Categories
অনলাইন প্রকাশনা

গাছের জীবন ও ইমাম গাজ্জালী (রঃ)

গাছের জীবন ও ইমাম গাজ্জালী (রঃ)
—————————————-রমিত আজাদ

আমি তো রীতিমত অবাক হচ্ছি! গাছেরও যে জীবন আছে এটা প্রথম কে আবিষ্কার করেছিলেন?

ছোটবেলায় স্কুলের বইয়ে পড়েছিলাম যে, এটা আবিষ্কার করেছিলেন স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু (১৮৫৮ – ১৯৩৭)। পরবর্তিতে জেনেছিলাম যে, His major contribution in the field of biophysics was the demonstration of the electrical nature of the conduction of various stimuli (e.g., wounds, chemical agents) in plants, which were earlier thought to be of a chemical nature. he hypothesized that plants can “feel pain, understand affection etc. এখন তাহলে প্রশ্ন জাগে যে গাছেরও জীবন আছে এটা তাহলে কে আবিষ্কার করেছিলেন?

Plant Physiology নিয়ে কাজ করেছিলেন Sir Francis Bacon 1627 সালে এবং Stephen Hales 1727 সালে, যা স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু-র অনেক আগে। জীবন না থাকলে তো Physiology থাকে না। তার মানে তখন অলরেডী জানা ছিলো যে উদ্ভিদের জীবন আছে।

উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে চর্চার ইতিহাস অনেক পুরাতন। আমাদের উপমহাদেশে এটার চর্চার ইতিহাস নিদেনপক্ষে ৩০০০ বছরের পুরাতন। গ্রীক উদ্ভিদবিদ্যার জনক Theophrastus ছিলেন এরিস্টটলের ছাত্র, কাজ করেছিলেন ২৪০০ বছর আগে। উদ্ভিদের সাথে চিকিৎসা শাস্ত্রের সম্পর্ক তো ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

যাহোক আমি আজকে ইমাম গাজ্জালী (রঃ) রচিত Reality of Creation (Al-Hikmah fi Makhloqat) বইটি পড়ে তো হতবাক! গাছ যে খাদ্যগ্রহন করে, গাছ যে শিকড় দ্বারা মাটির নীচ থেকে পানি ও মিনারেল সংগ্রহ করে গাছের পাতা ও পুরো শরীরে পৌছে দেয়, আবার পাতার মধ্য দিয়ে বাতাস ও তাপ গাছের পুরো শরীরে পৌছায় (respiration ও photosynthesis ), পুরুষ ও স্ত্রী জাতীয় গাছ আছে, ইত্যাদি অনেক কিছুই তিনি লিখেছেন সেই ১০৭৮ সালে!

তারিখ: ৩১শে অক্টোবর, ২০১৭
সময়: রাত ১২ টা ১২ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

দীর্ঘকাল প্রতাপশালী ডিক্টেটর, তারপর হঠাৎ ধপাস!

দীর্ঘকাল প্রতাপশালী ডিক্টেটর, তারপর হঠাৎ ধপাস!

বলছিলাম রুমেনিয়ার একসময়কার রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাই চসেস্কু-র কথা। ক্ষমতার লোভে অথবা অন্য কোন উদ্দেশ্যে অন্ধ শাসকেরা প্রতিবাদী কন্ঠের টুটি চেপে ধরে তা চিরকালের জন্য স্তব্ধ করে দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে যুগে যুগে। পরিণতিতে সেই শাসকরা হয়ে পড়েছে জনবিচ্ছিন্ন, তারপর একসময় গণধিকৃত হয়ে অপমানজনকভাবে সিংহাসনচ্যুত হয়েছে। ইতিহাসে তারা স্থান পেয়েছে সত্য, তবে তা বিশ্ববাসীর ঘৃণায়।

আমার এখনো মনে পড়ে, আমি যখন স্কুল গোয়িং, বাংলাদেশের যুবসমাজে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার তখন রমরমা অবস্থা। সে সময় বামদের হাতে ধরা লাল লাল বইয়ে পড়তাম যে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো স্বর্গরাজ্য। স্বাভাবিক সালামের পরিবর্তে লাল সালাম বিনিময়কারী নাস্তিকেরা বলতো, ‘অত শান্তিতে পৃথিবীর কোন দেশের মানুষ থাকে না’। অথচ এই একজীবনেই দেখলাম চোখের সামনে কিভাবে দ্যা সো-কল্ড শক্ত ভিতের উপর দাঁড়ানো সোভিয়েত ইউনিয়ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লো। সেই সাথে দেখলাম তছনছ হয়ে যাওয়া পূর্ব ইউরোপ, ও দেখলাম রুমানিয়ার ডিক্টেটর নিকোলাই চসেস্কু-র সস্ত্রীক মৃত্যুদন্ড।
১৯৮৯ সালের ক্রিসমাস ডে সমগ্র পৃথিবীকে ঝাঁকুনি দিয়েছিলো। ১৯৬৭ সালে কমিউনিস্ট রুমানিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় আসা চসেস্কু সুশাসক হওয়ার খ্যাতি অর্জন করতে পারেননি। সমাজতান্ত্রিক রুমানিয়ায় বাকস্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তা বলে কিছু ছিল না। ক্ষমতাসীনদের যেকোনো ধরনের সমালোচনা ও বিরুদ্ধতাকে নিষ্ঠুর ভাবে দমন করা হতো। দেশের সর্বত্র ছিল গোপন পুলিশের উপস্থিতি। পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া পুরো দেশটাই ছিলো একটি কারাগার।

বিরামহীন ক্ষমতায় বিশ্বাসী লালদের মধ্যে অস্থিরতা শুরু হলো ১৯৮৪ সালে, যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে ক্ষমতায় এলেন স্বল্পপরিচিত ও তুলনামূলকভাবে তরুণ মিখাইল গর্বাচেভ। উনার প্রবর্তিত দুটি নীতি (পেরেস্ত্রয়কা ও গ্লাস্তনস্ত) অনেক বাঘা বামকেই ভাবিয়ে তুললো। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না থাকলে যা হয় আর কি! প্রকৃত সমাজতন্ত্রের অবস্থা ঘরে-বাইরে কেউই আঁচ করতে পারেনি। কেবল তোতা পাখীর মত আউরিয়েই গিয়েছে ‘ভালো ভালো ভালো’।

আস্তে ধীরে বোঝা গেলো যে, সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার ভিতরে মহাঘাপলা। বাকস্বাধীনতা, মুক্তচিন্তাহীনতার এই সমাজব্যবস্থায় কাঠামোগতভাবে দেশ রূপ নেয় পুলিশি রাষ্ট্রে ও পুরো দেশটাই হয়ে ওঠে কারাগার। ঘুনে ধরে ভিতরটা ফাঁপা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে।
যাহোক, সমাজতান্ত্রিক ব্লকের পালের গোদা খোদ সোভিয়েতই যখন দুলতে লাগলো পরিবর্তনের ঢেউয়ে, ক্ষুদ্র দেশগুলো তখন খোলামকুচির মত কম্পমান। এরকম একটা পর্যায়ে ১৯৮৯ সালে রুমেনীয়ার রাজধানী বুখারেস্টে কম্যুনিজম বিরোধী গণবিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ ঠেকাতে পাগল হয়ে চসেস্কু আর একদফা শুরু করে গণহত্যা, গণগ্রেফতারসহ নানাবিধ স্বৈরাচারী আচরণ। তারপরেও শেষরক্ষা হয়নি, টিকে থাকতে পারেননি তিনি। ঐ বছর ২২ ডিসেম্বরে রুমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে কমিউনিস্ট পার্টির সদর দপ্তরের বাইরে আন্দোলনকারী বিক্ষুব্ধ জনতা জমায়েত হলে চসেস্কু ও তাঁর স্ত্রী হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যান। কিন্তু পালানো সম্ভব হয় না, ধরা পড়েন তারা, জনতাই ধরিয়ে দেয়। যেই বাহিনী একসময় তার অনুগত ছিলো, সেই বাহিনীই তাকে ধরে নিয়ে আসে।

চসেস্কুরই নিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী Victor Stănculescu চাইলেন তাকে দ্রুত মৃত্যুদন্ড দিতে। কিন্তু রুমেনিয়ার provisional president জনাব Ion Iliescu চাইলেন একটি বিচার-এর বন্দোবস্ত করতে। ১৯৮৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর ক্রিসমাসের দিনে, সামরিক আদালতে মাত্র এক ঘণ্টার বিচার শেষে স্ত্রীসহ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হয় রুমানিয়ার স্বৈরশাসক নিকোলাই চসেস্কুকে। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে চসেস্কুর বাইশ বছরের স্বৈরশাসনের। যে দেয়ালে ঠেকিয়ে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিলো তা এখন জাদুঘর।

উনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো ছিলো
Genocide – over 60,000 victims
Subversion of state power by organizing armed actions against the people and state power.
Offense of destruction of public property by destroying and damaging buildings, explosions in cities etc.
Undermining the national economy.
Trying to flee the country using funds of over $1 billion deposited in foreign banks.

ঐ ডিক্টেটর দম্পতির ট্রায়ালে একজন আইনজীবি বলেছিলেন, “এটা ছিলো গণহত্যা, মানুষকে ক্ষুধার্ত রেখে, শীতার্ত রেখে, অন্ধকারে রেখে গণহত্যা। আর সবচাইতে বীভৎস অপরাধ ছিলো, পুরো জাতির আত্মা-কে দমন করা।” উল্লেখ্য যে এই ঘটনার এক দশক আগে অনুরূপ ট্রায়াল হয়েছিলো চীনের মাও সেতুং-এর স্ত্রীর। সেখানেও অনুরূপ বক্তব্য রেখেছিলেন আইনজীবিরা।
চসেস্কু-র মৃত্যুদন্ডকে সমর্থনকারী একজন রুমেনীয় নাগরিক বলেছিলো, “গুলি করে হত্যা করা, এই দৃশ্য পুরো রুমেনীয়া জুড়ে আমরা অসংখ্যবার দেখেছি বহু বছর চসেস্কুর শাসনামলে। আজ সেটাই ফিরে এলো চসেস্কুর নিজ জীবনে।”

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

রুবাই ৫, ৬, ৭: রমিত আজাদ

রুবাই ৫, ৬, ৭: রমিত আজাদ

রুবাই – ৫

যে নারী দিয়াছে মোরে আনন্দ ঘটিকার,
তার প্রেমে না হই মত্ত, তবু সে আমার।
ঢালিছে অমৃত সুধা তার মম অঙ্গ ভরিয়া,
না বলি প্রেমিকা তাহারে, তবু সে প্রিয়া।

রুবাই – ৬

বলিনাই মরিচিকা, মালবিকা মোর,
ডাকিনাই অনামিকা, দিপালীকা ভোর।
তুমি শুধু আধুনিকা, আলোশিখা বালিকা,
আমি তবু পরাভূত, অধ:কৃত বীথিকা।

রুবাই ৭

তোমাতে আমাতে শুধু ঘটিকার রতি,
নিশ্বাসে পিষে মিশে সাময়িক প্রীতি।
সঙ্গিনী তুমি নও, বন্দিনী দূরে দূরে,
তবুও রয়েছ জুড়ে মম হৃদয়ের পুরে।

—————————————-
তারিখ: ২৮শে অক্টোবর, ২০১৭
সময়: রাত ৩ টা ১০ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা সাকি বিল্লাহ্

জেগে উঠো হে বাঙ্গালী

-সাকি বিল্লাহ্

 

হে নির্বাসিত মন, অর্বাচিন বাঙ্গালী,

জেগে উঠো আজ ঘোর অমানিষায় জ্বেলে দ্বীপালী ।

হেয় করো সকল কুণ্ঠা আর জরা যত,

শক্তিতে হও আগুয়ান হটিয়ে হিংস্র পশু শত শত ।

 

কে বলে তুমি ধারক কোন বিশ্বাসের,

বলো চীরদিন ধরনীর বুকে বীরসন্তান এই দেশের ।

হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ অথবা খ্রিস্টান,

সকলে এক বাংলা বীরের জাত সন্তান ।

ধ্বংস করে যারা এই সৌর্হাদ্রপ্রিয় বাঙ্গালী জাত,

পিছু না হটে দাও ফিরিয়ে তারে সকল প্রতিঘাত ।

 

শতশত নদীর কলকল তাল,

ডাকে দেখো দূর সমুদ্রের ঢেউ উত্তাল ।

শান্ত নদী মোহনায় হয় মাতন্ড প্রায়,

শেষ হওয়ার আগে জানিয়ে শেষ অভিপ্রায় ।

এই বঙ্গদেশের সকল সম্ভার,

রোষানলে হয়েছে পিশাচ আর শকুনের ভাগার ।

বিবেকের দংসনে তাড়ায় মন সারাক্ষণ,

তাই, ক্ষয় হোক তবুও করে যাব দেশের কল্যাণ ।

 

সবুজের মাঝে লাল সূর্যের এই পতাকা,

শতকোটি মানুষের দিগ্বীজয়ী আলোক-বর্তীকা ।

তাই জেগে উঠো কালবৈশাখীর মত,

ছিন্নবিদীর্ণ করে দাও সকল পিশাচের অন্তর যত ।

ছিনিয়ে আনো এই লাল সবুজের নিশানা,

মুক্ত করে দাও সকল শিকলে বাঁধা বিহঙ্গনা ।

বীর বাঙ্গালীর সকল বীরত্বকথন,

জাগিয়ে ধরনী করো  চীর অমলিন । ।

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

প্রসারমান মহাবিশ্ব, যার একটি প্রারম্ভ রয়েছে (পর্ব ১)

প্রসারমান মহাবিশ্ব, যার একটি প্রারম্ভ রয়েছে (পর্ব ১)
———————————- ড. রমিত আজাদ

ইমাম গাজ্জালি (রহ•) (১০৫৮ সাল – ১১১১ সাল) রচিত Tahafut al-Falasifa (Incoherence of the Philosophers, দার্শনিকদের অসঙ্গতি) গ্রন্থটি হাতে নিয়ে আমি প্রথমবারের মত পড়েছিলাম আমার স্কুল জীবনে, তখন আমি খুব সম্ভবত নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। সেই বয়সে ঐ কঠিন লেখার প্রায় কিছুই বুঝতে পারিনি। আজ আরেকবার বইটি পড়া শুরু করলাম। সূচীপত্রের ২নং অধ্যায়ে আমার চোখ আটকে গেলো, Refutation of their belief in the everlasting nature of the world, time, and motion। স্থান, কাল ও গতি এগুলো আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান তথা কসমোলজির মেজর টপিক, আর ইমাম গাজ্জালি (রহ•) সেই একাদশ শতাব্দীতেই এই নিয়ে লিখেছেন! অধ্যায়ের প্রথম প্যারাগ্রাফটি তুলে দিচ্ছি। (বাকিটা এই প্রবন্ধের নীচে উল্লেখ করলাম)

LET it be known that this problem is a corollary of the preceding one. For as the philosophers consider the world to be eternal — i.e., without a beginning in time — so do they consider it to be everlasting — i.e., never coming to an end. (They say that) its corruption or annihilation is impossible; and that it always was, and ever will be, as it is.

অয়োনীয় দার্শনিক এরিস্টটলের মতে জগৎ অনাদি। তিনি শূন্য থেকে জগৎ সৃষ্টি হয়েছে- এ মতবাদে বিশ্বাসী নন, এমনকি তিনি গতিকেও অনাদি বলে বিবেচনা করতেন (`steady state scenario”)। পক্ষান্তরে আল-গাযালী জগতের অনাদিত্বের পক্ষে দার্শনিকদের যুক্তিসমূহ প্রথমে উপস্থাপন করে পরে তা খণ্ডনের চেষ্টা করেন। তিনি বলেছেন ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী জগৎ সৃষ্ট।

ইমাম গাজ্জালি (রহ•)-এর চিন্তাভাবনা মিলে যায় আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের কসমোলজির সাথে। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের কসমোলজির জনক আলবার্ট আইনস্টাইনও শুরুতে মহাবিশ্বের অপ্রসারনতায় (স্থিরতায়) বিশ্বাসী ছিলেন (বিজ্ঞানের শুরুতেও রয়েছে বিশ্বাস, একজন বিজ্ঞানীকে কোন একটা বিশ্বাস নিয়েই এগুতে হয়)। তিনি steady state-এ এতটাই বিশ্বাসী ছিলেন যে আপেক্ষিক তত্ত্বে তিনি ওটা ঠিক রাখার জন্য উনার সমীকরণে একটি ধ্রুবক ব্যবহার করেছিলেন, এর নাম দিয়েছিলেন cosmological constant । আইনস্টাইন ১৯৩১ সাল পর্যন্ত উনার এই ধারনায় স্থির ছিলেন, যদিও এর মধ্যে steady state scenario-র বিপক্ষে অনেক বিজ্ঞানীই অনেক কথা ও কাজ করে ফেলেছিলেন।

১৯২২ সালে রুশ পদার্থবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্রিডমান দেখালেন যে, আইনস্টাইনের সমীকরণই গতিশীল মহাবিশ্বের কথা বলে ও গতিশীল মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেই সমীকরণটি সঠিক। ১৯২৭ সালে জর্জ লেমেতর (George Lemaitre) বললেন যে আইনস্টাইনের ‘সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব’ এবং জ্যোতির্বিদ্যা-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ সমন্বিত করলে এই বোঝা যায় যে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে। এদিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবেল ১৯২৯ সালে উনার বৃহদাকৃতি টেলোস্কোপটির সাহায্যে দেখলেন যে মহাবিশ্ব স্থির নয়, সে ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। গণিতের ভবিষ্যদ্বানী যে সফল হয় এই ঘটনা তার আরো একটি প্রমাণ।

বিজ্ঞানে এমপিরিকাল প্রমাণের পর আর কোন কথা থাকেনা। কিন্তু আলবার্ট আইনস্টাইন তাও প্রসারমান মহাবিশ্বকে মানতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু উনার তত্ত্ব বাস্তবের সাথে খাপ খাচ্ছিলো না। পরিশেষে ১৯৩১ সালে তিনি তাঁর ভুল স্বীকার করেন ও প্রসারমান মহাবিশ্বকে মেনে নেন। আর এর মানে হলো মহাবিশ্বের একটা শুরু রয়েছে।

(চলবে)

———————————————

তারিখ: ২৭শে অক্টোবর, ২০১৭
সময়: রাত ২টা ৪৩ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

কি নাই আমাদের বলো?

কি নাই আমাদের বলো?
————— রমিত আজাদ

কি নাই আমাদের বলো?
আমরা কি গঙ্গাঋদ্ধির উত্তরসূরী নই?
২ লাখ পদাতিক সৈন্যের গর্বিত পদভারে কি
প্রকম্পিত হয় নাই এই জনপদ?
২০ হাজার অশ্বারোহী ও ৫ হাজার হস্তিবাহিনীর
হুঙ্কার কি প্রবর্ধিত করে নাই জৌলুস এই স্বদেশের?
ধরণী কাঁপানো আলেকজান্ডারের বাহিনী কি
ছত্রভঙ্গ হয় নাই আমাদের ভুখন্ডে?

তাকিয়ে দেখ উদীচীর পানে
কেমন উন্নত শিরে ঋজু নির্ভীক হিমালয়?
আর কোন রোষে অবাচীতে গর্জিছে বঙ্গোপসাগর?
আসমুদ্রহিমাচল এই দেশে কিসের অভাব মণিষী ও সম্পদের?

এই সূর্য ডোবা নদীগুলির বিধৌত জমিনে
বুদ্ধ আত্মা কি করে নাই মুক্ত অর্ধ জগৎ?
বাংলার তাপস ভাঙিয়া হিমানী লঙ্ঘিয়া মহীধর,
জ্বালে নাই কি তিব্বতে প্রদীপ অতীশ দীপংকর?

বিজয় সিংহ কি করে নাই জয় লংকা অথবা সিংহল?
রাখে নাই কি তথা নিজ শৌর্যের পরিচয় অবিচল?
সম্রাট দেবপাল কি বিস্তৃত করেন নাই
বাংলার সাম্রাজ্য প্রতীচীর বিন্ধ্যা পর্বত তক?

এখানেই কি গড়ে ওঠেনাই পুন্ড্রের নগরী?
বংশাবতীর পূর্বতীরে বৈভব ও প্রতাপে কি জাগে নাই সম্ভার?
‘পুয়ের্তো গ্রান্দে’ চাঁটিগাও বন্দরের বিশালত্বে কি
মুগ্ধ হন নাই ভুবন বিচরিত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা?

সমরজয়ী ঈসা খাঁর তরবারী ঝলকেছিলো কোন ময়দানে?
মাঝি-মাল্লারা খেদিয়েছিলো কোন মানসিংহকে?
বাদশাহ আকবরের আত্মা কাঁপিয়েছিলো কোন রণক্ষেত্র?
বিপুল তেজে উদ্দাম কারা গড়েছিলো গর্বিত ইতিবৃত্ত?

লালবাগ কেল্লায় ঝরা চাপ চাপ রক্ত,
বাহাদুর শাহ পার্কে নিরন্তর ঝুলে থাকা
বিদ্রোহী সিপাহীদের নিথর দেহ।
কুখ্যাত রাওলাট এ্যাক্টের নৃশংসতায়
সলংগা হাটে কি ঝরে নাই বারোশত প্রাণ?
এ সবই তো বীরত্ব ও আত্মত্যাগের উপাখ্যান!

সাত কোটি সন্তান কি ঝাঁপিয়ে পড়ে নাই মুক্তিযুদ্ধে?
ছিনিয়ে আনে নাই কি বিজয় মাত্র নয়টি মাসান্তে?
সাত কোটি জনতার সম্মিলিত কন্ঠের জয়োধ্বনী কি
ম্লান করে নাই এ্যাপোলোর চন্দ্রাভিযান?

তবে কি
বহিঃশত্রুদের ষড়যন্ত্রে এখন বিস্মৃত স্বকীয় ইতিহাস!
আজ তবে কি আমরা নিজভূমে নির্বাসিত হবো?
কাপুরুষতার মেলা প্রবঞ্চকের ছদ্মবেশ কি
পরাজিত করবে আমাদের মনোবল?

দুঃখী জননী আমার,
সেই সাত কোটি আজ সতেরো কোটি হয়েছে
আজ তো বাহুবল আরত্ত বর্ধিত!
সতেরো কোটি সন্তান যার, তার কিসের ভয়?

এত এত লুন্ঠন রণহিংসা অগ্নি-বৃষ্টির পরেও
এখনো মেঘের ভেলায় ভেসে আসে অপরূপ ঊষা,
এখনো বাগান-বিলাসের ঝাড়ে জ্বলে জোনাকীর ক্রীড়া।
ক্ষুদ্র ঘাসফুলে নাচে বিন্দু বিন্দু ভোরের শিশির,
এখনো গান গায় দোয়েল ঘন বাঁশের বনে,
এখনো ওড়ে শিমুল তুলা প্রখর গ্রীস্মের দুপুরে।
উতলা হাওড়ের বুকে লুটোপুটি খায় শীতের পাখী।
এখনো স্বপ্নবিলাসী বালিকারা গাঁথে মালা বেলী ও শিউলীর,
এখনো দুরন্ত বালকেরা ডিঙ্গা বায় পদ্মফুলে ভরা বিলের জলে।

না,
আর আমরা নিজভূমে নির্বাসিত হবো না,
সতেরো কোটি জনতার সম্মিলিত বাহুবলই পর্যাপ্ত
কি নাই আমাদের বলো?

—————————————————

তারিখ: ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৭
সময়: রাত ২টা ২৯ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা ইতিহাস সাকি বিল্লাহ্

বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্ভারঃ পর্ব-১

— সাকি বিল্লাহ্

সতেরশ শতকের শুরুর দিকের কথা । ইংল্যান্ডে হঠাৎ করেই চা আর চিনির সংকট দেখা দিল । কিছু গবেষক ও বিজ্ঞানীরা বললেন মস্তিষ্ক সঞ্চালনের জন্য যে বিপুল শক্তির দরকার এবং তা সজীব রাখতে চিনি ও চা এর কোন বিকল্প নেই । বিষয়টা রাজা প্রথম জর্জ কে জানানো হলো । ডাচদের কাছ থেকে অনেক উচ্চদামে চা আর চিনি খরিদ করতে গিয়ে এদিকে রাজ কোষাগার খালি হবার যোগাড় । রাজা তাই সভাসদদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসলেন । সে আলোচনায় সবাই সম্মত হল ব্রিটিশ নাবিকদের কয়েকটা দল ইন্দোনেশিয়া, চীন, আমেরিকা ও ভারতবর্ষে চা ও চিনির জন্য সওদা করবে । এই নাবিকরা মূলত সওদাগর, এরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসাবানিজ্য করার জন্যই মূলত বন্দরে বন্দরে জাহাজের নোঙ্গর ফেলে ।

ব্রিটিশ, ডাচ, পর্তুগীজ বা ওলন্দাজদের অনেক আগেই কিন্তু বাঙ্গালীরা নাবিক হিসেবে জাহাজে সমুদ্র চষে শেষ করেছে । নিজেদের ইতিহাসটা ভাল করে না জানলে যা হয় আর কি, আমাদের ভিতরই অনেকে মনে করে মীর জাফর আর লর্ডক্লাইভরা আমাদের জন্য আশীর্বাদ, সেই ইংরেজ দালাল লুটেরা বা আমাদের সম্পদ চোরা ব্রিটিশদের শেখানো ইতিহাসটাই এ সকল লোকেরা জনে জনে বলে বেড়াবে যে আমাদের সম্পদ নেই বা আমাদের কোন অতীত গৌরবান্বিত ইতিহাস নেই । মূল প্রসঙ্গে ফেরা যাক,
যা বলছিলাম, আমাদের নাবিক মালয়েশিয়া আর শ্রীলংকাতে ভ্রমন করেছে খ্রীস্টপূর্ব ৪০০ বছর পূর্বে তার মানে প্রায় ২৫০০ বছর আগে । ‘চট্টগ্রাম’ এই উপমহাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বের মধ্যে অন্যতম একটি পুরাতন বন্দর ও মনুষ্যবসতির আবাসস্থল । প্রস্তর যুগ ও নব্য প্রস্তর যুগের কিছু নিদর্শনও পাওয়া গেছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সে হিসাবে সভ্যতার আলো দেখা বাঙ্গালী জাতির ইতিহাস ১৫ হাজার বছরেরও বেশি ।
কৃষি, প্রাকৃতিক পরিবেশ, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, গ্যাস, তৈল, চুনাপাথর, কয়লা, কঠোর পরিশ্রমী মানুষ আমাদের অন্যতম সম্পদ । এছাড়াও আছে বৃহৎ উপসাগর, বৃহত্তম লোনা পানির বন সুন্দরবন, অন্যতম মিঠাপানির বন রাতারগুল, ৪৬৬ প্রজাতির পাখি, ৬৫০ এর অধিক প্রজাতির মাছ, ২৫০ প্রজাতির সরীসৃপ, কুমীর, হাতি, ময়ূর, ৪ প্রজাতির হরিণ, ৮৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী; সবই এখনও আছে শুধু আমাদের জানার আগ্রহটা কমে গেছে আর কপট দেশপ্রেমিকের সংখ্যাটা বেড়ে গেছে অনেকাংশে ।
এখনকার বাংলাদেশ উন্নত ও ধনী রাস্ট্র হতে হঠাৎ করেই তো আর গরীব ও অথর্ব দেশে নেমে আসেনি একদিনে । এই ভিনদেশী দিল্লীর মোঘল আগ্রাসন আর ইংরেজ দস্যুরাই মূলত আমাদের অধপতনের জন্য দায়ী । দেশটাকেও ৩ ভাগে বিভক্ত করে গেছে এই ব্রিটিশ আর জিন্নাহ-গান্ধীর দালালরা, না হলে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, পূর্ববাংলা, আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপ নিয়ে যে বিশাল বাংলাদেশ হত তা ভারত কিংবা পাকিস্তানের চাইতে অনেক শক্তিশালী একটা বাঙ্গালী জাতিতে বিশ্বে পরিচিত হত । ঐ যে বললাম নিজেদের ইতিহাস না জানলে যা হয় ।
ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ বলতে তখন বাংলাদেশকেই বুঝত কারণ ভারতবর্ষের পুরাতন বন্দর চট্টগ্রাম ও কোলকাতায় তারা ব্যবসার জন্য আসতো । চা ও চিনির জন্য নাতিশীতোষ্ণ কৃষি প্রধান আবহাওয়া দরকার ছিল তাদের । চা ও চিনি, চীনারা সর্বপ্রথম উৎপাদন করেছে বলে ঐতিহাসিকগণের অনেকে মনে করেন । চীনাদের কাছ থেকে আফিমের বিনিময়ে চা কেনা যেত । আফিম উৎপাদনের জন্যও বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষ খুবই ভাল আবহাওয়া ছিল বা এখনও আছে ।
বাংলাদেশের প্রথম দুর্যোগ নেমে আসে দিল্লীর মুঘলদের আগ্রাসনে । মূলত মুঘল বাদশাদের হেয়ালীপনা এবং বাংলার প্রতি বিমাতাস্বরুপ আচড়নই প্রধানত দায়ী । দিল্লীর মুঘল বাদশারাই বাংলাদেশে ইংরেজদের অবাধে ব্যবসা ও সৈন্যদল তৈরীর অনুমতি দিয়েছিল । মুঘল বাদশা আওরঙ্গজেবের কন্যার আগুনে দগ্ধ হওয়ার চিকিৎসা করেছিলেন ইংরেজ ডাক্তার হোপওয়েল অত্যন্ত সফলতার সাথে । বিনিময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলাতে অবাধে ব্যবসা করার অনুমতি পেয়ে যায়, একই বছর সুবেদার শায়েস্তা খানের সহযোগীতায় দিল্লীর বাদশার অনুমতি নিয়ে তারা নিজেদের গোলন্দাজবাহিনী ও সৈন্যঘাটি গড়ে তোলে । পরবর্তীতে অন্যান্য মুঘল সুবেদাররা ইংরেজদের পক্ষেই ছিল শুধু সিরাজ উদদোলা ও শায়েস্তা খান তাদের দূরভিসন্ধি বুঝতে পেরেছিল কিন্তু তাতে শায়েস্তা খান সফল হলেও সিরাজ উদদৌলা হতে পারেননি আমাদের দালালদের দরুন ।

পলাশীর যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে সৈন্য ছিল প্রায় ৬৩ হাজার আর ইংরেজদের পক্ষে ছিল মাত্র ২৭০০ সৈন্য যার ৩০০ ছিল ব্রিটিশ আর বাকি সব নেপালের ভাড়া করা সৈন্য । যেহেতু মীর জাফরের একাই প্রায় ৪৩ হাজার নিজস্ব সৈন্যছিল তাই তার বিস্বাসঘাতকতায় আমাদের ২০০ বছর ব্রিটিশদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল । ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ইতিহাসে তাই পাওয়া যায়, ইংরেজ লর্ড বলেছিলেন যে পরিমান মানুষ দাড়িয়ে পলাশীর যুদ্ধ দেখেছিল তারা যদি একটি করে পাথরও ছুড়ে মারতো তাহলে আমরা পরাজিত হয়ে যেতাম । ধারণারও বাহিরে যে ২১ গুন বেশি সৈন্য থাকা সত্ত্বেও আমরা হেরেছিলাম শুধু দালালদের জন্য । এই দালালচক্র ১৭৫৭, ১৮৫৭, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬৫, ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০, ২০০৯ কিংবা এখনও সক্রিয় আছে । এরা আসলে বাংলাদেশী কিনা সন্দেহ আছে আমার যারা নিজের দেশের ভাল না দেখে ভিনদেশীদের প্রভু মনে করে ।

যা বলছিলাম,
চা, চিনির উৎপাদনের পাশাপাশি ব্রিটিশরা আফিম, নীল উৎপাদন শুরু করে । নীল ও আফিম উৎপাদনে কৃষকদের উপর অত্যাচারের ইতিহাস জানা যায় দীনবন্ধু মিত্রের নীল দপর্ণ পড়ে । মসলিন, সূতি কিংবা সিল্ক কাপড়ও আমাদের অতীত সম্পদ ছিল । অনেকেই বলে থাকেন আমাদের সম্পদ নেই কারণ তারা হয়ত স্কুলে ইতিহাসের বইটা কখনও ছুঁয়েও দেখেননি বা পড়েছেন শুধু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ।

নবাব সিরাজ উদদৌলার অস্টম বংশ ধরকে বঙ্গবন্ধু পিডিবিতে বড় কর্মকর্তার পদবীতে চাকুরী দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন । উনার ছেলে নবাবের নবম বংশধর জনাব আরেব এর সাথে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছিল বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় সম্পদের বিষয়ে । ব্রিটিশরা যখন নবাবকে পরাজিত করে তখন বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমান স্বর্ন, রৌপ্য, তাম্য মুদ্রাসহ বিপুল পরিমান হীরক, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সম্পদে পূর্ণ প্রায় ২২টির অধিক সিন্দুক ছিল । উল্লেখ্য বাংলার বেশিরভাগ রাজা ও জমিদারগণ সৌখিণ ছিল তাই তাদের সম্পদ বলতে ছিল প্রধানত স্বর্ণালংকার ।
ইবনে বতুতা, গ্রীসের টলেমী বা চীনা পর্যটক ও ইতিহাসবিদদের ভ্রমন কাহিনীতে বাংলার বিশাল সম্পদ ভান্ডারের বর্ণনা আছে । আলেকজান্ডার যখন বাংলা আক্রমন করার পরিকল্পনা করছিল তখন আমাদের রাজার ছিল ২ লাখ পদাতিক সৈন্য, ২০ হাজার অশ্বারোহী ও ৫ হাজার হাতিবাহিনী । উপোরন্তু আমাদের পাল্টা আক্রমনে টিকতে না পেরে আলেকজান্ডারের বিশাল বাহিনী দুটি অংশে ছত্রভঙ্গ হয়ে হিমালয় ও সিল্করোড দিয়ে পলায়ন করে । তড়িঘড়ি করে পালানোর সময় তাদের সে সময়কার হারকিউলিস চিহ্নসমেত মুদ্রা ও ব্যবহার্য অনেক কিছুই যা তারা ফেলে গিয়েছিল তা গঙ্গা অববাহিকায় পাওয়া গিয়েছে । বাংলাদেশে যদি বিপুল সম্পদ নাইবা থাকতো তাহলে তো আলেকজান্ডার বা পর্তুগীজ, আরব, ব্রিটিশরা আমাদের দেশকে লুট করতে আসতো না ।

আলেকজান্ডারের ইতিহাসবিদ টলেমীর ম্যাপ ও বইয়ে বাংলাদেশকে উল্লেখ করা হয়েছে গঙ্গাঋদ্ধি বা গঙ্গাহৃদি হিসেবে । দিওদেরাস এর বইয়ে এই নামের অর্থ করা হয়েছে গঙ্গার সম্পদে ভরপুর যা বর্তমান বাংলাদেশ, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বিস্তৃত ছিল ।
দৈনিক একটা দেশ কখন ২ লাখ সৈন্য আর ৫ হাজার হাতির ভরণপোষণ দিতে পারে যদি বিপুল ধন ও সম্পদে ভরপুর না হয় !
এখনকার জাপান, জার্মানী কিংবা দুবাই এর মত ধনী রাস্ট্রের চাইতে বাংলাদেশ সে সময়ে কোন অংশে কম ছিল বলে মনে হয় না ।
এখনও আমাদের সবকিছুই আছে শুধু নিজেদের মনোভাব উন্নত করতে হবে আর কপট দেশপ্রেমিকদের হাত হতে দেশকে রক্ষা করতে হবে ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

মহাবিশ্ব এত বড় কেন?

মহাবিশ্ব এত বড় কেন?
———————— ড. রমিত আজাদ

আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র (ইউরোপে), তখন একদিন আমার এক সহপাঠী প্রশ্ন করেছিলেন,

সহপাঠী: তোমার কি মনে হয়, এই মহাবিশ্বে কি আমরাই একমাত্র চৈতন্যসম্পন্ন সত্তা?
আমি: আমরা তো সঠিক জানিনা। এখন পর্যন্ত তো অন্য কোন চৈতন্যসম্পন্ন সত্তা-দের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয় নাই।
সহপাঠী: এই এত বড় মহাবিশ্বে কি আর কোন চৈতন্যসম্পন্ন সত্তা থাকার সম্ভাবনা নাই?
আমি: থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে।
সহপাঠী: আমরা ছাড়া যদি আর কোন চৈতন্যসম্পন্ন সত্তার অস্তিত্ব না থাকে তাহলে এত বড় মহাবিশ্বটার দরকার কি?
আমি: কেন? এত বড় মহাবিশ্বটা কি কেবল আমাদের জন্যই হতে পারে না?
সহপাঠী: মনে করো যে সৃষ্টিকর্তা শুধুই আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এই আমাদের ভালো-মন্দ পরীক্ষা করার জন্য। তাহলে তো শুধু সৌরজগৎটা হলেই হতো, এত বড় মহাবিশ্বের তো আর প্রয়োজন হয় না।

ওর প্রশ্নে আমি একটু ধাঁধাঁয় পড়ে গেলাম। তাই তো, শুধুই আমাদের জন্য হলে এত বড় মহাবিশ্বের দরকার টা কি?

আমার চিরটাকালই মনে হয়েছে যে, আমাদের চারপাশে যা ঘটছে ও ঘটেছে তার সবটাই যৌক্তিক। তাই এই বিশাল বড় মহাবিশ্বটাও যৌক্তিক। কিন্তু তার ব্যাখ্যাটা আমার কাছে নেই। তবে সেই ব্যাখ্যাটা আমাকে জানতে হবে। যদি কোন বিজ্ঞানী/দার্শনিক সেটা ইতিমধ্যেই খুঁজে বের করে থাকেন, তাহলে উনাদের লেখা পড়ে জেনে নেব। আর যদি তা বের না হয়ে থাকে তাহলে নিজেকেই সেটা বের করার চেষ্টা করতে হবে।

পরবর্তিকালে আমি কসমোলজি নিয়ে পড়েছিলাম এবং আমার মাস্টার্স-এর থিসিসও ছিলো কসমোলজি-র উপরে। এর চাইতে ইন্টারেস্টিং কিছু হতে পারে বলে আমার মনে হয়নি।

যাহোক, সেই সময়ে ও পরবর্তিকালে আমি ঐ বিষয়টির/প্রশ্নটির একটি ব্যাখ্যা পেয়েছি।

মাল্টি ডিসিপ্লিনারী বা interdisciplinary studies বলে একটা কথা আছে। ওমার খৈয়াম বা ইবনে সিনা-র মত পৃথিবী জাগানো/কাঁপানো পন্ডিতরা শুধু শুধুই পলিম্যাথ হননি। আসলে বিশ্বটাকে জানতে গেলে, একটা সাবজেক্ট যথেষ্ট নয়, অনেকগুলো সাবজেক্ট-এর জ্ঞানই প্রয়োজন পড়ে।

থিসিস করার সময় জানতে পেরেছিলাম সম্প্রসারনশীল মহাবিশ্বের কথা (যদিও এই বিষয়ে আগেই পপুলার বুকে পড়েছিলাম, তবে তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সাথে পরিচিত ছিলাম না)। মহাবিশ্ব ছিলো না। যা ছিলো তাকে বলে ‘ফিজিকাল ভ্যাকিউম’। সেটা হঠাৎ ফ্লাকচুয়েট করলো। ছোট্ট একটা বিন্দু বিষ্ফোরিত হলো (যার নাম বিগ ব্যাং)। আমরা আতশ-বাজি পোড়ানো হলে দেখে থাকি যে, একটি বোমা বিষ্ফোরিত হওয়ার পর তা ক্রমাগত সম্প্রসারিত হতে হতে ছোট থেকে বড় হয়। মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেও অমনটিই ঘটেছে। এবার প্রশ্ন জাগবে, এখন আমরা মহাবিশ্বের কোন পর্যায়ে আছি? হ্যাঁ, একজন জ্ঞানতাপস আল হাইয়াম আমাদের উপহার দিয়েছেন আধুনিক বিজ্ঞান, আরেকজন জ্ঞানতাপস আলবার্ট আইনস্টাইন আমাদের উপহার দিলেন কসমোলজি, যার বাংলা নাম ‘সৃষ্টিতত্ত্ব’, কিন্তু আলবার্ট আইনস্টাইন-এর তত্ত্ব ছিলো থিওরেটিকাল (কাগজে কলমে গণিতের ভাষায়), আর আল হাইয়াম বলেছেন যে যতক্ষন পর্যন্ত কোন জ্ঞান ইমপিরিকালী প্রমাণিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ জ্ঞান বিজ্ঞান বলে স্বীকৃতি পাবে না। তাই আইনস্টাইন-এর তত্ত্বটির ব্যবহারিক প্রমাণের প্রয়োজন ছিলো। সেই কাজটিতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন আরেকজন জ্ঞানতাপস এডউইন হাবেল। তিনি তার বিশালাকৃতির টেলিস্কোপটি নিয়ে আকাশ পানে তাকিয়ে ছিলেন তার অপার রহস্য উদ্ধার করতে। সেই তিনিই আবিষ্কার ও প্রমাণ করলেন যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিতই হচ্ছে। এবার প্রশ্ন কত বছর ধরে তা সম্প্রসারিত হচ্ছে? উত্তর পাওয়া গিয়েছে – প্রায় ১৪ বিলিয়ন বছর ধরে। আবার প্রশ্ন, কি করে নির্ণয় করলেন এই সময়? হ্যাঁ, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে আমাকে কিছুটা রসায়ন বিজ্ঞানের সাহায্য নিতে হবে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় হলো ‘পিরিয়ডিক টেবিল’ যেটা বানানোর জন্য মানবজাতিকে বহু বছর সাধনা করতে হয়েছিলো, অবশেষে রুশ বিজ্ঞানী দিমিত্রি মেন্ডেলিফ কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন। মৌলিক পদার্থগুলির (হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, তামা, সোনা, রুপা, লোহা, ইত্যাদি) অনেকগুলির সাথেই মানবজাতি পরিচিত সেই সভ্যতার শুরু থেকেই। তবে তারা যে মৌলিক পদার্থ তা জানতে ও তাদের ভিতরের গঠনটা জানতে অনেক সময় লেগেছিলো আমাদের। ধারনা করা হয় যে, স্বর্ণ তৈরী করার প্রচেষ্টা থেকেই যাত্রা শুরু হয়েছিলো রসায়ন বিজ্ঞানের। কোন একটা কিছু তৈরী করতে গেলে তার ভিতরের গঠনটা জানা খুব জরুরী। স্বর্ণের ভিতরের গঠন যতদিন জানা হয়নি ততদিন কৃত্রিম উপায়ে স্বর্ণ তৈরী করাও সম্ভব হয়নি। পরমাণুর কথা আজ থেকে ২৬০০ বছর আগে প্রথম বলেছিলেন, এই উপমহাদেশের দার্শনিক কণাদ। বৈজ্ঞানিকভাবে তাকে আবিষ্কার করেছিলেন মাত্র দুশো বছর আগে জন ডালটন। আর তারপর পরমাণুর ভিতরের খোঁজ দিলেন বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড। আমাদের সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন যে, যেকোন পরমাণু মানেই তার ভিতরে তিন ধরনের কণিকার সমাহার – ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। অর্থাৎ, তামা, সোনা, রুপা, লোহা, যাই বলি না কেন তার ভিতর ঐ তিন ধরনের কণিকা থাকবেই।

এই পর্যায়ে জন্ম হয় নতুন প্রশ্নের – তাহলে নানান রকম মৌলিক পদার্থের রহস্য কি? রাইট, এই পর্যায়ে আসবে ফিলোসফি। একটি দর্শন হলো, ‘পরিমানগত পরিবর্তন থেকে গুনগত রূপান্তর’। মানে হলো পরিমানের পরিবর্তন থেকে গুনেরও রূপান্তর হতে পারে। আর ওটাই ঘটেছে মৌলিক পদার্থগুলোর রূপ ভিন্নতার ক্ষেত্রে – সবচাইতে হালকা ও সরল মৌলিক পদার্থ-এর নাম হাইড্রোজেন (এটাই মহাবিশ্বের প্রথম মৌলিক পদার্থ)। যার গঠনে রয়েছে মাত্র একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন। দ্বিতীয় অবস্থানে হিলিয়াম সেখানে রয়েছে দুইটি প্রোটন দুইটি নিউট্রন ও একটি ইলেকট্রন। এভাবে প্রোটন সংখ্যা বাড়ালে মৌলিক পদার্থও পাল্টে যায়। যেমন লিথিয়ামে তিনটি প্রোটন, বেরেলিয়ামে চারটি, বোরনে পাঁচটি, কার্বনে ছয়টি প্রোটন রয়েছে, ইত্যাদি।

এবার আসা যাক বায়োলজিতে। আমরা মানুষেরা এক জাতীয় প্রাণী। পাতিশিয়াল বা খাটাসও প্রাণী। তাহলে মানুষ, পাতিশিয়াল ও খাটাসের মধ্যে কোন না কোন মিল থাকবেই। এদিকে স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করেছিলেন যে গাছেদের অনুভূতি রয়েছে, সেই গাছেরা প্রাণী না হলেও জীব। তাহলে প্রাণী ও উদ্ভিদের মধ্যেও কোন না কোন মিল থাকবে। শেষমেশ বিজ্ঞানীরা সেই মিলটি খুঁজে পেয়েছেন। মিলটি হলো – যেকোন জীবের শরীরেই কার্বন থাকে, কার্বন ছাড়া কোন জীব হতে পারে না।

তাহলে জীবের জন্ম হওয়ার আগে এই মহাবিশ্বে হাইড্রোজেন থেকে কার্বন ফর্মেশন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে পেয়েছেন যে, মহাবিশ্বে কার্বন ফর্মেশন হতে সময় লেগেছে মিনিমাম ১০ বিলিয়ন বছর। আবারো প্রশ্ন – এই হিসাবে বের করা হলো কি করে? সহজ উত্তর, ম্যাথমেটিক্স ব্যবহার করে। ক্যালকুলাসে একটি টার্ম আছে ‘ডেরিভেটিভ’ – সংজ্ঞানুযায়ী যা হলো ‘রেট অব চেইঞ্জ’, অতএব রেট বের করা গেলে, ওটা ব্যবহার করেই টোটাল টাইমটা বের করা যায়। ইতিমধ্যেই ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজী ও ম্যাথমেটিক্স চারটি সাবজেক্ট ব্যবহার করা হয়ে গেছে। এই করতে গিয়ে একজন বিজ্ঞানীর পলিম্যাথ না হয়ে উপায় আছে?

যাহোক এবার ফিরে আসি মহাবিশ্বের সাইজে।
দীর্ঘ দশ বিলিয়ন বছর লেগেছে শুধু কার্বন ফর্মেশন হতে, তারপর অন্যান্য মৌলিক পদার্থের ফর্মেশন এবং সেখান থেকে ইন-অর্গানিক ও অর্গানিক কেমিকাল ফর্মেশন তারপর এককোষী প্রাণী, সেখান থেকে বহুকোষী প্রাণী আর বিবর্তনের সর্বশেষ ধাপে চৈতন্যসম্পন্ন মানুষ তৈরী হতে সময় লেগেছে প্রায় চৌদ্দ বিলিয়ন বছর। এই এতগুলো বছর ধরে মহাবিশ্বকে বেঁচে থাকতে হয়েছে। শুধু বেঁচেই নয়, তাকে সম্প্রসারিত হতে হয়েছে, নিঁখুতভাবে (যা নাও হতে পারতো)। এতগুলো বছর ধরে যদি সম্প্রসারিত হতেই থাকে তাহলে মহাবিশ্বের এই বিশাল আকৃতি হওয়াটা অতীব স্বাভাবিক। ঠিক এই কারণেই মহাবিশ্ব এত বিশাল!

তারিখ: ২২শে অক্টোবর, ২০১৭
সময়: ভোর চারটা দশ মিনিট

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

এলোমেলো জলে উদ্বেল

এলোমেলো জলে উদ্বেল
————– রমিত আজাদ

এখানে এলোমেলো জলে উদ্বেল নদী,
বিলুপ্তপ্রায় লাবণ্যের আভায় প্রজ্জ্বলিত,
সন্ধ্যার অগ্নিরাগে জ্বলে ওঠা স্ফুলিঙ্গের ছন্দে,
আহ্লাদী সায়াহ্নের আনন্দ দোলায় বিটপির সারি।

কি কথা তাহার মনে ছড়িয়ে আঁচল?
রঙিন ভূষণে তব আসন্ন হেমন্তের ঘ্রাণ।
নির্জন একাকী সেতুটির সুপ্রাচীন কুটুম্বিতা,
আনচান নহলী শৈবলিনীর এপার ওপার।

চিম্বুকের সূর্যোদয় ছোঁয়া উপন্যাসের উপকথা,
লীলাময় লীলাবতির রুদ্ধপ্লাবন ইতিবৃত্ত,
হতে পারে একদিন কিংবদন্তী হবে অন্তিম প্রহরে।
তারপর অগ্নিরাগে ভস্মীভূত অসহায় নভশ্চর,
প্রতীক্ষিত বর্ষণের স্পর্শে জেগে উঠবে পুনর্বার।

তারিখ: ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭
সময়: রাত ৩টা ১৮ মিনিট

The Brimming River
Ramit Azad

Categories
অনলাইন প্রকাশনা বিনোদন

Marvel Cinematic Universe Phase One: Avengers Assembled

 

 

“আয়রন ম্যান” (২০০৮)

মার্ভেল ইউনিভার্সের সূচনা ঘটে ২০০৮ সালের ২ মে এক বিশাল ধামাকার মধ্য দিয়ে আর সেটা হল আয়রন ম্যান। আয়রন ম্যান মুভিটি বানানর কথা ছিল ২০০৮ সালের আরও আগেই কিন্তু নানা ধরনের টাল বাহানা করার ফলে অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে যায় এ মুভির ভবিষ্যত। যার ফলে মারভেল নিজেই এগিয়ে আসে নিজেদের সুপার হিরোকে কমিক বুক থেকে রঙ্গিন পর্দায় ফুটিয়ে তুলার জন্যে। আয়রন ম্যান চরিত্রটা এতটাই আকর্ষণীও ছিল যে নিকোলাজ কেজ ও টম ক্রুজ” তারা দুজনেই চেয়ে ছিল এই মুভিতে অভিনয় করতে। কিন্তু মারভেল মুভি মেকার রা এই চরিত্রের জন্যে বেছে নিয়েছে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র কে । তাদের মতে সেই এই চরিত্রের জন্যে পারফেক্ট। ২০০৮ সালের প্রথম ডমিস্টিক বক্স অফিসে ৩১৮ মিলিয়ন আয় করে এই মুভিটি।তার সাথে ইন্ডিয়ানা জোন্স 4 এবং দ্য ডার্ক নাইট এর সাথে পাল্লা দিয়ে ১৪০ মিলিয়ন বাজেটের আয়রন ম্যান সারা বিশ্বে আয় করে ৫৮৫ মিলিয়ন।

ফার্স্ট অফ অল, মাড়ভেল ভক্তরা কেউই বুঝে উঠতে পারেনি এই মুভি টি দিয়েই মারভেল সিনেমা জগতে পা রাখতে যাচ্ছে। মার্ভেল মুভি গুলোর প্রধান আকর্ষণ কিন্তু পুরো মুভিটা না বরং মুভি শেষের পোস্ট ক্রেডিট সিনটাই। এই মুভির শেষের পোস্ট ক্রেডিট সিনে এক রহস্যময় চরিত্রকে দেখতে পাই পরে যাকে আমরা নিক ফিউরি নামে চিনি। কিন্তু সবার মনে তখন বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, কে এই নিক ফিউরি? এবং কি চায় সে টনি স্টার্ক এর কাছ থেকে। তাছাড়া টনি মুভিতে নিজেই পুরো পৃথিবীর কাছে সম্মানের সাথে স্বীকার করেন সেই হলেন আয়রন ম্যান এসকল ধোঁয়াশার মধ্যে দিয়েই মুভিটি শেষ হয়ে যায়।

“দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক” (২০০৮)

হাল্ক কে আমরা সকলেই কম বেশি চিনে । ২০০৩ সালে হাল্ক চরিত্র টি সর্ব প্রথম রঙ্গিন পর্দায় পা রাখে যেখানে হাল্ক ব্রুস ব্যানার চরিত্রে অভিনয় করেন এরিক বানা। ২০০৩ সালের হাল্ক মুভি টি মুলত ডমেস্টিক বক্স অফিসে আয় করে মাত্র ১৩২ মিলিয়ন এবং সারা বিশ্বে ২৪৫ মিলিয়ন যা মটেও আশাবাদি ছিল কমিক ফ্যান দের নিকট।এই পরিস্থির পরে হাল্কের জন্যে হল একটি লম্বা বিরতি। তারপর ২০০৮ সালেই আবার এই মুভি নতুন রুপে কমিক ফ্যানদের কাছে এসে হাজির হল যার নাম দেওয়া হয় দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক। এ মুভির গল্পটা একটু ঘোলাটে হলেও জারা ২০০৩ সালের হাল্ক দেখে পুরো হতাশ হয়েছিল তাদের জন্য রয়েছে নতুন গল্প ও মন ভরা অ্যাকশন। ২০০৮ সালের হাল্ক মুভিতে অভিনয় করেছেন এডওয়াট নরটন জদিও আমরা দ্য আভেঞ্জারস মুভি তে তাঁকে পাই নি তার পরিবর তে ছিলেন অভিনেতা মার্ক রুফালো। ১৫০ মিলিয়ন এর এই মুভি টি ঠিক রিলিজ পায় আয়রন ম্যান মুভি এর ১ মাস পরেই ১৩ জুন । ডমেস্টিক বক্স অফিসে আয় করে মাত্র ১৩৪ মিলিয়ন ও সারা বিশ্বে ২৬৩ মিলিয়ন যা আবারও এই মুভি টি হতাশার লিস্টে নাম লেখায়।

যাই হোক, এ মুভির পোস্ট ক্রেডিট সিনে অপ্রত্যাশিত ভাবে দেখা যায় টনি স্টাক কে যে কিনা জেনারেল রস এর কাছে কিছু অপ্রত্যাশা জনক প্রস্তাব নিয়ে আসে। এখানেই একটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে ভবিষ্যতে খুব বড় কিছু ঘটতে চলেছে

“আয়রন ম্যান ২” (২০১০)

দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক মুভির পরে রইলো ১ বছরের বিরতি। আয়রন ম্যান ২ মুভিটি ২০১০ সালে মুক্তি পান যেখানে ফ্যান রা বেশ কিছু পরিবর্তনের সম্মুখীন হন, যেমন-প্রথম পর্বে টনি স্টার্ক এর বেস্ট ফ্রেন্ড ল্যাফটেন্যান্ট কর্নেল জেমস রোডস এর চরিত্রে ছিল টেরেন্স হাওয়ার্ড কিন্তু তার সাথে প্রোডাকশনের জটিলতা হবার কারণে এই রোলটি চলে যায় ডন চেডল এর কাছে। এ পর্বের গল্পটিতে বেশ ভালো কিছু অ্যাকশান দেখা যায় তার সাথে আয়রন ম্যান এর স্যুট এর ডেভেলপমেন্টওদেখা যায়। আর তার সাথে এই পর্বেই আমাদের সামনে উন্মেচিত হল “নিক ফিউরি” এর পরিচয় শিল্ড নামক এক গোপন সংস্থার ডিরেক্টর যার ভূমিকায় অভিনয় করেছে শক্তিমান অভিনেতা স্যামুয়েল এল জ্যাকসন। তাছাড়া স্যামুয়েল এল জ্যাকসন এর সাথে মূলত মার্ভেল এর ৯টি মুভির চুক্তি হয়েছে। এছাড়াও এ মুভির মাধ্যমে ব্ল্যাক উইডো/নাতাশা রোমানফ নামের এক নতুন চরিত্রের পরিচয় হয়েছে আর এই চরিত এর জন্যে অভিনয় করেছেন স্কারলেট জোহান্সন। এই মুভি ডমেস্টিক বক্স অফিসে আয় করে ৩১২ মিলিয়ন এবং সারা বিশ্বে ৬২৩ মিলিয়ন যা ছিল মারভেল দের জন্যে এক বিশাল সাফল্য।

এবার আসা যাক পোস্ট ক্রেডিট সিনে , যেখানে দেখান হয় এক বিশাল ভুমির মাঝখানে নিক্ষিপ্ত হয় একটি হাতুরি । তৎক্ষণাৎ সেটা লক্ষ্য করে শিল্ড এর মেম্বার ফিল কলসন এবং সে এই বিষয়টি ফোনের মাধ্যমে নিক ফিউরি কে জানায় সে সেটা খুজে পেয়েছে। কমিক ফ্যানদের অনেকের কাছেই এটা পরিস্কার ছিল নেক্সটে কি হতে যাচ্ছে আবার অনেকের কাছেই ছিল বিষয়টি পুরো ঘোলাটে।

“থর” (২০১১)

আয়রন ম্যান ২ মুভিটি যে সকল প্রশ্নের সৃষ্টি করে দিয়ে শেষ হয়েছিল, সে সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মারভেল ২০১১ সালে আবার নতুন এক মুভির রিলিজ ঘটায় তা হল থর।৬ মে তে এই মুভিটি রিলিজ পায় মারভেল ভক্তদের কাছে। মূলত থর মুভি তৈরীর পরিকল্পনা সর্ব প্রথম ১৯৯১ সালে ইভিল ডেড ও স্পাইডারম্যান ট্রিলোজী খ্যাত স্যাম রাইমি এর মাথায় আসে কিন্তু পরে আবার এই পরিকল্পনা বাতিল করে দেওয়া হয়। পরে মারভেল সিনামেটিক উনিভারস পরিকল্পনা চালায় তাদের নিজেদের এই চরিত্রে্র মুভি টির এবং তারা প্ল্যান অনুযায় থরকে জুড়ে দেয় অ্যাভেঞ্জারস অ্যাসেম্বল এর সাথে। অসাধারণ গল্প, বাস্তব ও কাল্পনিক জগতের সফল কম্বিনেশন আর মন কাড়া অ্যাকশন এর দ্বারানির্মিত থর অনেক অংশে দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক ও আয়রন ম্যান ২ থেকেও বেশী এন্টারটেইনিং করা হয়েছে বলে অনেকের মতে। থর ও লোকি চরিত্রে অভিন্য করেছে ক্রিস হেমসওর্থ এবং টম হিডেলস্টন তাছাড়া তাদের দুজনকে একদম মানিয়ে গেছে ও অসাধারণ অভিনয় করেছে তারা। এ মুভির মধ্যে নতুন এক চরিত্রের অভিষেক ঘটে আর সে হল হকআই যে কিনা অ্যাভেঞ্জারস টিমের একজন গুরুত্তপূর্ণ সদস্য । এই হকআই এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেরেমি রেনার। ১৫০ মিলিয়ন বাজেটের “থর” ডমেস্টিক বক্স অফিসে আয় করে ১৮১ মিলিয়ন ও সারা বিশ্বে ৪৪৯ মিলিয়ন এবং পরিনত হয় ব্লকবাস্টারে।

মুভির শেষে যদিও মনে হয় যে লোকি মারা যায়, কিন্তু পোস্ট ক্রেডিট সিনে দেখা যায় যে সে পৃথিবীতে ফিরে গেছে ও এখানে আবার তার আগমণ ঘটে নিক ফিউরি এর সাথে এক অসীম শক্তির কিউব নিয়ে যেটার নাম হল টেসেরাক্ট।

“ক্যাপ্টেন আমেরিকা-দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জারস”

ক্যাপ্টেন আমেরিকানাম শুনেই বুঝা যাচ্ছে যে অ্যাভেঞ্জারস টিমের সব থেকে প্রথম ও গুরুত্তপূর্ণ মেম্বার। এ মুভি রিলিজের আগে ট্রেলার দেখে সবার একটা আইডিয়া হয়েছিল যে এই চরিত্রটি হল ১৯৪২ এর পটভূমীর ২য় বিশ্ব যুদ্ধের নায়ক ও তার ভিলেন হল হিটলার। এই মুভির প্রধান চরিত্র ক্যাপ্টেন আমেরিকা হয়ে অভিনয় করেছেন ক্রিস ইভান্স যাকে এর আগেও আরও একটি সুপারহিরো মুভিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে। অতঃপর, থর এর ঠিক দুই মাস পর ২২ জুলাই রিলিজ হল ক্যাপ্টেন আমেরিকা-দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জারস।এ মুভিতে ক্রিস ইভান্স এর চরিত্র টি একজন সৎ ও নীতিবান যোদ্ধার ভূমিকায় দেখা গেছে। মুভিতে ক্যাপ্টেন আমেরিকার বেস্ট ফ্রেন্ড সার্জেন্ট জেমস বার্ন্স এর চরিত্রে সেবাস্টিন স্টান কে দেখা যায় যে কিনা খুব ভাল অভিনয় করেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে মুভির এক পর্যায় সে দুর্ঘটনায় বরফের মধ্যে পড়ে মারা যায়। যাই হোক মুভিটি ডমেস্টিক বক্স অফিসে ১৭৬ মিলিয়ন এবং সারা বিশ্বে ৩৭০ মিলিয়ন আয় করে খুব ভাল মতই সাফল্য লাভ করেছে।

তবে আসল চমক ছিল মুভির শেষে। মুভি প্রায় শেষ ক্যাপ্টেন আমেরিকা মারা গেছে, এদিকে ২য় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হয়েছে, অতঃপর শেষ দৃশ্যে ক্যাপ্টেন আমেরিকা কে বর্তমান সময়ে দেখা যায় এবং তার থেকেও বড় বিষয় নিক ফিউরি কে দেখান হয়েছে। এই খানে হাল্ক, আয়রন ম্যান ও থর এর সাথে ক্যাপ্টেন আমেরিকার কানেকশন যোগ করা হয়েছে। আর অন্যদিকে আরও দেখা যায় শেষে টেসেরাক্ট এর রহস্যও উন্মেচন হয়ে গেছে। এতে ফ্যান দের আর কিছু বুঝতে বাকি রইলো না , এর মানে হচ্ছে দ্য অ্যাভেঞ্জারস এর আগমন।

“দ্য অ্যাভেঞ্জার্স” (২০১২)

অবশেষে মারভেল এর যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল ২০০৮ সালে আয়রন ম্যান মুভি দ্বারা, তার সফল সমাপ্তী (Phase One)ঘটলো ২০১২ তে দ্য অ্যাভেঞ্জার্স মুক্তির মাধ্যমে। আয়রন ম্যান, হাল্ক, থর এবং ক্যাপ্টেন আমেরিকা এর এক অসাধারণ কম্বিনেশন দেখানো হয়েছে এই মুভিটি তে। এই চারটি চরিত্র পুরো একে অপরের আলাদা, তো কি ভাবে সম্ভব এদের দ্বারা সফল টিম। মুভির প্রথম অংশে জুড়ে এরা শুধু নিজেদের মধ্যেই ঝগড়া ও মারামারি করে গেছে এবং অবশেষে মুভির শেষ দিকে এসে তবে এরা টিম হয়ে লড়াই করেছে টেকনিক্যালি এ মুভিকে “থর” ও “ক্যাপ্টেন আমেরিকা” এর সিক্যুয়াল হিসেবে ধরা যায়। এ মুভির ভিলেন আমাদের অতি পরিচিত থর এর সৎ ভাই লোকি যে কিনা টেসেরাক্ট এর সাহাজে দুনিয়াতে কিয়ামত নিয়া আসে। এই মুভিতে ব্ল্যাক উইডো ও হকআই কে একসাথে খুব বড় দুটি গুরুত্তপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে। জদিও মুভির বেশির ভাগ সময় টুকুতে হক আই কে ভিলেন হিসাবেই দেখা যায়। এ মুভিতে নতুন ভাবে আরও একটি চরিত্র কে দেখান হয়েছে আর সে হল মারিয়া হিল শিল্ড এর একজন সদস্য যে কিনা নিক ফিউরি এর সাথে কাজ করে থাকে। আর মুভির সব থেকে দুঃখ জনক সিন ছিল শিল্ড মেম্বার ফিল কলসন এর মৃত্যু বরন। আমরা এখানে নতুন হাল্ক হিসাবে পাই মার্ক রুফালো কে যে কিনা বেশ ভালই এক্তিং করেছে ব্রুস ব্যানার হিসাবে। অতঃপর দ্য অ্যাভেঞ্জারস ডমেস্টিক বক্স অফিসে ৬২৩ মিলিয়ন এবং সারা বিশ্বে ১.৫১ বিলিয়ন আয় করে সর্বকালের সবচেয়ে বেশী আয় করা মুভির লিস্টে অবতার (২.৭৮) এবং টাইটানিক (২.১৮) এর পর ৩য় স্থানে নাম লেখায়।

অবশেষে আসা যাক পোস্ট ক্রেডিট সিনে… এখানে দেখা যায় যে পৃথিবীর কাছে হেরে যাবার পর চিটুয়ারী সভ্যতার লিডার সিরিজের প্রধান ভিলেন থানোস চলেছে নতুন কোন পরিকল্পনা তৈরীতে যা জানতে দ্য অ্যাভেঞ্জারস ৩ infinity war পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে. .

 

 

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

Double Miracle (দুইটি অলৌকিকতা)

Double Miracle :
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন “The most incomprehensible thing about the universe is that it is comprehensible” from “Physics and Reality”(1936) (এই মহাবিশ্বের সবচাইতে বড় না বোঝার বিষয়টি হলো যে, এটাকে বোঝা যায় – আলবার্ট আইনস্টাইন)। হ্যাঁ, এখন আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে এটাকে বোঝা যায়। এবার স্বভাবতঃই মনে আরেকটি প্রশ্ন জাগে, কেন এটাকে বোঝা যায়? আজ থেকে ২৭৫০ বছর আগে যশোরের সন্তান জ্ঞানী কপিল বিশ্ববিক্ষণের ব্যাখ্যায় দেব-দেবী, প্যান্থিয়ন ইত্যাদি বাদ দিয়ে সংখ্যা তথা logical reasoning -এর মাধ্যমে মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। আর তার কয়েক শতাব্দী পর অয়োনীয় পিথাগোরাস বলেছিলেন, “ঈশ্বর একজন ভালো গণিতবিদ”। হ্যাঁ, আজ আমরা বুঝি যে মহাবিশ্বের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে গণিত, আর বিশ্বজুড়ে রয়েছে ‘আইনের শাসন’ (Rule of Law), আর এটাই মিরাকল নাম্বার ওয়ান। মিরাকল নাম্বার টু হলো – এই সকল আইনগুলোকে বোঝার ও জানার জন্য এই মহাবিশ্বেই রয়েছে কিছু সত্তা – ‘মানুষের মন’।

এখন আরো একটি প্রশ্ন। মহাবিশ্ব এত বিশাল কেন? উত্তর – মহাবিশ্ব সৃষ্টির কিছু পর তৈরী হলো সবচাইতে হালকা পরমাণু বা পদার্থ হাইড্রোজেন। তারপর ধীরে ধীরে হিলিয়াম, লিথিয়াম, বেরিলিয়াম ইত্যাদি। এভাবে কার্বন তৈরী হতে সময় লাগলো ১০ বিলিয়ন বছর। আর কার্বন ছাড়া জীবদেহ তৈরী সম্ভব নয়। তার মানে মহাবিশ্বের বয়স ১০ বিলিয়ন বছরের বেশী। এরপর লোহা, রুপা, সোনা, ক্যালসিয়াম, ইত্যাদির মত ভারী পদার্থগুলি তৈরী হওয়ারও প্রয়োজন ছিলো। এখন আমরা জেনেছি যে, এভাবে কেটে গিয়েছে ১৩ বিলিয়ন বছরের বেশী। বিভিন্ন জীব ও মানবজাতি সৃষ্টি-র জন্য মহাবিশ্বকে বেঁচে থাকতে হয়েছে এই ১৩ বিলিয়ন বছর। আর এই বেঁচে থাকা (এর মধ্যে ধ্বংস না হয়ে) সম্ভব হয়েছে এই কারণে যে ক্রমাগত সেই রূপেই প্রসারিত হচ্ছে যেরূপে প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন। আর এই দীর্ঘকালীন প্রসারণের কারণেই মহাবিশ্ব আজ এত বিশাল।

ও হ্যাঁ, আরেকটি বিষয়। মহাবিশ্বের নাম দিয়েছি আমরা Uni verse মানে ‘একাকী কাব্য’। ইদানিং অনেক বিজ্ঞানীই প্রশ্ন তুলছেন, ‘কাব্য কি কেবল একটাই? অনেকগুলো কি হতে পারে না?’ তাই পাশাপাশি সন্ধান চলছে Multi verse -এর।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

রুবাই: রমিত আজাদ ১, ২, ৩, ৪

রুবাই: রমিত আজাদ ১, ২, ৩, ৪


স্মৃতিগুলো অগ্নিসম সুতীব্র জ্বালাময়,
মনভূমি ভস্মীভুত সূচাগ্র দগ্ধতায়।
ভ্রমাত্মক স্বপনে ছিলো দুরন্ত আশ্বাস,
জাগতিক বিস্ফোরণে ভেঙ্গেছে বিশ্বাস।

OCTOBER 12 AT 2:03AM


স্বপ্ন দেখি রাত্রি জেগে মিষ্টি মধুর স্বপ্ন,
লগ্ন আঁকি রক্তি রাগে বৃষ্টি বিধুর লগ্ন।
তোমার মুখে চন্দ্র দেখি, পূর্ণ তিথির দীপ্তি,
আমার সুখে মন্ত্র জপি, জীর্ণ বিথির তৃপ্তি।

OCTOBER 10 AT 3:31AM


মাঝ রাতে ধ্বংস হোক হিংস্র অন্ধকার,
আজ প্রাতে মুক্ত হোক সুপ্ত বন্ধদ্বার।
কাটুক তব অমানিশা ক্ষোভের বহ্নিতাপে,
ফুটুক পুষ্পরাজি মম প্রভাত সন্নিকটে।


ধীরে ধীরে তব বাড়িতেছে নিশি ভয়াল আঁধার,
চিরে চিরে মম ঝরিতেছে ক্রোধ অথৈ পাথার।
দিনে দিনে শুধু বাড়িতেছে ঘৃণা, গড়িয়াছে পারাবার,
ক্ষণে ক্ষণে তার কাঁপিতেছে হিয়া, গুনিতেছে দুরাচার ।

(রুবাই: রমিত আজাদ
তারিখ: ১৪ই অক্টোবর, ২০১৭
সময়: ভোর ৪টা ১৪ মিনিট)

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

শান্তশিষ্ট বালক

–সাকি বিল্লাহ্

হে সকল শান্ত শিষ্ট বালক,
বালিকাদের চেয়ে এখনো তুমি ঢের নাবালক !
ডিজিটাল এই যুগের অবাস্তব জগতে,
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরতে পরতে,
ফটোশপ আর ক্যামেরার কারসাজিতে,
কাককে বক আর ময়ূরকে দেখায় কাকতাড়ুয়াতে ।।

সুন্দরকে অসুন্দর আর অসুন্দরকে সুন্দর করে,
আমরাই দেখাই মহাবিশ্বের সকল বিস্মৃতিরে ।
সম্যক জ্ঞানে রুদ্ধ করি সব অযাচিত রাগ,
আর ভস্ম করি পুড়িয়ে শত ভাগ ।
তবু তার দ্বারে রহি পড়ে সজ্ঞানে,
শয়নে নিদ্রায় জাগি তার-ই স্মরণে;
কবে যেন কোথায় দেখেছিলাম হঠাৎ,
সেই থেকে কাল হল সকল বিস্বাদ ।

জ্ঞানের পিপাসায় কাতর মস্তিষ্কে,
দিয়েছি শুধু জ্ঞানালোক মর্ত্যকে;
শুধু দেইনি একফোটা প্রনয়ের জল,
হৃদয়ের শত আকুতিরে করে নিস্ফল ।
তবু সবের মুখে শুনি অবারিত বারি,
দিয়েছো যা, তোমারই কল্যাণে তা নিমগ্ন করি ।

হয়ত কোন এক পড়ন্ত সাঁঝবেলায়,
পাখিদের ডানা ক্লান্ত তবু ব্যস্ত পথচলায়;
ভোরের আলো পড়ে চোখের পাতায়,
হয়ত বা জাগাবে না আর তোমায় ।
তাই শান্ত হয়ে, ক্ষান্ত করে দাও সকল অশান্তরে,
প্রকাশ্য দিনালোকে এই সকল নীরেট অন্তরে ।
তুমি হবে মহাপুষ্পীর মান্যবর কোন এক,
তবু সকলের হৃদয় জয়ে তুমি রবে সম্যক ।
কেউ তো তবু বলবে ছিলে এক শান্তবালকে ,
জয় হবে সবার তরে এই মর্ত্যলোকে ।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা কবিতা

শুনতে চাই না

শুনতে চাই না আমি কবিতা আর গান,

তোমার কণ্ঠে

দেখতে চাই না চাঁদ আর হাসি

তোমার মুখে

তুমি নর পশুর চাইতেও অধম

আমার মনে হচ্ছে

তুমি একটা ভয়ঙ্কর নর পিশাচিনী

তোমায় দেখতে চাই না ।

 

¯পর্শ চাই না শিশির বিন্দু মাখা

দূর্বা ঘাসের মত,

তোমার হাতের,

কারণ তোমার হাতের ¯পর্শে

আমি বিষাক্ত

তুমি বর্বর হায়েনা

কিংবা নরমাংশী পাকিস্তানী সেনা ।

 

তোমার সান্নিধ্য আমি চাই না

তুমি পাষণ্ড, অশিক্ষিত কুলাঙ্গার

তোমার কোন ভয়ঙ্কর রূপ

আমি দেখতে চাই না,

শুনতে চাই না আমি তোমার মুখ থেকে

“ভালোবাসি” শব্দটা

শুনতে চাই না..না….না….না ..।

তোমার সব কথাই আমি আজ

শুনতে চাই না,

কারণ তুমি রাক্ষুসী, অনেকটা

রাক্ষুসী নদীর মত

বুকের ভেতরের সব কুল ভেঙ্গে নিয়েছো তুমি ।

 

তোমার পুলকিত হওয়ার কোনো কারণ নেই

তোমায় ভালোবাসি না আমি

অভিশপ্ত কাউকে ভালোবাসা যায় না

আমি জানি ।

 

হিংস্র পশুর চাইতে অধম তুমি

আমি জানি

কারণ তোমার লোভ আকাশ সীমা পেরিয়েছে

অনেক আগে

অন্ধ হয়েছো তুমি লোভে

শত শত শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা যাচ্ছে না

তোমার সে লোভাতুর মনটাকে ।

 

বন্ধ কর সব পাখির গান কিচিরমিচির শব্দগুলো

শুনতে চাই না এসব , দেখতে চাইনা

তোমার অবয়ব

তোমার অবয়বে মনে পড়ে, কি নিদারুণ

কষ্টের অতীত

আহা ! সে কষ্টে আড়ষ্ঠ দিনগুলি

কত কষ্ট হয়েছিল আমার সে মুহূর্তগুলো

প্রতিটি সেকেন্ড পাড়ি দিতে

এক একটা সেকেন্ড

এর চাইতে ভালো হতো যদি কোনো

রাস্তার কুকুরকে ভালোবাসতাম

কোনো পাগলা কুকুরকে

সবাইকে কামড়ালেও আমাকে কামড়াতে দ্বিধা করতো

অথবা কোনো হায়েনাকে ভালোবাসতাম

ছিন্ন বিদীর্ণ করে আমাকে শেষ করলেও

ক্ষুধা মেটানোর পর

তার দুচোখ বেয়ে এক ফোঁটা

অশ্র“ ঝরতো অন্তত

কারণ সে ক্ষুধার তাড়নায় পশুত্ব গ্রহণ করেছিল

আর তুমি (হা..হা…হা..)

আমার ক্ষতের উপর বরঞ্চও

কিছু লবণ ছিটিয়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করোনি ।

 

ভালোবাসার প্রতিদান শুধু ভালোবাসা জানতাম

কিন্তু তুমিই শেখালে প্রথম,

ভালোবাসার প্রতিদান ভালোবাসা নয়

কুৎসিত মনের প্রকাশ হল তোমার

চাঁদের মত তোমার মুখ আর

ভিতরকার তুমি,

কিছুতেই আমি মেলাতে পারছিলাম না

যাই হোক-

একটা পশুকে ভালোবাসলেও

সে বুঝতে পারতো আমার সে

অর্বুদ ভালোবাসা

 

কিন্তু আমি হতবাক হলাম

তোমার পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট রূপ দেখে

হঠাৎ তুমি বদলে গেলে

বিচিত্র সে রূপ তোমার

আমার মনে পড়লে এখনও

আঁতকে উঠি

কি অদ্ভুত তোমার সে পরিবর্তন

তোমায় নিয়ে কবিতা লিখছি

ভেবোনা, এটা তোমার জন্য কবিতা,

হ্যাঁ এটা আমার জন্য কবিতা

সবার জন্য কবিতা শুধু

তোমার জন্য একটা দুঃস্বপ্ন বাণী,

 

তোমার ধ্বংসই এখন আমার কাম্য

আমি বলিনি ।

আমি তো তোমার মতো

বিবেকহীন কোনো যন্ত্রমানব নই

তবে তুমি যা করেছো তার শাস্তি

তুমিই পাবে, অন্য কেউ নয়

তোমার ছলনার নাটক এর সমাপ্তি

তোমার রক্তের হলি খেলাতেই

শেষকৃত্য হবে ।

 

ভেবো না , স্রষ্টা কারও প্রতি

অসম বিচার করেন না

তোমার শাস্তি তুমি পাবেই

শীঘ্রই পাবে ।

 

 

নতুন করে তোমার মুখে শুনতে চাই না

আমি সুমধুর ভালোবাসার ডাক

খুবই বিরক্ত লাগছে তোমার সে আকুলতা

বন্ধ কর এসব

নতুবা চিরতরে বন্ধ করে দেব তোমার বাকযন্ত্র,

 

তাই আমি আর শুনতে চাই না

না…না….না….

শুনতে চাই না, দেখতে চাই না

পর্শ চাই না

ভাবতে চাই না তোমায়,

এ কবিতাই তোমায় নিয়ে শেষ ভাবনা

তারপর ভাববো না আর কোন দিনও

তোমায় নিয়ে ।।

Categories
অনলাইন প্রকাশনা

এবারের নোবেল পুরষ্কার (পদার্থবিজ্ঞান ২০১৭)

এবারের নোবেল পুরষ্কার (পদার্থবিজ্ঞান ২০১৭):
————————————— ড. রমিত আজাদ

ছোট্ট একটি ছেলে ভর দুপুরে দাঁড়িয়ে আছে একটি পুকুর পারে। কোন এক কারণে সেই সময় বাতাসের বেগও তেমন ছিলনা ঐ তল্লাটে। শুনশান দুপুর, চারিদিকে কেউ নেই। শুধু ছোট্ট ছেলেটি আর একটি শান্ত নির্জন পুকুর। আক্ষরিক অর্থেই শান্ত, বিন্দুমাত্র আন্দোলন ছিলনা পুকুরের উদক বুকে। ছোট্ট ছেলেটির দুষ্টু মাথায় খেলে গেলো একটি খেয়াল, সে পুকুর পাড় থেকে তুলে নিলো একটি ঢিল, তারপর সজোরে নিক্ষেপ করলো পুকুরের বুকে। ঢিলটি টুপ করে একটি শব্দ তুলে ঝুপ করে পড়ে গেলো পুকুরের শান্ত নির্জন জলে, আর সাথে সাথেই তাকে অশান্ত করে তুললো। কি একটা প্যাটার্ন যেনো তৈরী হলো সেখানে, যেটি আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো চারপাশে, তারপর এগুতে এগুতে একসময় স্পর্শ করলো পুকুরের পাড়। শিশুটি পরে জেনেছিলো, একে বলে ঢেউ; আরো পরে স্কুল জীবনে সে যখন বিজ্ঞান পড়তে শুরু করলো তখন সে জানলো একে বলে তরঙ্গ (ঢেউয়ের কাব্যিক প্রতিশব্দটিই বিজ্ঞানীরা বেছে নিয়েছেন পরিভাষা হিসাবে)। এই তরঙ্গ নিয়ে ইতিপূর্বে সে কবিতা পড়েছে অনেক, কিন্তু তরঙ্গ যে কবিতার পাশাপাশি কঠিন বিজ্ঞানেরও পরম কৌতুহলের বিষয় সেটা সে আগে জানতো না। ছেলেটি আরো জেনেছিলো যে তরঙ্গ নিয়ে রয়েছে জটিল গাণিতিক হিসাব। আমিই সেই শিশুটি, যে ডানপিটুনি করে ভর দুপুরে ঘুমন্ত মায়ের চোখ এড়িয়ে চলে গিয়েছিলো পুকুর আর তরঙ্গ দেখতে। আমিই সেই ছেলেটি যে স্কুল জীবনের পদার্থবিজ্ঞান পাঠে বাধ্য হয়ে কসরৎ করে মুখস্থ করেছিলো তরঙ্গের গণিত – ফ্রিকোয়েন্সি, ক্রেস্ট, ট্র, প্রোপেগেশন, এমপ্লিচিউড, ইত্যাদি। তবে আমার মনে একটা প্রশ্ন রয়েই গিয়েছিলো যে, ‘কি এই তরঙ্গ?’

ছোটবেলায় টমাস এডিসন ও আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনী পাঠে প্রভাবিত হয়ে মনে হয়েছিলো, অপার প্রহেলিকার এই প্রকৃতি জগতের সব রহস্যের সমাধান দিতে পারবে কেবল একটি সাবজেক্ট, নাম তার ‘ফিজিক্স’। তাই অভিভাবক ও দরিদ্র দেশের আর্থ-সামাজিক বাধা উপেক্ষা করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ হিসাবে বেছে নিয়েছিলাম পদার্থবিজ্ঞান-কে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঠে জেনেছিলাম তরঙ্গ আর কিছুই না কেবল একটি ডিসটার্বেন্স যা এগিয়ে চলে আর সাথে করে নিয়ে যায় এনার্জী। ও আচ্ছা! ঐ যে আমি শিশুকালে পুকুরের পানিকে ডিসটার্ব করেছিলাম, আমার সেই ডিসটার্বেন্সটিই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিলো। হু হু ডিসটার্ব না করলে তো আর এমনটি হতো না।

আমি একটি রক্ত-মাংসের মানুষ যার ইচ্ছার স্বাধীনতা আছে কোন কিছুকে ডিসটার্ব করার। কিন্তু ইচ্ছার স্বাধীনতা নাই এমন অনেক কিছুও প্রাকৃতিক কারণে তার চারপাশটাকে ডিসটার্ব করতে পারে। আর ফল হবে সেই একই, ডিসটার্বেন্সটি ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে। এরকম ধারণা থেকেই জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ-এর। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কোন চার্জের চতুর্দিকে রয়েছে তার প্রভাব মানে ফিল্ড। ঐ যেমন পুকুর একটি পানির ফিল্ড। তেমনি চার্জের চতুর্দিকে রয়েছে ইলেকট্রিক ফিল্ড। এখন কোনভাবে যদি ঐ ইলেকট্রিক ফিল্ড-টিকে ডিসটার্ব করা যায়, তাহলেই তা তরঙ্গাকারে ছড়িয়ে পড়বে চতুর্দিকে, ঐ তরঙ্গের নাম ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ। সেটা করার একটি উপায় হলো চার্জটিকে একটু নাড়া দেয়া, ব্যাস ইলেকট্রিক ফিল্ডেও নাড়া পরবে আর তৈরী হবে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ। পরবর্তিতে আবিষ্কৃত হয়েছিলো হয়েছিলো সেই ওয়েভ। প্রথম বারের মত মানবজাতি দেখেছিলো যে সাউন্ড ওয়েভ বা ওয়াটার ওয়েভের মত, এর সঞ্চারণের জন্যে প্রয়োজন হয় না কোন মাধ্যমের। যেমনি কয়েক লক্ষ কিলোমিটার দূরের সূর্য মামা থেকে আলো এসে পৌঁছায় আমাদের মর্তের মাটিতে কোনরূপ মাধ্যম ছাড়াই। অবশ্য তারপর আমরা জেনেছি যে আলোও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ।

তাই যদি হয়ে, থাকে তাহলে কোন একটি বডি যার কিনা আছে ভর তার চারদিকে আছে মহাকর্ষ ফিল্ড। ঐ ফিল্ডটিকে যদি কোনভাবে ডিসটার্ব করা যায়, নিশ্চয়ই তা তরঙ্গাকারে ছড়িয়ে পড়বে চতুর্দিকে। হ্যাঁ, এমন আইডিয়াটিই মাথায় এসেছিলো জগৎবিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের। বিজ্ঞান দুনিয়ায় পা রাখার পর থেকেই তিনি একের পর এক বলে চলছিলেন সব বৈপ্লবিক ধারণা ও তত্ত্ব। আজ থেকে শতবর্ষ আগে তিনি ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন মহাকর্ষ তরঙ্গ-এর অস্তিত্বের। তবে ধারণা অনুযায়ী ঐ তরঙ্গ এতই দুর্বল যে, কয়েক বছর আগেও বিজ্ঞানীদের ধারনা ছিলো যে, এমন তরঙ্গ থাকলেও তা ডিটেক্ট করা সম্ভব হবে না।

কিন্তু ঐ যে কথা আছে, ‘থাকলে আবার পাওয়া যাবে না কেন?’ আর সেটাই ঘটলো সম্প্রতি। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ) সনাক্ত করলেন তিন বিজ্ঞানী রাইনার উইস, কিপ এস থর্ন, ব্যারি সি ব্যারিশ। কাজটি তারা করেছিলেন ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, এবং ঘটা করে ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সারাবিশ্বে সাড়া ফেলে দেন। সূর্যের থেকে অনেক গুণ ভারী দুটি কৃষ্ণ গহবরের গতি থেকে থেকে উৎপন্ন এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ) শনাক্ত করা হয়। পৃথিবী থেকে এক শত ত্রিশ কোটি আলোকবর্ষ দূরে ওই দুটি ব্ল্যাক হোল একে অন্যের চারপাশে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে এক পর্যায়ে একীভূত হয়ে যায়। তাদের এই গতিতে গ্রাভিটিশনাল ফিল্ডে হয় আন্দোলন বা ডিসটার্বেন্স, আর সেটিই তরঙ্গাকারে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আলোর গতিতে ধাবমান এই তরঙ্গ পৃথিবীতে আসতে সময় নিয়েছে এতগুলো বছর। এতবড় একটি আবিষ্কার কি পুরষ্কার ছাড়া হতে পারে? তাই গতকাল ৩রা অক্টোবর ২০১৭ সালে নোবেল কমিটি তাদের দিলেন বিরল সম্মাননা পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার।

একসময় যেই মহাকর্ষ তরঙ্গ-কে সনাক্ত করা অসম্ভব বলা হয়েছিলো, এখন সেটাই সম্ভব হলো, লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্রাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি (লিগো)-তে। ‘লিগো’ কেবল শুরু, ভবিষ্যতে এই জাতীয় অবজারভেটরি মহাশূণ্যে স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে। এভাবে প্রযুক্তি ও মানবজ্ঞানের উন্নয়নের সাথে সাথে আমরা শুনতে পাবো সৃষ্টির আদি বিগ-ব্যাং থেকে শুরু করে মহাজগতের বিবর্তন কোটি কোটি নক্ষত্র-গ্যালাক্সি হয়ে আজ পর্যন্ত গেয়ে যাওয়া সব মহাকাশের দুর্দান্ত সঙ্গীত।

তারিখ: ৪ঠা অক্টোবর, ২০১৭
সময়: গভীর রাত ৩টা ১৯ মিনিট।