নিঃসঙ্গ কার্নেশন (পর্ব – ২৪)

নিঃসঙ্গ কার্নেশন (পর্ব – ২৪)

———————————- রমিত আজাদ

গাঁদা ফুল মানে মেরিগোল্ড একসময় আমার কাছে খুব সাধারণ একটা ফুল বলে মনে হতো।  আর তার গন্ধটাও আমার কাছে এ্যারোমা না মনে হয়ে, খুব বুনো মনে হতো। হয়তোবা বাংলাদেশে এই ফুল যত্রতত্র দেখা ও পাওয়া যায় বলে আমার এহেন মনোভাব ছিলো। কিন্তু আশ্চর্য্য হলো এই যে, ইউরোপে আসার পর সেই গাঁদা ফুলকেই আমার অসাধারণ মনে হতে শুরু করলো, আর সেই বুনো বা ওয়াইল্ড গন্ধটাকেই কেন যেন মদির মনে হতে শুরু করলো। একি আমার বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সাথে এভোলুশন নাকি ভৌগলিক প্রভাবের ফল? আবার দুটোই হতে পারে। বেশিরভাগ রুশ ললনাকেই আমার গাঁদা ফুলের মতন ঝলমলে এবং ওয়াইল্ড মনে হয়। আশ্চর্য্য ব্যাপার হলো যে বিদেশী মেয়েরাও এখানে এসে এই বৈশিষ্ট্য পেতে শুরু করে করে! নারীদের ওয়াইল্ড হওয়াটা আমরা প্রাচ্যবাসীরা মেনে নিতে পারিনা। আমাদের কাছে নারী ও কমনীয়তা সমার্থক। আবার একইসাথে এ কথাও সত্য যে, ওয়াইল্ড নারীরাই অধিকতর যৌন-আবেদনময়ী হয়ে থাকে!

আজ মেট্রোতে হঠাৎ একটি চাইনীজ মেয়েকে দেখলাম। মেয়েটা বেশ কমনীয়। আমি এগিয়ে গেলাম। একসময় সাহস হতো না, এখন উল্টা হয়। আমাকে একবার আমার এক রুশ বন্ধু বলেছিলো, সাহস করে এগিয়ে যেও; দেখবে নারীর কাছ থেকে বিকর্ষণ নয় আকর্ষণই পাবে। ভেবে দেখো, সেও তো বোর ফীল করে, কারো না কারো সাথে কথা বলতে চায়।

চীনা মেয়েটির বয়স খুব কম। হতে পারে যে, সে মাত্র মস্কোতে এসেছে; কোন একটা ইউনিভার্সিটির রাশান ল্যাংগুয়েজ কোর্সে আছে। খুব বেশি হলে ফার্স্ট ইয়ারের মেয়ে হবে। মেয়েটি একটা বই পড়ছিলো। ছন্দময় চলমান মেট্রোটির বগির ভেতর আমি চলতে শুরু করলাম। কয়েক কদম এগিয়ে মেয়েটির কাছাকাছি এসে ওর পাশে দাঁড়ালাম। তারপর কনফিডেন্ট ভয়েসে বললাম,

আমি: বইটা কি চায়নীজ ভাষার?

পাখীর নীড়ের মত দুটি চোখ তুলে তাকিয়ে চীনা মেয়েটিও স্মার্টলি উত্তর দিলো

চীনা মেয়ে: না। এটা রাশান ল্যাংগুয়েজে লেখা বই।

আমি: ও আচ্ছা। কোন টেক্সট বুক?

চীনা মেয়ে: হ্যাঁ। আমার সাবজেক্টের বই।

আমি: ওহ! তা তুমি কোন সাবজেক্টে পড়ো?

চীনা মেয়ে: মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং।

আমি: বাহ! বেশ ভালো সাবজেক্ট তো!

চীনা মেয়ে: আমার খুব ভালো লাগে এই সাবজেক্ট।

আমি লক্ষ্য করলাম যে, মেয়েটি একটুও কুন্ঠিত না হয়ে বেশ সপ্রতিভতার সাথে কথা বলছে। আমি মনে মনে তার প্রশংসা করলাম, “বাহ! বেশ স্মার্ট মেয়ে তো!”

এতক্ষণ ওকে কাছে থেকে দেখার সুযোগে দেখলাম। মেয়েটি বেশ সুন্দরীও। মঙ্গোলয়িড মেয়েদের চোখ যত ছোট হয়, ওর চোখ অতটা ছোট নয়। মাঝারী গড়নের চোখের পাতায় ও মেখেছে নীল রঙের আইশ্যাডো। মঙ্গোলয়িডরা ইউরোপীয়দের মত শ্বেতাঙ্গী নয়, আবার আমাদের মত শ্যামবর্ণও নয়।  মেয়েটির মুখশ্রীর ইয়েলোইশ সাদা রঙের সাথে ঐ নীল রঙের আইশ্যাডো ভালোই মানিয়েছে। তার উপর কেমন একটা প্রশান্তিও রয়েছে ঐ চোখে। চীনের ভুগোল সম্পর্কে আমার কোন ধারণা নেই; নইলে তার কোন একটা সরোবরের সাথে ওর চোখের বর্ণ ও গভীরতার তুলনা করতে পারতাম।

জিজ্ঞাসা করলাম, “কি নাম তোমার?”

চীনা মেয়েটি: এখানে, নাকি আমাদের দেশে?

আনাড়ী কেউ হলে ওর প্রশ্নটা শুনে হতবাক হতো। তবে আমি হলাম না। কারণ আমি জানি যে ঐ বেল্টের মানুষদের দুইটা করে নাম হয়। একটা নাম তাদের দেশীয়, আরেকটা নাম ইউরোপীয়। এরকম করার কারণ এই যে, তাদের নামগুলো ইউরোপীয় ভাষাগত দৃষ্টিকোন থেকে খুব বিদঘূটে হয়; উচ্চারণ করতেও কষ্ট হয়। আবার এমন কিছু চাইনিজ, ভিয়েতনামিজ নাম আছে যা ইউরোপীয় ভাষায় অশালীনও বটে। একবার এক ভিয়েতনামী মেয়ে আমাকে বলেছিলো যে, “আমাদের দেশে এমন নামও আছে যা ‘খুই’ (পুরুষের যৌনাঙ্গকে রুশ ভাষায় ঐ শব্দেই প্রকাশ করে!)। বলেন তো, এমন নাম কি মস্কোতে চলবে?” ওর কথা শুনে আমি সেদিন খুব হেসেছিলাম। আমাদের বাংলাদেশেও ‘কাজল’ নামটি বেশ প্রচলিত; অথচ রুশ ভাষায় এর অর্থ ‘ছাগোল’। যাহোক, এইসব বিবেচনায় তারা দুইটা করে নাম রাখে।

আমি বললাম, “তোমার দুটা নামই বলো।”

চীনা মেয়েটি: চীন দেশে আমার নাম ‘গিয়া’, আর এখানে আমার নাম ‘আঞ্জেলা’।

আঞ্জেলা নামটি আমার বেশ পছন্দের নাম। মনে হলো ‘আঞ্জেলা’ নামে এই চীনা রূপসীকে মানিয়েছে বেশ!

আমি: তা ‘গিয়া’ নামের অর্থ কি?

আঞ্জেলা: পাখী।

আমি আবারও মুগ্ধ হলাম। পাখী নামটাও ওকে বেশ মানায়। ওতো বাঁশপাতি পাখীর মতই মনোরম।

নীলচে এ্যাশ কালারের একটা স্কার্ট-টপস সেট পড়নে ছিলো চীনা রূপসী ‘গিয়া’ বা ‘আঞ্জেলা’-র। চোখে ছিলো উজ্জ্বল নীল রঙের ব্লাশন। এদেশের মেট্রোতে প্রচন্ড ভীড়ে নারী-পুরুষ সব একাকার হয়ে যায়। তারপরেও একপাশে দাঁড়িয়ে আমরা নির্বিঘ্নে গল্প করে যাচ্ছিলাম। গিয়া-র গন্তব্য ছিলো আমার চাইতে দূরে, তাই আমি আমার স্টেশন আসার পর ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বগি থেকে নেমে পড়লাম। ওর কোন মোবাইল টেলিফোন আছে কিনা আমি জানি না। জিজ্ঞাসাও করিনি। আমার নাম্বারটাও ওকে দেইনি। ওর সাথে পরবর্তিতে যোগাযোগ করা যাবে এমন কোন কো-অর্ডিনেটও রাখলাম না। সেই মুহূর্তে কেন জানি মন কিছুই চাইছিলো না। আমি যখন বললাম, “আমার স্টেশন চলে এসেছে, আমি নেমে যাচ্ছি; তুমি ভালো থেকো।” ও তখন চোখ তুলে তাকিয়েছিলো। আমার মন ঐ চোখে পড়েছোলো, “এভাবেই কোন ঠিকানা না রেখেই চলে যাবে? তাহলে কথা বলতে এলে কেন?”

—————————————————————–

সেদিন যখন আনিতাকে জানিয়েছিলাম যে, মোনালিসা আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, এবং আমারও কোন আপত্তি নেই। সেদিন থেকেই আনিতা বেশ মনমরা হয়ে আছে। ওর এই মনমরা ভাবটা আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। আমরা তো কখনোই কেই কাউকে কোন কথা দেইনি। বরং আমাদের মনের মধ্যে সবসময়ই এই ছিলো যে, আমাদের মধ্যে যা আছে এটা নিছক ফ্রেন্ডশীপ। হ্যাঁ, আমরা পরষ্পরের দৈহিক ঘনিষ্টতায় এসেছি। তাতে কি, প্রেমিক-প্রেমিকা অবৈবাহিক দৈহিক সম্পর্কে থাকবে, ইউরোপে এটাই নর্ম। খোদ ভারতেও এটা চালু আছে। তাহলে আনিতার এই নিয়ে কোন পরিণতির কথা ভাবা কি ঠিক? তাছাড়া আমরা দু’জন দুই দেশের, লেখাপড়া শেষ হওয়ার পর যে যার দেশে বা, যে যার পথে চলে যাবো, এটাই তো সহজ ও স্বাভাবিক হিসাব। জীবনকে জটিল করার প্রয়োজনটা কি?

ভিডিওটা অন করলাম। সেখানে একটা গান বেজে উঠলো।

‘আমায় ভালোবেসে ডেকেই দেখো না,

আসি কি না আসি পাশে কে তোমায় ভালোবেসে,

চোখে চোখ রেখেই দেখোনা,

আমায় ভালোবেসে ডেকেই দেখো না।’

গানটা শুনে মনটা কেমন হয়ে গেলো। ভাবলাম, নাহ; এতটা উদাসীন হওয়াও ঠিক না। আনিতা তো চলেই যাবে। যাওয়ার আগে কিছুদিন ওকে সুন্দর সময় দেয়া দরকার।

দুই দেশ বা দুই জাতির মধ্যে প্রেমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটাই ঘটে (মানে বিচ্ছেদ), শুনেছি যে, বার্মার নেত্রী অং সান সূচী-র একজন বাংলাদেশী বয়ফ্রেন্ড ছিলো। লন্ডনে অধ্যয়নকালীন তার সাথে পরিচয় হয়েছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের আর বিয়ে হয়নি। এই ঘটনা শুনে আমার এক বন্ধু হেসে হেসে বলেছিলো, “বেশিরভাগক্ষেত্রেই তো এমন হয়। বিদেশীনীকে বিয়ে করে ঘর করার মত অত সাহসী আর কয়জন আছে বল?”

ভাবলাম যাওয়ার আগে একদিন আনিতাকে নিয়ে সারাদিন বেড়াবো। প্রথমে রেড স্কোয়ার, ম্যাগডোনাল্ডস, মিউজিয়াম, তারপর ভেদেএনখা, বিকালে বালশোই থিয়েটার। বালশোই থিয়েটারের ছোট একটা গ্রুপ একবার ঢাকায় এসেছিলো ১৯৯৭ সালে। শাহবাগের যাদুঘর মিলনায়তনে তারা পারফর্মেন্স শো করেছিলো। সবাই অভিভূত হয়েছিলো সেই পারফর্মেন্স দেখে।

,

————————————————————————-

ক্রেস্তের আড্ডা:

আজকের আড্ডায় কস্তুরী আপা বা কোন বাঙালী মেয়ে ছিলো না, তাই সুযোগ পেয়ে শুরু হলো বাঙালী মেয়ে টপিক নিয়া আলাপ।

সুশান্ত আমাদের আড্ডায় আসে কম। ও থাকে বেশ দূরে। দুয়েক বছর হলো বিবাহিত হয়েছে। বৌ নিয়ে এ্যাপার্টমেন্টে থাকে। তবে আজ হঠাৎ তার আগমণ হয়েছে। ও আড্ডায় থাকলে আড্ডা অল্প সময়েই জমিয়ে ফেল।

সুশান্ত: বুঝলি, আমি একবার ভ্যাকেশন টাইমে দেশে গেলাম। তা কোন এক জায়গায় একটা বাঙালী মাইয়ার সাথে দেখা। মাইয়া যে খুব একটা সুন্দরী তাও না। তা বাঙালী মাইয়া তো দেমাগটা একটু বেশী! আমি একটু কথা বলার চেষ্টা করলাম, তা মাইয়া দেখি মুড মারে! আমার মেজাজ গেলো গরম হইয়া। আমি মনে মনে কই, ” তুই কোন দেমাগী আসছিস রে! আমি মস্কোতে যত মাইয়ার ঠ্যাং দেখছি, তাতেই তো আমার জীবন সার্থক হইছে!”

ওর কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।

বন্ধু সালাম আমাকে কানে কানে বলে, ” আরে ধুর! সুশান্ত আবার কয়টা ঠ্যাং দেখলো? ও তো একটা ঠ্যাং দেখতে গিয়াই ধরা খাইছে।

এজাজ: বুঝলেন ভাই, রাশিয়ায় সামারে টীন এজড মেয়ে থেকে শুরু করে মহিলা পর্যন্ত সবাই খুব হালকা ও খোলামেলা পোষাক পড়ে।

ওর কথা শেষ না হতেই টিটো ধরে বসলো।

টিটো: এতো আমরা সবাই-ই জানি। তুমি হঠাৎ এই টপিক টানলা কেন? কি হইছে বলো। দেখলাম তুমি চারতলা থেকে নামলা।

এজাজ: না মনে, চারতলার একটা অফিসে গেছিলাম একটা কাজে। তা সেই রূমে বসা ছিলো এক মহিলা আরকি। আমাকে দেখে উঠে দাঁড়ালো। মহিলার পরনের লং স্কার্ট-টি স্বচ্ছ ছিলো আমি তো দরজার কাছে দাঁড়ানি ছিলাম। আর মহিলা দাঁড়িয়েছিলো জানালার সামনে। তা পিছনের জানালা থেকে যখন আলো আসছিলো, তার স্কার্ট ভেদ করে প্যান্টি পর্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠছিলো; ওটাই খেয়াল করলাম, আরকি!

সবাই মিটিমিটি হাসতে লাগলো।

টিটো: এজাজ তো ভাগ্যবান। তোর দিনটা তো সৌভাগ্য দিয়ে শুরু হয়েছে!

সবাই হাসি শেষ না করতেই, শিউলী এসে ঢুকলো। শিউলী বাংলাদেশী মেয়ে, তবে অন্য ফ্যকাল্টিতে পড়ে বলে এখানে আসে কম। শিউলী কাফির পাশাপাশি একটা বান নিয়ে খেতে শুরু করলো।

আমি: শিউলী, এই যে তুমি মাংসটা খাচ্ছো, তুমি কি জানো, এটা কিসের মাংস? হারাম না হালাল?

শিউলী: ভাইয়া বিদেশে থাকলে অনেক কিছুই এ্যালাউড হয়ে যায়। এই যে আমি আর মামুন বিয়ে ছাড়াই একসাথে থাকি, এটাও এ্যালাউড!

এই কথা বলে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো শিউলী। বুঝলাম, এই মেয়েকে কথায় আটকানো যাবে না।

নাসিম ভাই: এখানে এসে হারাম-হালাল সব গুলিয়ে ফেলেছি ভাইয়া।

আমি: আপনাদের তাইলে একটা ঘটনা বলি। রিসেন্টলি ঘটেছে। ঐ যে বাংলাদেশ থেকে যে ডেলোগেশন টীমটা এলো, তাদের ডিনারটা আমি অর্গানাইজ করেছিলাম। তা তাদের মধ্যে কয়েকজন এমপি-ও ছিলেন। তাদের একজন আমাকে ডেকে প্রশ্ন করেন,

“ভাই, এই যে কেক-টা, এর মধ্যে যে দুধ ব্যবহার করা হয়েছে, এটা কি গরুর দুধ নাকি শুয়োরের দুধ?”

প্রশ্নটা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম! একজন এমপি তাও আবার ডাক্তার মানে শিক্ষিত মানুষ এরকম একটা প্রশ্ন করতে পারে তা আমার মাথায়ই আসেনি। আমি কোন রকমে জবাব দিয়েছিলাম, “জ্বী, মানে শুকরের দুধ তো লোকে খায় না।”

আমার কথা শুনে আশেপাশের সবাই হো হো করে হেসে দিলো!

আমি আরো বললাম, “ঢাকায় একবার গেলাম ছুটিতে। গিয়ে খালেদ ভাইয়ের সাথে দেখা, প্রথমে উনাকে চিনতেই পারলাম না। আমাকে দেখে তিনিই এগিয়ে আসলেন। একগাল হেসে বললেন, “আমি তোমাদের খালেদ ভাই।”

টিটো: খালেদ ভাইকে চিনতে না পারার কি আছে?

আমি: আরে ভাই তুমিও এখন আর উনাকে দেখলে চিনতে পারবা না। মুখভর্তি লম্বা দাঁড়ি, মাথায় টুপি, পড়নে লম্বা পাঞ্জাবী।

এজাজ: হুজুর হইছে নাকি, মেয়েবাজ, মদবাজ খালেদ ভাইয়ে?

আমি: এক্সাক্টলি! বললেন, তিনি নাকি হজ্ব করে আসছেন। এখন পুরাই সূফী রূপ!

নাসিম ভাই: আসলে ধর্মীয় অনুভূতিটা বাংলাদেশীদের অস্থিমজ্জ্বাগত।

আমি: ঠিক তাই। আমি অনেককেই দেখেছি যে, শেষ বয়সে গিয়ে তওবা করে ধর্মীয় লাইনে চলে যায়। অনেক কম্যুনিস্টকেও দেখেছি যে, সারাজীবন নাস্তিক্যবাদী বয়ান দিয়ে, শেষ জীবনে হজ্ব করে, নামাজ-রোজা ধরে।

———————————————————————-

আমি ফ্যাকাল্টির দিকে রওয়ানা হলাম। আজ সুপারভাইজারের সাথে মিটিং আছে। যাওয়ার পথে ফার্মেসীতে গেলাম ঔষধ কিনতে। সেখানে ছিলো একজন তরুণী সেলস গার্ল। বয়স আঠারো থেকে বাইশের মধ্যে হবে। প্রবল সুন্দরী! এক ইয়াংম্যান ক্রেতা সেলস গার্ল-কে জিজ্ঞাসা করলো, আপনাদের কাছে কি ‘প্রিজারভেটিভ’ (জন্মনিরোধক বেলুন) আছে?

তরুণীটি বললো, “জ্বী, আছে। এই নিন।”

যে ব্র‍্যান্ডটি দেয়া হলো, হাতে নিয়ে তরুণটি সেটা উল্টেপাল্টে দেখতে লাগলো। মনে হলো, এই ব্র‍্যান্ড সে নতুন দেখছে। একটু সন্দেহের বশে সেলস গার্ল-কে সে প্রশ্ন করলো, “এই ব্র‍্যান্ডের প্রিজারভেটিভ কি ভালো?” দোকানী মেয়েটি বেশ স্মার্টলি উত্তর দিলো, “অবশ্যই ভালো, যথেষ্ট ভালো!” এটা সে স্বভাবসুলভভাবেই বললো, কারণ দোকানের কাটতির জন্য সে সবসময়ই তার যেকোন পণ্য সম্পর্কেই এমন কথাই বলে থাকে। তরুণটি তার কথা শুনে মেয়েটির দিকে তাকালো। এবার তরুণীটি লজ্জ্বা পেয়ে গেলো, মাথা নীচু করে বললো, “না, মানে, আমি কি করে জানবো? আমি এর ভালো-মন্দ কিছুই জানি না।”

মেয়েটির সেই সময়কার এক্সপ্রেশন দেখে আমার ভীষণ হাসি পেলো!

ফ্যাকাল্টিতে গিয়ে লেনার সাথে দেখা হলো।

এক ধরনের লিপিস্টিক আছে চুমু খেলেও ওঠেনা বা ঠোঁটে লেগে যায়না। লেনা আজ সেই ধরনের লিপিস্টিক অধরে মেখে এসেছে।

আমি ওর সাথে কফি খেতে খেতে আজ তেমন কোন কথা বলতে পারছিলাম না। এদিকে লেনাও স্বল্পভাষী। তাই কিছুটা নীরবতা বিরাজ করছিলো আমাদের মধ্যে।

পরমা সুন্দরী লেনার দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, প্রেম, সৌন্দর্য্য ও যৌনতা নিয়ে।

প্রেম ভালোবাসা হলে ভিন্ন কথা। তবে, উদ্দেশ্য যদি প্রেম না হয়ে শুধুই সেক্স হয়, তখন পুরুষ মানুষ নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্য্যটাই কেবল দেখে। আর সেই চয়েজের ক্ষেত্রে, চেহারা সুন্দর হলে আর ফিগারের দিকে অত একটা তাকায় না; আবার ফিগার সুন্দর হলে আর চেহারার দিকে অত একটা তাকায় না।

প্রতিটি মানুষের ভিতরে আরেকজন মানুষ থাকে। উপরের মানুষটি মাঝে মাঝে ভিতরের সেই মানুষটির সাথে কথা বলে।

এই মুহুর্তে উপরের আমার কথা হচ্ছে ভিতরের মানুষটির সাথে

: তোমার জীবনে কতজন নারী এসেছিলো?

: অনেক।

: কতজন মনে দাগ কেটেছিলো?

: সেটা একটা বড় প্রশ্ন! খুব সম্ভবত একজন। আবার দুজনও হতে পারে। সর্বচ্চো তিনজন।

: তিনজন, নাকি একজনই?

: একজনই। বাকি দু’জনকে নিয়ে আমি সন্দিহান!!!!!!

: একাধিক নারী কি মনে দাগ কাটতে পারে?

: জানি না। মনে হয় পারে না। মনের যত অস্থিরতা, তা তো কেবল একজনকে নিয়েই।

: তাহলে বাকীরা?

: বাকীরা সহনায়িকা, বা সাপোর্টিং রোল টাইপের কিছু।

: জীবন কি সিনেমা?

: না। তবে সিনেমা জীবন থেকেই নেয়া হয়। সামটাইমস ‘লাইফ ইজ মোস দ্যান ফ্যান্টাসী!’

——————————————————————————–

মোনালিসার ই-মেইল:

মোনালিসার কাছ থেকে ই-মেইল পেলাম, ও ভালো ভালাই মত ইংল্যান্ড গিয়ে পৌঁছেছে। ও কোথায় উঠেছে, ওখানে কি করবে বলে ঠিক করেছে এগুলো আর জিজ্ঞাসা করলাম না। সময় হলে ও নিজেই সব বলবে।

আমি ওর ই-মেইলটির উত্তর দিলাম। এবার ই-মেইলের শেষে আমি লিখলাম ‘আই লাভ ইউ’।

————————————————————————————

দিনটা ছুটির দিন ছিলো। আমি আনিতাকে নিয়ে বেড়াতে বের হলাম। হোল ডে প্রোগ্রাম।

প্রথমে গেলাম রেড্স্কোয়ারে। তারপর মিউজিয়ামে। তারপর আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটে। ওখানে ওকে একটা চেইন কিনে দিলাম, একটা খুব উজ্জ্বল পাথরের। এও পাথরের চেইন আমি একবার দেশে নিয়ে গিয়ে উপ হার দিয়েছিলাম আমার বোনদেরকে। উনারা বললেন যে এরকম পাথর উনারা জীবনে প্রথম দেখলেন। পাথরটির নাম Goldstone অথবা Golden Sandstone, আরো একটি নাম হলো aventurine glass। এমন পাথরের উফার পেয়ে আনিতা আকাশ থেকে পড়লো!

আনিতা: এত দামী উপ হার তুমি আমাকে দিলে!

আমি: কই আর দামী!

আনিতা: ভীষণ দামী। আমি একবার এই পাথরের একটা আংটি কিনেছিলাম। সেটারই তো কত দাম ছিলো, আর তুমি তো উপহার দিলে বড় বড় পাথরের পুরো একটি মালা!

আমি মনে মনে বললাম, “টাকা যা যায় যাক। তোমার সাথে তো আর দেখা হচ্ছে না। তাই কিছু উপহার আর কিছু সুন্দর সময় থাকুক আমাদের বন্ধুত্বের সুখস্মৃতি হয়ে!”

দুপুরের দিকে ওকে নিয়ে গেলাম ভেদেএনখা-তে। এটা ‘অল রাশান এক্সিভিশন সেন্টার’। একসময় এখানে সোভিয়েত এ্যাচিভমেন্ট-গুলোর এক্সিভিশন ছিলো। বিশাল বড় টেরিটোরির বিশালাকৃতির সব প্যাভিলিয়নে ছিলো বিভিন্ন প্রদর্শনী। কোনটা তাদের মহাকাশ জয়ের, কোনটা তাদের শিল্প বিপ্লবের, কোনটা কৃষি গবেষণার, ইত্যাদি। তারপর হঠাৎ ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হয়ে গেলে, সেখানে বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে দোকানপাট খুলে বিশাল এক মার্কেট এরিয়ায় পরিণত কটা হয়। বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীরা দুটি প্যাভিলিয়ন ভাড়া নিয়ে, কয়েকশত দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেছে। বেশিরভাগই ইলেকট্রনিক্সের দোকান।

ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা করে মস্কোতে এসে অনেক বাংলাদেশীরই ভাগ্য খুলে গিয়েছে।

ভেদেএনখা-র গেইটে আমি আর আনিতা একটা বাসে উঠলাম। ভিতরের প্যাভিলিয়নে যাওয়ার জন্য। বাসের মধ্যে একজন বাংলাদেশী বলছিলো, “এইবার দেশে গিয়া, কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার মার্কশীট-টা তুললাম।” আরেকজন বলে,

“মার্কশীট তুইলা কি লাভ হইবো? মার্কশীটের কাম তো হইয়া গেছে। এখন আর মার্কশীট দিয়া কি করবেন? দ্যাশে ফিরা যাইবেন? দশ-পনের হাজার টাকা বেতনে চলতে পারবেন। ভেদেএনখা-য় ব্যবসা কইরা যে বিলাসী লাইফ এইখানে পাইছেন, এইটা ছাড়তে চান?”

আনিতাকে নিয়ে ভেদেএনখা-র বিভিন্ন গ্যালারীতে ঘুরলাম। তারপর লাঞ্চ করার জন্য গেলাম ‘কসমস’ প্যাভিলিয়নে। এই প্যাভিলিয়নেই বাঙালীদের মূল আড্ডা-টা। এখানে ইলেকট্রনিক্সের পাশাপাশি আরো কিছু দোকান আছে, যেমন, বাঙালী নানা পন্যের দোকান। আছে বাঙালী ক্যাফেও। দুপুরের খাবার সবাই এখআনেই সারে। আমিও আনিতাকে নিয়ে ওখানে গেলাম। টেবিলে বসে যখন খাবার খাচ্ছি, এসময় ক্যাফেতে দুই শালা আদম এসে আনিতাকে দেখে বলে, ‘বাহ, মালটা তো দারুন!’ ইউরোপীয় পোষাক-আশাকে আনিতাকে মাঝে মাঝে সাউথ আমেরিকান মেয়েদের মত লাগে। স্যুট পরিহিত আমাকেও ওরা হয়তো চিনতে পারেনি। তাই নির্বিঘ্নে কথাগুলা বললো। ওদের কথা শুনে আমার মেজাজ গেলো গরম হয়ে!

ফেরার পথে ওকে নিয়ে টিউলিপ পার্কে ঢুকলাম। এত সুন্দর নানা বর্ণের টিউলিপ আমি আমার জীবনে প্রথম দেখলাম। আনিতাকেও অভিভূত দেখলাম।

ডর্মে ফেরার উদ্দেশ্যে ভাবলাম, আজ আর মেট্রোতে ঢুকবো না। ট্যাক্সিতে ঘরে ফিরবো। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে হাত উঠাতেই এ্যাশ কালারের বিলাশবহুল একটা গাড়ী এসে আমাদের সামনে থামলো। আমি লক্ষ্য করলাম এটা কোন এমপি-র গাড়ী। এমপি সাহেব গাড়ীতে নেই; এই সুযোগে চালক সম্ভবত ফিরতি ট্রিপে টু-পাইস কামাতে চাইছে। আমরা সট করে উঠে পড়লাম গাড়ীটিতে।

আসার পথে ম্যাগডোল্ডস থেকে রাতের খাবার পার্সেল করে নিয়ে এসেছিলাম। ডর্মে ফিরে ঐ খেয়ে শুয়ে পড়লাম। আজ পুরো রজনী আমি আনিতাকে উষ্ণতা উষ্ণতায় ভরে দিতে চাই।

——————————————————

যৌনসংযম ও নৈতিকতা বিষয়টা আসলে খুব ইমপর্টেন্ট!

আধুনিক পাশ্চাত্য সভ্যতায় ব্যাক্তি স্বাধীনতার নামে কোন যৌনসংযম নাই। যেটা আছে সেটা কেবল অবাধ যৌনাচার।

সোশ্যাল অ্যানথ্রোপলোজিস্ট J. D. Unwin  কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস ঘেঁটে বিভিন্ন গোত্র এবং সভ্যতার ওপর এক পর্যালোচনা করেন। ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত Sex & Culture নামক বইটিতে দীর্ঘ এ গবেষণার ফলাফল তিনি তুলে ধরেন । বিভিন্ন সভ্যতা ও সেগুলোর পতনে আনউইন দেখতে পান একটা স্পষ্ট ছাঁচ।

কোনো সভ্যতার বিকাশ সেই সভ্যতার যৌনসংযমের সাথে সম্পর্কিত। যৌনতার ব্যাপারে যে সমাজ যত বেশি সংযমী হবে তত বৃদ্ধি পাবে তার বিকাশ ও অগ্রগতির হার। বিস্মিত আনউইন আবিষ্কার করলেন , বিভিন্ন সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ঘটেছে এমন সময়ে যখন যৌনসংযম ও নৈতিকতাকে এসব সমাজে কঠোরভাবে মেনে চলা হতো। কিন্তু উন্নতির পর গ্রাফ কার্ভ নিচে নেমে যাওয়ার মত প্রতিটি সভ্যতায় শুরু হয় অবক্ষয়। লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর সভ্যতাগুলো হারানো শুরু করে নিজেদের নৈতিকতা। পরিবর্তিত হতে থাকে তাদের মূল্যবোধ, প্রথা ও আচরণ। আর বাড়তে থাকে নানা ধরনের অবাধ যৌনাচার, হতে থাকে নৈতিক অবক্ষয়।

এদিকে কোন সমাজের একবার অধ্বঃপতন হলে সেই সমাজকে আর কোনভাবেই সেখান থেকে টেনে তোলা যায় না।

তারপর ধীরে ধীরে শুরু হয় অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা; এরপর সেই সুযোগে আগ্রাসী বহি:শত্রুর আক্রমণ। তারপর তাই ঘটে যা অবধারিত, হয় দেশটা বহুকালের জন্য পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়, অথবা পরিনত হয় ফেইলড স্টেটে।

——————————————————————————————————-

আনিতাকে এয়ারপোর্টে সী-অফ:

আজ আনিতার দেশে ফিরে যাওয়ার দিন। অনেক তো হলো মস্কো ও রাশিয়া। পড়ালেখার উদ্দেশ্যে সে এসেছিলো। সেই পড়ালেখা তার শেষ হয়েছে। আগে থেকেই গুছিয়ে নেয়া স্যুটকেসটি ও হাতে নিলো। আমি বললাম, “স্যুটকেস, আমি হাতে নিচ্ছি। তুমি ব্যাগ হাতে নাও।” আনিতা আজ ইউরোপীয় পোষাক পড়েছে। এতে ট্রাভেলিং-এ সুবিধা হয়।

একটা ট্যাক্সি আগে থেকেই ঠিক করা ছিলো। ডর্মিটরি থেকে নেমে, আমরা দুজন ট্যাক্সিতে উঠলাম, সাথে আনিতার দুই বান্ধবী উঠলো। মস্কোর বিশাল সব চওড়া এ্যাভিনিউগুলো দিয়ে সবেগে গাড়ী ছুটিয়ে ইয়াং ড্রাইভার আমাদের নিয়ে চললো ‘শেরমিতোভা’ বিমানবন্দরের দিকে। এই বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটা জায়গা আমাকে ভীষন টানে। এখানে রাস্তার পাশে বড় করে পাথরের কয়েকটি এক্সএক্সএক্সএক্স রাখা আছে। যতদূর জানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের বাহিনী ঐ পর্যন্ত এসেছিলো, সেই কারণে ওখানে রাখা আছে Last Defence Line Moscow – Memorial। ঐ মেমোরিয়াল পার হয়ে আমরা বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছালাম।

এয়ারপোর্টে ফর্মালিটিগুলা সারার পর, আনিতা যখন ভিতরে চলে যাবে, আমি বললাম, “যাও তাহলে।” এবার আনিতা একটা করুণ ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকালো। আমি বুঝতে পারলাম যে, ঐ দৃষ্টিতে কি আছে। কিন্তু তার যথার্থ মূল্যায়ন করার কোন মন আমার ছিলো না।

আনিতাকে এয়ারপোর্টে সী-অফ করার সময় আমার মনে হলো,

লেনা ও আনিতাকে আমি কি করে বলি যে, ওদের দুজনার কাউকেই আমি ভালোবাসি না! তাহলে কি আমি কাউকেই ভালোবাসি না? না এমন কোন পরিণত বয়সের মানুষ সম্ভবত এই পৃথিবীতে নেই, যে কাউকেই কখনো ভালোবাসেনি। জীবনের কোন না কোন সময়ে প্রকৃত ভালোবাসা ঠিকই জীবনে আসে। আমার জীবনেও এসেছিলো। যেই প্রেম এসেছিলো আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। কিন্তু আমার জীবনের সেই প্রকৃত ভালোবাসাকে, সেই সবচাইতে প্রিয় মানুষটিকে রেখে এসেছি দূরের একটি দেশে। যেই দেশে আমার হয়তো যাওয়া হবে না আর কোনদিনও। সেখানে গেলেও তাকে তো আর পাবো না! তাকে নিয়ে আমি কোনদিন কোন গল্প লিখিনি। জানিনা ভবিষ্যতে লেখা হবে কিনা। তবে আমার লেখা অজস্র কবিতাগুলো তাকে নিয়েই লেখা।

আমাদের সময়টা ছিল রূপকথার মতো। প্রতিটা দিন এমনকি প্রতিটি মুহূর্তই ছিলো আনন্দময়। আমার সমস্ত কথা আমি ওকে বলতাম। আমার সব অনুভূতিগুলো আমি ওর সাথে শেয়ার করতাম। একদিন ওকে আমার একটা স্মৃতি বললাম। ও মৃদু হেসে বলেছিলো, “এটা তুমি আগেও একবার আমাকে বলেছিলে।” আমি বললাম, “তাহলে আরেকটা স্মৃতি বলি শোন।” একটু বলার পরেই ও বলেছিলো, “এটাও তুমি আগে একবার আমাকে বলেছিলে।” আমি দমে গেলাম, ভাবলাম নতুন কি বলা যায় ওকে! ও আমাকে বলেছিলো, “তোমার জীবনের সব গল্পই তুমি আমাকে বলে ফেলেছ।” হ্যাঁ, আমার জীবনের সবকিছুই ওকে বলা হয়ে গিয়েছিলো, বলবো নাই বা কেন? ওকে যে আমি চিরকালের জন্যই আমার ভেবেছিলাম!

একটা রুমাল দিয়ে আনিতা বারবার চোখ মুছছিলো। এয়ারপোর্টে সবশেষে ঐ রুমালটা আমার হাতে দিয়ে বললো, “এটা তোমার কাছে রেখে দিও প্লিজ।”

(চলবে)

রচনাতারিখ: ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২০ সাল

সময়: রাত ০২টা ৪১ মিনিট

——————————————————————————————–

কান্না ভেজা রুমাল

—————- রমিত আজাদ

কান্না ভেজা রুমাল তোমায় দিলাম উপহার,

যখন আমি থাকবো দূরে দেখবে বারে বার।

                               তুমি দেখবে বারে বার।

রুমাল রেখো বুক পকেটে, যত্ন করে তার,

এই রুমালে আছে লেগে আমার অশ্রুভার।

                              ওগো আমার অশ্রুভার।

একলা বসে যখন তোমার আঁখি ছলছল,

এই রুমালের মাঝে আমার অশ্রু টলমল।

                               আমার অশ্রু টলমল।

ভালোবাসার রত্ন-মানিক, এই রুমালের নাম,

অমূল্য এই ধন রেখে দাও, হিসাব বিহীন দাম।

                                 ওগো হিসাব বিহীন দাম।

নেই আমি নেই তোমার পাশে, রুমাল তবু আছে,

কান্না ভেজা টুকরো কাপড়, রুমাল রেখো কাছে।

আমি নেই রুমাল আছে, রুমাল মাঝে আমি,

রুমাল আমি, আমিই রুমাল, বুঝে নিও তুমি।

আমার কথা ভেবে যদি কান্না চেপে আসে,

নয়ন দুটি যদি তোমার অশ্রুজলে ভাসে।

সেই রুমালে মুছে নিও চোখের অশ্রুভার,

চার নয়নের জলে রুমাল হবে একাকার!!!

                              ওগো হবে একাকার!!!

——————————————————–

রচনা তারিখ: ২২শে মে, ২০১৯ সাল

সময়: রাত ৯টা ১০ মিনিট

Tear-Soaked Handkerchief

—————– Ramit Azad

মন্তব্য করুন..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.