টোমলজি জ্ঞান অর্জনের পথটিকে সাফ করে নির্বিঘ্ন করে।
টমাস এডিসন এপিস্টোমলজি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতেন না, অন্যদিকে নিকোলাই তেসলা এপিস্টোমলজি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতেন। যদিও বিদ্যুতের যাদুকর টমাস এডিসন ১৪০০ উদ্ভাবন প্যাটেন্ট করিয়েছিলেন, কিন্তু এ সম্পর্কে তেসলা বলেছিলেন যে, এডিসনের কঠোর অধ্যাবসায়ই উনাকে এত অত বড় বিজ্ঞানীতে পরিণত করেছে। কিন্তু যে সকল কাজ অতি সহজেই করা যায় পর্যাপ্ত তাত্ত্বিক জ্ঞানের অভাবে ঐ কাজ করতে উনাকে অনেক সময় ও শ্রম খরচ করতে হতো। পক্ষান্তরে নিকোলাই তেসলা তাঁর উদ্ভাবনগুলো করেছিলেন অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ও কম শ্রমে। এখানেই এপিস্টেমোলজি জানার গুরুত্ব।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী

Song: Helen destroyed the city of Troy
Movie: Mintu is my name (in Bengali)
composer: unknown
Translated by: Ramit Azad

Helen destroyed the city of Troy,
Many kings lost their thrones,
Too many men made mistake,
Too many hearts were broken,
All these occur because of women.

I am one of them.

On the road to brunette hair,
Many Caesars and Romeos were lost!
This beauty is magical,
This beauty is mesmerizing to you.

I am one of them.

Oh from these eyes that Floods of wines fall,
You do not understand,
You do not know,
These lips drip nectar,
Persian roses are smiling in this body.

Just extend your hands,
You will get what you want,
Take everything what you need.

Helen destroyed the city of ‘Troy’,
Some left the throne ,
Many men mistaken, many hearts were broken,
All these because of woman

I am one of them.

(Congratulations to all women on International women’s day)

—————XXX———————

গান: হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী
ছবির নাম: মিন্টু আমার নাম
লেখকের নাম: অজানা
ইংরেজীতে অনুবাদ: রমিত আজাদ

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of Troy,
Many kings lost their thrones,
Too many men made mistake,
Too many hearts were broken,
All these occur because of women.

I am one of them.

কালো কেশের লাখো পথে
হারিয়েছে রোমিও সিজার আরো কত না কে!
এই রূপে যাদু আছে
তুমি তো যাদুরই পরশে নীরবে জড়াবে

এদেরই আমি একজন।

On the road to brunette hair
Many Caesars and Romeos were lost!
This beauty is magical,
This beauty will mesmerize you.

I am one of them.

এই চোখে নেশার নদী বয়ে চলে,
তুমি তো বোঝনা
জানোনা কিছুই তার.
অধরে মধু আছে
অঙ্গেতে রেশমী জড়ানো ইরাণী গোলাপ যার

Oh from these eyes that Floods of wines fall,
You do not understand,
You do not know,
These lips drip nectar,
Persian roses are smiling in this body.

বাড়ালে হাত তুমি
পাবে যে সব জানি
নাও না যেটুকু নেবার

Just extend your hands,
You will get what you want,
Take everything what you need.

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of ‘Troy’,
Some left the throne ,
Many men mistaken, many hearts were broken,
All these because of woman

I am one of them.

পুরণো দিনের একটা গানের লিরিক দিলাম, আজ বিশ্ব নারী দিবসে।ংান: হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী
(ছবি: মিন্টু আমার নাম)

লেখকের নাম: অজানা
অনুবাদ: রমিত আজাদ

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of Troy,
Many kings lost their thrones,
Too many men made mistake,
Too many hearts were broken,
All these occur because of women.

I am one of them.

কালো কেশের লাখো পথে
হারিয়েছে রোমিও সিজার আরো কত না কে!
এই রূপে যাদু আছে
তুমি তো যাদুরই পরশে নীরবে জড়াবে

এদেরই আমি একজন।

On the road to brunette hair
Many Caesars and Romeos were lost!
This beauty is magical,
This beauty will mesmerize you.

I am one of them.

এই চোখে নেশার নদী বয়ে চলে,
তুমি তো বোঝনা
জানোনা কিছুই তার.
অধরে মধু আছে
অঙ্গেতে রেশমী জড়ানো ইরাণী গোলাপ যার

Oh from these eyes that Floods of wines fall,
You do not understand,
You do not know,
These lips drip nectar,
Persian roses are smiling in this body.

বাড়ালে হাত তুমি
পাবে যে সব জানি
নাও না যেটুকু নেবার

Just extend your hands,
You will get what you want,
Take everything what you need.

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of ‘Troy’,
Some left the throne ,
Many men mistaken, many hearts were broken,
All these because of woman

I am one of them.

পুরণো দিনের একটা গানের লিরিক দিলাম, আজ বিশ্ব নারী দিবসে।ংান: হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী
(ছবি: মিন্টু আমার নাম)

লেখকের নাম: অজানা
অনুবাদ: রমিত আজাদ

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of Troy,
Many kings lost their thrones,
Too many men made mistake,
Too many hearts were broken,
All these occur because of women.

I am one of them.

কালো কেশের লাখো পথে
হারিয়েছে রোমিও সিজার আরো কত না কে!
এই রূপে যাদু আছে
তুমি তো যাদুরই পরশে নীরবে জড়াবে

এদেরই আমি একজন।

On the road to brunette hair
Many Caesars and Romeos were lost!
This beauty is magical,
This beauty will mesmerize you.

I am one of them.

এই চোখে নেশার নদী বয়ে চলে,
তুমি তো বোঝনা
জানোনা কিছুই তার.
অধরে মধু আছে
অঙ্গেতে রেশমী জড়ানো ইরাণী গোলাপ যার

Oh from these eyes that Floods of wines fall,
You do not understand,
You do not know,
These lips drip nectar,
Persian roses are smiling in this body.

বাড়ালে হাত তুমি
পাবে যে সব জানি
নাও না যেটুকু নেবার

Just extend your hands,
You will get what you want,
Take everything what you need.

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of ‘Troy’,
Some left the throne ,
Many men mistaken, many hearts were broken,
All these because of woman

I am one of them.

পুরণো দিনের একটা গানের লিরিক দিলাম, আজ বিশ্ব নারী দিবসে।

গান: হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী
(ছবি: মিন্টু আমার নাম)

লেখকের নাম: অজানা
ইংরেজীতে অনুবাদ: রমিত আজাদ

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of Troy,
Many kings lost their thrones,
Too many men made mistake,
Too many hearts were broken,
All these occur because of women.

I am one of them.

কালো কেশের লাখো পথে
হারিয়েছে রোমিও সিজার আরো কত না কে!
এই রূপে যাদু আছে
তুমি তো যাদুরই পরশে নীরবে জড়াবে

এদেরই আমি একজন।

On the road to brunette hair
Many Caesars and Romeos were lost!
This beauty is magical,
This beauty will mesmerize you.

I am one of them.

এই চোখে নেশার নদী বয়ে চলে,
তুমি তো বোঝনা
জানোনা কিছুই তার.
অধরে মধু আছে
অঙ্গেতে রেশমী জড়ানো ইরাণী গোলাপ যার

Oh from these eyes that Floods of wines fall,
You do not understand,
You do not know,
These lips drip nectar,
Persian roses are smiling in this body.

বাড়ালে হাত তুমি
পাবে যে সব জানি
নাও না যেটুকু নেবার

Just extend your hands,
You will get what you want,
Take everything what you need.

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of ‘Troy’,
Some left the throne ,
Many men mistaken, many hearts were broken,
All these because of woman

I am one of them.

পুরণো দিনের একটা গানের লিরিক দিলাম, আজ বিশ্ব নারী দিবসে।ংান: হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী
(ছবি: মিন্টু আমার নাম)

লেখকের নাম: অজানা
অনুবাদ: রমিত আজাদ

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of Troy,
Many kings lost their thrones,
Too many men made mistake,
Too many hearts were broken,
All these occur because of women.

I am one of them.

কালো কেশের লাখো পথে
হারিয়েছে রোমিও সিজার আরো কত না কে!
এই রূপে যাদু আছে
তুমি তো যাদুরই পরশে নীরবে জড়াবে

এদেরই আমি একজন।

On the road to brunette hair
Many Caesars and Romeos were lost!
This beauty is magical,
This beauty will mesmerize you.

I am one of them.

এই চোখে নেশার নদী বয়ে চলে,
তুমি তো বোঝনা
জানোনা কিছুই তার.
অধরে মধু আছে
অঙ্গেতে রেশমী জড়ানো ইরাণী গোলাপ যার

Oh from these eyes that Floods of wines fall,
You do not understand,
You do not know,
These lips drip nectar,
Persian roses are smiling in this body.

বাড়ালে হাত তুমি
পাবে যে সব জানি
নাও না যেটুকু নেবার

Just extend your hands,
You will get what you want,
Take everything what you need.

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of ‘Troy’,
Some left the throne ,
Many men mistaken, many hearts were broken,
All these because of woman

I am one of them.

পুরণো দিনের একটা গানের লিরিক দিলাম, আজ বিশ্ব নারী দিবসে।ংান: হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী
(ছবি: মিন্টু আমার নাম)

লেখকের নাম: অজানা
অনুবাদ: রমিত আজাদ

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of Troy,
Many kings lost their thrones,
Too many men made mistake,
Too many hearts were broken,
All these occur because of women.

I am one of them.

কালো কেশের লাখো পথে
হারিয়েছে রোমিও সিজার আরো কত না কে!
এই রূপে যাদু আছে
তুমি তো যাদুরই পরশে নীরবে জড়াবে

এদেরই আমি একজন।

On the road to brunette hair
Many Caesars and Romeos were lost!
This beauty is magical,
This beauty will mesmerize you.

I am one of them.

এই চোখে নেশার নদী বয়ে চলে,
তুমি তো বোঝনা
জানোনা কিছুই তার.
অধরে মধু আছে
অঙ্গেতে রেশমী জড়ানো ইরাণী গোলাপ যার

Oh from these eyes that Floods of wines fall,
You do not understand,
You do not know,
These lips drip nectar,
Persian roses are smiling in this body.

বাড়ালে হাত তুমি
পাবে যে সব জানি
নাও না যেটুকু নেবার

Just extend your hands,
You will get what you want,
Take everything what you need.

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of ‘Troy’,
Some left the throne ,
Many men mistaken, many hearts were broken,
All these because of woman

I am one of them.

পুরণো দিনের একটা গানের লিরিক দিলাম, আজ বিশ্ব নারী দিবসে।ংান: হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী
(ছবি: মিন্টু আমার নাম)

লেখকের নাম: অজানা
অনুবাদ: রমিত আজাদ

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of Troy,
Many kings lost their thrones,
Too many men made mistake,
Too many hearts were broken,
All these occur because of women.

I am one of them.

কালো কেশের লাখো পথে
হারিয়েছে রোমিও সিজার আরো কত না কে!
এই রূপে যাদু আছে
তুমি তো যাদুরই পরশে নীরবে জড়াবে

এদেরই আমি একজন।

On the road to brunette hair
Many Caesars and Romeos were lost!
This beauty is magical,
This beauty will mesmerize you.

I am one of them.

এই চোখে নেশার নদী বয়ে চলে,
তুমি তো বোঝনা
জানোনা কিছুই তার.
অধরে মধু আছে
অঙ্গেতে রেশমী জড়ানো ইরাণী গোলাপ যার

Oh from these eyes that Floods of wines fall,
You do not understand,
You do not know,
These lips drip nectar,
Persian roses are smiling in this body.

বাড়ালে হাত তুমি
পাবে যে সব জানি
নাও না যেটুকু নেবার

Just extend your hands,
You will get what you want,
Take everything what you need.

হেলেন ভেঙেছে ট্রয় নগরী,
কেউ ছেড়েছে সিংহাসন,
ভুলেছে কতজন, ভেঙেছে কতমন,
সবই তো নারীরই কারণ।

এদেরই আমি একজন।

Helen destroyed the city of ‘Troy’,
Some left the throne ,
Many men mistaken, many hearts were broken,
All these because of woman

I am one of them.

পুরণো দিনের একটা গানের লিরিক দিলাম, আজ বিশ্ব নারী দিবসে।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

ক্রন্দিত অতীত, অর্থহীন ভবিষ্য

ক্রন্দিত অতীত, অর্থহীন ভবিষ্য
——- রমিত আজাদ

আমার বসন্তগুলো কাঁদে,
আমার বরষাগুলো কাঁদে,
কাঁদে আমার শরৎ হেমন্ত,
শীত গ্রীস্ম সবই কাঁদে,
কাঁদে বারো মাস, ছয়টি ঋতু।

একা একা হাটি পথে,
সাথে হেটে চলে ধুসর অতীত,
এই ক্লিষ্ট সঙ্গীতো আমি চাইনি!
আমি সঙ্গীনী চেয়েছিলাম মিষ্ট তোমায়।

জানি তুমিও পথ চলছো নিঃসঙ্গ,
অরণ্যের ক্রন্দিত বিলাপী বিহঙ্গ!
ভবিষ্য তোমার কাছেও অর্থহীন।
তবে কেন আমরা ………..?

এভাবেই চলবে আমৃত্যু
তোমার আমার।
ক্রন্দিত অতীত, অর্থহীন ভবিষ্য,
আর কিছু যন্ত্রণা মুঠো মুঠো।
চলো বয়ে যাই,
নির্বোধ আমাদের নির্মিত ক্ষত।

তারিখ: ৫ই মার্চ, ২০১৭
সময়: ভোর ২টা ৩০ মিনিট

Crying past, meaningless future
——– Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

তোমার প্রোফাইল পিক

তোমার প্রোফাইল পিক
——- রমিত আজাদ

তোমার প্রো-পিকটি চমৎকার হয়েছে!
জানিনা কেন যে হঠাৎ করে
ভালো লেগে গেলো ঐ ছবি!
হয়তো হালকা প্রসাধনীর আড়ালে
তোমার স্বপ্নবিলাসী মৃদু হাসি,
হয়তো তোমার ঠাইহীন ডাই করা চুল,
অথবা তোমার দৃষ্টিটা এখন আগের চাইতে ম্যাচিউরড!

ঐ হাসি হাসি নয়? ফেইক স্মাইল?
আড়ালে কি তবে ছলছল আঁখিজল?
কি এত দুঃখ তোমার কাঁচন?
মুছে দেব? ছুঁতে দেবে তোমার নয়ন?

আঁখিজল উপহার, তবু হাসি চাই, হানি। নির্মল হাসি।
দেবে হাসি? অবিনাশী!
সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে দিয়ে, হয়ে যাবো সন্যাসী।
এত বড় দুঃখটা, জীবনের রুক্ষতা!
তবু চাই বাঁচতে, কামিয়াব সাজতে,
শুধু যদি দাও হাসি, একটুকু ভালোবাসি।

(কোন কোন হাসির জন্যে এখনো বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে)

তারিখ: ৫ই মার্চ, ২০১৭
সময়: ভোর ১টা ১৩ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কেমন শিক্ষক চান?

কেমন শিক্ষক চান?
—– ড. রমিত আজাদ

আমি একবার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে একটা সার্ভে করেছিলাম, তারা একজন শিক্ষকের মধ্যে কি কি গুণাগুন দেখতে চায় এই বিষয়ে। তারা আমাকে বলেছিলো যে তারা এমন শিক্ষক চায় যার মধ্যে নিম্নোক্ত ৩২ টি কোয়ালিটি বিদ্যমান।

১। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান, ২। সৎ, ৩। নিজ বিষয়ে ভালো কমান্ডসম্পন্ন, ৪। নিজ বিষয়ের বাইরে অনেক বেশী সাধারণ জ্ঞানসম্পন্ন, ৫। সুবক্তা, ৬। সুদর্শন ও সুবেশধারী, ৭। সহজে বুঝিয়ে দেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন, ৮। বন্ধুসুলভ, ৯। ন্যায়বিচারক, ১০। অপক্ষপাতী (impartial), ১১। সহযোগিতামনোভাবাপন্ন (cooperative), ১২। যত্নশীল (caring), ১৩। ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন, ১৪। নেতাসূলভ (commanding), ১৫। গম্ভীর নয়, ১৬। ভদ্র, ১৭। বিনয়ী, ১৮। সচ্চরিত্রবান, ১৯। সত্যবাদী, ২০।সুতার্কিক, ২১। সুন্দর বডি ল্যাংগুয়েজসম্পন্ন, ২২। নিজ পেশার প্রতি প্যাশন-সম্পন্ন, ২৩। বিশ্বস্ত, ২৪। সময়ানুবর্তী, ২৫। নিয়মানুবর্তী, ২৬। সুশৃঙ্খল, ২৭। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, ২৮। বিশ্লেষণী ক্ষমতার অধিকারী, ২৯। উদ্ধাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন (Innovative), ৩০। সুমনোবিজ্ঞানী, ৩১। সুশ্রোতা, সর্বপোরী ৩২। মার্কস দেয়ায় উদার।

এবার আমার দুটি প্রশ্ন – ১। অন্য কোন পেশায় এই এতগুলি গুণাগুন দাবী করা হয়কি? ২। যেই ব্যাক্তিটির কাছে এই এতগুলো গুণাগুন দাবী করা হয়, তাকে সেই অনুযায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা দেয়া হয় কি?

তারিখ: ৪ঠা মার্চ, ২০১৭
সময়: ২১ টা ০০ মিনিট